মন্ত্রশক্তি

শ্রীমতী অনুরূপ দেবী

গুরুছালে ভ়েপাায় রর

২2০৩০১০১ ক্রগগয়ালিল দুটা

চাপ টাক। আট অনা

দশম সংস্করণ চৈত্র-৯৩৬১

সৃম্িক্ষ। 'মন্ত্রশক্তি পরিচিত এবং অপরিচিত উচ্চশিক্ষিত এবং অর্দশিক্ষিত

সমুদায় পাঠক পাঠিকামগুলীর তুষ্টিসাধনে সমর্থ হইয়াছে দেখিয়া আমারও শ্রম সফল বোধ করিয়ছি।

লেনপ্ধিকা

মন্ত্রশক্ত

মননাং আ্রায়তে বন্মীৎ তন্মাত মন্ত্র: প্রকীন্ভিতঃ জপাৎ সিদ্ধিপ্রপাৎ সিদ্ধিজপাঁঞ সিদ্ধির্নসংশয়ঃ |

উতসর্গ

ধাহাল্র নিমকিউ বেদমন্তের স্থষটস্থিতিবিধায়িনী মহাঁশক্তির বিষয় জ্ঞাত হইয়াছি, যাহ্াল্প মন্রশক্তির অপূর্ব প্রভাব নিজেও কতবার অন্তুতব করিয়াছি, সহ নতররষ্টা খষিভুল্য আব্ব্যশজ্-প্রদ্দীপকাল্র

দাদামহাশয়ের জ্ীস্ল্রপকমলে এই ক্ষুত্র গ্রন্থ একান্তিক ভক্তিসহকারে জর্প্পি কল্পিলাম।

মন্নত্তি

রখ শান্বিচেম্তল্

রাজনগরের জমিদারবাবুদের কুলদেবতা গোঁপীকিশোরের মন্দিরা শুধু জনসাধারণের চক্ষেই সুন্দর বলিয়া সমাদৃত হইত না, তাহার শিল্পনৈপুণ্য নির্মাগ-চাতুরধ্য কবি চিত্রকরের নেত্রেও প্রণংসার জ্যোতিঃ ফুটাইয়া তূলিত।

সম্মুথে কলনা'দিনী চিত্রলেখা। পরপারের গোলার্ধাকারে স্ুনিধিড় বৃক্ষরাজি। ইহাদের শেষ প্রান্ত অনন্তে দিশ্বলয়ে মিশিয়! গিয়াছে এবং পদতলে স্ুদুর-বিস্তৃত অতি শুন্র তীর বানুকার নিয়ে স্বচ্ছ সলিল-বক্ষে প্রশান্ত নীলিমার গ্রশন্ত ছায়া। মধ্যে মধ্যে কেধল জলমধ্যে শ্বেত তরঙ্গের অস্ফুট মৃঘ শবে অবাধ লীলা-নর্ভন, আর গগনাঙ্গনে ততোধিক শুত্রতর মেঘপুপ্রের নিঃশব্ধ সশঙ্ক গতি। নদীর উপর বীধাঘাটি। প্রশস্ত চত্বরের দুইদ্িকে বসিবাঁর জন্ত মর্শরাসন। লোহার ফটকটি অতি বিচিত্র। তাহার মাথার উপরে একটা! বড় লনে রাত্রিতে রঙ্গীন তেলের বাতি জলিত। এই চত্বরের পরেই একটি স্থুরচিত পুণ্পোগ্ঠানের কিয়দংশ দষ্টিপথে পতিত হয়। এই উদ্যানটি অত্যন্ত বৃহৎ এবং ইহার কতকাংশ বিবিধ ফলবৃক্ষে পরিপূর্ণ। উদ্ভানের মধ্যভাগেই মন্দির। সেই উদ্চানে লতাকুঞ্জ, গুল্স-ভবন, গ্রন্তরাঁনন, নায়ক বা নায়িকামুন্তি; পথিপার্ে আলোঁকাধার- ইহার কিছুরই অভাব ছিল না। মর্মর-মণ্ডিত সুপ্রশস্ত সমচতুক্কোখ চত্বরের মধাস্থলে বিশাল মর্মর-মন্দির নীল আকাশের দিকে

মন্ত্রশক্তি

সাথা তুলিয়া আছে। জ্যোত্নলাময়ী যামিনীর কনক-কিরণ মন্দির-গাত্রে প্রতিফলিত হইয়! নুন্দর দেখায় ঘন মেঘাড়গ্থরশালী আসন্ন ঝটিকার হন্কতায় তাহা অধিকতর চিতহারী। স্তবর্ণ-পতাকা-সংযুক্ত ন্বর্চূড়া প্রতপ্ত হূর্যযকিরণে ঝলসিত হইয়। ছট। বিকীর্ণ করে, উর্ধপক্ষ পরিশ্রাস্ত পক্ষিগণ মধ্যাহ্ু-ভ্রমণের পর একবার ইহার উপরে বসিয়। বিশ্রাম করিয়া লয়। বর্ধার জলধার! মধ্যে মধ্যে সেই শুভ্র অঙ্গ ধৌত করিয়। দিয়া ছিন্নমাল্যত্ষ্ট মুক্তাবলীর মত নিয়ের চত্বরে ছড়াইয়৷ পড়িতে থাকে। তখন তাহার ওজ্জল্য আরও বৃদ্ধি পায়।

মন্দিরের প্রবেশত্বার সোণার পাঁতে মোড়া, ইহার উপর মণিময় অক্ষরে মন্দির-প্রতিষ্ঠাতার নাম প্রতিষ্ঠার তারিখ লিখিত ছিল। সেদিন সুদূর অতীতের গর্ভে বিলীন হইয়! যাঁয় নাই অদূরবর্তী দিনেরই সে ইতিহাস।

মন্দিরের অত্যন্তরে স্থচার স্বর্ণসিংহাসনে মন্দিরের দেবতা-বুগল পাশাপাশি স্থাপিত। 'ীতাঁঘর শ্ঠামমুপ্তি বামদিকে উধৎ হেলিয়া বংশীবাদন করিতেছেন, আর সেই বাঁশির স্বরে গৃহকর্ম্দে আনমনা রাঁধ! লব ভুলিয়া! উন্মাদিনীর ন্যায় বিশ্রন্ত কুস্তলে ছুটিয়া আসিয়া শ্যামসঙ্গিনী হইয়াছেন। শিল্পী এই অপূর্ব আদর্শ চিত্রপটে অস্কিত রাখিয়া প্রতিমা গঠন করিয়াছিল, তাই তাক এমন পবিত্র ভাব-সম্পদ্-ভূষিত। সংসারের জাম্যমান চক্রে আবর্তিত হইতে হইতে জীবাত্মা আত্ম-ম্বরূপ বিশ্বৃত হইয়া সংসারকেই গৃহবোধে তাহাতেই রত থাকে, কিন্ত যে দিন জীবন- যমুনার পরিপূর্ণ কূল হইতে বাঁশীর আহ্বান তাহার কানের ভিতর দিয়া মরমে পশে, তখন তাহার সকল ত্রাস্তির অবসান হইয়া ষায়। তন লক্জা-মান-ভয় সমুদ্ধয় বিসর্জন নিয়া দেহরূপ পরবাস ছাড়িয়া বন্ধ'আত্মা মুক্ত-আত্মার সহিত সম্মিলিত হইবার জন্য ছুটিয়! বায়, এবং

