স্ধীরঞ্জন মুখোপাধ্যায়

বেজল পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড কলিকাত। বারে!

প্রথস সংহ্করণ £ শ্রাবএ,ং ১৩৬১ দ্বিতীয় সংহ্করণ £ চৈত্র, ১৩৬১ তৃতীয় সংস্করণ £ কাতিক, ১৩৬৩ প্রকাশক £ শচীন্্রনাথ মুখোপাধ্যায় বেঙ্গল পাবলিশ” প্রাইভেট লিমিটে$ ১৪, বছিন চাটুজ্জে ভ্রীট * কলিকাতা” ১২

মুন্ররকর : মন্মধনাথ পান

কে, এম, প্রেস |

১১, দীনবন্ধু লেন

কলিকাতা।

প্রচ্ছদ পট-পরিকল্লপনা £

আশু বন্দোপাধ্যায়

ব্লক প্রচ্ছদপট মুদ্রণ

ভারত ফোটোটাইপ ডিও বাধাই :

বেঙ্গল বাইগাস'

চার টাক।

জীমতী পল্ষসিনী সান্যাল জীধীরেশ চন্দ্র সাম্যাল-কে

১৯৫৪ সালের গ্রীন্ম স্মরণে

ব্লচনাকাল £ ১৯৫৩ সালের জুলাই থেকে ১৯৫৪ সালের ৫ই মে, বুধবার সকাল কলিকাতা

লেখকের অন্ঠান্য বই-_ অন্য নগর ( ৩য় সংস্করণ ) এই মততৃভূমি (২য় সংস্করণ ) মনে মনে (২য় সংস্করণ ) মুখর লগ্ন (৩য় সংস্করণ ) ছায়া মারীচ (২য় সংস্করণ ) নতুন বাসর ২য় সংস্করণ ) ইভনিং ইন প্যারিস (২য় সংস্করণ) জনসম্রাট ব্যালেরিনা হুরগতোরণ ( যস্্স্থ ) বিপাশা ( যন্রস্থ )

পুরে! ঠিকানা হলো, অফিস অব দি হাই কমিশনার ফর ইত্ডিয়। ইত্ডিয়া হাউস অন্ডউইচ লগ্ন ডাবলিউ. সি. ছুই

কেউ কেউ আরও যোগ করে, ইংল্যা্ড। ব্যাস, তাঁরপর নিশ্চিন্ত হয়ে পৃথিবীর নানা৷ দেশের নান! ধরনের লোক ডাকবাক্কে ডারত-ভবনের উদ্দেশে চিঠি ছাড়ে।

কিন্তু অত কথা কষ্ট করে না লিখলেও চলে। শ্রধু, ইত্ডিয়া হাউস, লগ্তন, ডাঁবলিউ. দি. ছুই--এই ঘথেষ্ট। সেই আঁটতল! বিরাট অইলিকার কথা লণগ্ডন শহরের কে আর নাজানে!

বনেদি আপিস-পাঁড়া অন্ডউইচে ভারত সরকারের লগুন-দপ্তর। চারপাশ রীতিমতো জমকালো! পাশে বুশ, হাউস, পাশে কি একটা বড় বিলিতি আপিস, সামনে আযামেরিকান হোঁটেল-_ওয়ালডরফ, তাঁর পাশে অন্ডউইচ খিয়েটার। রঙ্গালয়ের গা ঘে'ষে বেরিয়ে গেছে নামকরা রাস্তা ডূরি লেন। রাস্তার ধারে ধারে তামাকের দোকান, কাপড়ের দোকান, ওযুধ-পত্্র, খেলনা-বই, জামাঁ-কাঁপড়--কত জিনিসের ছড়াছড়ি। আর পাড়ায় পথিকেরও বড় তাড়াতাড়ি। সাধারণত আপিমে হাজির হতে হয় সকাল সাড়ে নটায়। কাজেই এদিক-ওদিক তাকিয়ে হ৷ করে দাড়িয়ে থেকে এক

দুরের মিছিল"

মিনিটও নষ্ট করা চলে না। শুধু কোনরকমে চেনা দোকান থেকে সে-দিনের মতে! সিগ্রেট ধ'1! করে কিনে নিয়ে পথিক আপিমে ছোটে। পুরোনো খদ্দের ন। হলে দোঁকানদার ভালো সিগ্রেট সহজে দেবে না। গছাতে চাইবে টাফিশ কিংব! কড়া আমেরিকান সিগ্রেট। কিন্তু মুড়ি-মিছরির এক দর। অর্থাৎ প্রেয়ার্স, গোল্ড ফ্লেক, কেনসিটামের যা দাম অন্য বিদেশী সিগ্রেটেরও তাই। সৃতরাং নতুন ক্রেতা ইতস্তত করে, একটু হেসে চুপ করে দীড়িয়ে থাকে। দোকানদার বলেছে ভাজিনিয়। সিগ্রেট নেই-তাকে বিশ্বাম কম্বার ভান করতেই হবে, কিন্তু ভেতরকার ব্যাপার ক্রেতার অজানা নেই। দোকানদার যা দেবে, ধন্যবাদ দিয়ে তিন-চার দিন তা নিয়ে গেলে ক্রেতা পুরোনো হয়। তারপর হঠাৎ একদিন দৌকানদার নিজেই বলে, কী দেব? প্লেয়াস ?

হ্যা হ্যা নিশ্চয়ই, কুড়িট। দাঁও--এমনি করে সেই বিশেষ দৌকাঁন থেকে রোজ দরকারমতো সিগ্রের্ট কিনে লোঁকবিশেষের ধূমপান সমন্তার সমাধান হয়। একেই সিগ্রেট্রে দাম বেশি-লগুনে, তারপর এই কা্--তাই যাদের ধৈর্য কম তারা বিরক্ত হয়ে পাইপ ধরে।

আপিসের তাড়া থাকলেও সেই বিশেষ দোঁকান যদি পাড়ায় হয়, তাহলে পথিককে কিছুক্ষণের জন্তে থামতেই হয়। তারপর আবার ভ্রুত চালাতে হয়--আর কোনো! দিকে চোখ দেবার অবসর নেই।

কী ভিড়-_কী ভিড়! ভর] টিউব-ট্রেম, ভরা বাস, হনহন করে ছুটছে ছেলে মেয়ে--হাতে একটি করে খবরের কাগজ। ত্রিভঙ্গ-মুরারি হয়ে টিউব-ট্রেনে ধ্বাড়িয়ে থাকলেও কায়দা করে কাগজ পড়বার চেষ্টা করতে হবেই।

কিন্ত যতই তাড়া! থাক না কেন লোকের, ইত্ডিয়া হাউসের পাশ দিয়ে যেতে গিয়ে তাদের গতি হঠাৎ অনেক হ্রাস হয়ে যাঁয়। আরে আবার কি? এমনটি তো! আর কোথাও দেখি নি। কাঁচ ভেদ করে দেখা যায় রঙ-বেরঙের দামী হুন্বর কার্পেট, সাজিয়ে রাখা হয়েছে ঝলমলে শাড়ি, কাশ্শীরী ছোট গোল টেবিল, হাতির দাতের নানা রকম জিনিস। কী সুন্দর! পথিক

দাড়িয়ে ঈীড়িয়ে দেখে তবু আশ নেটে না--ইচ্ছে হয় ভেতরে 'ঢুকে আরও ভালো! করে লব দেখি হয়তো আরও কত সুন্দর জিনিস আছে এখানে; কিন্ত বাড়িটা কি? আরে-_একটু এগিয়ে গিয়ে পথিক দেখে প্রধেশ-পথে সোনালী অক্ষরে লেখ! রয়েছে, “ইয়া হাউন”। মাথা তুলে সে আরও দ্নেখে, অনেক উঁচুতে ছুলছে ভারতবর্ষের জাতীয় পতাকা

সময়ে-অসময়ে এমনি অনেক বিদেশী এই সব দেখে-শুনে সটান টুকে পড়ে ইপ্ডিয়া হাউসের ভেতরে বাঃ, বেশ আবহাওয়া তো! মাথার ওপর সিলিংএ খাঁটি দিশি রডিন ছবি আকা। বা দিকে সি'ড়ির কাছে রবীন্দ্রনাথের মর্মর মৃতি। মার্ধেলের মেঝে সামনে একটু দূরে এক ভারতীয় ভদ্রলোক বসে-তার সামনে একটি ছোট কাঠের বোর্--তাতে লেখ! রয়েছে, 'এনকোয়ারি”।

আগন্তক একটু ইতস্তত করে, ভাবে সেই ভদ্রলোকের কাছে এগিয়ে গিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করবে কি-না কিন্তু একটু বাধো-বাধো ঠেকে যেন--ভত্রলোককে শুধু শুধু বিরক্ত করা কি ঠিক হবে। ইংরেজ তো, তাই সব সময় লতর্ক, পাঁছে কাউকে নিজের অজ্ঞাতে সামান্য বিরক্ত করে ফেলে।

কিন্তু খুব বেশিক্ষণ কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে দাড়িয়ে থাকতে হয় না 'তাকে। ইংরেজ ম্যাসেঞ্জার গটগট করে তাঁর কাছে এগিয়ে এসে বলে, গুড মনিং ফি চাই স্যার? | অমিৎ, ইয়ে, মানে এখানে নাচ-টাচ হয়?

নাচ? চোখ বড় করে ম্যাসেঞ্জার বলে, নাচ-গান হবে কি শ্যার? এটা আপি, ভারতবর্ষের হাই-কমিশনারের ব্যাপার_-এখানে কাজকর্ম হয়। নাচ হয় ওই পাশে লাইসিয়াম হলে, কিন্ত সে তে! সন্ধ্যেবেলা, হাঁরি রয়ের বাজনা আছে--যাবেন নাকি আজ?

