গগ ধঞ্

দিলীগকুমারমুয়োগাধায়

মশ্ডল বুক হাউস ৭৮/১, মহাত্মা গান্ধী রোড, কলিকাতা-৯

উৎসর্গ

রামর মঠ মিশনের সহ সভাপাঁত 'বাবধ পাশ্ডিত্যপর্ণ গ্রন্থের রচয়িতা

শ্রীমং স্বামণ গম্ভীরানন্দ মহারাজ প্জনীয়েষ,

ভূমিকা শ্রীরাম নিজে বহু গান গেয়েছেন, বহু গান শুনেছেনও শ্রীন্তীমার ভাষায় তান গানে 'ভাসতেন।,

শোনা যায়, তাঁর গান গ্বামীজীর গানকেও ছাপিয়ে যেতো তা তান- লয়ে কিনা জান না। তবে তা যে ভাবে, তা সহজেই অনুমান করতে পাঁরি। তাঁর গান ভাবপপ্রধান্ট তাই আরও হাদয়স্পশী। তানি যখন বালক, তখন প্রাতবেশীরা বলাবলি করতো, গদাইয়ের গান শোনার পর আর কারও গান ভালো লাগে না।,

তা শুধু এইজন্যে যে তান যখন যে গান গ্রাইতেন, তা প্রাণ ঢেলে গাইতেন।

কীর্তনে তাঁর আখর লক্ষণীয় এই আখর, বা যে সব গান তান নিজে গাইতেন বা অন্যদের গাইতে বলতেন, তা থেকে তাঁর অনুরাগ কোন: দিকে তা বোঝা যায়।

শ্রীঠাকুরের অনন্ত ভাব, অনন্ত রূপ গানের ভেতর "দিয়ে তাঁর এই বৈশিষ্ট্য বিশেষভাবে গ্রাতফাঁলত।

শ্রীদলীপ মুখোপাধ্যায় এই বইট লিখে শ্রীরামরুের একটা বিশেষ দক আমাদের লামনে তুলে ধরেছেন। এজন্য তি আমাদের ধন্যবাদার।

ইতি স্বামী লোকেম্বরানন্দ

লেখকের নিবেদন

আমার “সঙ্গীত সাধনায় বিবেকানন্দ সঙ্গীত কঙ্পতর? বইখানিতে একটি অধ্যায় আছে--শ্রীরামরের সশ্লিধানে ।* নরেন্দ্রনাথ শ্রীঠাকুরের পারম্পারক সাঙ্গীতক সংযোগ তার বিষয়বস্তু সোঁট লেখবার সময়েই (১৯৬৩, স্বামীজার জন্মশতবষেণ) সাঁবস্ময়ে লক্ষ্য কার-_নরেন্দ্রনাথের অপেক্ষাও শ্রীরামরফের সঙ্গীত প্রসঙ্গ আঁধক এবং তিনিও রাঁতমত গায়ক তখন থেকেই সে বিষয়ে আর্ট হযে লম্পার্কত তথ্যাদি সংগ্রহ করতে থাঁক। কাষাঁট আঁভনব এবং কোনো গবেষক সেভাবে তাতে হাত দেন নি, আমার আগ্রহের তাও অন্যতম কারণ অবশ্য শ্রীঠাকুরের সম্পরোঙ্গ সঙ্গীত-জীবন অবলম্বনে এমন গ্রন্থ রচনার পাঁরকঞ্পনা ছিল না প্রথম 'দকে। গত কয়েক বছরে বিষয়টি আমার মনে ক্রমে পাঁরস্ফট হয়ে ওঠে

কিন্তু তখন কলমে লেখা আরম্ভ করতে পার নি, সে কাষ চলাছল অন্তরে কারণ, অবকাশের অভাব বিগত এক যৃগেরও বোঁশাদন যাবত--বাংলায় রাগ- সঙ্গীত সাধনার আনুপ্যার্বক বিবরণ, মধ্যযুগের সর্বভারতীয় সঙ্গীতধারারবাঁভন্ন প্রাদেশিক কেন্দ্রে চচরি ইতিহাস, সেকালের গুণীদের সঙ্গীতকৃতির পারিয়-কথা সংবালত কয়েকখানি পুল্তক প্রণয়নে আমায় ব্যস্ত থাকতে হয় ! সেগুলি অনেকাংশে সম্পন্ন করে, মনোনিবেশ করতে পার বর্তমান রচনায় ইতিমধ্যে শ্রীরামরুফের সামাগ্রক সঙ্গীত-জাঁবনের চালচিত্রও রূপলাভ করে ব্যাপক পাঁরকন্পনায়। বছর দুয়েক আগে থেকে এই কর্মে যথাসাধ্য নাবিষ্ট হই, বিকট বাধা বিপাত্তর মধ্যেও সে সব ব্যান্তগত দুভোগের কথা, আমার লেখক জীবনের নিদারুণ বিরুদ্ধ পাঁর- বেশ, হান স্বার্থ সর্বস্ব অ-সাংস্কীতক বাস্তব অবস্থাঁদর কথা কহতব্য নয় শুধু যে-পাঠকরা আমায় ভালবাসেন তাঁদের কানে কানে বলা রইল বিদীর্ণ সেই অন্তর- কথা।

শ্রীঠাকুরের সঙ্গীত সত্বার আশ্চর্য এম্বর্যময় 'বিবরণ যথাসম্ভব সাল্নাবষ্ট করোছ। তাঁর গায়ন-গ্ণের বহু নিদর্শন গ্রন্থের 'বাভন্ন অধ্যানে উদ্ধৃত স্বভাবতই সে সমস্ত অধ্যাত্ম প্রসঙ্গ সেজন্যে তাঁর একটি বিশেষ দিনের কথা উল্লেখ করা হয়নি £ আপন 'বিবাহ বাসরে শ্রীরামরফের গান গাইবার বিবরণ হ্যাঁ, তান নিজের বাসর ঘরে গান শুনয়ে সকলকে চমতকুত করোছলেন, যাঁদও তা শ্যামাসঙ্গীত রঙ্গ প্রিয়, সদানন্দ শ্রীরামরষের সেই অনাতপাঁরচিত প্রসঙ্গাট এখানে উদ্ধৃত করা হলো, (তাঁর অন্যতম প্রামাণিক আকর গ্রন্থ অক্ষয়কুমার সেন প্রণীত 'শ্রী্রীরামকুফ পহশাথরণববাহ” অধ্যায় থেকে ) :--

বাসরে দোখিয়া প্রভু অনেক রমণা।

শুন'কি হইল পরে অনেক কাহিনী

নানাবধ রমণীর নানা রঙ্গ হেরে।

রঙ্গময়ী মার লীলা জাগিল অন্তরে

(২)

মা মা বাল হৈল প্রভু ভাবাবেশাম্বিত।

কোকিল জিনিয়া কণ্ঠে ধারলেন গীত

যেমন কিনি গানে মোহত নাগিনী।

সেইমত স্তদ্ভীভত পুরুষ রমণী

পাতে হাত মুখে ভাত খেতে যারা ছিল।

পৃতুলের প্রায় গান শুনিতে লাগল

বাসরে রাণশগণ মোহত অবাকে।

দেখে বরে 'নিরখিয়া আনামিখ চোখে

ছল মনে কত মত রঙ্গ কাঁরবারে।

দেখে রঙ্গে রঙ্গ করা সব গেল উড়ে

শ্যামাগুণ গানে প্রভু এত মতততর". (সেই গান শুনে তাঁর শশ্রুমাতা রন্ধনশালা থেকে বাসর ঘরে উপনশতা হলেন )

শুন মুরলীর গান যেমন গোঁপনী।

বাসরে আইল ধেয়ে দাদি ঠাকুরাণী ॥1*.

ভুলিতে না পারে কিন্তু মূরতি স্ন্দর।

1পক পাখা কাঁণা 'জিনি শ্রীকণ্ঠের স্বর ॥-** সঙ্গ'তন্জ শ্রীরামরষের যত প্রসঙ্গ উপস্থাপত করেছি গায়ক-রূপে, শ্রোতা-রূপে, সমালোচক-রূপে, গুণগ্রাহী-রুপে, আঁত্বক-রূপে, ভাবুক-রূপে- সকলের উৎস- গ্রন্থাদিরও সন্ধান 'দয়োছ যথাস্থানে তেমাঁন তাঁর ঘানষ্ঠ পার্যদদের সাঙ্গলীতক ববরণও 'নর্ভরযোগ্য পুস্তকাবলীর সাক্ষ্য অনুসারে বিবৃত। কেবল নব ধান সামাজের সুৃবিখ্যাত গাষক তথা গাঁতরচয়িতা ব্রেলোক্যনাথ সান্যাল বা চিরঞ্জীব শমরি কথা স্বতন্্র কারণ তাঁর সম্পকে" কোনো সত্র দেওযা হয় নি। শ্রীরামকুষের আশীবর্দি-ধন্য এই সঙ্গীত-সাধকের সঙ্গগতকাঁতি সংক্ষিপ্ত জীবনী সন্ভবত গ্রন্থেই প্রথম প্রকাশিত হলো, অন্য কোনো পুস্তকের সহায়তা ব্যততই। তা সম্ভব হয়েছে, বর্তমান নববিধান সমাজের নেতৃস্থানীয়, শ্রদ্ধাস্পদ শ্রীসতীকুমার চট্টোপাধ্যায়ের সৌজন্যে সহযোগিতায় ব্রিলোক্যনাথ সম্পর্কিত প্রায় সমস্ত উপকরণই তাঁর সংগৃহীত এবং প্রদত্ত একনিষ্ঠ কেশব-সাধক চট্রো- পাধ্যায় মহাশয়কে সেজন্য আমার আন্তাঁরক রুতজ্ঞতা জানাই

গ্রন্থের বিষয়ে আর একাঁট নিবেদন আছে পাঠক পাঠিকাদের কাছে দেখা বাবে কোনো কোনো গান একাধিকবার উদ্ধৃত করা হয়েছে যেমন গানাঁট শ্রীরামরুষ। গাইবার কথা হয়ত আছে একস্থানে আবার তাঁর একাধিক শিষ্য বা পাদের সঙ্গীত প্রসঙ্গেও তা উল্লিখত এই পুনরান্তি আনিবার্ধ | কারণ পৃথক ব্যান্তদর গানের বিবরণ বাদ দেওয়া যায় না, তাহলে তাঁদের সঙ্গীতজ্ঞ-পারিচিতি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে তাই পুনরাবৃত্তি সত্তেও গানগালির প্রসঙ্গ বিবৃত করতে হলো বইখানি লেখাকালীন, তন্িষ্ঠ বিবেকানন্দ নিবোদিতা গবেষক শ্রীশৎ্করী প্রসাদ বসু প্রমুখের শুভকামনাও আজ সরুতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করি