মন্ত্রশক্তি

সেই আকাঙ্ছিত মিলন লাভ করিয়! সর্ব ব্যাকুলতার হস্ত হইতে মুক্তি লাভ করে।

এই যুগ্ম প্রতিমার সন্দুথে সুন্দর একটি স্ুবৃহত অষ্টদল শ্বর্ণপন্ের মধ্যদেশে তুলসীদাম-বেষ্টিত চন্দন-চচ্চিত শালগ্রাম-শিলা গ্রতিঠিত ছিলেন ইহার পর শ্বেত কৃষ্ণপ্রস্তরের পদ্মাকৃতিতে রচিত হর্্যতলে নিত্যপৃজার স্বর্ণময় উপকরণসমূহ যথাযোগ্য স্থানে সুসজ্জিত। জলে-ভর! শুল্র পাণি-শঙ্খ, সোনার ঘণ্টা, কীশর, পঞ্চ-প্রদীপ, দীপ ধৃপাধার সমস্তই স্থমাঙ্জিত সুবিন্তন্ত |

এই মন্দির স্বর্গীয় জমিদারের অক্ষয় কীত্তি। শুধু মনির নহে, তাহার প্রায় সমুদয় সম্পত্তিই তিনি দেবোদেগ্ঠে দান করিয়াছেন। উৎসবাদির ব্যয় মন্দির সংস্কারাদি অত্যুত্তমরূপেই চালাইবার বাবস্থা তিনি ইচ্ছাপত্র' দ্বারা করিয়া! গিয়াছেন। জমিদার-গোঠী তখন হইতে দেবসেবকরূপে সেবাবশিষ্ট উপস্বত্ব উপভোগ করিতে পারিবেন? কিন্ত দান-বিক্রয়ের অধিকারী হইবেন না, সমুদয় সম্পত্তিই দেবোত্তর

এই মন্দির ব্যতীত একটি অতিথিশালা উচ্চাঙ্গের সংস্কৃত চতুষ্পাঠীও এই ত্বধন্ীপরায়ণ জমিদারের ধশ ঘোবণ। করিতেছিল। টোলের অধ্যাপক জগন্নাথ তর্কচুড়ামণিই প্রতিষ্ঠাতার ইচ্ছান্থলারে এতকাল মন্দিরের পৌরোহিত্য কার্যে নিযুক্ত ছিলেন। জমিদার মহাশয় তাহার ইচ্ছাঁপত্রে স্পষ্ট বিধান করিয়া গিয়াছেন যে, যতদ্দিন তর্কচূড়ামণি জীবিত থাকিবেন, ততদ্দিন পুজার ভার তাহার উপরই থাঁকিবে ; তাহার অভাবে, তাহার নিয়োছিত শিষ্ভই পুরোহিতের প্দ পাইবেন ; এবং এইক্ধপে আস্তিক্য শান্তজ্ঞানযুক্ত প্রকৃত বিঘান পুরোহিতগণের উপরই তততৎ গুণসম্পন্ন ভবিষ্তৎ-পুরোহিত-মনোনয়নের ভার ন্ন্ত থাকিবে। পুরোহিতের অধযোগ্যতা দেখিলে এবং তাহ! বিশেষ বিশেষ স্থার্নায় ভদ্রব্যক্তিগণের

মন্ত্রশক্তি ত্বারা সমধিত হইলে, জমিদার-গোঠীর বিনি তৎকালে প্রবীণ থাকিবেন, তিনি পুরোহিত পরিবর্তনে হস্তক্ষেপ করিতে পারেন বটে, কিন্ত নেই মনোনয়ন উপরি উক্ত চতুষ্প1ঠীর ছাত্রগণের মধ্য হইতেই করিতে হইবে এই ব্যবস্থাটিতে অনেক সময় কুফল ফলিতে পারে, কিন্তু ইহাতে সুফল লাভের সম্ভাবনাও যথেষ্ট আছে। নিজ নিজ যোগ্যত। প্রমাণ করণেচ্ছায় ছাত্রের প্রথমাবধি সচেষ্ট থাকাতে প্রতিযোগী পরীক্ষাধিগণের ন্যায় উন্নতিলাভে সমর্থ হইবে। তবে কখন কখনও কোন ঈর্যাকলুষিত সন্থীর্ঘহদয় ব্যক্তি এই উপলক্ষে বিবিধ অশান্তি সৃষ্টি করিয়া তুলিতেও সমর্থ। এই প্রথম নির্বাচনে যে সেইক্ষপই ঘটন! ঘটয়াছিল, সেই কথাই 'আমরা এক্ষণে বলিতে বসিয়াছি।

এই টোলের ছাত্র অশ্বরনাথ নামক ছেলেটি অত্যন্ত নিরীহ নম্র- প্রকৃতি সম্পন্ন সবেমাত্র আট মাস দে এই টোলে অধ্যয়ন করিতে আপিয়াছে, কিন্তু ইহারই মধো অধ্যাপক হইতে আরম্ভ করিয়া, অল্প কয়েকজন ছাত্র ব্যতীত--পাঁড়। প্রতিবাঁসী পধ্যন্ত সকলকেই সে নিজগুণে বশীভূত করিয়াছিল। ইদানীং এই গুণগ্রাহিতার ফলে বৃদ্ধ পণ্ডিতের শয্যারচনা, হরিতকীকর্তন হইতে তাহার পদসেবার নিত্য ভার এই শাস্ত সুশীল ছাত্রটির উপর নিক্ষেপ করিয়া অন্তান্ত ছাত্রগণ নির্ঝঞাঁট হইয়াছিল, অধিকন্ত তাহাদের ঘাঁড়ের সমস্ত বোবাঁও সেই সঙ্গে সঙ্গেই একে একে এই অঞ্থরনাথের স্কন্ধের উপর মৌরসী বন্দোবস্ত করিয়। লইয়াছিল। অধ্যাপক মহাশয় হদূর অতীতে পত্রীহীন হইয়াছিলেন ; তাই জমিদার মহাশয়ের টোঁলবাড়ীকে চৈতন্তদেবের অনুমোদিত সর্বাপেক্ষা নিরাপদ স্থান বলা যাইতে পারে? কিন্তু এই নারীবঞ্জিত গৃহস্থালীর যে একট! মন্ত বড় উপত্রব বর্তমান থাকা অনিবা্ধ্য, সেই কাটা লইয়া! ইত:পূর্ব্রে ছাত্রদলকে অনেক সময় অনেক নিগ্রহ ভোগ করিতেও হইয়াছে সেই পাফশাকের

মন্ত্রশত্তি ব্যাপারটা! ইদানীং অন্থরনাথের উপর আসিয়। পড়ায় ছাত্রদলের গুরুভার অনেকটাই প্রশমিত হইয়াছিল। অন্বরনাথও ইহাতে দুঃখিত নহে। কুর্ধযোদয়ের অনেক পূর্বেই শয্যাত্যাগ করায়, তাহার কখনই বড় একটা! সময়াভাব ঘটিত না। প্রাতঃকৃত্য সন্ধ্যাহ্নিক শেষ করিয়া পাঠ্যপুস্তক লইয়! জনহীন নদীতটে, কখন একটি গাঁছের তলায়, কখনও ব! শ্তামল প্রীস্তরে আসিয়া সে বসিত। প্রভাতের সগ্যোজাগ্রত্ত কাকপক্ষিগণ তখন প্রাভাতিক মঙ্গলাচরণ করিত, পদতলে চিত্রলেখা মৃদু কল্পোলে গান গাহিয়া গাহিয়া বহিয়া যাইত। স্বর্ণকুস্তকক্ষা রক্তবসনা উহা নববধূর সরমশস্কিত পদক্ষেপে সখী দিগবালার হত্তধারণ পূর্ব্বক ক্রমে জগমন্দিরের পূর্ববদ্ধারে আসিয়া দেখা দিতেন) চঞ্চল বালিকার ক, হইতে ছি'ডিয়া-পড়া মুক্তাগুলির মত্ত শিশির বিদ্দুঃ গাছের তলায় অমরনাথের মাথার উপর বঝরিয়া পড়িত। দে কিন্তু সকল কিছুই জানিতে পারিত না, তাহার একাগ্রচিত্ব অধীত বিষয়ে তন্ময় হইয়া যাইত__বাহজগতের সঙ্গে সে সময় তাহার কিছুমাত্র সম্বন্ধ থাকিত না।