এক প্রন্নের উত্তরে এত কথা শুনে বেশ হকচকিয়ে ঘায় আগন্তক তাড়াঙাড়ি বলে, আমি ভারতীয় নাচের কথা বলছিলাঁম-_

নাস্তার, এখানে ওসব কিছু হয় না, তবে ভারতবর্ষ থেকে শিল্পীরা এলে, তারা

মিনিটও নষ্ট করা চলে না। শুধু কোনরকমে চেনা দোকান থেকে সে-দিনের , মতে মিগ্রেট ধ। করে কিনে নিয়ে পথিক আপিসে ছোটে। পুরোনো খদ্দের না হলে দোকানদার ভালো! সিগ্রেট সহজে দেবে না। গছাতে চাইবে টাফিশ কিংবা কড়া আযামেরিকান সিগ্রেট কিন্তু মুড়ি-মিছরির এক দর। অর্থাৎ প্রেয়ার্স, গোল্ড ফ্লেক, কেনসিটাসের যা দাম অন্য বিদেশী সিগ্রেটেরও তাই। স্থতরাং নতুন ক্রেতা ইতম্তত করে, একটু হেসে চুপ করে গ্লাড়িয়ে থাকে। দোকানদার বলেছে ভাঞজিনিয়া সিগ্রেট নেই-তাকে বিশ্বাস ক্ধবার ভান করতেই হবে," কিন্ত ভেতরকার ব্যাপার ক্রেতার অজানা নেই। দোকানদার ঘা! দেবে, ধন্যবাদ দিয়ে তিন-চার দিন ত৷ নিয়ে গেলে ক্রেতা পুরোনো হয়। তারপর হঠাৎ একদিন দোঁকানদার নিজেই বলে, কী দেব? প্লেয়ার ?

হা! হ্যা নিশ্চয়ই, কুড়িটা দাঁও-_-এমমি করে সেই বিশেষ দৌকান থেকে রোজ দরকারমতো। সিগ্রের্ট কিনে লোৌকবিশেষের ধূমপান সমস্তার সমাধান হয়। একেই সিগ্রেট্রে দাম বেশি.লগুনে, তারপর এই কাণ্ঁ_-তাই যাদের ধের্য কম তারা বিরক্ত হয়ে পাইপ ধরে।

আপিসের তাড়া থাকলেও সেই বিশেষ দোকান যদি পাড়ায় হয়, তাহলে পথিককে কিছুক্ষণের জন্যে থামতেই হয়। তারপর আবার দ্রুত পা চালাতে হয়--আর কোনো! দিকে চোখ দেবার অবসর নেই।

কী ভিড়-কীভিড়! ভরা টিউব-ট্রেন, ভর! বাস, হনহন করে ছুটছে ছেলে মেয়ে--হাতে একটি করে খবরের কাগজ ত্রিভঙ্গ-মুরারি হয়ে টিউব-ট্রেনে দাড়িয়ে থাকলেও কায়দা করে কাগজ পড়বার চেষ্টা করতে হুবেই

কিন্তু যতই তাড়া থাক না কেন লোকের, ইতিয়া হাউসের পাশ দিয়ে যেতে গিয়ে তাদের গতি হঠাৎ অনেক হ্রাস হয়ে যায়। আরে আবার কি? এমনটি তে। আর কোথাও দেখি নি। কাঁচ ভেদ করে দেখা যায় রঙ-বেরঙের দামী হুন্বর কার্পেট, সাজিয়ে রাখা হয়েছে ঝলমলে শাড়ি, কাশ্মীরী ছোট গোল টেবিল, হাতির দাতের নানা রকম জিনিস। কী হুন্দর! পথিক

ঈাড়িয়ে ঈীড়িয়ে দেখে তবু আশ মেটে না- ইচ্ছে হয়'ভেতরে ঢুকে আরখ ভালে! করে লব দেখি। হুয়তে। আরও কত হ্থন্দর জিনিস আছে এখানে; কিন্তু বাড়িটা কি? আরে--একটু এগিয়ে গিয়ে পথিক দেখে প্রযেশ-পথে সোনালী অক্ষরে লেখ! রয়েছে, “ইত্ডিয়া হাউস”। মাথ! তুলে সে আরও দেখে, অনেক উঁচুতে দুলছে ভারতবর্ষের জাতীয় পতাকা!

সময়ে-অসময়ে এমনি অনেক বিদেশী এই সব দেখে-শুনে সটান ঢুকে পড়ে ইত্ডিয়া হাউসের ভেতরে বাঃ, বেশ আবহাওয়া তো! মাথার ওপর সিলিংএ খাটি দিশি রডিন ছবি আকা বা দিকে সিঁড়ির কাছে রবীন্দ্রনাথের মর্ষর মৃতি। মার্বেলের মেঝে সামনে একটু দূরে এক ভারতীয় ভত্রলোক বসে-তার সামনে একটি ছোট কাঠের বোর্-তাতে লেখ! রয়েছে,' 'এনকোয়ারি”।

আগন্তক একটু ইতস্তত করে, ভাবে সেই ভদ্রলোকের কাঁছে এগিয়ে গিয়ে কিছু জিজ্েস করবে কি-না কিন্তু একটু বাধো-বাধো ঠেকে 'যেন__ভদ্রলোককে শুধু শুধু বিরক্ত করা কি ঠিক হবে। ইংরেজ তো তাই সব সময় সতর্ক, পাছে কাউকে নিজের অজ্ঞাতে সামান্য বিরক্ত করে ফেলে

কিন্ত খুব বেশিক্ষণ কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাড়িয়ে থাকতে হয় না 'তাকে।' ইংরেজ ম্যাসেঞ্তার গটগট করে তার কাছে এগিয়ে এসে বঞ্জে, গুড মনি, ফ্ষি চাই শ্ার ?

মমিৎ, ইয়ে, মানে এখানে নাঁচ-টাঁচ হয় ?

নাচ? চোখ বড় করে ম্যাসেঞ্জার বলে, নাচ-গান ছবে কি স্যার? এটা আপিন, ভারতবর্ষের হাই-কযিশনারের ব্যাপার এখানে কাজকর্ম হয়। নাচ হয় ওই পাশে লাইসিয়াম হলে, কিন্ত সে তে] সন্ধ্যেবেলা, হারি রয়ের' বাজনা আছে--যাবেন নাকি আজ?

এক প্রশ্নের উত্তরে এত কথ শুনে বেশ হকচকিয়ে যায় আগন্তক তাড়াতাড়ি বলে, আমি ভারততীয় নাচের কথা বলছিলাম-_-

না স্যার, এখানে ওসব কিছু হয় না, তবে ভারতবর্ষ থেকে শিল্পীর এলে, তারা

কবে কোন হলে নাচবেন সেকথা লিখে আমরা ওই বিজ্াপন-বোর্ডে পেঁটে দি; কিন্তু ছুঃখিত স্যার, এখন অমন কোন ব্যাপারের সস্তাবন৷ নেই।

ও, কিন্ত আর কি আছে এখানে? ওই কার্পেট, হাতি, বাঘ--ওগুলো কেন! ঘায়?

ন! স্যার, ওগুলে। সাঁজিয়ে রাখবার জন্যে, না হলে আপনাদের মতো পাঁচজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করবো কেমন করে? তবে ওপরে ভালে লাইব্রেরি আছে। চলে যান সটান দোতলায়, ভারতবর্ষ সম্বন্ধে অনেক বই পাবেন সেখানে

না ধন্যবাদ, আজ থাক। বইএর ব্যাপারে তেমন উৎসাহ দেখা যাঁয় না আগন্তকের। সম্তর্পণে এদিক ওদিক তাঁকাতে তাকাতে আস্তে আস্তে সে বেরিয়ে যায়।

আর-এক ইংরেজ ম্যাসেঞ্জার টম্‌ এসে জিজ্ঞেস করে সঙ্গীকে, কে এসেছিল হে? ইংরেজ বলে মনে হলে! যেন?

আরে হা, সন্কাল বেলা বাছাধন নাচ দেখতে এসেছিলো! ই্ডিয়া হাউসে। লাইব্রেরির নামে সরে পড়লো

নাচ? বলকিহে!

আরে হ্যা।

এমনি অনেক বিদেশী দিনের মধ্যে অনেকবার ইও্ডিয়া হাউসে হান। দেয়। কিংস্‌ কলেজ আর লগ্ন স্কুল অব ইকনমিক্সের ছাত্রছাত্রীরা নিয়ম করে দল বেঁধে লাঞ্চ খেতে আসে এখানে তাছাড়া অসংখ্য ভারতীয় লোকের ভিড় তো৷ লেগেই আছে। কত লোকের কত কাজ ইণ্ডিয়া হাউসে কারুর কণ্টিনেন্ট যাবার “ভিসা” করে দিতে হবে, কাউকে ব্যবসার সযোগ দিতে হবে, কাস্টমস্‌ থেকে কারুর মাল ছাড়িয়ে আনতে হবে, কাউকে চাকরির সন্ধান দিতে হবে। এমনি অনেক ব্যাপারে ভারতীয়দের আসতে হয় ইত্ডিয় হাউসের নান। বিভাগে অনেক বার। কেউ কেউ মোটঘাট নিয়ে দেশ থেকে লগুনের মাটিতে দিয়েই সটান চলে আসে ইতিয়া হাউসে এসেই বলে, ঘর আছে তো? এখানেই থাকবে৷ বলে এলাম--.