(৩)

প্রকাশক শ্রীসুনীল মণ্ডল মহাশরকে ধন্যবাদ জানাই সুরুচশোভন ভাবে, বহু অস্বধার মধোও আতিশয় তৎপরতায় গ্রন্থাঁট প্রকাশের জন্যে তাঁর ব্যবসাঁয়ক বৃদ্ধির সঙ্গে শ্রীরামকুফ-ভান্তও এবিষয়ে কার্যকর হয়েছে, লক্ষ্য করেছি। | বহু চেষ্টা সত্বেও ছাপাখানার ভূতকে একেবারে বিতাড়িত করা যায় নি,দেখাছি। শুদ্ধপত্র আর তালিকাবদ্ধ করা গেল না সময়াভাবে। কিন্তু একটি মুদ্রণ প্রমাদ সুধী পাঠক-পাঁঠকাদের সংশোধন করে নিতে হবে : প্রথম পৃচ্ঠাতেই, ওপরের ধদকে, বৈরাগী সন্তানরা"র স্থলে শুদ্ধ পাঠ “সম্তরা+ পঠিতব্য।

শ্ীমং গ্বামী গম্ভীরানম্দ মহারাজকে পুস্তকটি উৎসর্গ করে কুতার্থ হয়োছ। শ্রীমৎস্বামী লোকেমবরানম্দ মহারাজ তাঁর নিরবকাশ কর্মব্যস্ততারমধ্যেও ভূমিকা [লখে 'দয়ে গ্রন্থের গৌরব বর্ধন করেছেন। এট নগণ্য লেখকের গ্রাত তাঁর আশীবাদও। তাঁদের উভয়ের সঙ্গে পুস্তকের সংযোগ আরেক দিক থেকে তাৎপর্ষ- পূর্ণ কালের অগ্রগাঁতর সঙ্গে শ্রীরামরুষ্ণ বিবেকানন্দ ভাবধারাও নিত্য বর্ধমান। বর্তমানকালে সেই জাতীয় এীতহোর দুই মহান প্রবস্তার নামের সঙ্গে গ্রন্থটি যুত্ত হওয়ায় একটি বাঁচন্র তাঁুলাভ করাছ।

যতদিন এই লেখা তার প্রস্তুতির কার্য চলেছে, আমি যেন শ্রীঠাকুরের রূপাসঙ্গ অনুভব করোছ, তাঁর বাণী সঙ্গীত আমারকানে প্রাণে নিরন্তর ধবানত হয়েছে। আমি আকিগ্ুন। কিন্তু সেই আমার পরম প্রাপ্তি।

ইতি শ্রীদলীপকূ্ার ম.খোপাধ্যায়

৯০,

১৯০

সডীপন্ত শ্রীরামকৃষ্ণ যাঁদের গান শনিয়েছেন কত প্রসঙ্গে তিনি গান গেয়েছেন কি ধরনের গান তানি গাইতেন কত গান তানি গেয়েছিলেন তাঁর গান ণশক্ষা'র কথা, তথা শিল্পা সন্থা শ্রীরামকৃষ্ণ গ্রোতারূপে সঙ্গীতে পার্ষদব্ন্দ শ্রীরামকৃকের শেষ গান শ্রীরামকৃফ কর্তৃক গাঁত গানের তালিকা সঙ্গীতের ভাবুক শ্রীরাম পারিশিদ্ট

৩০

৬৩

৮৯

2১০

১৩

১৬৬

৬৯

২৫৭

৬৫

৯৭১

প্রথম অধ্যায় শ্রীরামকৃষ্ণ যাঁদের গান শ.নিয়েছেন

সেদিন মাইকেল মধুন্থদন দক্ষিণেশ্বরে এসেছেন। তবে পরমহংসকে' দেখবার জন্যে নয় তার কথ! মাইকেল কিংবা কলকাতার মান্ত-গণ্য শিক্ষিত বহু ব্যক্তিই জানতেন না তখনো। তা হলো! ১৮৬৯।৭০ অবের কথা

শুধু মধুস্দন কেন, কলকাতার জন-সমাজে বিশেষ কেউ শ্রীরামকৃষ্ণের কথা শোনে নি। কেশবচন্দ্র সেন তখনে। দেখেন নি তাঁকে। “ইণ্ডিয়ান মিরর? কিংবা ধধর্মতত্ব পত্রিকাও এই আশ্চর্য সাধুর কথা প্রচার করে নি। শ্বধু যে বৈরাগী সন্তানরা আমতেন দক্ষিণেশ্বরে তীরাই পৰিচয় পেয়েছেন রামরুষ্কের আর বর্ধমান মহারাজার সভাপপ্তিত পন্ম- লোচনের তুল্য কোনো শাস্তজ্ঞ ব্যক্তি কিংব৷ রাণী রাসমণি ব! মথুরবাবুর পারিবারিক স্ত্রে জানা কোনে। কোনো লোক

মাইকেল দক্ষিণেশ্বরে এসেছেন ব্যারিস্টার হিসেবে। কালীবাড়ি চত্বরের উত্তর দিকে ইংরেজদের বারুদের গুদৌম। সেই সব্ুকারী বারুদখান। নিয়ে মন্দির কর্তৃপক্ষের মামলা বাধবে তারই ভার পেয়েছেন মাইকেল। তীর বয়স তখন ৪৫/৪৬ বছর হতে পাবে। মৃত্যুর বছর তিনেক আগেকার কথা আর রামরুষ্ণ হয়তো! ৩৩1৩৪ বছর বয়সী রাণী রাসমণির দৌহিত্র দ্বারিকানাথ মাইকেলকে এনেছেন ব্যারিস্টার সরেজমিনে জেনে নিচ্ছেন মোকদ্ঘমার বিষয়। রাসমণির মৃত্যু হয়েছে প্রায় আট বছর আগে। দফতরখানার পাশে বড় ঘর। সেইখানে মাইকেল রয়েছেন তখন মামলার পরামর্শ শেষ হয়েছে

এমন সময় রামকৃষ্ণের নাম করলেন কে যেন। বোধহয় দ্বারিকানাথ, কথাপ্রসঙ্গেই | শুনে মাইকেল দ্বারিকানাথকে বললেন, “তাকে দেখতে ইচ্ছে হচ্ছে।,

তখন বামরুষ্ণকে খবর দেয়াহলো। তিনি প্রথমে নারায়ণ ম্বামীকে পাঠালেন মাইকেলের সঙ্গে কথা বলতে | তারপণ নিজেও এলেন।

নারায়ণ শাস্ত্রীকে পাঠাবার কারণ হয়তো! তিনি মহাপস্তিত | কাশীতে পচিশ বছর স্যায়শান্ত্র চর্চা করেছেন তারপর নবছ্ীপে নাত বছর নামী কবি, ব্যারিস্টারের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন ভালোভাবে।

শাস্ত্রীজী প্রথমে আরস্ত করেছিলেন সংস্কৃতে কিন্তু মধুস্থদনের দিকে সুবিধা হচ্ছিল ন1 দেখে "ভায়া" অর্থাৎ বাংলায় বলতে লাগলেন

প.

মাইকেলের সঙ্গে নারায়ণ শ্বামী আলাপ করতে লাগলেন কথায় কথায় জিজেস করলেন, “আপনি নিজের ধর্ম ছাডলেন কেন?

“পেটের দায়ে” মধুছ্ছদন নিজের শরীরের দিকে দেখিয়ে উত্তর দিলেন।

শুনেই সরল-হৃদয় পণ্ডিত জলে উঠলেন, “কি! এই ছুদিনের সংসারে পেটের জন্যে নিজের ধর্ম ছাড়। ? কি হীন বুদ্ধি? যে পেটের জন্যে ধর্ম ছাড়ে তার সঙ্গে আবাব কথা কইব কি?

ক্রুদ্ধ নারায়ণ স্বামী আরো! অনেক কিছু বলে গেলেন_-এমন লোককে আবার বিদ্বান বলে? ইত্যাদি"".

আর বাক্যালাপ না করে কক্ষ থেকে নিক্গান্ত হলেন

তবে কথাটি মাইকেল বোধহয় হালক1 ভাবেই বলেছিলেন। কিংব! ব্যারিস্টারোচিত 'আত্মপক্ষ সমর্থনে অর্থকরী জীবনের অসাফল্যণ বিগত কালের ঘটনায় আরো” করতে পারেন অযথা কারণ ওই যুক্তি তথ! উক্তিটি সঠিকও নয় তো। তিনি কি ভূলে গিয়েছিলেন, সাতাশ আটাশ বছর আগেকার সেই খুষ্টান হওয়ার ঘটনা? মাত 'আাঠীর বছর তখন বয়স তার। হিন্দু কলেজের ( আসলে স্কুল ) ছাত্র। মুন্সী রাজ- নারায়ণ দত্তের একমাত্র পুত্র, ধনীর ছুলাল। অবাধ প্রাচর্যের ভোগাধিকারী | সেই বয়সে যে শুষ্ট-ধর্ম নিলেন, অন্চিন্তার প্রশ্ন তখন কোথায় ? ধর্ম জিজ্ঞাসারও কোনে। বালাই ছিল না। ছিল আপাত-চিকন পাশ্চাত্য সভ্যতার পীঠস্বান ইংলগ্ডে যাবা স্বপ্ন অ'র ইংরেজীতে বড় কবি হবার, ইঙ্্র সমাজে মেলামেশার লাধ।

সেই তরুণ বয়সে কোনে। ভোগ বিলাস বাসনা সংযত করবার শিক্ষা তো পান নি-_ দত্বকুলোদ্ভব কৰি শ্রীমধুক্থদন ।' হাইকোর্টের তৎকালীন কূপ সদর দিওয়ানী দ্র নিজাম আদালতের ( অবস্থান রেসকোর্সের দক্ষিণে, এখনকার মিলিটারি হস্পিটাল চত্বরে ) বহু-বিখ্যাত ব্যবহারজীবী রাজনারায়ণ দত্ত পুত্রকে ইয়ং বেঙ্গল সম্প্রদায়-হুলভ তরল জীবন যাপনের স্থযোগ দিয়েছিলেন বিরুদ্ধধমী, বিদেশী শিক্ষা- ক্রমে গঠিত মধুস্দন আপন ধর্মদংস্কৃতির প্রতি বীতশ্রদ্ধ হন তার কোনে পরিচয় লাভ না করেই নব্যদের চোখে তখন নতুন ফ্যাশনের তুলা চিত্তাকর্ষক খু্টধর্ম। 'আর কাল-জর্জর কুসংস্কারাচ্ছন্স বর্বর হিন্দুধর্ম তা ছাড়া, প্রবল প্রতাপ পৃথ্বীপতি বৃটিশ রাজাদের ধর্ম খৃষ্টান ধর্ম আধুনিক জীবনে উন্নতির মোপান ম্বরূপ স্থুসত্য ইউরোপীয় সমাজে প্রবেশের চাবিকাঠি হিতাহিত বোধ আর পরিণাম দৃষ্টি বজিত -তরুণ ঝাপ দ্বিলেন পেশাদার মিশনারী চালিত হয়ে। অপরিণত চিত্তে অনেক আশার আলে! ঝলকানি দিয়েছিল কিন্তু ঘটনাচক্রে, বিলাত যাত্রা কিংবা অন্ত কোনে। আকাঙ্খাই পূর্ণ হল ন! মাইকেলের খুষ্টধর্ম শিরোধার্য করে।*"'

এত কথ! এতকাল পরে কি তার মনে পড়েছিল? আর মনে হলেও, এক অপরিচিত ব্যক্তির কাছে দৃক্ষিণেশ্বরের এই পরিবেশে জানাবার কি প্রয়োজন !