এই অবসরটুকু যথার্থ উপভোগের পর যুবক গুরুসেবায় মনোনিবেশ করিত। গুরু বদ্ধ এবং ব্যাধি-নিপীড়িত, কাজেই তাহার গ্ররুতি একটু রুক্ষ হইয়াছিল। মন্দিরের পৃজাশেষে টোলে ফিরিয়াই তিনি ক্ষুধা তৃষ্ণায় কাতর হইয়া পড়িতেন এবং সেই সময় সামান্ত একটু কিছু আহাধ্য না পাইলে তীহার বিরক্তি অনেক সময়ই ক্রোধে পরিণত হইত। পূর্ব্বে এরূপ রোষাভিনয় নিত্য ব্যাপারের মধ্যেই ছিল 3 কিন্ত অশ্বর- নাঁথের আগমনাবধি তাহার সাবধানতা য় তাহাকে এই ফামান্য বিষয়ের জন্য আর কোন দিন ঘিরক্ত হইতে হয় নাই | মধ্যে মধ্যে কারণ বিশেষে তাহাকে কুদ্ধ হইতে দেখিলেই ছাত্রগণ তাহার সম্মুখ হইতে সরিয়া পলাইত ; কাঁজেই তখন একা অস্বরনাথকে সকলের প্রাপ্য তিরক্কার

মন্ত্রশক্তি

সহ্হ করিতে হইত। এমন করিয়া দিন কাটিতেছিল। মানুষের ইচ্ছা দিনগুলা চির-দাসথতে তাহাদের নিকট নাম সই করিয়। দেয়, কিন্ত তাহাদের ইচ্ছা! অপেক্ষ। গ্রবলতর একট! অদৃশ্ঠ শক্তি যে এই সুখ-দুঃখের চাঁকাটাকে ঘুরাইয়া লইয়া বেড়ায়, সে কেবল তাহার্দের এই আবার শুনিয়া মুখ মুচকিয়! হাসে এবং চাঁকাটা৷ ক্রমাগত ঘুরাইতে থাকে।

জগন্নাথ তর্কচূড়ামণি পীড়িত হইয়। প্রায় মাসাবধি শয্যাশ্রিত রছিলেন। তারপর সহসা! একদিন ইহলোকের সহিত দেনা পাঁওন। মিটাইয়৷ কোন এক্ধ অজানা! লোকাস্তরের উদ্দেত্ে মহাধাত্রা করিলেন। এই দূরপথের উপযুক্ত পাথেয় তাহার ছিল কি না, তাহা তাহার বৌচ.কা খুঁভিয় দেখা হয় নাই? কিন্তু লোকে কয়েকদিন যাবৎ বলাবলি করিল যে, “লোকটা সাক্ষাৎ স্বর্গে গিয়াছে ।”--“হ্যা, একেবারে খাটি মানুষ ছিল বটে, দেবসেবায় বা শ্রাদ্ধশাস্তিতে এতটুকু একটুও খুঁৎ কখনও সইতে পাস্ৃত না--আর তেমনি কি রাঁশভারি! কাছে ঘেষে কার সাধ্য, যেন সেই সেকালের “দূর্বাস! খধি? !»__অধ্যাপকের রোগবুদ্ধি মৃত্যু পর্য্যন্ত তাহার ছাত্রদল রাজনগরের অধিবাসিগণের ভিতর বিষম কৌতৃহল উৎকষ্ঠার কাল গিয়াছে। তিনি কাহাঁকে মন্দিরের পুরোহিত টোলের অধ্যাপক নির্বাচন করিয়া যান, ইছা জাঁনিবাঁর জন্য সকলেই ব্যগ্র হইয়াছিল। বদিও চতুষ্পাঠীর সর্বাপেক্ষা পুরাতন ছাত্র আগ্ঘনাথের নিয়োগ সম্বন্ধে সকলেই এক প্রকার নিশ্চিন্ত ছিল, তথাপি একটা ক্ষীণ আশ! সকলকেই মনে মনে একটু উৎকষ্ঠিত করিতে বুঝি ছাড়ে নাই।

অধ্যাপকের মূত্র দু-একদিন পূর্বে দেশের জমিদার দুইজন ভদ্র- লোককে সঙ্গে লইয়া! প্রায় আঁধঘপ্টা ধরিয়! তাহার সহিত কি কথা- বার্ডা কহিলেন কয়েকটা কি লিখিয়! তাহার নিয়ে তর্কচূড়ামগি মহাশয়ের নাম স্বাক্ষর করাইয়া লইয়া সেইখানে বসিয়াই তাহারা

মন্ত্রশক্তি : নি নিজ নাম সহি করিলেন। সঙ্গী দুইজনের মধ্যে একজন জমিদারের পারিবারিক উকিল, অপর জন তাহার মুহুরী তাহারাও তাহাদের যথা কর্তব্য সম্পাদন করিল। গৃহে তখন আর কেহ উপস্থিত ছিল না--কাহাকেও থাকিতে দেওয়। হয় নাই। জানালার 'বাঁছিরে ছু-একটি ছেলে পা টিপিয়া আড়ি পাতিবার চেষ্টা করিয়াছিল, কিন্তু রোগীর শয্যা জানাল! হইতে দূরে থাক! প্রযুক্ত ভিতরের পরামর্শ কেহই কিছু জানিতে পারিল না| তাই সকলেরই মনের ভিতর বিষম একটা উৎকণ্ঠ। জাগিয়! রহিল। ব্থাকালে অর্থাৎ অধ্যাপকের মৃত্যুর পর বিষয়ে সংবাদ পাওয়া গেল-_-সে সংবাদট! সকলেরই নিকট একটু অন্ভুত ঠেকিয়াছিল-_তাই এই)-ন্বগ্গীয় অধ্যাপক মহাঁশয় তাহার বল্পদিনের ছাত্র অগ্বরনাথকে সমস্ত উত্তরাধিকারটুকু দিয়া গিয়াছেন। সে-ই এখন মন্দিরের পুরোহিত এবং ছাত্রদিগের পরম পুজ্য অধ্যাপকও মে। গভীর বিরক্তিতে একসঙ্গে চতুষ্পাঠীস্থিত ছাত্রবৃন্দের সব কয়টি ললাট একসঙ্গে কুঞ্চিত হইয়া উঠিল। যে এতদিন ভাত রাধিয়া থাওয়াইয়াছে, প্রয়োজন হইলে ছু-দশট! গালি দিয়! মনের ঝাল মিটহিয়া লইঞ্লেও যে কখনও প্রতিবাদটি পর্যস্ত করে নাই, সেই অন্বরনাথ আজ হইতে তাহাদের অধ্যাপক হইল-_-গুরু হইল! এখন হইতে তাহারা সবাই তাহার হুকুম তামিল করিবে? তাহার পাঁয়ে ফুল চন্দন দিয় পূজা করিবে? অসম্ভব-__ছাত্রগণ জোট বাধিয়া জমিদারের নিকট অছযোগ করিল; বলিল, “ও দুদিনের ছেলে--তাঁয় সায়” শাস্ত্রের পড়াগুনা৷ বেশীদূর ওর অগ্রসরও হয় নাই, এই সেদিন মাত্র এখানে আদিল, উহার দ্বারা কি কখন ছাত্র-অধ্যাপনা চলিতে পারে? এই নির্বাচন অযৌক্তিক হইয়াছে ; এক্ষণে আপনি আমামের মধ্য হইতে অপর কোঁন যোগ্যতর ছাত্রকে পুনর্ননোনয়ন করুন.”