তার কথা শুনে ঘাবড়ে ধান আকোমোডেশন্‌ অফিসার ভদ্রলোক বাঙালী। তিনি হঠাৎআস। ভদ্রলৌোককে অনেক কষ্টে বোঝান যে এট। হোটেল নয়, যদি তিনি খবর দিয়ে আনতেন তাহলে কোনে৷ হোটেলে তাঁর থাকবার বন্দেবিস্ত করে দিতে পারতেন তিনি।

কিন্ত আগন্তক নাছোড়বান্দা। বলে, আমি ভারতবাঁসী, নতুন লোক, কিছু জানি না, কাউকে চিনি না, বেটাদের কথা বুঝতে প্রাণ বেরিয়ে যায়। আমার খাঁকা-খাওয়ার সামান্ ব্যবস্থা না করতে পারলে এত খরচ-পত্তর করে এই 'বিদেশে-বিভুয়ে তোমাদের এত বড় আপিস চালাবার মানে কি হে? আযাকোমোডেশন্‌ অফিসার ঘোষ সাহেব দেখেন ব্যাঁপার বেগতিক | মনে মনে এনকোয়ারি অফিসারের মুওুপাঁত করেন। যাঁকে তাঁকে হুপ করে তার ঘরে ঠেলে দেবার মানে কি।

যাহোক আঁগন্তককে অনেক বুঝিয়ে কোনো! হোটেলে পাঠিয়ে,দেন তিনি কিন্ত তাই করে কি রক্ষে আছে হোঁটেলওয়াল৷ পরদিন নালিশ জানায়, কাকে পাঠিয়েছ হে? বাথরুমে টবে জল ভরে, ফ্লৌরের ওপর দীড়িয়ে মাথায় ঘটি-ঘটি জল ঢেলে চাঁন করেছে, জল পড়ে নিচেব ঘরের কার্পেট আর অন্য জিনিস ভিজে গেছে-_এখন দণ্ড দাও_-আর এমন লোক পাঠালে ভবিষ্যতে আমাদের হোটেলে আমরা আর ইপ্ডিয়ান নেবো ন!। |]

ঘোষ সাহেব মাথায় হাত দিয়ে ভাবেন এখন কি করা'ষায়। কিন্তু পরদিন আবার এসে হাঁজির হয় সেই ভদ্রলোক | বলে, খুব দেখালে সাহেব তোমাদের বিলেত ! এখন টিকিট কেটে দাও, প্লেনে ফিরে যাবো দেশে, হতচ্ছাড়া দেশে আর বেশিদিন নয় বাবা

মালপত্র ইত্ডিয়া হাউসের সাহাঁধ্যে পাঠাতে বলে ভত্রলোক সত্যি দেশে ফিরে যায়। ইপ্ডিয়া হাউসে যারা চাকরি করে, এমন অনেক উপরি কাজ প্রায়ই তাদের ঘাড়ে এসে পড়ে কোনো ভারতীয় ছাত্র ল্যাগুলেডির মেয়েকে বিষ্বে করবে বলে তাঁর সর্বনাশ করে দেশে পালিয়েছে তার খোঁজ করা, কে হোটেল- ওয়ালাকে মেরেছে তার ব্যবস্থা করা, কোন ভারতীয়কে রেস্ট,রেণ্ট সার্ভ

মোধনাথ বানাজি সেইদিকে তাকিয়ে চার্চম্যান নম্বর ওয়ান সিগ্রেট খুব আস্তে আন্তে খাচ্ছিলো অন্য সোফায় আর-একটি ইংরেজ মেয়ে বোধহয় কারুর জন্তে অপেক্ষা করছিলে! ; কারণ পায়ের শব শুনলেই বার বার ঘাড় বেঁকিয়ে দেখছিল সে। অন্ত আর একদিকে ই্ডিয়া হাউসের ছজন অবাঙালী চাকুরে ফিসফিস করে কি পরামর্শ করছিলো যেন। কাজেই ব্যানাজির সঙ্গে কথ! বলবার আঁজ আর কেউ নেই। সে একবার মেয়েটিকে দেখছিলো, মাঝে মাঝে সেই অবাঙালীদের দিকে চোখ ফেরাচ্ছিলো, তারপর রাস্তার দিকে তাকিয়ে আপন মনে সিগ্রেট টানতে টানতে চুপ করে একা বসেছিলো। এমন সময় হঠাৎ ঝড়ের মতো সেখানে এলো অনঙ্গ দাশ

খবর শুনেছে। ব্যানাজি? ধপ করে তার পাশে বসে পড়ে অনঙ্গ বললো, চঞ্চল বিয়ে করেছে--

ব্যানার্জি খুব বেশি অবাক হলে! না। হ্বভাব-স্থলভ গাভীর্য বজায় রেখে জিজ্ঞেস করলো, তাষ্ট নাকি?

আরে হ্যা, আজ এইমাত্র খবর শুনে ছুটতে ছুটতে আসছি, ছোকরার সঙ্গে দেখা হলে ঠাসঠাস করে ছু গালে চড় মারবো আগে তারপর অন্ত কথা। মারবে কেন তাকে?

উঃ এত করে বারণ করলাম কিছুতেই কথা শুনলো না-_শেষ অবধি সাদা মেয়ে বিয়ে করে বসলে! ব্যাস এবার কিছুদিন মেমসাহেব নিয়ে খুব হৈ হৈ করবে, তারপর গণ্ডগোল ডিভোর্স, থানা-পুলিস--বড় ঘরের ছেলে হয়ে কিনা এই দোকানদীরের দেশে কুকুর-বেড়ালের মতো দিন কাটাবে! ব্যানাজি অনঙ্গ দাশের কথায় যেন একটু আঘাত পেলে! কিন্তু মুখে কিছু প্রকাশ না করে বললো, কিন্ত এখন অত কথ! তুলে কি হবে, বিয়ে যখন হয়ে গেছে তখন শুধু- শুধু ওকে দুঃখ দেওয়া হবে-_

দুখ? অনঙ্গ দাশ হঠাৎ যেন খেপে উঠলো, বীদর একবার আমার সঙ্গে পরামর্শ করলে তে। পারতো-_আরে বাপু, আমরা এতদিন আছি এখানে পরামর্শ করে কেউ এমন বিয়ে করে না দাশ।

ছি ছি ছি, চঞ্চলের মতো সোনার টুকরো ছেলে, তার কিনা এমন কাজ-_-কত ভালো মেয়ে পেতে পারতে দেশে, কাকে না কাঁকে ছুম করে বিয়ে করে বসলো! এখন না পাঁরবে ফেলতে--ন1 পারবে সারা জীবন মিলেমিশে থাকতে আর বিয়ে করবার দরকার ছিল কি, এদেশে মেয়ের অভাব? যতদিন এদেশে আছে, ততদিন একসঙ্গে থেকে ফেরবার সময় বিদেয় করে দিলেই তো পারতো এখানে তো আর সতীত্বের বালাই নেই, কিছু ক্ষতি হতো! না৷ মেয়ের--আঁর এক ছোড়া যোগাড় করে নিতো! দু-একদিন পরেই।

অনঙ্গ দাশ একবার কথা বলতে আরম্ভ করলে সহজে থামতে চায় না আর কোথায় কতটা বলা উচিত সে কথাও ভেবে দেখে না স্থান-কাল-পাত্র ভুলে যেখানে সেখানে ঘা খুশি বলে যায় অনঙ্গ দাশ নখের বিষয় যারা তাকে জানে তারা শুধু হেসে তার কথায় সায় দেয়, আর যার! চেনে না তারা রেগে যায়, তর্ক করে-__শেষ অবধি মুখ দেখাদেখি বন্ধ হয় দুজনের এই ইপ্ডিয়া হাউসেই অনেকে আসে যাঁদের বাক্যালাপ নেই দাশের সঙ্গে কেউ কেউ তাকে বলে পাগল, কেউ বলে অতি বাজে লোক, আর কেউ কেউ আবার তাকে ভালবাসে, শ্রদ্ধা করে বলে, ঘা বলে একেবারে খাটি কথা সাতাশ বছর আছে এদেশে, ওর কথার কি কোনে! দাম নেই? ভুক্তভোগী লোক বাপু অনঙ্গ দাশ। পাছে আবার আজ ইগ্ডয়া৷ হাউসে কি বলতে কি বলে ক্ষেলে অনঙ্গ দাশ, তাঁই তাড়াভাড়ি সোমনাথ বললো, কিন্তু চঞ্চল আজ আসে নি আপিসে? তাঁকে দেখছি না তো!

সেকি সহজে আসবে? হনিমুন চলবে কতদিন মেমসাহেবকে মাথায় নিয়ে কোথায় কোথায় ঘুরবে তাই ভেবে পাবে না ছোকরা চতুর্দিকে গল্প করে বেড়াবে বউএর-_-আহা, এমম আর হয় না, কী গুণের মেমসাহেব-_ (কোথায় লাগে বাঙালী মেয়ে এর কাছে। বুঝলে বাঁড়ুজ্জে-_অনঙ্গ দাশ খুক খুক করে হাসলো, থাকবে ঘতদ্দিন এদেশী মেয়ে ততদিন তো! সব করবে_-ঘর ঝট দেওয়া, বাসন মাঁজা-কি নয়? তাই দেখে ভারতবর্ষের স্থসস্তানরা সব ছুর্গা বলে কাত মেমসাহেব তার মতো কেলে-কুচ্ছিতকে মাথায় নিয়ে নাচছে

খর ক্বেটাকে পায় কে! কিন্ত যখন ছাড়বে বিনা নোটিসে--ছি হি হি-ব্যাপ, তখন হজ দেখ-_-তারতবর্ষের হৃসস্তানর মাথায় হাত দিক্পে বসে পড়ে গোডাবে --কাম ব্যাক ভালিং কাম ব্যাক আর ডালিংটি যে মৃখ দিয়ে একদিন বলেছিলো, প্রিক্সতষ, আজ সেই মুখ দিয়ে বেশ দরদ দিয়ে বলে ঘাবে, ব্ল্যাক বাঁসটার্ড-_ আঃ দাশ, সোমনাথ সেই ইংরেজ মেয়েটির দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বললোঃ'চুপ করে৷

কেন কেন? তোমার আবার লজ্জা হল যে? গায়ে বড় বেশি বিধছে বুঝি? আমাদের তো গণ্ডারের চামড়া--ভয় কি বাপু? এইবার সেই মেয়েটিকে হঠাৎ বললে! দাশ, কি গো সুন্দরী ? হালো, ওয়েটং ফর ইউর বয়-ক্রেণ্ড? অনঙ্গ দাশের কথ! অনেকক্ষণ ধরে শুনছিলো মেয়েটি | ভাষ৷ বুঝতে না পারলেও তার গলার স্বর আর হাত-পা নাড়ার ভঙ্গি দেখে সে বেশ মজা পাচ্ছিলো। অনঙ্গ দাশের প্রশ্ন শুনে মেয়েটি হেসে বললো, হ্যা

কে- ভাগ্যবানটি কে?