কিন্ত এই উগ্র পণ্ডিত যে ধর্ম নিয়ে এমন আঘাত করলেন ? তার কোনো প্রতিক্রিয়। 'ঘটল কি মাইকেলের মনে, বিপর্যস্ত জীবনে ? হতাস্থাসে মৃত্যুর সে তো মাত্র তিন চার বছর আগেকার কথ!। হা, এমন প্রতিভাধর কবি মনীষীর পক্ষে সে জীবনচধ। বিধ্বস্ত, অপ্রকুতিস্থ বৈকি | কি বিপুল সফল সুস্থ স্বাভাবিক সম্ভাবনার পরিবর্তে কি পাণ্ুর পরিণতি। “হে বঙ্গ, ভাগারে তব বিবিধ রতন, তা সবে অবোধ আমি অবহেল। করি, পরধন লোতে মত্ত করিন্গু ভ্রমণ”**"ইত্যাকার অঙ্গুশোচনা তাৰ কত আগেই তো ত্তাকে করতে হয় মাতৃভাষা সম্পর্কে তেমনি শ্বধর্ম-প্রপঙ্গে এই আকম্মিক ঘায়ে তার সংক্ষুব্ধ চিত্তে কোনে। আত্মিক আলোড়ন কিংবা আকুলতা৷ জাগল কি? কারণ, বিব্রণীকার জানিয়েছেন, 'অতঃপর মাইকেল ঠাকুরের শ্রীমুখ হইতে কিছু ধর্মোপদেশ শুনিবার বান! প্রকাশ করেন ।”

কিমাশ্চর্যম্‌ ! যিনি দীর্ঘ প্রায় ত্রিশ বছর খৃষ্টান জীবন যাপন কেও একটি দিনে জন্যে ধর্মকথা শুনতে যান নি বা চান নি কোনো! গীর্জায়-_তিনি ধর্ম বিষয়ে এক তথাকথিত “অশিক্ষিত, ব্যক্তিব কাছে উপদেশ শুনতে চাইলেন

কিন্তু শ্রীরামকু্ণ__যিনি ঈশ্বরীয় প্রসঙ্গ নিষে নিয়ত বাজ্ময় থাকেন-_এখন অন্ুকদ্ধ হয়েও মৌন রইলেন, ঘা তার পক্ষে অ-ন্বাভাবিক |

তারপর বললেন, “কে জানে কেন, আমার কিছু ব্লতে ইচ্ছে করছে না। আমা নুখ যেন কে চেপে ধরেছে।

কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই তার সে ভাব চলে গেল।

তিনি অধিষ্ঠান করতে লাগলেন আপনজ্ঞানের খ্বাভাবিক সত্তায়। পূর্ণজ্ঞানী মুক্তকঃ হলেন। তবে তাঁর বাণী উৎসারিত হতে লাগল সঙ্গীতে। 'মধুর ম্বরে' তিনি গান ধরলেন পর পর গেয়ে শোনালেন সাধক কমলাকান্ত আর বামপ্রনাদের ক'খানি পদাবলী | “.""গাহিয়া মধুস্দনের মন মোহিত করিয়াছিলেন এবং তদ্বাপদেশে ্টাহাকে ভগবদ্ভক্তিই যে সংসারে একমাত্র সার পদার্থ, তাহ! শিক্ষা দিয়াছিলেন 1” (শ্বামী সারদানন্দ-শরীরামরুঞ্চলীল। প্রসঙ্গ, উত্তরার্ধ, পৃঃ ৯৩-৯৫ )। মাইকেলের “মন মোহিত? হওয়া ভিন্ন অন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া! তার অস্তবে হয়েছিল কিনা জান। যায়নি সে সংবাদ অতিশয় পরিতাপের বিষয় যে, শ্রীমধুস্থদ্ন জীবনের এমন গুরুত্ব- পূর্ণ প্রনঙ্ষে কোনো উল্লেখ নেই তাঁর ছুই নির্ভরযোগ্য জীবনী গ্রন্থে-_নগেন্জনাথ সোমের 'মধুস্থৃতি' যোগন্দ্রনাথ বন্থর “মাইকেল মধুস্থদন দত্তের জীবন চরিত? শ্রীরামকৃষ্ণ কোন্‌কোন্‌ গান মাইকেলকে শুনিয়েছিলেন তাও জান! গেল না, দুাগ্য-

বশত ]**.

তার প্রায় বছর পরের কথা "

ব্রহ্মানন্দ কেশবচন্ত্র সেন তখন সদলে বেলঘরিয়ায় রয়েছেন আপন সম্প্রদায় নিয়ে সাধন ভজন করছেন অনুগামী জয়গোপাল সেনের বাগানবাড়িতে ১৮৭৫ সালের মার্চ মাস।

শ্রীরামরু্ খবর পেয়ে সেখানে এলেন আলাপ পরিচয় করতে চান কেশবচন্ত্রের সঙ্গে তার বিষয়ে তিনি অনেক শুনেছেন তীর ঈশ্বর-ভাক্তি আর বক্তৃতা-শক্তির কথা ব্রহ্ম সন্কীর্তনে তার মন্ত হওয়াব কথা | তাই দেখা করতে গিয়েছিলেন রাজা।- বাজারে, কেশবের “কমল কুটিরে।; কিন্তু সেখানে তখন কেশবচন্দ্র ছিলেন না। বেলঘন্রিয়৷ গেছেন শুনে, এখানে এলেন রামকৃষ্ণ

অবশ্য আরেকবারও তিনি কেশবকে দেখেছিলেন বেলঘরিয়ায় অন্তত এগার বছর আগে, ১৮৬৪ সালে। কলকাতায় আদি ব্রাহ্ম সমাজ মন্দিরের বেদীতে ছাব্বিশ বছরের যুবক কেশবচন্দ্র সেদিন উপাসনা করছিলেন সমবেত ব্রাহ্মমগ্ুলীর মধ্যে একমাত্র তার দিকে লক্ষ্য করেই মুখর হন শ্রীরামরুষ্জ : “কেবল এরই দেখছি ফাৎন! নড়েছে।”.. এত বছর পরে, সেই একটি দিনের কথা তার মনে ছিল কিন। কে জানে !

যাই হোক, এখন বেলঘরিয়] বাগানে কেশবচন্দ্র সেনের সামনে এসেই বললেন, “বাবু, তোমরা নাকি ঈশ্বর দর্শন কর। ঈশ্বর দর্শন কেমন জানতে ইচ্ছে। তাই তোমাদের কাছে এসেছি ।,

এইভাবে আলাপের স্থচনা করলেন। আর ছু চার কথার মধ্যেই আরন্ত করে দিলেন গান, তন্ময় হয়ে-_-

কে জানে কালী কেমন,

ষড়দর্শনে ন! পায় দরশন

মূলাধারে সহন্রারে সদা যোগী করে মনন

কালী পন্মবনে হংস সনে হংসীরূপে করে রমণ

আত্মারামের আতা কালা প্রমাণ প্রণবের মতন

তিনি ঘটে ঘটে বিরাজ করেন ইচ্ছাময়ীর ইচ্ছা! যেমন

মায়ের উদরে ব্রহ্ধাও্ড ভাগ প্রকাণ্ড জান কেমন

মহাকাল জেনেছেন কালীর কর্ম, অন্ত কেব! জানে তেমন

প্রসাদ ভাষে লোকে হাসে, সম্ভরণে সিন্ধু তরণ

আমার মন বুঝেছে প্রাণ বোঝে না ধরতে শশী হয়ে বামন রামপ্রসাদী সঙ্গীত গাইতে গাইতেই সমাধিস্থ হলেন তিনি অবশেষে ভাবভঙ্গেব পর

ঈশ্বরীয় বিষয়ে বলতে লাগলেন গভীর আধ্যাত্মিক তব শোনালেন অতি সহজ কথায় | তেষনি সরল, কিন্ত অসামান্য উপম! যোগে। শুনে সকলে চমতৎরুত হলেন তখনতথেকেই কেশবচন্দ্রের সঞ্গে তার আত্মিক ঘনিষ্ঠতার সুত্রপাত। তাবপর দীর্ঘ বছর, কেশবের মৃত্যুকাল পর্যন্ত তা উত্তবোত্তর বুদ্ধি পায় ।*.