ন্ত্রশক্তি

জমিদারের প্রস্তাব অনুমোদন করিবার সাধ্য ছিল না। তাহার নিজের কাছেও প্রস্তাব সমীচীন ঠেকিলেও তিনি সেই জন্ত ইচ্ছাঁসত্বেও ছাত্রদিগের বাসন পূর্ণ করিতে সমর্থ হইলেন না। নিজের ক্ষমতার কথা বুঝাইয়া বলিলে, জুদ্ধ, ক্ুন্ধ ছাঁত্রের দল, মনের মধ্যে গুমরাইতে হুমরাইতে আবার নিজ স্থানেই ফিরিয়া গেল।

গুরু কর্তৃক অন্বরনাথের পদোম্নতিতে অপর সকলে যতটুকু বিরক্ত হইয়াছিল, সে নিজে এই ঘটনায় তাদপেক্ষা। কিছুমাত্র স্বপ্ ক্ষুব্ধ হয় নাই। সংবাদট! গুনিয়াই সে কিছুক্ষণ নীরবে চালের বাতা ধরিয়া দাড়াইয়। রহিল, তাহার পর দড়ির আন্লা হইতে ময়লা চাঁদরথাঁন। টাঁনিয়া কাধে ফেলিয়া লঘুপদক্ষেপে নদীতীরে গিয়। ঘুরিয়! বেড়াইতে লাগিল। কেন এমন হইল? নিজেকে বাড়াইবার ইচ্ছা তাহার মনে এক নিমেষের জন্তও কোঁন দিন স্থান পায় নাই, তবে কেন এমনটা! হইল? যাহার! এতদিন আশা করিয়! বসিয়াছিল, তাঁদের দে আশাতরুর মূলে কুঠারাঘাত করিয়। সে তাহাদের কতই না ক্ষোভের কারণ হইয়াছে? তাহাদদের জীবনের মাঝখানে সে এমন অতকিত ছুগ্রহের মত কোথা হইতে সহসা! আসিয়। পড়িয়! উহাদের চির-পোঁষিত আকাঙ্মা'ব্যর্থ করিয়া দিদ! এমন হইল কেন?

জমিদারের সহিত সাক্ষাৎ করিতে তাহার কেমন বাধ বাধ ঠেকিতে থাকে। অথচ দেখ! না করিলেও নয় ছুই-চারিদিন যাই যাই করিয়াও সেখানে যাইতে পাঁরিল ন|। শেষে অধ্যাপকের আদ্ধ-শান্তি চুকিয়।৷ গেলে, কর্মভার গ্রহণ করিবার পর, একদিন সে পুজা-শেষে দেবনির্ধীল্য লইয়া অমিদার-দর্শনে গমন করিল। জমিদার তখন একাই ছিলেন। তৃত্যকে আসন আনিবার আদেশ প্রদান করিয়া তিনি বিন্মিতনেত্রে নৃতন পুরোহিতকে নিরীক্ষণ করিতে লাগিলেন। গোৌরবর্ণ, প্রশস্তললাট, দিব্য

মন্ত্রশক্তি

আয়তনেতর, নত সুন্দর মুর্তিখানি ব্রাঙ্গণোচিত প্রতিভায় বিমর্তিত। সে মুক্তি দেখিলে মনে বেশ একটু শ্রদ্ধার ভাবই উদদিত হয়, কিন্তু মহা! সম্মানিত অধ্যাপক-পদে সমাসীন হইবার পক্ষে বয়সটা এখনও যেন নিতান্ত কীচাঃ ক্রটিটা চোখে না ঠেকিয়! পার পাঁয় না। বৃদ্ধ অধ্যাপক কেনই যে এই তরুণবয়স্ক যুবকটিকে অধ্যাপক পুরোহিতপদে বৃত করিয়া গেলেন ইহার রহস্ত বুঝিয়া উঠা কঠিন।

আসন গ্রহণ করিয়! অন্বর সসঙ্কৌচে বলিল, “আমার দ্বারা এই সমন্ত কাধ্য স্ুুচারুরূপে সম্পন্ন হইয়া! উঠে বলিয়া আমার মনে ভরসা হয় না। আমায় ন! দিয়া এই কাধ্যভার আপনি অন্ুগ্রহপূর্বক অপর কোন যোগ্যতর হন্তে প্রদান করন ।”

জমিদার বলিলেন, “কিন্ত তোমার গুরু তার অতগুলি ছাত্রের মধ্য হইতে তোমাকেই সর্বাপেক্ষা উপযুক্ত মনে করিয়াই এই গুরুভার তোমারই উপর দিয়। গিয়াছেন। তবে কি তিনি ভুল করিয়াছেন ?”

অন্থর অনেকক্ষণ চুপ করিয়া কি ভাবিল। তারপর সে উত্তর করিল, “কার ভুল হওয়া সম্ভব, একথ! আমি মনে করিতেই পারি না। হয় আমিই আমার নিজের শক্তি সম্বন্ধে অজ্ঞ | কিন্ত দ্বায়িত্ব গ্রহণে আঁমি যখন নিজেই ভীত হইতেছি, তখন আঁপনি ভার আমার নিকট হইতে লইয়! ইহা অপর কাহাকেও দিন ।” |

এই বলিয়া! সে উঠিতে উদ্যত হইলে, জমিদার মহাশয় কিছু বিশ্মিত হইয়া তাহাকে পুনশ্চ বসিতে বলিয়া» এই নির্ববীচন-স্ন্ধীয় প্রকৃত বাপার বুঝাইয়া দিলেন। পরিশেষে বলিলেন, “তুমি ছাড়িতে চাঁহিলেও এক্ষণে তৌমায় নিষ্কৃতি দিবার ক্ষমতা আমার নাই! যদি সাধারণ সকলেই তোমাকে পৌরোহিত্য বা অধ্যাপনাকার্ধ্যে অসমর্থ বলিয়া মত প্রকাশ করে, তবেই আমি ভবিষ্যতে তোমায় পদচাত করিতে পারি, ব্যতীত

১৩ মন্ত্রশক্তি

নয়?” পরে ঈষৎ হাসিয়া কহিলেন, “বদি কাধ্যভার লইতে একাস্তই 'অমিচ্ছুক থাক, তবে কাজে ক্রটি দেখাও। তোমার দোষ ধরিবার লোকের অভাব হইবে না1”

অন্বরনাথ এই কথা শুনিয়া! উঠিয়। দীঁড়াইল, তাহার সেই প্রশান্ত ৃষ্টিসংযুক সুবৃহৎ চক্ষু দুইটি মুহূর্তের জন্য ঈষৎ উজ্জলতর হইয়া উঠিয়াছিল, জমিদারকে নমস্কার করিয়া সে ঈষদৃঢ়ম্বরে উত্তর করিল, “ম্েচ্ছায় আমি কর্তব্যকর্মে ক্রাট করিতে পারিব না সে উপাঁয়ে মুক্তি আমার অভিপ্রেত নচে। গুরুর আদেশই তবে শিরোধাধ্য করিলাম ।”