মেয়েটি আবার হেসে বললো, অমল।

অমল? ওহে! মানে আমাদের অমল দত্ত? শোন শোন বাডুজ্জে--অমল দত্তও গার্ল ফ্রেণ্ড জুটিয়েছে। তা৷ আর জোটাবে না কেন? দেশে তো কানা-খোড়ারও গার্স-ফ্রেণ্ড থাকে-_

আঃ তুমি থামে দাশ

সে কথায় কান না দিয়ে অনঙ্গ দাশ মেয়েটিকে বললো, কোন্‌ দেশের মেয়ে তুমি মা-লক্ষমী--জার্মান তো?

হ্যা, কি করে বুঝলে?

বেদেয় চেনে সাপের হাচি--সাঁতাশ বছর আছি এদেশে, বুঝেছো।? তোমাদের মতো! অনেক মা-লক্ষীর দেখা-সাক্ষাৎ পেয়েছি কিনা জার্মান না হলে অমল দত্তর মছে। গুণবান ছোড়ার দর্শন লাভের আশায়, মরতে ইত্ডিয়৷ হাউসে আমকে কেন সভীলম্ষমী !

অনন্গ দাশের কথা সম্পূর্ণ বুঝতে ন1 পেয়ে মেয়েটি বললো, পার্ডেন?

৯.৩

থাক থাক আর সব কথা বুঝে কাজ নেই--খুব হয়েছে ।-_-এই ঘে এসো। এলো, অমল দত্ধকে.দেখে দাশ চিৎকার করে উঠলো, বাহাদুর এসো--একে বসিয়ে রেখে আর কার সন্ধানে বেরিয়ে পড়েছিলে বাপু? যে দেখছি সেম্ানে- সেয়ানে-_।

অমল দত্ত একটু বিরক্ত হুয়ে বললো, কি সব সময় ঘাঁত! বরেন ? থামে ছোকরা! বলি তোমার মতো গাঁধা ফেঁসে গেলে ক্ষতি নেই, কিন্তু আমি জানি তুমিই চঞ্চলকে ফাসিয়েছ-_-

ভাতে আপনার কি? অমল দত্ত উত্তর দেবার অবকাশ দিয়ে মেয়েটিকে হেসে বললো, হালে! ইংগে, অনেকক্ষণ বসে আছে বুঝি ?

হা, কোথায় ছিলে এতক্ষণ?

অফিসের কাজে একটু বেরোতে হয়েছিলো আই আ্যাম রিয়েলি সরি। চলে তাড়াতাড়ি__ক্যানটিন বন্ধ হয়ে গেলে মুশকিলে পড়বো-_-

অমল আর ইংগে লিফটের কাছে এসে লিফটম্যানর্কে বললো,-সেভেন্থ, ফ্লোর প্রিজ--

আটতালায্ন ক্যানটিন।

লাঞ্চ খেয়ে ইংগে চলে যাবার পর অমল দত্ত আবাঁর ফিরে এলে লাউঞ্জে এখনও তার আর কিছুক্ষণ অবসর | ভাগ্যিম অনঙ্গ দাশ চলে গেছে। আমি তোমারই অপেক্ষ! করছি অমল, খুব আস্তে আস্তে সোষনাথ বললো

তার পাশে বসে প্লেয়ার্ সিগ্রেট ধরাতে ধরাতে অমল বললো, বলুন!

চঞ্চল কেমন আছে?

ভালো, হেসে অযল বললো, আসছে সপ্তাহে আপিসে আসবে। এখানেই আছে না বাইরে গেছে?

বাইরে ঘাঁবে সেবেছিলে। কিন্ত ওদিকে আর-একটা মুশকিল হয়েছে__অমল দত নিগ্রেট টামতে গিয়ে থেমে গেলে!

১১

কি মুশকিল?

টানি রিন্ক সরা যা রাজ লাম ওয়া আগে থেকেই খরচের ব্যাপারে সাবধান হতে চায়।

তিনি প্রথমে অবাক হবেন বটে, কিন্ত-_

তিনি শুধু অবাক হবেন না, রেগে যাবেন। আর ছেলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখবেন না- চঞ্চল ভবিষ্যতে তাঁর কাছ থেকে আর একটি পয়সাও আশা করে না।

কি যেন ভেবে সোমনাথ বললো, ছুদিন পরে সব ঠিক হয়ে যাবে। 'বোধ হয় না, আস্তে আন্তে অমল বললো, চঞ্চলের বাবাকে আমি চিনি ন! কিন্ত তার মুখ থেকে শুনলাম তিনি নাকি অত্যন্ত কঠিন প্রকৃতির লোক, আর এসব ব্যাপারে তার এতটুকুও সায় নেই।

আবার হাসলে! সোমনাথ, দেখা যাক! অমলের দিকে তাকিয়ে সে বললো, মেয়েটি তো ভালোই”

খুব ভালো৷। তাছাড়া লেখাপড়া! জানে। একটু থেমে আবার বললো, চঞ্চলের মতে! ছেলে ঘখন এদেশে বিয়ে করলো তখন আপনি তো বুঝতে পারেন হিঃ ব্যানার্জি, সে-মেয়ে খুব সাধারণ হবে না। 'মোমনাথ উত্তর দিলো না।

ইণ্ডিয়! হাউসে লাঞ্চের সময় বারোটা থেকে ছুটো। ঠিক ধরাধাধা কোনে। সময় নেই। "ওই সময়ের মধ্যে ঘে যার খাঁওয়! সেরে নেয়। ছু-দশ মিনিট এদিক ওদিক হলে কিছু যায় আসে না। অমলের ওঠবার সময় হলো! সিগ্রেটে শেষ টান দিয়ে সে উঠে দাড়ালো সোমনাথেরও সময় হয়ে গেছে কিন্তু তার যেন আজ উঠতে ইচ্ছে করছে না। অনেক দিন পর এই ক্লাস্তিকর একটান। জীবনে সহসা! যেন কোথা থেকে ছিটকে পড়লে! আলম্তের হালকা টুকরো, আর অকারণে তার চোখ বুজে এলো

'সে তো আজকের কথা নয়। তবু চঞ্চলের কথ শুনে অনেক কথা মনে ভিড় করে। এমনি হয়--হয়তো চঞ্চলও সুদূর ভবিষ্কতে একদিন তায় মতো৷ চোখ

বন্ধ করে পিছনের দ্বিকে তাকিয়ে দেখবে--আর কী পাবে তখন ? কিন্ত থাক, এই শুতমুহূর্তে সেরুখা তেবে কাজ নেই।

সোমনাথ ব্যানাঞ্জি গভীর প্রকৃতির লোক চঞ্চলের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে তার অনেকবার নিজের যৌবনের কথাই মনে পড়েছে অমল ঘেমন একটু আগে বলে গেলো, চঞ্চলের মতে! ছেলে যখন এদেশে বিয়ে করলো, তখন আপনি তো৷ বুঝতে পারেন মিঃ ব্যানাঁজি, সে মেয়ে খুব সাধারণ হবে না-_ অনেকদিন আগে ঠিক এমনি কথ! বলেছিলে! দোমনাথের বন্ধুবান্ধব ন! আযানালিসা ঘে সাধারণ মেয়ে নয় সেকথ! মনেপ্রাণে মানে সোমনাথ যদি সাধারণ মেয়ে হতে! তাহলে দারিজ্রের ভারে মান সেই দিনগুলি কিছুতেই সে হাসিমুখে বরণ করে নিতো না।

সোমনাথ কিন্ত স্বপ্ন দেখে নি সে বাস্তবকে মেনে নিতে চেয়েছিল গ্লাসগোতে চার বছর কাটিয়ে যখন সে এনজিনীয়ারিং-এর ডিগ্রি পেলো, তখন সে তার অনেক বন্ধুবান্ধবের মতে। বেশ বড়ে। চাকরি নিয়েই দেশে ফিরে যেতে পারতো কোনো বাঁধা ছিলো না, কোনে মধুর আকর্ণও ছিলো! না এদেশে

কারণ সামান্ত তবু অকম্মাৎ সেই সামান্ত কারণেই তার জীবন--তার সব কিছুই ষেন বদলে গেলো এদেশে চিরকাল থাকবার কথা কোনো দিনও মনে হয় নি সোমনাথের-_-এমন কথা স্বপ্নেও সে ভাবতে পারে নি।

পাঁশ করে ঘখন সে ফিরবো-ফিরবো করছে তখন ভাইএর চিঠি এলো বেশ কঠিন চিঠি। দেশের একমাত্র আকর্ষণ সোমনাথের মা আর ইহলোকে নেই। সে-খবর দিয়ে ব্যবসায়ী ভাই লিখেছে, সোমনাথের বিলেতে থাকবার জন্যে অনেক খরচ হয়েছে, আর ভাই শুধু তার জন্যে করেছে ছুঃংখভোঁগ। এখন সে বিয়ে করেছে এবং তার সংসারের খরচ বাড়ছে দিনে দিনে কাজেই পৈত্রিক বাড়িতে সোমনাথের অংশ থাকলেও ভাই আঁশ করে ন্যায়ের খাতিরে সোমনাথ বাড়ির জন্তে কোনো দাবি জানাবে না। ভাই আরও লিখেছে, বিষয়ে ছ-এক ল।ইন লিখে দিলে সে খুশী হবে। অবশ্য সোমনাথ ফিরে এসে সে-বাড়িতে উঠতে পারে।