কেশব সম্প্রদায়ের মুখপত্র তাদের সেই সাক্ষাতকারের বিবরণ প্রকাশ করে এইভাবে, --তিখন ওই সমাধির ভাব দেখিয়া কেহই উচ্চভাৰ বপিয়। মনে করেন নাই'» কিন্ত €কিয়ৎক্ষণ পবে পবমহংস কিঞ্চিৎ চৈঠন্য লাভ করিয়| গভীর কথা সকল বণিতে লাগিলেন দেখিয়! প্রগারকগণ স্তম্ভিত হইলেন | তখন তাহারা বুঝিতে পারিলেন যে রামকৃষ্ণ একজন স্বর্গীয় পুরুষ, তিনি সহজ লোক নন ।১-."পরমহংসকে দেখা আচার্য মহাশয় মুগ্ধ হন, পরমহংসও তাহার প্রতি বিশেষ আকুষ্ট হইয়া পডেন | তখন হইতে উভযের আম্মায় আত্মায় গুড যোগ হয় ।**---৮ (ধর্মভত্ব, ১৮৮৬ মেপ্টেম্বর ১৬ )।

বিছ্ভাসাগরের নান! সদ্গুণের কথা কত শুনেছেন রামকষ্খ। তা মেদিন তাকে দেখতে এসেছেন তার বাছুভবাগানেব বাড়িতে, যে পথের বর্তমান নাম বিগ্ভাসাগন গ্লট। ১৮৮২ সালের €ই অগস্ট বিকালে বিষ্ভাসাগব 'তখন ৬২৬১ বছরের প্রবীণ রামকৃষ্ণেব বয়স হবে ৪৬। কেশবচন্ছেের সামনে গান গাইবার সাত বছব পরের কথা

বিচ্ভাসাগন্র যত বড বিদ্বান, তেমনি বুদ্ধিদীপ্ত বাকপটু, স্থরলিক | “অশিক্ষিত? বাম- কৃষ্ণেরও বাগিন্ছ্রিয় কতখানি সক্ষম বলসঞ্চা্রী, “কথামৃত'র ছত্রে ছত্রে আছে তা? নিদর্শন। কোনো স্থশিক্ষিত ব্যক্তির সঙ্গে বাঙা-বিনিময়ে অপ্রতিত হন নাতিনি স্থতরাং দুজনের প্রথম সাক্ষাতেই কিছু ঝলকিত কথোপকথন হয়ে গেল আর তা পরম উপভোগা হলে ঘরে উপস্থিত শ্রোতাদের

“এতদিন খাল বিল হুদ্দ নদী দেখেছি, এইবার সাগর দেখছি ।'

“তাহলে নোনা জল খানিকটা নিয়ে যান ।,

'না গো নোন। জল কেন? তুমি অবিগ্থার সাগর নও, তুমি যে বিদ্যার সাগর * ইত্যাদি

তবে পরমহংসের বাচন বৃদ্ধির চর্চ! মাত্র নয়। তার সব প্রশঙ্গ মিপিত হয় ঈশ্বরীয় সঙ্গমে আর মহাপপ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র ঈশ্বরেই অনীহ।

তবু রামকৃষ্কের কঠে বাগদ্বৌ ভর করলেন। ঘে কোনো ব্যক্তির সামনে আপন বক্তব্য যেমন সুস্পষ্ট আর যুক্তিপূর্ণ ভাবে তিনি জানাতে পারতেন, এখানেও দেখা! গেল তেমনি বিদ্যা, অবিস্তার বিষয়ে তার অন্তরের বুশ বাণী-নিঝ'রে বিকীর্ণ

হলে! সেই গ্রসঙ্গেই ধ্বনিত চলো! ব্রহ্ষজ্ঞানের কথা তার আশ্চর্য সহজ ব্যাখ্যা করলেন প্রাকৃত ভাষায়, “বেদ পুরাণ তন্ত্র ড়দর্শন সব এটো হয়ে গেছে। কিন্ত ব্রহ্ ঘে কি তা কেউ মুখে বোঝাতে পারেনি 1 | বিষ্ভাসাগর বন্ধুদের দিকে ফিরে বললেন, “বা ! আজ একটি নৃতন কথা শিখলাম উপমার রাজা রামকৃষ্ণ অনি সেই শিষ্য ছুভাইয়ের গল্পটি শোনালেন গুরুর কাছে বছর বিষ্ালাভের পর ঘরে এসেছে দুজনে বাবা জিজ্ঞেস করলেন, 'ব্রদ্ধ কি? বড় ছেলে বিস্তর ব্যাখ্যা আর বিশেষণে বোঝাতে লাগল আর ছোট মৌন রইল প্রশ্নের উত্তরে বাব! বললেন তাকে, “তুমিই বুঝেছ।, মেই সুত্রেই রামকু্ণ “সহান্যে' বললেন, “তাকে পাগ্ডিত্য দ্বারা বিচার করে জান' যায় না। বলে, “প্রেমোমত্ত' হয়ে গান ধরলেন-_ “কে জানে কালী কেমন? ষড়দর্শনে না পায় দরশন '**' গানখানি গেয়ে, বললেন, “বিশ্বাসের কি শক্তি ।” এবার হন্ছমানের বিশ্বাসের জোরে সমুদ্র পার হওয়ার সেই গল্পও শুনিয়ে দিলেন ; আর বেশি কথা নয়, আরম্ত হয়ে গেল সঙ্গীত এখন বিশ্বাসের মহিম! গান করতে লাগলেন ভক্তিভাবে মত্ত হয়ে-_

আমি “দুর্গা ছুর্গা' বলে মা যদি ষবি।

আখেরে দ্বীনে না! তারে! কেমনে

জান! যাবে গে! শঙ্করী |

নাশি গো ব্রাহ্মণ, হত্যা করি জ্ণ,

স্থরাপান আদি বিনাশী নারী

সব পাতক না ভাবি তিলেক ব্রহ্মগপদ নিতে পারি ।, সঙ্গীতের ধারায় ব্যাখ্যা এগিয়ে যায়। স্থুর কাব্যে মূর্ত হয়ে ওঠে বাণী। শ্রোতাদের মর্ষে অনুরণন জাগায় নিরস্তর নাম-মাহাত্ম কীর্তন করে সর্ব পাপ থেকে মুক্তি লাত। ঈশ্বরের প্রতি একান্ত শরণাগতি থেকে মোক্ষপ্রাপ্ধি এমনি ভাবের গানখানি গাইবার পর তিনি আবা? একটি ত্র দ্বেন, “তাকে ভক্তিতে সহজে পাওয়া যায় তিনি ভাবের বিষয় ।, বলতে বলতেই আরেকটি গান আরম্ভ করলেন-_

মন কি তত্ব কর তীরে, যেন উন্মত্ত আধার ঘরে

সে যে ভাবের বিষয় ভাব ব্যতীত অভাবে কি ধরতে পারে

অগ্রে শশী বশীভূত কর তব শক্তি সারে।

ওরে কোঠার ভিতর চোর কুঠরি ভোর হলে সে লুকাবে রে ষড়দর্শনে না পায় দরশন, আগম নিগম তস্্রসারে সে যে ভক্তি বনের রসিক সদানন্দে বিরাজ করে পুরে সে ভাব লাগি পরম যোগী যোগ করে সে যুগাস্তরে হলো! ভাবের উদয় লয় সে যেমন লোহাকে চুম্বকে ধরে প্রসাদ বলে মাতৃভাবে আম তত্ব কৰি ধারে মেট] চাতরে কি ভাঙব হাড়ি, বোঝ না রে মন ঠারে ঠোরে গাইতে গাইতেই সমাধিস্থ হয়ে গেলেন 'হাত অঞ্জলিবদ্ধ | দেহ উন্নত স্থির নয়নছয় স্পন্দনহীন ।”**সকলে উদ্গ্রীব' হয়ে শ্রীরামকৃষ্ণের 'এই অদ্ভুত অবস্থা? দেখছেন 'পণ্ডিত বিষ্যাসাগরও ন্বিম্তব্ধণ হয়ে “একদুষ্টে চেয়ে আছেন তার দিকে। খানিক পরে তিনি 'প্ররুতিস্থ' হলেন দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে আবার “সহান্তে' বললেন, “ভাব তক্তি, এর মানে- ভালোবাস! যিনি ব্রদ্ম তাকেই “মা” বলে ডাকছে প্রসাদ বলে মাতৃভাবে আমি তত্ব করি ধারে সেটা চাতরে ভাঙব হাড়ি বোঝ ন|। রে মন ঠারে ঠোরে মা বড ভালোবাসার জিনিস কিনা ঈশ্বরকে ভালোবাসতে পারলেই তীকে পা য়! ফয়। ভাব, তত্তি, ভালোবানা আর বিশ্বাস আর একট গান শোন-_ ভাবিলে ভাবের উদয় হয় (ও সে) যেমন ভাব তেমনি লাভ মৃপ সে প্রত্যয় যে জন কালীর তক্ত জীব্নুক্ত নিত্যানন্দময় | কালিপদ স্থধ! হদে চিত্ত যদি রয় ( যদি চিত্ত ডুবে রয়) তবে পূজা হোম যাগ যজ্ঞ কিছুই কিছু নয় |” গানের পরে বিদ্াসাগরকে বললেন আরেকটি কথা__য! হয়ত শ্রোতার মনংপৃত হলে! না-_'তুমি যে সব কর্ম করছো এসব সত্কর্ম। যদ্দি আমি কর্তা” এই অহস্কার ত্যাগ করে নিষাম ভাবে কর্ম করতে পারে" তাহলে খুব ভালে| এই নিঙ্কাম কর্ম করতে করতে ঈশ্বরেতে ভক্তি ভালোবাসা আসে। এইরূপ নিষ্কাম কর্ম করতে করতে ঈশ্বর লাভ হয় ।.."তার কৃপায় তাকে পায়! যায় ঈশ্বরকে দেখ! যায়, তার সঙ্গে কথা কওয়। যায়, যেমন আমি তোমার সঙ্গে কথা কচ্ছি।* ( সকলে নিঃশব্দ )।, (শ্রীশ্রীরামকুষ্ণ কথামত, তৃতীম্ন ভাগ, পৃঃ ৫-১৬)। এই চারখানি গান তিনি সেদিন বিষ্ভাাগরকে শোনালেন | যেমন মুখের বাণীতে তেমনি সঙ্গীতে প্রকাশ করলেন আপনার জলন্ত ধর্মাদর্শ ।*** শ্রামকৃষ্ণের সঙ্গে বিদ্তাসাগরের সেই প্রথম শেষ সাক্ষাৎ সেদিনেই তিনি