ইছার পরদিন প্রভাতে সে এই মনেই নিজের সমুদয় কর্তব্যভার মন্তকে তুলিয়া লইতে গেল, কিন্তু তাহ! তাহার মাথার উপরে ঠিকভাবে বদিল না। চতুষ্পাঠীর স্বশ্লাবশিষ্ট ছাত্রের মুখ অন্ধকার করিয়া পুত্তক খুলিয়া বমিল বটে, কিন্ত তাহাদের ক, তালু, জিহব। যেন আড়ষ্ট হইয়া মুখ বিবষেই সটিয়া রহিল-_স্বর বাছির হইল না। আত্যনাঁথ সদলবলে ইহার ঠিক পূর্ব রাত্রে টোলবাড়ী ছাঁড়িয় চলিয়া গিয়াছিল।

তাহাদের মনোভাব বুঝিতে অস্বরেরও কিছুমাত্র বিলম্ব হইল না, সে নিজেই যে মনে মনে নিজের তাহাদের জন্য লজ্জাবোধ করিতেছি তাই সে কিছু না বলিয়। আস্তে আস্তে সেথান হইতে উঠিয়। গেল এবং অধ্যাপকের জীবিতকালের ছাত্র অস্বরেরই ন্যায়, ভাগারের দরজ। খুলিয়া কাঠায় করিয়া চান মাপিতে লাগিল, তারপর রাঁয়াঘরে গিয়৷ নীরবে জলম্ত্ুলার উপরে পাঁচসেরি ভাঁতের হাঁড়িট। চাঁপাইয়! দিয়া চাল ধুইতে বমিয়। গেল। পরম্পর দৃষ্টি বিনিময় করিয়! কেহ লজ্জায় মাথা নত করিল, কাহারও ব! অধর প্রান্ত ঈষৎ হান্তে কুঞ্চিত হইপ্স| উঠিল, সে হাসি নিতাস্তই অবঞ্জার--অর্থাৎ কিনা মেছুনী রাজরাণী হইলেও ক্বভাবজাত মংশ্থাগন্ধ-

প্রিয়তা ত্যাগ করিতে পারে না।

দ্বিভীন্ম গ্ক্লিচ্ছে্ক

রাজনগর গ্রামের বাঁজার হাট নদীতীর হইতে নুনাধিক আধক্রোশ দুরে অবস্থিত। জমিদারবাটী হইতে গ্রামের মধ্য দিয় রেশন পর্যযস্ত একটি অনতিগ্রশস্ত পথ ছুই পার্থর ঘনসন্লিবিষ্ট আমর, পনস অন্বথ বৃক্ষের শীতল ছায়াতলে দীর্ঘকায় অজগরের স্তায় নিশ্চিন্তমনে বিশ্রীম করিতেছে। হাটের দিনে পশারী পশারিণীগণ বোঝা! মাথায় হাত দৌলাইয়া' এই রাস্তা দিয়! পণ্যশালায় গিয়া পহুছিত। শস্যের বোঝার উপর বসিয়া গো-শকটের আরোহী অতি মন্থর-গতি বাহনছয়ের প্রতি অত্যন্ত কটুভাষা প্রয়োগ করিতে করিতে সাতক্রোশ দূরে রেলওয়ে ছ্রেশনের অভিমুখে প্রস্থান করিত। আবার কখনও কখনও দ্বিতীয় একখানা তদবস্থ যানের সহিত সংঘর্ষ উপস্থিত হওয়ায় টক টক হেই হেই শে চালকণয়ের পরম্পরের প্রতি কটুবাক্য-প্রয়োগে সে পথ মুখরিত হইয়া উঠিত।

এই পথের ছুইধারে রাজনগর গ্রাম সংস্থাপিত। গ্রামের মধ্যেই দুই- দশ থর ব্ধিষ্ণ লোক ভিন্ন অধিকাংশই দরি্্র সাধারণ গৃহস্থের বাঁস। স্বতরাং গ্রামে কোঠীঘর অপেক্ষা চালাধরের সংখ্যাই বেশী।

তথাপি গ্রামথানির মধ্যে জননী কমলার কৃপাদৃষ্টির বেশ একটু চিচ্ন পরিষ্ফুট ছিল। অধিবাপিগণের সকলেরই প্রায় গৃহমংলগ্ন ছুই-চারি বিঘা জমি ফট ফুলটা উৎপাদন করিয় গৃহস্থের গৃহসৌষ্ঠবসাধন অভাব বিদুব্িত করিত। গোঁময়লিগ্ড পরিচ্ছন্ন গৃহাঙ্গনের একটি ধারে মরাই বাধা নাই, এমন লক্ষীছাড়ার ঘর গ্রামে দেখাই যায় না। এতঘ্যভীত দুগ্ধবতী গাভী, হলবাহী বলদ, কমলার বরপুত্র গৃহপালিত কপোঁতের ক্াকও প্রায় সকল গৃহে দৃষ্ট হইত গ্রামের ঠিক মধ্যস্থলেই রাজনগরের

১২ মন্তরশক্তি বাঞজার। এইখানেই প্রকাণ্ড আটচালার ভিতর বুহস্পতি রবিবারে হাট বসে। হাটের দিন নিকটবর্তী গ্রামগুলি হইতে বছলোঁকের সমাগম হইয্স] থাকে। কারণ অঞ্চলের মধ্যে রাজনগরই কলিকাতা সহরের সমতুল্য। এখানের অশন-বসনে আট-দশট। গ্রামের লোক গ্রতিগালিত হয়। এই বাজারের পাশেই একটি আঁটচাঁলায় গ্রামের পাঠশালায় একটি মিঠেকড়া গোছের গুরুমহাশয় প্রাণপণ শক্তিতে গ্রামের অধিকাংশ ভাঁল- মন্দ ছেলে লইয়! মহা কোলাহলে বিদ্যা্দীনরূপ মহৎকার্ধ্য সম্পন্ন করিয়৷ থাকেন। বারোয়ারিতলা, চড়কতলা, রথতলা, নূতন মাইনর স্কুল ইত্যাদি ক্রমশঃ রাস্তার উভয়দিকে অবস্থিতি করিয়া পূর্ব্ব পশ্চিমে বিস্তৃত হইয়। গিয়াছে।

এই বাজারের ভিতরে পাঠশালার ঠিক সম্মুখে একখানি একতাঁলা পাকাবাড়ীতে আগ্ঘনাথের বহুদুরসম্পকীয় এক জ্ঞাতি-ত্রাতী বাঁস করিতেন। আছ্যনাথ চতুপ্পাঠী ছাড়িয়া এখন তাহারই স্বন্ধে ভর করিয়াছিল। তাভার এই জ্ঞাতি জ্যেষ্টতাঁতপুত্রের নাম বৃন্দাবন্চন্দ্র। বৃন্দাবন দেশের মধ্যে নিরীহ স্বভাবের জন্য বিশেষ খ্যাতি অর্জন করিয়াছিল। এই সঙ্গে আরও একটা সু বা অখ্যাতি লাঁভ তাহার ঘটিয়াছিল, তাগ৷ ভাঙগর অসাধারণ গত্বীপ্রেমিকতা তাহার দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী তুলদীমঞ্জরী এমন কিছু মন্দ মানুষ নহে, তথাপি বুদধস্ত তরুণী ভা! বলিয়াই হউক, অথবা! নিন্দুকের শ্বভাবের গুণেই হউক বার্ধক্যের সীমীয় পদাপপণোগত স্বামীর উপর তাঁহার ষে একটা অতিরিক্ত আধিপত্য আছে, এই কথাটা! ক্রমে ক্রমে গ্রাঁমময় রা হইয়। গিয়াছিল। লোকে বলিত, সে লাকি তার ম্বামীকে এক হাটে বেচিত্ে এবং অপর হাটে কিনিতেশ সক্ষম। এমন কি লোকের বিশ্বাস এতদূর দৃঢ় হইয়া গিয়াছিঙ্ যে, শ্বভাবস্ুচিত বৃন্দাবনের দ্বারা জগতের বধ কাজ কিছু