১৩

কিন্তু তাঁর আর প্রস্নোজন হলো না সোমনাথ চিঠি পড়ে মায়ের জন্তে ছেলে মানগষের মতে কীদলো, ভাইএর বৈষয়িক বুদ্ধির কথ! ভেবে মমে'মমে হাসলো ছু-এক দিনের মধ্যে উত্তর লিখলো, বাঁড়ি যেন ভাই নিবিষ্বে ভোগ করে, সোমনাথ কোনোদ্দিনও কোনো দাবি জানাবে না, আর আপাতত দেশে ফিরবে ন। সে--কখনও ফিরুলেও' সে-বাঁড়িতে উঠে ভাইএর সাংসারিক শান্তি ভঙ্গ' করবে না।

সেই চিঠির সঙ্গে সঙ্গে দেশের সঙ্গে সম্পর্কে চুকে গেলো সৌমনাধের। তখন লগুনে সে চাকরির চেষ্টা করতে লাগলো আর এমনি সময় নানা কথ! মনে হতে লাঁগলে৷ তার ফেরবার প্রয়োজন কি? কেনই বা ফিরতে হবে তাকে? এই কবছরে সে অনেক জেনেছে অনেক দেখেছে, বন্ধু-সংখ্যাও বেড়েছে অনেক, তার! তার কোনো আত্মীয়র চেয়ে কম নয়। লোমনাথ লগ্ডনে চাকরির চেষ্টা করতে লাগলো একেবারেই সে ভারতবর্ষে ফিরবে না, তেমন কথা সে ভাবলে! না, সে-ইচ্ছা তোল! রইলো! ভবিষ্যতের জন্যে দুরে থেকেই এখন দেশের সেবা করবে এদেশের লোককে জানাবে ভারতবর্ষের আচার-ব্যবহার আর সংস্কৃতির কথা চেষ্টা করবে ইউরোপ আর ভারতবর্ষের কৃষ্টির বিনিময়ের ! তাহাড়া খন ভারতবর্ষ থেকে সে প্রথম এসেছিলো, তখন তার মন ছিলো আজকের চেয়ে অনেক 'পংকীর্ণ, কিন্ত আজ তার সঙ্গে পরিচয় হয়েছে পৃথিবীর নান! দেশের কত জীবন্ত মান্গষের! তারও জীরনের পরিধি আস্তে আস্তে বেড়ে গেছে কাজেই এখন যেখানেই থাকুক, কোনো বিশেষ দেশের কথা মনে করে ব্যাকুল হবে নালে। আরও প্রগারিত করবে মিজের মন। খুব উৎসাহের সঙ্গেই থেকে গেলো সোমনাথ কিন্তু যত সহজে সে চাকরি পাঁবে ভেবেছিলো৷ তত সহজে চাকরি জুইলো না তার। একেই সে ভারতীয়, তার ওপর রঙ তার ফর্সা নয় বরং বেশ কালো বিদেশীর পক্ষে সে-সময়ে লগুনে চাঁকরি জোটাঁনে। বেশ কঠিন ছিলো বৈকি ! বাড়ি থেকেও আর টাকা আমে ন|। অর্ধাভাব ফোমনাথকে দিশাহীরা করে তুললো। তবু ক্লান্তি এলো না তার, বরং কষ্ট সহ করবার ক্ষমতা বেড়ে গেলো। শুধু একবার নয়,

৬৪.

এই লগ্তনেই বার বার সোমনাথ দেখেছে, মনের জোর থাকলে সব সমস্যার সমাধান যেন আপনার থেকে হয়ে যায়। এবারেও হয়ে গেলো আনালিমার সঙ্গে আলাপ হলে। তার আর তারপর অভাব-অভিযোগ আর দুঃখ-দারিপ্র্যের মধ্যেও একর্িন সোমনাথ বুঝতে পারলো, এবার ঘর বাধতেই হবে। জার্মান মেয়ে আনালিসা। দেখা! গেলে! সোমনাঁথের সঙ্গে তার বড় মতের মিল। ভাই মনের মিল হতেও বাধা রইলো না। আর এর মধ্যে এক বিলা্তি কারখানায় সোমনাথের একট! ছোটোখাটে! চাকরি জূর্টে গেলো ব্যাস, তখন মোমনাথের মনে হলে। এবার সমস্ত সমস্ত! মিটে যাবে তার আ্যানালিসাকে' নিয়ে সে ঘর বীধলো। কিন্তু তারপর

আজ আর নয়। ইঙিয়। হাউসে বসে সোমনাথ দেখলো প্রায় অন্ধকার হয়ে গেছে ! তিনটে বাজে কারখানায় ফিরে না গেলেই নয় এবার

এত কথা এত সহজে আজকাল আর সোমনাঁথের মনে পড়ে না

আজ চঞ্চলের কথা শুনে তার শুধু নিজের অতীতের কথ মনে পড়ছে বার বার।

চঞ্চলের অনেক কিছু যেন তার নিজের মতো

১৫

মঙ্গলবার

হথাম্পচ্টেড অঞ্চলে নাকি শিক্ষিত ভদ্রলোকের বাস। ব্যারিস্টার, লেখক, বড় উকিল, অধ্যাপক-_এমনি অনেকের বাঁড়ি পাড়ায়। নির্জন পাঁড়া। বেশ বড়। গোটা তিনেক টিউব স্টেশন সমস্ত হ্যাম্পম্টেড অঞ্চলে।

চঞ্চল ফ্ল্যাট নিয়েছিলো! ফেয়ার হেজেল গার্ডেনসএ। টিউব স্টেশনের নাম ফিঞ্চলে রোড। স্টেশনের সামনেই জন বা্নস্-এর বড় দোকান সেখানে প্রয়োজনীয় সব রকম জিনিস পাওয়া যায়। দোকানের পাশ দিয়ে টানা রান্তা গ্রীনক্রফট গার্ডেনস-__গিয়ে পড়েছে ফেয়ার হেজেল গার্ডেনসএ। বা! দিকে একটু হাটলেই চঞ্চলের ক্ল্যাট। নির্জন রাস্তা। আশেপাশে কোনো কোলাহল নেই। বাস-ট্যান্সি-টিউবের গণ্ডগোল জন বার্স-এর দৌকানের সাঁমনে-_ফিঞ্চলে রোডের ওপর তা ছাড়া সারাদিন অন্য কোথাও গাড়ি-ঘোঁড়ার শব্ধ বড় একটা পাওয়৷ যায় না--শুধু খুব ভোরে গয়লার গাড়ির ঘোড়ার খুরের প্রচণ্ড আওয়াজ

ফিঞ্চলে রোড টিউব স্টেশনের আশেপাশে সবগুলি রানার নামের পাশে একটি করে গার্ডেনস যোগ কর! আছে। ফেয়ার হেজেল গার্ডেনস, গ্রীন ক্রফট গার্ডেন, আযাবারডেভ গার্ডেনস, আরও কত তার ঠিক নেই।

রাস্তার ধারেকাছে ফুল-ফল-গাছপাঁলার ভিড় না থাকলেও চলতে চলতে সহ! চোখে পড়ে ছোট একটি গাছ কিংবা কারুর বাঁড়ির সামনে বসস্তের ফুলে ভর! ছোট একটুকরো! জমি, আর মনে হয় সার্থক রান্তাগুলির নাম। গার্ডেনস ছাড়! আর কী নামই বা দেওয়া যেতে! এই টান! নির্জন ফাকা পথগুলির ! বেশ লম্ব! রাস্তা ফেয়ার হেজেল গার্ডেনস। মাঝামাঝি জায়গায় চঞ্চলের ফ্ল্যাট --এক তলায় শুধু ছুটি ঘর। ভাড়া দিতে হয় সপ্তাহে পাঁচ পাউও।

১৬

চঞ্চল ফ্ল্যাট নিয়েছে খুব সম্প্রতি__-বিয়ের ঠিক আগে তার আগে তার ফ্ল্যাটের কোনো দরকার ছিলো না-হ্ামারন্মিথের প্রাইভেট বৌঁডিং হাঁউসে ভাঁবনাম্ন বাপ করে এসেছে এতদিন চঞ্চলের বিয়ে হঠাৎ হয় নি। মারিয়াকে যে সে এমনি করে বিয়েকরে ফেলবে মেকথা সে আলাপের সময় ভাবতে পারে নি। কত মেয়ের সঙ্গেই তো লগ্নে মান্গষের রোজ আলাপ হয়। কিন্তু বিয়ে করে সংসার সাজায় কজন ! আঁজ চঞ্চল বার বাঁর ধন্যবাদ দেয় অমল দত্তকে। তাঁরই জন্যে এই পরিণতি দেশে থাকতেই অমলের সঙ্গে চঞ্চলের আলাঁপ। একই জাহাঁজে বছর দু-এক আগে ওর] বিলেতে এসেছে এখানে এসেই অমল দত্ত চাঁকরি নিলো ইত্িয়া হাউসে চঞ্চলকে জানালো, দেশে থাকতে অনেক পড়াশুনে। করেছি, এখানে ওসব করবার বিশেষ ইচ্ছে নেই। তবু একবার চেষ্টা করবো, মানে চাকরি করতে করতে ইভনিং ক্লাশ করবে৷ ইকনমিক্সের যদ্দি এক টিলে ছু পাখি মারতে পারি তো বাহাদুরি, আর না পারলেও ক্ষতি নেই, বাবার টাকা তো নিচ্ছি না। চঞ্চল জিজ্ঞেস করেছিল, দেশে ফিরবে ন1? পরের কথা পরে হবে--কোনো তাড়া নেই যাঁক তাহলে অমল দত্তর প্রোগ্রাম করাই আছে। চঞ্চলের ব্যাপারটা আবার উন্টো, মানে তাকে পড়াশুনো করতেই হবে। ইচ্ছেমতো! বিষয় নির্বাচন করলে চলবে না_ব্যারিস্টারি পড়তেই হবে। কঠিন আ্যাভভোকেট বাপের মতের বিরুদ্ধে চলবার ক্ষমতা চঞ্চলের নেই তাঁর ইচ্ছে, ছেলে বড়ো ব্যারিস্টার হয়ে তার নাম ভালে! করে রাখে চঞ্চল অবশ্য ভেবেছিলো অন্য রকম। যদ্দি ইংরেজী সাহিত্যে, অক্সফোর্ড কিংবা লগ্ডন বিশ্ববিষ্ভালয়ে পড়তে পারতো তাহলে তার চেয়ে স্থখের তার কাছে আর কিছু থাকতে না। কিন্তু সেকথা মুখ ফুটে বাঁপকে বলে কে! আর বললেও কথা থাকবে না। যি চঞ্চলের মা থাকতেন তাহলে কি হতো! সেকথা আজ বল! কঠিন। কিন্ত

১৭ দুরের মিছিল--২

বিনি নেই তার কথা ভেবে আর লাভ কি! তবু মাঝে মাঝে কারণে অকারণে চঞ্চলের মনে হয়, আজ যদ্দি তার মা বেঁচে থাকতেন !