ঠাকুরকে বলেছিলেন যে,দক্ষিণেশ্বরে একদিন যাবেন কিন্তু সে যাওয়া! আর ঘটে নি কোনোদিন শ্রীরামকৃষ্ণের একথা! মনে ছিল এবং বিষয়ে তিনি মন্তব্যও করেছিলেন ভক্তদের সামনে তারপর আরো! প্রায় আড়াই বছর পরের কথা। নি: রিনা বা বঙ্কিমচন্দ্রের সঙ্গে অধরলাল সেনের বাড়িতে শ্রীরামকৃষ্ণের আলাপ হলে৷ শোভ।- বাজারে, ১৮৮৪ সালের ৬ই ডিসেম্বর ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট অধরলাল ঠাকুরের অতি নিষ্ঠাবান গৃহীভক্ত। বস্কিমচন্দ্র অধরলালের অনেক বয়োজ্যেষ্ট হলেও বন্ধু তার সঙ্গে আরো! কজন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সেখানে নিমস্ত্রিত হয়ে অধর সেনের গৃহে এসেছেন রামরুঞ্জের চেয়ে ছু বছর বয়োকনিষ্ঠ বহ্িম। তার দিকে দেখিয়ে অধরলাল রামকুষ্জকে বললেন, “মহাশয়, ইনি ভারি পণ্ডিত, অনেক বইটই লিখেছেন আপনাকে দেখতে এসেছেন এ'র নাম বন্ধিমবাবু।” অমনি শ্রীরামকঞ্ণ সহান্তে বললেন, “বঙ্কিম ! তুমি আবার কার ভাবে ৰাকা গো ।, বঙ্কিম হেসে উত্তর দিলেন, “আর মশায় সাহেবের জুতোর চোটে বাঁকা ।, এই রসিকতাকে রামরুষ্ণ উচ্চ পর্যায়ে তুলে দিলেন এক কথায়। দিব্য ভাবের ছ্যোতনায় পাখিৰ প্রসঙ্গটিকে রাধাকৃষ্ণ যুগল রূপের তত্বে উন্নীত করলেন বলতে লাগলেন, “না গো, শ্রীকষ্ণ প্রেমে বস্থিম হয়েছিলেন শ্রীমতীর প্রেমে ত্রিভঙ্গ হয়েছিলেন |". কালে। কেন জানে| ?--"য্তক্ষণ ঈশ্বর দূরে, ততক্ষণ কালো! দেখায় ) যেমন সমুক্টের জল। দূর থেকে নীলবর্ণ দেখায় | সমুত্রের জলের কাছে গেলে হাতে করে তুললে আর কালে। থাকে না, তখন খুব পরিষার, শাদ1 |. ঈশ্বরের ত্বরূপ ঠিক জানতে পারলে আর কালো থাকে না ।, তারপর আরো! গ্রসঙ্গ করলেন ঈশ্বরের প্রত্যাদ্দেশ ন। পেলে প্রচার সফল হয় ন1। ঈশ্বর দর্শন হলেই জ্ঞান আর মুক্তি। শুধু পাণ্ডিত্যে কি হবে, যদি কামিনী কাঞ্চনে মন থাকে ? কামিনী কাঞ্চনই সংসার-_এরই নাম মাধা। সংসারী লোক শুদ্ধ ভক্ত হলে অনাসক্ত হয়ে কর্ম করে। কর্মের ফল ঈশ্বরকে সমর্পণ করে আগে ঈশ্বর পরে সৃষ্টি তীকে লাভ করলে, দরকার হয়ত সবই জানতে পারবে ।” ইত্যাদি কথার পর বললেন, “তাকে স্মরণ করলে সব পাপ কেটে ঘায়। ভূব দিতে হবে, তা! না হলে রত্ব পাওয়! যাবে না একটা গান শোন-_ ডুব ডুব ডুব বূপসাগরে আমার মন। তলাতল পাতাল খু'জলে পাবি রে প্রেমরত্ব ধন খু'জ খু'জ খু'জ খু'জলে পাবি হৃদয়মাঝে বৃন্দাবন

দীপ, দীপ, দীপ. জ্ঞানের বাতি জল্বে হদে অনুক্ষণ

ড্যাঙ, ড্যাঙ, ড্যাও, ড্যাঙায় ডিঙে চালায় আবার সে কোন্জন।

কুবীর বলে শোন্‌ শোন্‌ শোন্‌ ভাব গুরুর শ্রীচরণ “তার সেই দেবছুর্লভ মধুর কণ্ঠে এই গানটি গাইলেন সভাশুদ্ধ লোক আক হয়ে “একমনে এই গান” শুনতে লাগলেন গানের পরে আবার আরম্ভ হলে! তার কথা তিনি বন্িমকে বললেন, “কেউ কেউ ডুব দিতে চায় না তারা বলে, ঈশ্বর ঈশ্বর করে বাড়াবাড়ি করে শেষকালে কি পাগল হয়ে যাব? যারা ঈশ্বর প্রেমে মত্ত, তাদের তার বলে, বেহেড হয়ে গিয়েছে কিন্ধ এইসব লোক এটি বোঝে না যে, সচ্চিদানন্দ অমৃতের সাগর ।১**, বিদায় নেবার সময় অন্যমনস্ক দেখুয় বন্ধিমচন্দ্রকে তিনি চাদরটি ফেলে যাচ্ছিলেন

( কথামত, পঞ্চম ভাগ, পূঃ ১৯৬-২০৮ )। কেশবচন্দ্রের সঙ্গে তখন শ্রীরামরুষ্ণের খুবই অন্তরঙ্গতা, মাঝে মাঝেই দেখা-সাক্ষাৎ করেন পরম্পরে | রামকৃষ্ণ কলকাতীয় আসেন কেশবের কমল কুটিরে, তদের ক্রাঙ্গ- সমাজের উৎসবাদিতে কেশবচন্দ্রও দক্ষিণেশ্বরে উপস্থিত হন কখনে! রামকুষ্ণকে নিয়ে যান জলভ্রমণে, স্টীযারে | বন্ক্ষণ আনন্দ সম্মেলনে অতিবাহিত হয়ে যায়। তগবৎ প্রসঙ্গে, ভক্তিগীতিতে এমনি একদিন কেশবচন্দ্র জাহাজে দৃক্ষিণেশ্বরে এসেছেন ১৮৮২-র ২৭ অক্টোবর সঙ্গে একদল ব্রান্ধ ভক্ত ! এখান থেকে সহযাত্রী করে নিলেন রামরুষ্ণকে তার সঙ্গে বিজয়কুষ্ণ গোম্বামীও এলেন তিনি তখন কেশবের সমাজ ত্যাগ করে সাধারণ ব্রাঙ্গ সমাজ তুক্ত কিন্তু তাদের সহাবস্থান দেখা যেত রামকৃষ্ণ সঙ্গিধানে সেদিন জাহাজে তেমনি। ক্যাৰিনে কেশব আর সকলে তাকে ঘিরে বললেন ঈশ্বর কথায় সুচনা করলেন পামরুষ্ণ, “ভক্তের হৃদয় ভগবানের বৈঠকখান]|।, তারপর বললেন, 'জ্ঞানীর! যাকে ব্রহ্ম বলে, যোগীর! তাঁকেই আত্ম % বলে, আর ভক্তরা তাকেই ভগবান বলে। একই বস্ত। নাম তেদ মান্স। যিনিই ক্রহ্ষ, তিনিই আত্মা, তিনিই ভগবান ।,.তিনি নানাভাবে লীলা করছেন ।” সহাস্তমুখ। অনর্গল বলে চলেছেন, কথায় কথায় চিত্তাকর্ধা ব্যাখ্যা করে। “কালী কি কালে1? দূরে তাই কালো! জানতে পারলে কালো নয় -**১ বলতে বলতে তন্ময় হয়ে গান ধরলেন-_ শ্বাম। মা কি আমার কালো রে। * “কথামৃত' গ্রন্থে এটি সম্ভবত মুদ্রণ প্রমাদ। প্রকৃত কথ হবে--'পরমাম্মা' 'আত্মা' নয।

কালো রূপ দিগম্বরী হদ্পদ্প করে আলো রে লোকে বলে কালী কালো আমার মন বলে না কালোরে। কখনো শ্বেত কখনে| পীত কখনে। নীল লোহিত রে আমি আগে নাহি জানি কেমন জননী, ভাবিয়ে জনম তোল রে কখনো! পুরুষ কখনো প্ররুতি কখনো! শূন্ত রূপ রে। মায়ের ভাব ভাবিয়ে কমলাকাস্ত সহজে পাগল হুল রে। গানখানি শেষ করে কেশবকে বললেন, “বন্ধন আর মুক্তি ; ছুয়েরকর্াই তিনি তার মায়াতে সংসারী জীব কামিনী কাঞ্চনে বদ্ধ, আবার তার দয়া হলেই মুক্ত তিনি “ভব্বন্ধনের বন্ধনহারিণী তারিণী |, এই বলে, পন্বর্ব-নিন্দিত' কে রামপ্রসাদের গান গাইলেন-_ শ্যাম! মা উড়াচ্ছ ঘুড়ি ( ভব সংসার বাজার মাঝে )। (এ যে) আশ! বামু ভরে উড়ে, বাধা তাহে মায়] দি কাক গণ্ডি মণ্ডি গাঁথা, পঞ্চরাদি নান! নাড়ি। ঘুড়ি স্বগুণে নির্মাণ করা, কারিগরি বাড়াবাড়ি বিষয়ে মেজেছ মাঞ্জা, কর্কশ! হয়েছে দড়ি ঘুড়ি লক্ষের দুটো একটা কাটে, হেসে দেও ম! হাত চাপডি | প্রসাদ বলে দক্ষিণা বাতাসে দড়ি যাবে উড়ি। ভব সংসার সমুদ্দ পারে পড়বে গিয়ে তাভাতাড়ি তারপর একটু ব্যাখ্যা করলেন, “তিনি পীলাময়ী সংসার তার লীলা | তিনি ইচ্ছাময়ী, আনন্দময়ী | লক্ষের মধ্যে একজনকে মুক্তি দেন ।**তাই 'িক্ষের মধ্যে ছুটে] একট! কাটে, হেমে দাও মা হাত চাপড়ি ।, চলস্ত জাহাজে বসে কলে পানন্দে শুনছেন। শীরামকৃ্ আবার বললেন, “তিনি মাখি ঠেরে ইসারা করে বলে দিয়েছেন, 'য। এখন সংসার করগে যা। মনের কি দোস ? তিনি যদি আবার দয়! করে মনকে ফিরিয়ে পেন, তাহলে বিষয়-বুদ্ধির হাত থেকে মুক্তি হয়। তখন আবার তার পাদপন্মে মন হয়।? এবার এইভাব নিয়ে গান ধরলেন, সংসারী যেমন মাদের কাছে অভিমান জানায়_- আমি খেলে খেদ কৰি তুমি মাতা থাকতে আমার জাগা ঘরে চুরি মনে করি তোমার নাম করি কিন্তু সময়ে পাসরি