মন্ত্রশক্তি ১৩

তো হওয়া সম্ভবই নছে; সামান্ত কোন একট! কার্যে তাহাকে প্রবৃত্ত করাইতে হইলেও তাহার পত্বীর নিকট বাড়ীর মেয়েদের পাঠাইয়া অনুরোধ করাইত। তুলসীর বিশ্বাস, দে তাহার স্বামীকে চিরনিয়মান্যায়ী বৃদধ-তরুণী সম্পর্কে সম্পর্কিত করে নাই। কিন্তু কতকগুলি লোক আছে, তাহাদের চেষ্ট। করিয়া বশ করিতে হয় না। তাহারা আপন! হইতেই কোন্‌ সময় বশ হইয়াই বসিয়া থাকে। বৃন্ধাবনের ম্বভাবটাঁও ঠিক এই শ্রেণীর। কাজেই তুলদী আর কি করিবে? তাছাড়া ক্ষমতাগর্কে নিজেকে একটুখানি গৌরবাদিত বোধ করা মানুষ মাত্রেরই শ্বভা বধর্ম--_ মঞ্জরী সামান্য নারী।

আঙ্গিনাঁটি লেপা পৌঁছ।। তাহার ঠিক মধ্যস্থুলে ইষ্টকে গাঁথা একটি অনতিউচ্চ তুলসীমঞ্চ মঞ্চের চাঁরিধারে বাঁখারী বাঁধিয়া ফুটা হাড়ি ঝুলাইয়া “ঝারা” দেওয়া হইয়াছিল। সন্ধ্যা হয় হয়, মঞ্জরী একখানি পিতল থাঁলাতে একঠোঙ্গ। বাঁতাসা একটি জলন্ত প্রদীপ হস্তে লইয়া তুলসী-তলাঁয় দীপদান করিতে আঁপিতেছিল। এমন সময় আগ্যনাথ ডাঁকিল, দ্বৌদিদি |”

«কি বল্চো গা ঠাকুরপো ?” বলিতে বলিতে মঞ্জরী মস্তকচ্যুত তসর শাড়ির একটা অংশ তুলিয়৷ যথাস্থানে স্থাঁপনান্তে মুখ ফিরাইল, কিল, “এম না আহ্িিকের জায়গ। করে দেব?”

আগ্ঘনাথ বলিল, “জায়গা _না- হ্যা, দেবে দাও তা সেজন্ত নয়, অন্ত একটা কথা ছিল। তা থাক্‌, অন্য সময় বল্ব না হয় ।”

ছুইটি কৌতুহলী চক্ষু দেবরের মুখের উপর সৌৎস্থক্যে স্থাপন করিয়া ভুলসী জিজ্ঞাসা করিল, ণ্অগ্ক সময় কেন? এখনই বল নাকি বল্বে। নানা, সে হবে না-ও কি ভাই, আধথানা বলে এখন কথা চাঁপা দিচ্চো কেন? হ্যা--আধকপাঁলে ধরে মরি আর কি!”

১৪ মন্ত্রশক্তি

ভুলদীমঞ্জরী পূর্ণবয়স্ক! যুবতী হাস্তে, রহস্যে, কৌতুকে, কৌতৃহলে তাহার সারাগ্রাণ বর্ষার পরিপূর্ণ নদীটির মত ছল ছল করিতেছিল, ভিতরে বাহিরে একটা সধন হিল্লোল মুছু বাতাসেই বহিয়া যাঁইত। দেবর আগ্নাথকে সে মুক্তি দিল না, জানালার উপর হইতে একখানা আসন পাড়্িয়। তাহাকে বসিতে আমন্ত্রণ করিল এবং নিজে অদুরে মাটি চাপিয়া বসিয়। জিদ ধরিয়া! আবার কহিল, “কি বল্বে, বল ন1।”

'আগ্ঠনাথ কহিল, “কথা এমন কিছুই না। দাদা এক রকম হয়ে গেছেন, একটা যুক্তি পরামর্শও তাঁর কাঁছে পাবার আশ! দেখি নে। তা ঘুদ্ধি শুদ্ধি পুরুষের চেয়েও তোমার দেখতে পাই ঢের বেশী। তাই তোঁগার কাছেই একট! পরামর্শ চাইব মনে করছিলাম তোমাকে আধার জন্য একটু কষ্ট স্বীকার করতে হবে ।”

মঞ্ররী মুখ নত করিল, তাহা'র বুদ্ধির প্রশংসাগানে সে একটু গ্রীত হইয়াছিল বটে কিন্তু সেই সঙ্গে তাহার স্বামীর প্রতি দোষারোপটাঁও সে মনে মনে অপছন্দ করে নাই, কারণ তাহার যে দোষের কথা বল! হইল, ওই নিব্বিরোধী ভালমামুষীর জন্যই সে তাহার অপেক্ষা আড়াই গুণ অধিক বয়স্ক স্বামীকে মনের সঙ্গেই ভালবাসে এবং ভক্তি করে। কিন্তু সেভাব প্রকাশ না করিয়! মৃদুহান্তে কহিল, “মেয়ে মানুষের আবার বুদ্ধি! হারে পোড়ার দশ! ! মুখ্য সুখ্যু লোকেদের বুদ্ধি থাকলেই ব! কি, আঁর না থাকলেই বা কি? তা! তোমার কি কাজটাই বল না, গুনেই ন! হয় রাখি--কিছু করতে পারি আর নাই পারি।

'আছ্যনাথ নিজের মনের কথা প্রকাশ করিয়। বলিল। সম্পূর্ণ অবিচার করিয়া গুরু তাহার ভ্াাধ্য পাওন! অন্বরকে দান করিয়। গিয়াছেন। উখন তীহার মাথার ঠিক ছিল না, সেই জন্যই এরূপ অঘটন ঘটিয়া গেল। কিন্ত ইহাতে সে আদালতে প্রমাণ করিতে পারিবে না, আর

মন্ত্রশক্তি ১৫

করিলেই ব! তাহার কথা মানিবে কে? কিন্ত তাই খলিয়া ধে তাহার "হকের ধন” অন্ঠে লুটিয়া থাইবে, ইহাঁও যে একেবারেই অসহা। কোথাকার কে একট! ছোড়া, যাহার গল। টিপিয়! ধরিলে আজিও মাতৃ- দুধ নির্গত হয়-_সে না জানে শাস্তার্থঃ না সে পৃজাপন্ধতিতে অস্যন্ত। এতবড় একটা গুরুভার যে তাহাকে দেওয়া হইল, ইহাতে এদেশের কাহারও মঙ্গলের সম্ভাবনা আছে কি? সংসারে ঘোরতর কলি অরাজকতার কাঁল উপস্থিত। শীঘ্রই যে সমস্ত দেশটাই উৎসঙ্গ যাইবে, ইছা নিঃসন্দেহ সত্য ! জগিদারের শুদ্ধ মতিভ্রম হইয়াছে, তাই ভুলের সংশোধন হইল না। অনাচার আর যাহার-খুসী সে স্বীকার করিয়া লউক, কিন্তু আদ্যনাথ খাঁটি মানুষ, সে এতবড় অবিচার কখনই সহা করিতে পারিবে না বরং সে না খাইয়া মরিয়া যাইবে, তথাপি সেই হতভাগ! অন্ুরে-ছোড়াঁটার তাবেদারী করিবে না--করিবে না--করিবে না__ইহার জন্য দে আর সবই করিতে প্রস্তত |

সকল কথা শোন! হইয়া গেলে মঞ্জরী ধীরে ধীরে জিজ্ঞাসা! করিল, “আমায় তূমি কি কমতে বল?”