যাহোক চঞ্চল বিলেতে এলো! ব্যাঁরিস্টারি পড়তে এবং ষথারীতি লিনকনস্‌ ইনে বেশ মোটা টাক খরচ করে ভন্তি হলো। অবশ্ত অমল দত্ত তাকে প্রথম থেকেই বলে যাচ্ছে, আর বাপু) এমন কিছু পড়াশুনোর চাপ নেই ব্যারিস্টারির _ ইত্ডিয়া হাউসে ঢুকে পড়ো কিন্তু চঞ্চল তখন ইতন্তত করেছিলো। বাবা হয় তে চাকরি করায় মত দেবেন না পয়সার অভাব কি তার। বড় লোকের একমাত্র ছেলে চঞ্চল। ছেলে বিলেতে ইপ্ডিয়া হাউসে চাকরি করছে শুনলে বাপের মনে প্রচণ্ড আঘাত লাগতে পারে। তাই নানা কথ! ভেবে অমলের কথায় রাজী হয় নি চঞ্চল। তার চেয়ে যা তার ছেলেবেলার রোগ, আর মার জন্যে বাপের কাছ থেকে কেবলই খোটা! খেয়েছে আর বাধা পেয়েছে-_ এখানে নিশ্চিন্ত মূনে অবসর সময়ে সেই সাহিত্য-চর্চা করা যাবে। সাহস করে মুখ ফুটে কাউকে কিছু বলতে না৷ পারলেও বিলেতে আসবার সময় চঞ্চলের আসল উদ্দেশ ছিলো তাই। সে নানা ভাবে ইউরোপকে দেখবে আর পাঠককে জানাবে তার মতামত। কিন্তু সেকথ| বাবা জানতে পারলে হয়েছিলো আর কি! শুধু বাবা কেন, সাহিত্য করতে বিলেতে যাচ্ছি-_একথ! শুনলে দেশের কে আর না হেসে থাকতে পারে ! তাই চঞ্চল কাউকেই একথা জানায় নি। জানাবার মতে। কথা তো! নয়।

লিনকনস্‌ ইনে ভরি হবার পর প্রায় রৌজই চঞ্চল একবার করে ইণ্ডিয়া হাউসে আসতো প্রথমে কাজ না থাকলেও আঁসতো৷ অমলের সঙ্গে দেখা করবার জন্তে। তারপর আলাপ হলে! অনঙ্গ দাশ আর সোমনাথ ব্যানাজির সঙ্গে, পরিচয় হলো ইত্ডিয়৷ হাউসের আরও অনেক অফিসারের সঙ্গে, দিনে দিনে প্রবাসের এই পরিচয়ের মাত্র! বাড়তে লাগলেো৷। আর আশ্চর্য, ষেন সকলে ভালোবেসে ফেললে! চঞ্চলকে

কিন্তু আসল পরিচয় হলে! প্রায় এক বছর পর। সেকথা মারিয়ার সঙ্গে প্রায়ই চঞ্চল আলোচন। করে সেকথ! কি ভোল৷ যায় !

১৮

গত বছরের কথা এপ্রিল মান। তুষারের আবরণ বে সরে গেছে। রাতিরে স্হু শিশির ঝরলেও ফুলে ফুলে গাছ ভরে গেছে। পথ চলতে চলতে দূরে কোথায় পাখির ডাক শুনে থমকে দাড়ায় আনমনা পথিক আর অলস স্তিমিত মধ্যাঙহ্কে আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রাণপণে সুর্যকে খোজে প্রেমিক-প্রেমিকার দল।

ইঙ্ডয়। হাউসে অমলের জন্যে অপেক্ষা করছিলো চঞ্চল। সাড়ে পাঁচট৷ বাজতে মিনিট কয়েক বাকি। একটু পরেই ছুটি হবে অমল দত্তর।

চঞ্চল প্লেয়াণ ধরালো।

এই যে ঠিক হাজির হয়েছে, অনঙ্গ দাশ একগাল হেমে জিজ্ঞেম করলো, ছুটিতে রোজ রোজ্গ যাও কোথায়?

এই একটু বেডাই আর কি--

তা বোকাটার সঙ্গে বেড়িয়ে কি হবে? কোন বিয়ের খপ্ুরে নিয়ে ফেলবে। বিপদে পড়ে যাবে আরে এই শ্ঠামস্ন্দর ঠায়রো ঠায়রো, অনঙ্গ দাশ শ্যামস্থন্দরকে ধরতে ছুটে গেলো

আছ কোথায় যাবে অমল?

চলে। ক্লাবে।

সেখানে গিয়ে কী হবে? ঠায় চুপ করে বসে আজেবাজে বক্তৃতা শুনতে ভালো লাগে না। ওপরে না গেলেই হলে! নিচে বসে আড্ডা মারা যাবে কিন্ত আগে চলো, এক কাপ চা খাই, বড়ো তেষ্টা পেয়েছে

তাই চলো।

ইগ্ডিয়। হাউস থেকে বেরিয়ে ভান দিকে কয়েক পা হেটে ওরা কিংসওয়েতে পড়লে। | তারপর আর একটু হেঁটে হবোন টিউব স্টেশনের কাছে 'লাফিং কাঁউ' চায়ের দোকানে ঢুকলে চা খেতে

কাছেই ছোটো ক্লাব। ছাত্রছাত্রীদের ভিড় বেশি এখানে চঞ্চলের এই প্রথম আসা নয়। এর আগেও অমলের সঙ্গে দছ-একবার এসেছে সে। আজ

১৪)

আস্তে আস্তে হেটে মিউজিয়াম-এর পাঁশ দিয়ে যখন তাঁরা! সেখাঁনে পৌছলো তখন ওপরে পুরোদমে বক্তৃতা আরম্ভ হয়ে গেছে।

বাঁচা গেলো, রেইন-কোট হাতিলে রেখে ধপ করে একটা চেয়ারে বসে পড়ে চঞ্চল বললো!

নিচের ঘরে তখন আর কেউ নেই শুধু একজন মেয়ে ( চেহারা দেখে মনে হয় ফরাসী ) খুব মন দিয়ে কী একটা পড়ছে চঞ্চলের গলার স্বর শুনে মাথা তুলে তাঁকাঁলো। চোখাচোখি হলে! ছুজনের কিন্তু কেউই যেন চোখ ফিরিয়ে নিতে পারলে না

হাল্ো মারিয়া! তাকে দেখে খুশীতে প্রায় চিৎকার করে উঠলে! অমল, অনেকদিন দেখি নি, কেমন আছে৷ ?

খুব অন্থখ করেছিলো আমার, মধুর ফরাসী উচ্চারণে মারিয়া বললো, প্রায় দেড়মাস ভূগলাম |

তাই নাকি? এখন একেবারে ভালো তো? এই যে আমার বন্ধু চঞ্চল, যাঁর কথা তোমাকে বলেছিলাম।

তাই নাকি? প্রচুর উৎসাহ নিয়ে মারিয়া জিজ্ঞাসা করলো, তুমি তো লেখো, না?

লজ্জা পেয়ে চঞ্চল বললো, লিখতে চেষ্টা করি বলাই ভালো

সেই সন্ধ্যায় আলাপ আরও ঘন হলো ঘন ঘন দেখা করবার প্রতিশ্রুতি দিলে! দুজনেই তারপর দেশ-বিদেশের সাহিত্য আলোচনার মধ্য দিয়ে ওরা ছুজনেই বুঝতে পারলে! জীবন সার্থক করে তুলতে হলে ছুজনের এক সঙ্গে ঘর বাধ দরকার

মারিয়া থাকে বেশ দূরে জায়গার নাম ক্রিষ্ট্যাল প্যালেস। রাস্তার নাম কলেজ রোড সেই পাড়ার কোন ইস্কুলে সে ফরাপী শেখায়। ফ্রান্স থেকে চাকরি ঠিক করে এসেছে কলেজ রোঁডের বাঁড়িতে সে বেশ আরামে 'আছে। বোডিং হাউস নয়-_-এক ইংরেজ ভত্রমহিলার বাড়ি_আর দু-তিন জন বুড়ো বুড়ো ভাড়াটে মারিয়ার বয়স এদের মধ্যে সবচেয়ে কম।

ঘ০

এক শনিবার বিকেলে চঞ্চল এসেছিলো কলেজ রোডের বাড়িতে আর সেইদিন কথায় কথায় পাক1 কথা হয়ে গেলো ঘটন। ঘটলো৷ আলাপের প্রায় এক বছর পরে।

খুব আস্তে চঞ্চল ডাকলো, মারিয়া

বলে।?

জানালা দিয়ে দেখ! যাঁয় রাস্তার ওপারে বড়ো বাড়। গাছ আরও দুরে আরও অনেক গাছপাল1-_গভীব বনের মতো! মনে হয়। তখন অপরাহের শেষ। আমি প্রস্তত, একটু থেমে চঞ্চল বললো, এবার তোমার কথা বলো।

মারিয়৷ সহসা উত্তর দিতে পারলো না। শূন্য দৃষ্টিতে চঞ্চলের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ। এই বোঝা-না-বোঝার পবম মুহূর্তে তার মনে হলো সে যেন নেই

বলো?