১৩

আমি বুঝেছি জেনেছি আশয় পেয়েছি এসব তোমারি চাতুরী কিছু দিলে না পেলে ন৷ নিলে ন! খেলে না, সে দোষ কি আমারি যদি দিতে পেতে নিতে খেতে, দিতাম খাওয়াতাম তোমারি যশ অপযশ স্থরস কুরম সকল রম তোমারি ( ওগো) রসে থেকে রসভঙ্, কেন কর রসেশ্বরী প্রসাদ বলে মন দিয়েছ মনেরে আখি ঠারি ( ওম1) তোমার সৃষ্টি দৃষ্টি পোড়া মিষ্টি বলে ঘুরি গানের পরে বললেন, 'তীরই মায়াতে ভুলে মানুষ সংসারী হয়েছে প্রসাদ বলে মন দিয়েছে মনেরে আখি ঠারি )' একজন ব্রান্ধ ভক্ত প্রশ্ন করলেন, “মহাশয়, সব ত্যাগ না] কবলে ঈশ্ববকে পাওয়া যাবেন? বামরুষ্ণ সহান্তে বললেন, না গো ভোমাদের সবত্যাগ করতে হবে কেন? তোমণ! কসে বশে বেশ আছ সারে মাতে ।* (শ্তনে সকলে হাসলেন )-"'নস্ক খেল! জান? আমি বেশি কাটিয়ে জলে গেছি তোমরা খুব সেয়ানা!। কেউ দশে আছ , কেউ পাঁচে আছ বেশি কাটাওনি ; তাই আমার মত জলে যাগনি। খেলা চলছে-_এ তো বেশ।' সকলে হাসতে লাগলেন রামকৃষ্ণ আবার বললেন,“সত্য বলছি, তোমপ। সংসার করছ, এতে দো নাই | তবে ঈশ্বরের দিকে মন রাখতে হবে। তা না হলে হবে না এক হাতে কর্মকর আর এক হাতে ঈশ্বরকে ধরে থাকো কর্ম শেষ হলে ঈশ্বরকে ছুই হাতে ধরবে।” ব্রাহ্ম ভক্তদের আরো! বলতে লাগলেন, “মন নিয়েই সব ঈশ্বরের নামে এমন বিশ্বাস হওয়া চাই-_“কি, আমি তার নাম করিছি, আমার এখনও পাপ থাকবে? আমাহ আবার পাপ কি। আমার আবার বন্ধন কি ?' বলে, আবার সেই নাম-মাহাত্ম গেয়ে শোনালেন-_ আমি দুর্গা দুর্গা বলে মা যদি মরি আখেরে দীনে না তারে! কেমনে, জান! যাবে গো শঙ্করী ॥".. “আমি মার কাছে কেবল ভক্তি চেয়েছিলাম ফুপ হাতে করে মার পাদপন্সে দিয়েছিলাম ) বলেছিলাম, “মা! এই নাও তোমার পাপ, এই নাও তোমার পুণ্য, আমায় শুদ্ধাতক্তি দাও ) এই নাও তোমার জ্ঞান, এই নাও তোমার অজ্ঞান, আমায় স্ুদ্ধাতক্তি দাও-**

১৯

একটি বামপ্রসাদের গান শোন- বলে, গাইতে লাগলেন--. আয় মন বেড়াতে যাবি

কালী কল্পতক মুলে রে ( মন) চারি ফল কুড়ায়ে পাবি

প্রবৃত্তি নিবৃত্তি জায়া, €( তার ) নিবুতিরে সঙ্গে লবি।

ওরে বিবেক নামে তার বেটা, তত্ব কথা তায় শুধাবি |

শুচি অশ্ডচিরে লয়ে দিব্য ঘরে কবে শুবি।

যখন ঘ্ছই সতীনে পীরিত হবে তখন শ্যামা মাকে পাবি

অহঙ্কার অবিদ্যা তোর, পিতা মাতায় তাড়িয়ে দিবি

যদি মোহ গে টেনে লয় ধৈর্য খোট ধরে ববি

ধর্ষাধর্ম দুটো অজা, তুচ্ছ খোঁটায় বেঁধে খুবি

যদি না মানে নিষেধ, তবে জ্ঞান খঙ্গে বলি দিবি

প্রথম ভাষার ছুটি সন্তানেরে দ্বর হতে বুঝাইবি।

য্দি না মানে প্রবোধ, জ্ঞান সিন্ধু মাঝে ডূবাইবি

প্রসাদ বলে এমন হলে কালের কাছে জবাব দিবি

তবে বাপু বাছ! বাপের ঠাকুর, মনের মত মন হবি গানের পরে আবার বললেন, “সংসারে ঈশ্বরলাভ হবে না কেন ? জনক রাজার হয়ে- ছিল। সংসার “ধোকার টাটি প্রসাদ বলেছিল তার পাদপঘ্মে ভক্তি লাভ করলে--

এই সংসারই মজার কুটি, আমি খাই দাই আর মজ| লুটি।

জনক বাজ! মহা তেজ! তার বা কিসের কিসের ছিল ক্রটি। সে যে এদিক ওদিক দুদিক রেখে খেয়েছিল ছুধের বাটি ৷”

গুনে সবাই হাসতে লাগলেন £কিন্ত' রামরুষ্ণ সবিস্তারে বললেন, “ফস্‌ করে জনক বাজা হওয়| যায় না। জণক রাজা নির্জনে অনেক তপন্তা করেছিলেন সংসারে থেকেও এক একবার নির্জনে বাস করতে হয় ।...নির্জনে থেকে মাঝে ভগবানের জন্যে সাধন করতে হয় ""বিবেক বৈরাগ্য লাভ কবে সংসার করতে হয়। সংসার সমৃদ্তরে কাম ক্রোধাদি কুমীর আছে। হলু্ধ গায়ে মেখে জলে নামলে কুমীরের ভয় থাকে ন1। বিবেক বৈরাগ্য হলুদ সদসং বিচারের নাম বিবেক ঈশ্বরই সৎনিত্য বস্ত আর সব অসৎ, অনিত্য ; ছু দিনের জন্য ।-এইটি বোধ আর ঈশ্বরে অনুরাগ। ভার ওপর টান-_ভালোবাসা গোপীদের কষ্ণের ওপর যে রকম টান ছিল একটা গান শোন-_-

সব.

বলে, ঈশ্বরে অন্ুরাগের গান গাইলেন-_.

বাশি বাজিল ওই বিপিনে।

( আমার না গেলে নয় ) (শ্তাম পথে দীড়ায়ে আছে )

তোর] যাবি কি না যাৰি বল্‌ গো।॥

তোদের কথা শ্টামের কথা।

আমার শ্যাম অন্তরের ব্যথা (সই )॥

তোদের বাজে বাশি কানের কাছে।

বাশি আমার বাজে হায় মাঝে

শ্যামের বাশি বাজে বেরাও রাই।

তোমা বিনা কুঞ্জেব শোভ। নাই ভ।বাবেগে তীর চোখ সঙ্জল হয়ে উঠল কেশব প্রমুখকে তিনি বললেন, “রাধার: মানো আর নাই মানো, এই টানটুকু নাও ; ভগবানের জন্যে কিলে এমন ব্যাকুলতা হয়, তারই চেষ্টা! কর ব্যাকুলতা থাকলেই তাঁকে পাভ কর] যায় ।, এমনিভাবে সেদিন খানি গান কেশবচন্দ্র তার সহযাত্রী অন্ুগামীদের শোনালেন শ্ররামরুষ্ণ গঙ্গাভ্রমণ কালে, জাহাজের ক্যাবিনে বসে। তাদেন স্টামার এতক্ষণে কলকাতায় ফিরল, কয়লাঘাটে ।.**€ কথামত, প্রথম ভাগ, পৃঃ ৪৩-৪৮ )1.*, তখন গিরিশচন্দ্রের “প্রহলাদ চরিত্র” নাটক অভিনয় হচ্ছে স্টার থিষ্নেটারে মে বীভন হাটের পুরনে। স্টার যে রঙ্গমঞ্চ স্টার নাম থেকে এমাবেল্ড, ক্লাপিক, মণমোহন, মিত্র থিয়েটার ইত্যাদিতে বপান্তরিত হতে হুতে অবশেষে সেপ্টহাল আযাভেনিউর উত্তরমূখী অভিযানে বিলীন হয়ে যায় সেই পুবনে! ম্টার থিয়েটারে রামকুঞ্ণকে অভিনয় দেখতে নিমন্ত্রন করেছেন গিরিশচন্দ্র কয়েকজন ভক্তের সঙ্গে তিনি সেদিন €( ১৮৮৪, ডিসেম্বর ১৪ ) 'প্রহলাদ-চরিজ্র” ত'ক্ত নাটিকাটি দেখলেন অভিনয়ের পর ঠাকুর এলে বসলেন ম্যানেজার গিরিশচন্দ্রের ঘরে সঙ্গে নাট্যকার প্রনখ অনেকেই আছেন। গিন্িশ জিজ্ছেম করলেন, “মহাশয়, কিরকম দেখলেন ?' “দেখলাম সাক্ষাৎ তিনিই সব হয়েছেন।, কথায় কথায় নান! ঈশ্বরীয় প্রসঙ্গ হতে লাগল একসময় আবেদন ক:লেন গিরিশচন্দ্র, একটি সাধ, 'মহেতৃকী ভক্তি ।” রামরষ্ বললেন, অহেতৃকী তক্তি ঈশ্বরকোটিতে হয় জীবকোটির হয় না।