আছ্যনাথ তাহার দ্রিকে উৎ্নৃক নেত্রে চাহিয়াছিল, তাহার এই বীর প্রশ্নে সে কিছু বিরক্তি বোধ করিল; অল্প ঝাবিয়! উত্তর দিল, “কি করতে হবে, তাই বদ্দি স্থির কম্গুতে পারব, তবে নিজেই অনায়াষে করে নিতে পারতাম ; তোমার কাছে ত! হলে পরামর্শ চাইব কেন ?”

তাঁহার ক্রোধ বুঝিয়! মগ্ররী ঈষৎ হাসিয়া বলিল, “আমার পরামর্শ! মনে আছে 'ঠাকুরপো, তুমিই না একদিন বলেছিলে, শ্্ী-বুদ্ধি গ্রলয়ঙ্করী” !

“আহা, তাই মনে করে বুঝি অভিমান করে বসে আছ? রাম ঘল!

১৬ মন্ত্রশক্তি

সেএকটা এমনি কথার কথা ! সত্যি কি আর বলেছিলাম? তোমরা এরন্তও কথ ধর্ভে পার! আচ্ছা, তোমার সঙ্গে জমিদার বাড়ীর মেয়েদের জান্ধাগুনা৷ আছে না?” , তুলসী তাহার হাশ্যময় চোখের সচঞ্চন তারকা পূর্ণভাবে প্রশ্নকর্তার

মুখের উপর স্থাপন করিয়! বলিল, “তা আর নেই, খুব আছে। কেন?”

আগ্নাথ একটু ইতম্ততঃ করিতে লাগিল, পরে বলিল, “শুনেচি, জমিদারবাবুর মেয়ে খুব ধন্পরাঁয়ণা তাকে ঘদ্দি বিষয়-_”

মঞ্জরী সহসা ছুই চোখ বিস্তৃত করিয়! ঘ্বণাপূর্ণ অন্ুষোগের সহিত বলিল, “কি! আমি তোমার অত্বরনাথের নামে তাঁর কাছে লাগাতে যাব ?”

আগ্ঠনাথের মুখ এতটুকু হইয়া গেল। কোন পুরুষমাচ্ষ এমন সরে

এই কথ|। কয়টি উচ্চারণ করিলে, তৎক্ষণাৎ সে আদন হইতে উঠিয়া তাহার ছুই গণ্ডে ুইটি চপেটাধাত না করিয়। ছাড়িত না। কিন্ত মঞ্ররী একে স্ত্রীলোক, তাহাতে সে মঞ্জরী, তাঁহার উপর রাগ করিবার কারণ বর্তমান থাকিলে, সহস। রাগ করা যায় না। আত্মসংবরণ করিবার জন্ত নতনেত্রে বলিল, “ঠিক ত1 নয়, তার নামে কুৎসা করবার দরকার হবে ন।। সত্যই সে পুরুত হবার যোগ্য নয়, তা সে কথা বলায় মিথ্যা বল! হবে না ত--এতে আর দোষ কি?”

বিরক্তি গোপন করিয়া মৃহু হাসিয়া! মঞ্জরী কহিল, “দোষ বিলক্ষণ ! কে ন! বুঝবে, তুমি আমার আপনার জন--তোমাঁর জন্যই আমরা নতুন পুরুতের নামে কুৎসা রটনা করুচি।” আগনাথের ললাটের শিরাগুলি স্কীত হইয়। উঠিতেছে দেখিয়া» হঠাৎ মঞ্জরী কথার স্থুর বদলাইল, বলিয়! উঠিল, “তবে কথাও তৌমায় বল্চি আষি, যদি তোমাদের অন্থরনাথ সত্যসত্যই. অজ হয়, ত৷ হলে তাঁকে বেশীদিন পুরুতগিরি কম্গুতে হবে না।

মন্ত্রশক্তি ১৭ তোমার চোঁখের চেয়ে আয়ও ছুটো শক্ত চোখ সেখানে তাঁর কাজের উপর চৌকি দিচ্চে। সে বিষয়ে তৃমি নিশ্চিন্ত থেকো ।”

আছনাথের হতাশামিশ্রিত ক্রোধের দৃষ্টি শীতল হইয়া আসিল, সে একাস্ত গৎস্থক্যে ব্যগ্রকঠে জিজ্ঞাদা করিয়া উঠিল, কে? কে? কার চোখ ?*

“কেন, জমিদারবাবুর মেয়ে রাধারাণী-তার কাছে এতটুকু ফাকি চল্বে না।” শ্রোতার ছুই উৎসুক নেত্রে আশার আলো! দপ করিয়া জলিয়! উঠিল। সে বলিল “তবে তুমি একবার খবরটা নিও। লক্ষমীটি বৌদি, আমার কাজটি একটু মন দিয়ে করে দাও দেখি। তোমার একেবারে চিরকেলে কেন! দাস হয়ে থাকবো ।৮

“আচ্ছা--দেখা যাবে কি না।”

«আমি তা হলে এখন এখানেই দু-চারটে ছেলে যোগাড় করে একটা টোল খুলে বপি, কি বল? নেহাৎ ওকে না তাড়াতে পারি, ওর চতুষ্পাঠিটাও ভাঙ্গব। দেখি, কেমন করে পত্ডিতী করে খায়। অমনি আমি ছাড়চি নে। হ্যা, বলেঃ 'যার ধন তার ধন নয়, নেপোঁয় মারে দই! কোথায় ছিলি রে ব্যাটা এতদ্দিন? আমি যে এই আঁশ! করে আজ সাঁত সাত বচ্ছর ধরে এই দৌর কাম্‌ডে পড়ে আছি।”

অনুপস্থিত গ্রতিদন্দীর প্রতি আগ্যনাথের ক্রোধোতেজন! দেখিয়া মঞ্জরী মুখ টিপিয়! অলক্ষ্যে ঈষৎ হাদিল এবং উহা! গোপনার্থ সন্ধ্যা গ্রদীপ হরির শীতল দ্রব্য লইয়! উঠিয়া গেল।