বলছি, দাঁড়াও আগে ভেবে নি।

এখনও তোমার ভাবনার শেষ হলো না?

অজ বোধ হয় শেষ হবে, চঞ্চলের চেয়ারের হাতিলের ওপর বসে তার ঘাড়ে হাঁত রেখে মারিয়া বলে গেলো, চঞ্চল, আজ আমার কেবলই মনে হচ্ছে শেষ অবধি তুমি আমাকে অপরাধী করে তুলবে, আঁর অপরাধের ক্ষমা নেই__ তোমার কথ! বুঝতে পারছি না মারিয়া

কেন তুমি আমাকে বিয়ে করতে চাও?

তোমাকে না হলে আমার চলবে না বলে।

কিন্ত কাল যখন বুঝবে যে একজন সাধারণ মেয়ের জন্যে তুমি সব হারিয়েছ খন?

তখনকার কথা তখন ভাববো, আজ নয়, কিন্ত আজ যা সত্য বলে জেনেছি তাকে ম্বীকার করে নিতে দাও__

মারিয়া হেমে বললো, আমারও একটা দিক আছে, সে কথা তুমি জিজ্ঞেস করছো না কেন?

২১

সব কথ! জিজ্ঞেস করে জেনে নেবার দরকার হয় না, অমনি বোবা যায়। মারিয়া অনেকক্ষণ চুপ করে রইলো। জানাল! দিয়ে দূরে গাছের সারি দেখা যায়। অল্প অল্প কুয়াশা জমেছে তবু অন্ধকার হতে এখনও অনেক দেরি।

আমার ভয় হচ্ছে চঞ্চল, সে চঞ্চলের আরও কাছে ঘে'সে বললো

কিসের ভয় মারিয়া ?

তোমাকে হারাবার ভয়।

চঞ্চল হেসে বললো, ছি, আজকের দিনে কথা বলছো! কেন?

আমি জানি চঞ্চল-_মারিয়ার চোঁখে হঠাৎ জল জমে উঠলো -হয়তো হারাবার জন্যেই তোমাকে পাবো।

কথা বোলো না তুমি। তোঁমার দার্শনিক মন বলে এত ভাবছে! আর আমি ভাবছি শুধু যৌবনের কথা, সমস্ত ছুঃখ-বেদনা যাঁর স্পর্শে ফুল হরে ফোঁটে। আজ আমাদের শুধু যৌবনের গান গাইবার দিন

আমি সব জানি চঞ্চল, সব বুঝি কিন্তু একট কথা বুঝি যে আঁজকের জীবনে প্রেমের মূল্য ক্ষণকালের। তুমি তো লেখো চঞ্চল, তুমি কি জানো না, প্রেম জীবনের শুধু একটা অধ্যায়। তাই কেবলই নিজের সঙ্কোচ হয় যে আঁমাঁর জন্যে তুমি শেষ না হয়ে যাঁও।

তোমার কথা বুঝতে পারি না। শেষ হবো কেন? আজ যদি বলি, আমার সাহিত্য আমি তোমার মধ্যেই খুঁজে পেয়েছি, পূর্ণতাব স্বাদ আমার জীবনে একমাত্র তুমিই এনে দিতে পারো

মারিয়া হাসলো, মাপ করো, তুমি কী বলছো? সাহিত্যিক হয়ে কেমন করে বলো একজন বিশেষ মাঁছষ তোমার জীবন পূর্ণ করতে পারে? তাঁই তো৷ আঁমি একটু আগে বলছিলাম, সে পূর্ণতা তোমার সাহিত্যিক জীবনে পূর্ণচ্ছেদ না টেনে দেয়।

কখনও দেবে না! , আপাতত ন। হয় সেকথা স্বীকার করে নিলাম্ন। কিন্তু আরও আছে তোমার

২.

মুখ থেকে তোমার বাবাঁর কথ! যা শুনেছি তাতে মনে হয় তিনি বিয়ের খবর পেলেই টাক! পাঠানো বন্ধ করে দেবেন, তখন?

তার জন্যে ভাবতে হবে না। ইগিয়া হাউসে আমি ইচ্ছ। করলেই চাকরি পেতে পারি।

পড়াশুনেো ?

অস্থবিধ] হবে না, ঠিক চালিয়ে যাবো

মারিয়া আবার হাসলো, তোমার হবে প্রাণপাত পরিশ্রম, বাবার সঙ্গে সমস্ত যোগ ছিন্ন, আর অর্থকষ্ট তো আছেই! এতোদ্দিক সামলে সাহিত্য করবে কখন?

চঞ্চল হেসে বললো পৃথিবীর অসংখ্য সাহিত্যিকের ইতিহাঁস তুমি জানো না? জানি, কিন্ত-_চঞ্চলের একটা হাত কোলে তুলে নিয়ে মারিয়া বললো-_-তাঁরা কেউ তোমার মতে! ছেলেমান্ুষ ছিলে। না৷ ষে।

ছিলে বৈকি, সে-খবর হয়তো তুমি জানে। না

অন্ধকার হয়ে এসেছে এবার উঠে আলে! জালতে হবে। কিন্তু ওদের ছুজনেই একটা মধুর আলস্তে যেন অবশ হয়ে বসে ছিল। ইচ্ছে থাকলেও উঠে আলো! জাঁলতে পারছিলো ন। কেউ।

মারিয়৷ খুব আস্তে আস্তে বললো, ঠিক আছে চঞ্চল। আমি তোমাকে বিয়ে করবে, কিন্তু একটা কথা

তাকে কাছে টেনে নিয়ে চঞ্চল বললো, রাঁজী হয়ে পারো নাকি তুমি ? আমি জানতাম বলো কী কথা তোমাৰ?

ভবিষ্ততে যদি আমাকে বোঝা বলে মনে করো-যেদ্িন আমাকে তোমার আজকের মতো অপরিহার্য মনে হবে না সেদিন তোমার সংসারে আমার প্রয়োজন যত বেশি হোক না কেন_আমি তোমাকে ছেড়ে যাবো।

খুব জোরে হেসে উঠে চঞ্চল বললো, তাই যেও। কিন্তু জেনে রাখো এমন দিন আমার জীবনে কখনও আসবে না যখন তোমাকে বোঝা বলে মনে হবে।

১৩

সব কথা জিজেস করে জেনে নেবার দরকার হয় না, অমনি বোঝ যায়

মারিয়। অনেকক্ষণ চুপ করে রইলো। জানালা দিয়ে দূরে গাছের সারি দেখা যায়। অল্প অল্প কুয়াশা জমেছে তবু অন্ধকার হতে এখনও অনেক দেরি।

আমার ভয় হচ্ছে চঞ্চল, সে চঞ্চলের আরও কাছে ঘে'সে বসলো

কিসের ভয় মারিয়৷ ?

তোমাকে হারাবার ভয়

চঞ্চল হেসে বললো ছি, আজকের দিনে কথা৷ বলছো! কেন ?

আমি জানি চঞ্চল-_মারিয়ার চোখে হঠাৎ জল জমে উঠলো-_হয়তো৷ হারাবার জন্যেই তোমাকে পাবে!

কথা বোলো না তুমি! তোমার দার্শনিক মন বলে এত ভাবছো আর আমি ভাবছি শুধু যৌবনের কথা, সমস্ত দুঃখ-বেদনা যার স্পর্শে ফুল হয়ে ফোঁটে। আজ আমাদের শুধু যৌবনের গান গাইবার দিন।

আমি সব জানি চঞ্চল, সব বুঝি কিন্তু একট! কথা বুঝি যে আজকের জীবনে প্রেমের মূল্য ক্ষণকালের। তুমি তো লেখো চঞ্চল, তুমি কি জানো না, প্রেম জীবনের শুধু একট! অধ্যায়। তাই কেবলই নিজের সক্কোচ হয় যে আমার জন্যে তুমি শেষ ন! হয়ে যাঁও।

তোমার কথা বুঝতে পারি না। শেষ হবো কেন? আজ যদ্দি বলি, আমার সাহিত্য আমি তোমার মধ্যেই খুঁজে পেয়েছি, পূর্ণতার ব্বাদ আমার জীবনে একমাত্র তুমিই এনে দিতে পারো

মারিয়া হাসলো, মাপ করো, তুমি কী বলছো? সাহিত্যিক হয়ে কেমন করে বলে। একজন বিশেষ মাহ্থষ তোমার জীবন পূর্ণ করতে পারে? তাই তো৷ আমি একটু আগে বলছিলাম, সে পূর্ণতা তোমাব সাহিত্যিক জীবনে পূর্ণচ্ছেদ না টেনে দেয়।

কখনও দেবে না। | আপাতত ন| হয় সেকথা স্বীকার করে নিলাঁম। কিন্তু আরও আছে তোমার

মুখ থেকে তোমার বাবাঁর কথ! যা শুনেছি তাঁতে মনে হয় তিনি বিয়ের খবর পেলেই টাকা পাঠীনো বন্ধ করে দেবেন, তখন?

তার জন্তে ভাবতে হবে না। ইত্ডিয়৷ হাউসে আমি ইচ্ছা করলেই চাকরি পেতে পারি।

পড়াশুনেো ?

অস্থৃবিধা হবে না, ঠিক চালিয়ে যাঁবে৷।

মারিয়। আবার হাসলো, তোমার হবে প্রাণপাত পরিশ্রম, বাবার সঙ্গে সমস্ত যোগ ছিন্ন, আর অর্থকষ্ট তো আছেই! এতোদ্িক সামলে সাহিত্য করবে কখন?