১৩

বলে, আপনভাবে গান ধরলেন পুষ্টি উর্ঘদিকে-_+ স।মাধন কি সবাই পায় (কালীধন কি সরাই পায় ) অবোধ মন বোঝেন কি দায়। শিবেরি অসাধ্য সাধন মন জড়ানো রাঙা পায় ইন্জাদি সম্পদ সুখ তুচ্ছ হয় যে ভাবে মায়। সদানন্দ সুখে ভালে, শ্যামা যদি ফিবে চায় যোগীন্্ মণীন্জর ইন্জ্র যে চরণ ধ্যানে ন। পায়। নিগুঁণে কমলাকাস্ত ওবু মে চরণ চায় গণ শেষ হতে, গিরিশচন্দ্র সমাপ্রি পঙ্ক্তিটি পুনরাবৃত্তি করলেন, নিজ্জের ভাপ যুক্ত করে-নিগুণে কমলাকান্ত তবু মে চরণ চায়। 'চারপর-__তীব্র বৈরাগা, কলিতে নারদীয় ভক্তি, জ্ঞান যোগ, প্রহলাদের স্বরূপ উক্তিভাব, হনুমানের ভাব ইত্যাদি প্রদঙ্গ করে রামরুঞ্ বললেন, 'উপব উপর ভালে হবে না, ডুব দিতে হবে।' বলে, তীর সেই প্রিয় গানখানি গাইলেন__ ডুব ডুব ডুব রূপসাগরে আমার মন। তলাতল পাতাল খুঁজলে পাৰি রে প্রেম রত্বধগ*** বিবেক বৈরাগ্যের কথার পরে গিরিশচন্দ্র জিজ্ঞেদ করলেন, “এ পাপীর কি হবে ।' ্রীরামকুঞ্চ উত্তর দিলেন সঙ্গীতে, গীতকার দাশরথী রায়ে সেই নিদান কালের বাণীতে-- “ঠাকুর উধ্বদুষ্টি করিয়া করুণম্বরে গান ধরিলেন-- ভাব শ্রীকান্ত নরকান্তকারীরে | নিতান্ত কৃতাস্ত ভয়ান্ত হবি | ভাবিলে ভব ভাবনা যায় রে-_ তরে তরঙ্গে ভ্রভঙ্গে ত্রিভঙ্গে যেবা ভাবে। এলি কি তত্বে, মরতে কুচিত্ত কুবুত্ত করিলে কি হবে রে উচিত নয়, দাশরথীরে ডুবাবি রে-_ কর চিত্ত প্রাচিত্ত, সে নিত্য পদ ভেবে বেশেষ করে গিরিশের দিকে চেয়ে শোনালেন__- তরে তরঙ্গে ভ্রভক্গে ত্রিভঙ্গে যেবা ভাবে। তারপর মহামায়া, বীর তাব, ভগবানকে আম্মোক্তারী দেয়া, তরুণ ভকদের কথ! ইত্যাদি বলবার পর “আনন্বমন্ী 1 'আনন্দময়ী 1” উচ্চারণ করে সমাধিস্থ হসেন।

১৪

অনেকক্ষণ সমাধির পর “বাবুরাম অন্যান্ত ভক্তদের দিকে চাহিয়া প্রেষে মাতোয়ারা হইয়)-."গান ধরিলেন”- এবার আমি ভাল ভেবেছি ভাল ভাবীর কাছে ভাব শিখেছি যে দেশে রজনী নাই, সেই দেশের এক লোক পেয়েছি আমি কিবা দিবা কিবা! সন্ধ্যা সন্ধ্যাবে বন্ধা! করেছি ঘুম ভেঙেছে আর কি ঘুমাই যোগে যাগে প্রেগে আছি। যোগসিস্্া তোরে দিয়ে মা, ঘুমেরে ঘুম পাড়ায়েছি॥ সোহাগ গন্ধক দিয়ে খাসা নং চডায়েছি। মণি মন্দির মেজে ল'ব অক্ষ ছুটি করে কুচি॥ প্রমাদ বলে ভক্তি মুক্তি "উভয়ে মাথায় রেখেছি। ( আমি ) কালী ব্রহ্ম জেনে মর্থ ধর্মীধর্ম সব ছেড়েছি ॥' গান শেষ হতেই আবার একটি গান আরস্ত করলেন-__ গয়। গঙ্গা প্রভাসাদি কাশী কাক্ধী কেবা চায় কালী কালী বলে আমার অজপা৷ যদি ফুরায় ত্রিসন্ধ্যা! যে বলে কালী, পুজা! সন্ধ্যা ঘে কি চায়। সন্ধ্যা তার সন্ধানে ফেরে কতু সন্ধি নাহি পায় কালী নামের কত গুণ কেবা জানতে পাবে তায়। দেবাদিব মহাদেব যার পঞ্চমুখে গুণ গায় দান ব্রত যজ্ঞ আদি আয় কিছু না মনে লয়। মদনের যাগ যজ্ ব্রহ্মচারীর রাঙ্গ| পায় “গিবিশের শান্ত ভাব দেখে তিনি প্রসন্ন হয়েছেন বলছেন, তামার এই অবস্থাই ভাল, মহজ অবস্থাই উত্তম অবস্থা ।*.** “এইবার ঠাকুর গাড়িতে উঠিলেন। গিরিশাদি তক্তেরাতীহার সঙ্গে সঙ্গে গমন *বিয়া গাড়িতে তুলিয়! দিলেন গাড়িতে উঠিতে উঠিতেই ঠাকুর গভীর সমাধি মধ্যে মগ্র হইলেন ! গাড়ির ভিতরে নারাপাঁদি ভক্তের! উঠ্টলেন। গাড়ি দক্ষিণেশ্বর অভিমুখে যাইতেছে ( কথামৃত, তৃতীয় ভাগ, পৃঃ ১*৯-১১৪ )। সেদিন তিনি পাঁচটি গান এইভাবে শুনিয়েছিলেন গিরিশচন্্র প্রদুখকে | কিন্ত আরেকদিন তিনি গেয়েছিলেন দশখানি গান-এটিই তার সর্বাধিক গান গাইবাব দৃষ্টান্ত একটি দিনে

সেদিনের গীতস্থল-_দক্ষিণেশ্বর মন্দির চত্বরে তার কক্ষটি। আর উপলক্ষ হন-_- শশধর তর্কগুড়ামণি ( ১৮৩৫'১৯২৮ )। তারিখ ১৮৮৪, জুন ৩*। স্থরেজ্্নাথ মিত্র, মহেন্দ্রনাথ গুপ্ত, মণিমোহন মল্লিক, বাবুরাম, লাটু, হরিশ প্রভৃতিও ঘরে রয়েছেন বিকাল প্রায় চারট] | তর্বচূড়ামণি হলেন পণ্ডিত, বাগ্মা, লেখক এবং হিন্দু ধর্মের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রয়ামী। শখনকার খৃষ্টান মিশনারী জেহাদের সামনে তিনি স্বধর্মের পক্ষে অক্লান্ত প্রচারক সেবক হয়ে দেখা দেণ। দশ্সিণেশ্বরে সেই দিনটির সপ্াহ আগে বামকুষের সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছে বলরাম বন্থর বাড়িতে প্রথম দিনেই রামকৃঝ্$কে দেখে তাঁর কথাবার্ত৷ শুনে শশধর গভার প্রভাবিত হন তারপর এসেছেন দাঁক্ষণেশ্ববে। জ্ঞানমাগণ তর্কচ্ভামণির সঙ্গে রামরুষণ ঈশ্বর প্রসঙ্গ করছেন। বলছেন, 'ধিনি অখণ্ড সচ্চি্দানন্দ, তিনিই লীলার জন্যে নানা বপ ধরেছেন ।' 'ঈশ্বরের কথা বপিতে বলিতে ঠ।কুর বেহুশ হইতেছেন। ভাবে মাতোয়ারা হইয়া কথ। কহিতেছেন। পণ্ডিতকে বলিতেছেন, 'বাপু, বর্গ অটল, অচণ স্থমেকবধ্। কিন্ত “অচল' যার আছে তার চল'ও আছে ।, গাকুর প্রেমানন্দে মত্ত হইয়াছেন যেই গন্ধববিনিন্দিত কণ্ে গান গাহিতেছেন। গানে পর গান গাহিতেছেশ-

কে জানে কাশী কেমন, ষড়দর্শনে না গায় দরশন--***. গানখানণি শেষপধন্ত গেয়ে দ্বিতীয় গাণ ধরণেন-__

মা কি এমনি মায়ের মেয়ে

যার নাম জপিয়ে মহেশ বাচেন হলাহল খাইয়ে

স্থষ্রি স্থিতি প্রলয় যার কটাক্ষে হেরিয়ে

সে যে অনস্ত ব্রন্মা্ড রাখে উরে পুরিয়ে

ঘে চরণে শরণ লয়ে দেবতা বাচেন দায়ে।

দেবের দেষ মহাদেব ধার চরণে লুটায়ে এই গান সম্পূর্ণ শুনিয়ে, তারপর গাইলেন-_

ম! কি শুধুই শিবেব সতী

যারে কালের কাল করে প্রণতি

ম্তাংটা বেশে শত্রু নাশে মহাকাল হয়ে স্থিতি

বল দেখি মন সে যে কেমন, নাথের বুকে মারে লাথি

প্রসাদ বলে মায়ের লীল! সকলি জেনে ডাকাতি

নতি

সাবধানে মন কর যতন, হবে তোমার শুদ্ধ মতি আবার গাইতে লাগলেন-_ | আমি সুরাপান করিনা স্থধা খাই জয় কালী বলে, মন মাতালে মাতাল করে, মদ মাতালে মাতাপণ বলে গুরু দত্ত বীজ লক্ষে প্রবৃত্তি তায় মশলা দিয়ে, জ্ঞান শুঁড়িয়ে চোয়ার ভাটি, পান করে মোর মন মাতালে মূল মন্ত্র স্তর ভরা, শোধন করি বলে তারা, প্রসাদ বলে এমন শর! খেলে চতুরর্গ মিলে তারপরের গানখানি হলো-__ শ্টামাধন কি সবাই “পায় অবোধ মন বোঝেন একি দায়। শিবেরই অসাধা সাধন মন মজানে। রাঙ্গ! পায় **" পাচখানি গান উপর্ু্পরি গাইবার পর ঠাকুরের ভাবাবস্থা একটু কম পড়িয়াছে।**" ছোট খাটটিতে গিয়া বসিয়াছেন পণ্ডিত গান শুনিয়া মোহিত হইয়াছেন। তিনি অতি বিনী'তভাবে ঠাকুরকে বলিতেছেন, “আবার গান হবে কি ?' ঠাকুর একটু পরেই আবার গান গাহিতেছেন-_ শ্তামাপদ আকাশেতে মন ঘুড়িখান উডিঠেছিল, কলুষের কুবাতাস পেয়ে গোঞ্চা খেয়ে পড়ে গেল 1." মায়াকান্না হল ভারি, আর আমি উঠাতে নারি, দার! সত কলের দড়ি, ফান লেগে সে ফেসে গেল। জ্ঞানমুণ্ড গেছে ছিস্ড়ে, উঠিয়ে দিলে অমনি পডে মাথ! নাই সে আর কি উড়ে সঙ্গের দুজন জয়ী হল। ভক্তিভে'রে ছিল বাধা, খেলতে এসে লাগল ধাধা, নরেশচন্দ্রের হাসা কাদা, না আসা এক ছিপ ভাল। তান্পর আরেকখানি গান ধরপেন-- এবার আমি ভাল ভেবেছি ভাল ভাবীর কাছে ভাব শিখেছি যে দেশে রজনী নাই সেই দেশের এক লোক পেয়েছি আমি কিবা! দিবা কিবা সন্ধ্যা সন্ধ্যার বন্ধ্যা করেছি ।." শ্ররামক্ আবার গান শোনালেন-_