চঞ্চল হেসে বললো, পৃথিবীর অনংখ্য সাহিত্যিকের ইতিহাস তুমি জানো না? জানি, কিন্তব-চঞ্চলের একট! হাত কোলে তুলে নিয়ে মারিয়া! বললো-_তারা কেউ তোমার মতে| ছেলেমান্ুষ ছিলো না ষে।

ছিলো! বৈকি, সে-খবর হয়তো! তুমি জানো না।

অন্ধকার হয়ে এসেছে এবার উঠে আলে! জালতে হবে। কিন্তু ওদের ছুজনেই একটা মধুর আলস্তে যেন অবশ হয়ে বসে ছিল। ইচ্ছে থাকলেও উঠে আলো জালতে পারছিলে! না কেউ।

মারিয়৷ খুব আস্তে আস্তে বললো, ঠিক আছে চঞ্চল। আমি তোমাকে বিয়ে করবো, কিন্তু একট! কথা

তাকে কাছে টেনে নিয়ে চঞ্চল বললো, রাজী না৷ হয়ে পারে৷ নাকি তুমি? আমি জানতাঁম। বলো কী কথা তোমাব ?

ভবিষ্যতে যদি আমাকে বোঝা বলে মনে করো যেদিন আমাকে তোমার আজকের মতে৷ অপরিহার্য মনে হবে না সেদিন তোমার সংসারে আমার প্রয়োজন যত বেশি হোঁক না কেন_-আমি তোমাকে ছেড়ে যাবে!

খুব জোরে হেসে উঠে চঞ্চল বললো, তাই যেও। কিন্তু জেনে রাখে এমন দিন আমার জীবনে কখনও আসবে না যখন তোমাকে বোঝা বলে মনে হবে।

২৩

চঞ্চলের হাত খুব শক্ত করে ধরে মারিয়া! হাঁসছিলো কি কীঁদছিলে৷ সেই অন্ধকারে ঠিক বোঝা গেলে না

বোঝাপড়া হয়ে গেলো এবার চঞ্চলের বরণের আয়োজন করবার পালা অমল দত্তর সঙ্গে কথা বলে সে ইত্ডিয়া হাউসে চাকরির বন্দোবস্ত করে ফেললো অল্পদিন থাকলে হবে কি, অমল দত্ত ছুই চোখ খুলে পথ চলে এর মধ্যে সে দেশের অনেক কিছু জেনেছে, অনেক কিছু বুঝেছে

সমস্ত শুনে চঞ্চলকে সে বেশ ভারীক্কি চাঁলো বললো, ইঙিয়া হাউসে চাকরি তোমার হবেই আমি তোমাকে কবে থেকে বলে আসছি চাকরি নেওয়ার কথা তখন আমার কথা শুনলে এখন এতে। তাড়াহুড়ো করতে হতো না যাকগে, কিন্ত খুব সাবধান, বিয়ে করবার কথা এখন যেন কাকপক্ষীও টের না পায়। এদের বলবে, পড়াশুনোর তেমন চাঁপ নেই, অবসর বেশি, তাই ভাবছি এদেশে নিজে উপার্জন করে দেশের পয়সা বাঁচাবো! তাহলেই তোমার এখানে চাঁকরি হয়ে যাবে! তারপর ষথাঁসময়ে তুমি বিয়ে করবে

চঞ্চল বললো, বেশ তাই করবো এখন তাড়াতাড়ি চাকরিটা পাইয়ে দাও দেখি।

গম্ভীরভাবে অমল দত্ত বললো, দেবো

কয়েকদিনের মধ্যেই ইতিয়। হাউসে চাঁকরি পেয়ে গেলে! চঞ্চল। সকাল সাড়ে নটা থেকে বিকেল পাঁচটা অবধি সে নিয়মিত অফিস করতে লাগলো শুধু সোম আর মঙ্গলবার সাড়ে পাঁচটা অবধি কাজ করতে হয়।

হঠাৎ ষেন চঞ্চলের সমস্ত শরীর ছেয়ে এক আশ্চর্য দীপ্তি ফুটে উঠলে! আর কোথা থেকে তার মনে এলো সমস্ত বাধ! জয় করে নেওয়ার প্রচুর উৎসাহ জানে! মারিয়া, অফিম থেকে ফিরে স্্যাণ্ডের কাছে এক ছোট চায়ের দোকানে বসে সে বলে, ভাগ্যিস এদেশে এসেছিলাম, তা না হলে কত কি যে জানা হতো না।

হেসে মারিয়া বলে, এতো! কি তুমি এর মধ্যে জানলে চঞ্চল?

কত কি, একটু থেমে সিগ্রেট একট! টান দিয়ে চঞ্চল উত্তর দেয়, এই পৃথিবী খুব বড়ো সেকথা তো৷ ছেলেবেলা থেকে শুনে আসছি কিন্তু এতো! বড়ো তা তো ভাবতে পারি নি। কত লোক এই পৃথিবীতে-_-জীবনের কত দিক আজ আমার চোখে বড়ে। হয়ে উঠলে

মারিয়া বললো, বড়ো শক্ত কাজ তোমার সামনে চঞ্চল, এই সব জীবন, তুমি য! দেখলে তা দেখাতে হবে তোমার দেশের পাঠককে-_দেখো যেন ভুল কিছু লিখে ফেলো না

চঞ্চল বললো, এত তীক্ষু দৃষ্টি কি আমার আছে? তবে হ্যা, একটু থেমে আবার বললো, যদি কোন ভূল হয় তা সংশোধন করে দেবার জন্যে তো তুমিই রইলে মারিয়া !

সংশোধন, খুব আস্তে উচ্চারণ করলো মারিয়া, একজন লেখকের জীবনদর্শন সংশোধন করবে অন্ত আর একজন ! খুব সাবধান চঞ্চল, এমন কথা বললে তুমি কিন্ত কোনদিনও লেখক হতে পারবে না, মারিয়া হাসলো

চঞ্চল শুধু বললো, আচ্ছা সে দেখ| যাবে, চলো৷ আজ উঠি

এই অল্প কয়েকদিনেই মনে মনে হঠাৎ চঞ্চল ষেন অনেক বড়ো হয়ে উঠলো ! সত্যি ইণ্ডিয়া হাউসে বসে যেন সমস্ত পৃথিবীকে দেখা যায়। কতো জায়গায় ভারত সরকারের কতো বড়ে। বড়ো অফিল। আর লগ্ুনের ইপ্ডিয়া হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে প্রায় সব দপ্তরের ফলে, খুব অল্প সময়ের “মধ্যেই চঞ্চলের সাহিত্যিক মন দেশ-বিদেশের স্থৃবিধা-অস্থবিধার কথা জেনে নিলো আর তার মনে হলে! সে বাংলাদেশের নয়, ভারতবর্ষের নয়, সমগ্র এশিয়ারও নয়, সে এই পৃথিবীর পৃথিবী! এতোদিন পর কথাটার আমল অর্থ যেন চঞ্চল বুঝতে পারলো

কিন্ত শেষ অবধি মারিয়ার কথা গোপন রাখা গেলে! না আর, চঞ্চল ইত্তিয়া হাউসের অন্ান্ত ভারতীয় চাকুরেদের কৌতুহলের বিষয়বস্ত হয়ে উঠলো | প্রথমে তার সামনে দাঁড়িয়ে কোনে সঙ্কোচ না করে কথা তুললো অনঙ্গ দাশ, কি হে চঞ্চল, এদেশে এসেই একট জুটিয়েছ যে, আয? কিন্তু সাবধান আবার

২৫

কাছ! খুলে আকড়ে ধরে! না! যেন। এদেশের ছু'ড়িগুলোর ব্যাপার শোঁনো-__ ওর! থাকবে যতোদিন, তোমার বাথরুম পরিষ্কার করবে, কার্পেট তুলে ঘর ঝাট দেবে কিন্তু যখন ছাড়বে বুঝলে, আর ফিরেও তাকাবে না। বুঝেশুনে চলো; এদেশের ছু'ড়ি কিন্ত বেশিদিন ঘর করে না আজ হোক কাল হোক ওর! লোক বদ্লাবেই তা৷ তোমার এটি কোন দেশের ?

অনঙ্গ দাশের স্বভাব এর মধ্যেই চঞ্চল বুঝে নিয়েছে তাই ওর কথায় তার রাগও হয় না, ছুঃখও হয় না। সে হেসে উত্তর দ্দিলো, ফরাসী

ওরে বাবা, একেবারে বুর্জোয়া! ব্যাপার তা ইংল্যাণ্ডে বসে আবার ফরাসী- টরাসী কেন? একট] ইংরেজ জোটাতে পাঁরলে না?

চঞ্চলের উত্তরের অপেক্ষা না করে অনঙ্গ দাশ সঙ্গে সঙ্গে বলে গেলো, অবশ্ঠ ইংরেজ মেয়ে-বন্ধু পাওয়া শক্ত এখানে দিশি ব্যাটার! কণ্টিনেণ্টের ঝি মাথায় নিয়ে নাচে। তাহোক, একটু থেমে অনঙ্গ দাশ হেদে বলে, মেমসাহেব তো। চঞ্চল অবাক হয়ে শ্রশ্ন করে, ঝি মানে?

তাও জানে। না? বন্ধুকে জিজ্ঞেদ করে জেনে নিও। অমল দত্ত এসব বিষয়ে একেবারে পারদরশী | ঝি মানে আবাঁর কি, ঝি মানে ঝি, হি হি হি, এবার চঞ্চলের প্রায় কানের কাছে মুখ এনে অনঙ্গ দাখ বলে, ইটালি, সুইটজারল্যাণ্, জানমীনি এইসব দেশ থেকে অজত্্র মেয়ে লগ্ডনে ঝিগিরি করতে আসে ইংরেজ, ওদের »্দিকে ফিরেও তাকায় না। বুঝলে চঞ্চল, অতি বদমাইশ জীত এই ইংরেজ বেটার! এই মেয়েরা বলে যে তারা নাকি ইংরেজী শিখতে এদেশে এসেছে আসলে দেশে খেতে পায় না আর পেটে বিছ্যে নেই বলে চাঁকরিও, পায়না তাই এদেশে আসে