১৭

'অভয় পদে প্রাণ অঁপেছি। ক্বামি আর কি যমের ভয় রেখেছি | কালী ণাম মহামস্ত্র আত্মশির শিখায় বেধেছি। ( আমি ) দেহ বেচে ভবের হাটে, শ্রহুগানাম কিনে এনেছি দেহের মধ্যে ছুজন কুজন 'তাদের ঘরে দুর বনেছি। এবার শমন এলে হৃদয় খুলে, দেখাব হাই বসে আছি কালী নাম কল্পতরু হৃদয়ে বোপণ করেছি। পামপ্রশাদ বলে দুর্গা বলে, যাত্র কে বসে আছি “হুর্গানাম কিনে এনে ছ' এই অংশটি শুনে শশ্বসেন্ন চোখে অশ্রু ঝণতে দেখা গেল ঠ।প পরের গানটি হণো-_ আপণাতে সাপনি খেকো যন যেওশাকো। কা ঘরে যা চাবি ৩1 বসে পাবি ( গুবে ) গোজ নিলে 'অন্তঃপুরে পত্রমধন সেই পম্শমণি যা চাবি হা ছিতে পারে €রে কত মণি পড়ে আছে ("মামার ) চিস্ামণির পাচওয়ারে শর্থ গমন ছুঃখ ভ্রমণ মন উচা্ন হই নাবে। তুমি আনন্দ ত্রিবেীর স্লানে শীতল মূলাধারে কি দেখ কমলাকান্ত, মিছে বাজি সংসারে এরে বাঁজীকরে চিনলে না সে তোমার ঘরে বিরাজ করে ভন্ভি'র স্থান সবার ওপরে মুক্ির চেয়েও ভন্তি বড | এই ভাব নিয়ে ঠাকুর এবার গাইলেন-_ আমি মুক্তি ধিতে কাতর নই, শ্ুদ্ধা ভক্তি দিতে কাতর হই গো। আমার ভক্তি যে বাপায় সে যে নেবা পায়, তারে কেবা পায় সে থে ভ্রিলোকজয়ী সদ্ধা ভক্তি এক আছে বুন্দাবনে, গোপ গোপী ভিন্ন অন্তে নাহি জানে। ভক্তির কারণে নন্দের ভবনে পিতা জ্ঞানে নন্দের বাধ। মাথায় বই এতক্ষণ পরে শ্রীরামকঞ্চ গান বন্ধ করলেন। এবার আরন্ত হলে! কথোপকথনে ঈশ্বর প্রসঙ্গ অতি সহজবোধ্য কথায়, আটপৌরে ভাষায় গভীর অধ্যাস্ম তত্ব ব্যাখ্যা! করতে লাগলেন শ্রীরামকৃষ্ণ পণ্ডিত শশধর তর্কচূড়ামণি উপলক্ষ হলেন বটে। কিন্তু উৎকর্ণ

১৮

ভক্ত শ্রোতায় পরিপূর্ণ কক্ষ। এখন'-*( পৃঃ ১৫, পঙ্ক্তি ১৭) শশধরকে বললেন, “বেদা!? 'অনেক শাস্ত্র আছে, কিন্ব সাধন না করলে তপস্যা না করলে ঈশ্বরকে পাওয়া যায় “1 *****শাস্াদি বিচার নিষে কতদিন? যতদিন নাঈশ্বরের সাক্ষাৎকার হয়। ভ্রম 1 শ্ণগুণ করে কতক্ষণ? মশ্ক্ষণ ফুলে ন। বসে। ফুলে বণে মধুর্দন করতে আরম্ভ করণে গার শক নাই ।১***,

“জী “নেতি নেতি বিচার কবে এই বিচার করতে কবে যেখানে আনন্দ পা

গানে গানে আর কথায় বহুক্ষণ কেটে গেছে আবস্ভ হযেছিল বিকাপ চারটেখ আগে এখন সন্ধোব দেরি নেই। এমন নিবিড ঈদ্ববীয় প্রসঙ্গে? মধো « সব বাস্তব বিবষে সঙগাগ ব্ামরু্চ। শশপবকে বললেন, “এখন তামাক খেষে এম |? 'ক্ষিণ পুৰেব বাধান্দা থেকে 2নি তামাক খেশে এলেন বুপর খামকুঞ্জ আবে! পিছু প্রপঙ্গ কবলেন_-ঠিন মেল আনন্দ | বিবধানন্দ, ঞনানন্দ আল ত্রঙ্ধানন্ন »মাধি কাকে বলে ব্রঙ্গঙ্ঞানেব পৰগ ঈশ্বর পেখে দেন_ভিকের আমি” এবাৰ মামিকে | ঈশ্বর কল্প*”-_যে ফা চান সে তা পাষ। যেখন ভাব ০*মূণি লাহ। নিবাকার বন্ধ সাক্ষাৎ বাদ +টিন অংসাবী* জুন আব সব শ্যাগাব জান অভাব- নখ চৈতন্ত আব ভাবত? চৈত্ভা $চিভেদ আব আধবাবা তে, ইউত্যাধি। শাণ্পব পণ্ডিতকে বমলেন) এিকবা ' ঠাকুর দর্শন বলে এন। আত বাগানে বেডা ৪) 5 টু পবে নিজে 9 বেকলেন গঙ্গাৰ ধারে | সেখানে শশধবেব অঙ্গে আবার দেখা কে জিচ্ছেস কপলেন, 'কাপাঁ খনে যাবে না? “আজে চলুন দর্শন করে গিয়ে।' চ্নীর মধ্যে দিযে মন্বিব্ব দিকে যেওেও রামরুষঃ বলণেশ, “একটা গানে আছেঃ বল মধু শব বে” গাইতত পাগশেশ7

মাপ মাষান কালে। হে।

কালে ্প দিগ্ধ জর্পন্স হতে আলো বে ম্থাবার চাদ্বনী থেকে উঠোনে এসে বললেন, “একট গানে আছে-_

“জ্ঞান। গ্রে ছেলে ঘবে ত্রহ্গযধীব মুখ দেখ না)" মন্বিরে এসে ভূমিষ্ঠ হযে প্রণাম বলেন বিগ্রহ দর্শন কবে পরধবেখ দাদা বললেন, "স্ুনেছি নবান ভাম্কনে গডা।, **নি উন্তব দিলেন, “| জানি লা_জানি ইনি চিন্পয়ী 1১ ঘন ঘরে এলেন, ভব আগেই সক্কা! হযে গেছে।

পশ্চিমের গোল বারান্দায় বললেন, অর্ধ-বাহ্‌ অবস্থায় তর্নচুড়ামণিও ফিরলেন বরামকৃষ্ণের ঘরে তাকে ঠাকুর বারান্দা থেকে বললেন, “তৃমি একটু জল থাও।, পণ্ডিত বললেন, 'আমি সন্ধ্যা করি নাই ।' শুনেই প্রামরুফ্জ ভাবে মন হয়ে গান আরস্ত করলেন দাড়িয়ে উঠলেন গাইতে গাইতে

গয়৷ গঙ্গা প্রভাসাদি কাণী কাঞ্চী কেব। চায়।

কালী কালী বলে আমার 'অজপা যদি ফুবাম

ত্রিসন্ধ্যা যে বলে কালা পূজা সন্ধা! সে কি চাষ

সন্ধ্যা তার সন্ধানে ঘেবে কতু সঙ্ধি নাহি পায় ॥**,

গানটি শেষ পধস্ত গাইলেন তারপর সেইভাবে বিভোন হযে বললেন, “কতদিন সন্ধা! ? ঘতাঁদন বলতে মন লীন ণ] হয়।, ভাবস্থ অবস্থায় খানিকক্ষণ গেল। তারপর আরো কিছু অধ্যাত্ম প্রশ্গ শুনে, বিদায় নিশেন পণ্ডিত শশধন | “অ।বান 'আমবেন |” বামকুষ্ণ বৃহ; করে বললেন, গাজাখোর গাঁজাখোরকে দেখসে আাহলাদ কধে। হয়ত তান সঙ্গে কোশাকুণপি করে। অনা লোক দেখলে মুখ লুকোয় গক মাশনান জনকে দেখলে গ। চারটে, অপরকে গুতোয় ।” শুনে সকলে হাসতে লাগলেন দশখাশি গানে মার বিচিত্র কথা প্রশঙ্গে গর তত্বকথা! শোনাবার পণ শ্ররামকৃধণ এমন একটি লৌকিক কিন্তু অব্যর্থ উপমা প্রমোগ করলেন সকৌতুকে। অরপর পণ্ডিত চলে যেতে, অপূর্ব প্রজায় মন্তব্য করলেন, 'ডাই ন্উট হয়ে গেছে এক দিনেই ।। ( কথাম্ৃত, তৃতীয় ভাগ, পৃঃ ৭২-৯০) ইংরেজী শবটিতে উপরন্ত রসিকত1 এবং তা অত্যন্ত সার্থক এমনি কখনো। এক আধটি ইংরেজী কথা ঠাকুর বল্তেন। ঘেমন-_কুইন (ভিক্টোরিয়া- কে), রেফাইন, বিল্ডিং লাইক, পেনসান, সায়েন্স, ফ্যালজফি (ফিলমফি), বিউটিফুল, স্টিক (ছড়ি), ফ্লোর, ইয়ং বেঙ্গল ইত্যাদি কখনো রসিকতার ভাবে- থ্যাঙ্ক ইউ, অনরারি, ইংলিশম্যান (যে বাঙালী ইংরেজী জানে, যেমন মহেন্দরনাথ গু) প্রভৃতি ।**' নববিধান সমাজের স্থপরিচিত গায়ক জৈলোক্যনাথ সান্যাল তিনি শুধু হক গায়ন শিল্পী নন। উৎকৃষ্ট গীত রচয়িতা নিজের রচনা গান গেয়ে থাকেন আপন স্থর- সংযোগে বাংল! গানের জগতে তার নাম ম্মরণীয় হয়ে আছে, গীত-রচনাকার

-&.

হিসাবে চিরক্ীব শর্ষ৷ লেখনী-নামে তার গানগুলি প্রচাধিত আছে কেশব সেনেশ নববিধান সমাজের এক নিষ্ঠীবান প্রচারক ত্রেলোকানাথ। রামরুষ্ের