ভুভীল্ প্রি

অন্থরনাথ যে মন্দিরে পূজ| করিতে যাইত, সেখানে স্বর্ণ সিংহাসনে দুইটি স্বণমুর্তির প্রতিষ্ঠা ব্যতীত আরও একথানি প্রতিমাকে সে সেখানে নিত্যগ্রতিষিত দেখিতে পাইত। দেব-বিগ্রহ অচল, কিন্তু মন্দিরবাঁসিনী আই তৃতীয় দেবীমুত্তি সচল! ; ইহাদের সহিত এই মাত্র তাহার গ্রভেদ। ". প্রথম দিন সে যখন ন্নানাহ্বিক ক্রিয়া! সমাপনান্তে গুরুর পরিত্যক্ত জীর্ণ গরদের জোড় পরিধান পূর্বক পূজার আঁসনে আসিয়া বদিল, তখন ধ্রকট! অনমুতুতপূর্ব গভীর বিশ্ময়ে তাহার সমন্ত চিত এককালে ভরিয়া উঠিয়া তাহাকে প্রায় অভিভূত করিয়! তুলিল! একি মনির? এই মন্দিরের দেবতার কি শ্র্বধ্য ! কি সৌন্দর্য! সুগ্রশন্ত মন্খর-নিশ্মিত ্য, প্রাচীরে পাথর কুঁদিয়া কাটিয়! রচিত সুন্দর চিত্রঃ জন্ম হইতে লয় পর্যন্ত শ্রীকণ-লীলার বিচিত্র ঘটনাঁয় পূর্ণ। উপর হইতে বহু বর্তিকাযুক্ত রজতকাস্তি স্টিক ঝাঁড় বিলঙ্থিত। রামধনুর আলোকরেথা রঙ্গীন কাচের মধ্য দিয়! সেই অমর লোকের মত গৃহমধ্যে বিস্তৃত হইয়! বহুবর্ণের সমাবেশ করিয়াছিল। কিংখাবের বিছানায় স্থবৃহৎ মতির ঝালরযুক্ত জরিদার মশাঁরিতে টাকা নাতিবুহৎ সুবর্ণ পালক্কে সেই রৌদ্র ছায়! গ্রতিহত হইয়া চক্ষু বলসিয়! দিতেছিল, পূজার দ্রব্য-সম্ভারে তাহা ঝিকিমিকি করিতে- ছিল। সমন্তই মনোরম।

সর্ণ-রচিত পাত্রে পাত্রে নৈবেগ্ঠ, মুক্তা-খচিত স্বর্ণ পাত্রে যত্বসঞজ্জিত সুগন্ধি তাঁবুল, স্ুবৃহৎ স্বরণ থালিপূর্ণ পুষ্প রাশি। বৃহদায়তন নুব্দ পুত্ুলিকার হস্তধূত ধৃপ, দীপ, অগুরুর গন্ধে বাতাস আমোদিত হয়] উঠিয়াছে। রূপ, রস, বর্ণ, গন্ধের অপূর্বব সমাবেশ অস্থর স্যভিত হইয়। বিভুক্ষণ এই অদৃষ্ট-পূর্ব দৃশ্ত দেখিতে লাগিল। দূর্বাদল, তুলনী, চন্দন,

মন্ত্রশক্তি ১৯

কুষ্কুম, উপচারের কোনখানে কোন ত্রুটি নাই। রাজসিক পুজার সাড়ঘর সুন্দর আয়োজন ! সে মনে যেন ঈষৎ ব্যথা অনুভব করিল। এই কি দেবমন্দির? প্রেত সাঁজ, এত জণাক, এত হীরা, মণ মপিক্য বেন বিলাসকুঙ্জেই শোভ। পায়! সোণা রূপার এত ছড়াছড়িঃ সাটিন কিংধাবের এরত প্রচুরতা, সে তাহার জীবনে এই প্রথমবার প্রত্যক্ষ করিল। কিন্তু এই, দ্বেবৈশ্বর্য্যের বিন্ময়-জনক আবির্ভাব তাহাকে স্তস্ভিত ভিন্ন আদৌ ষুধ্ধ করিতে পারিল না। দেখিতে দেখিতে তাহার বিস্ফারিত দৃর্টিতলে যে ছায়া সঘন কালো মেঘের বাগীতলম্থ ছায়ার মত নিঃশবে ছুটি উঠিল, তাহাতে বিদ্যুতের চকিতণ্ুরণমাত্র ছিল না, শুধুই ভারাক্রান্ত চিত্তের বিপুল বেদনাভার নিহিত ছিল। পুজা শেষে বাহিরে আসিয়া সে মৃদুশ্বাসে ভিতরের পানে বারেক চাহিয়া! দেখিয়া চিত্তিতমুখে চলিয়া! আসিল।

হায় দেবতা! তোমার দ্বারের বাহিরে কত দৈন্, কত হাহাকার! আর তোমার অঙ্গে এই লক্ষাধিক মুদ্রার মণিরত্ব জলিতেছে ! ছেব্তোর নাষে মানবের একি মর্্ভেদী পরিহাস, একি--লজ্জাকর পুতুলখেলা আরাধন! নয় ; যে দেবতার অপমান !

বাহিরে বাহিরে একটু খানি ঘুরিয়! টোল বাড়ীর সন্দুখীন হইবামাত্র সে দেখিল, আগ্যনাথ ছেলেদের সহিত চণ্তীমণগ্ডপের দাওয়ায় দাড়াইফ। উত্তেজিত শ্বরে কি কথাবার্তী কহিতেছে। দে আর অগ্রসর হইল না, কারণ দে জানিত, ছুর্ভাগ্যক্রমে এই যুবকটির সহিত তাঁহার বিষম প্রাতিঘন্দী সম্পর্ক ধাড়াইয়াছে। আছনাথ তাহার প্রতি অত্যনস্তই বিমুখ হইয়। আছে। হয় তাহাকে হঠাৎ সম্মৃথে দেখিলে হাঁস না হুইয়! সে বিরক্তি বাঁড়িয়াই উঠিবে। সসক্ষোচে তাই সে সরিয়! আসিল।

রৌজ্রোজ্জল। ধরণীর অঙ্গে বিচিত্র স্তামাঞ্চল প্রভাত-পবনে মু বিকম্পিত হইতেছে সৌখীন! নারীর বসনাধ্ল-ঘিকীপ পুম্পসার

$৩ মন্ত্রশক্তি

সৌরভের মত বিবিধ ফুলের শিশ্র সুবাস বহন করিয়া আনির! বাতাস চারিদিকে তাহা ছড়াইয়৷ দিতেছিল। তীব্র উজ্জ্লতায় আকাশের হ্লীলিমাগারে গুত্র মেঘে আযাসিটিলিনের শাদ। আলোর মভ রং ফুটিয়াছে। মদীর জলে শুর্ষ্ের ছায়! চুর্ণ-হীরকের স্যাঁয় বিক্মিক্‌ করিয়া জিয়া তরঙ্গের সঙ্গে নাচিয়! বেড়াইতেছিল। পরাণ কৈবর্ত জাল গুটাইয়! নদীর কিনারায় ডিঙ্গির থোল হইতে আহত মৎস্য, মংস্যগন্ধযুক্ত পুরাতন ভাঙগাখানিতে সযত্ধে সজ্জিত করিতেছিল। ভূমিতে পড়িয়া! সে অস্বরকে প্রণাম করিল--“দগুবৎ হইগো» দাঁদাঠাকুর, তুমি এখন দপুত্মশাই' হয়েছেন গুন্লুম, ত। বেশ হয়েচেন

অস্থর তাহার পরিচিত--গুধু পরিচিত নয়, উভয়ের মধ্যে বেশ একটু ঘনিঠতাঁও ছিল। মধ্যে মধ্যে নদীতীরে দুইজনে দেখাসাক্ষাৎ হইত। একদ্রিন সে পরাণের ছোট মেয়ে আছুরীকে তাহাদের দগ্ধপ্রায় গৃহের অগ্সিরাশির মধ্য হইতে রক্ষা করিয়াছিল, সেই অবধি পরাণ তাহার পরিবাঁরবর্গ পথে ঘাটে এই উপকারী যুবকটীকে দেখিলে সাষ্টাঙ্গে প্রণিপাত করিত। প্রথম প্রথম কিছুদিন সে দাদাঠাকুরের জন্য নিজের গভীর কৃতজ্ঞতার চিন্নম্বর্ূপ সামান্ত ফলট'! পাকোড়টা, যেখানে যেটি পাইত, লইয়। আসিয়া_তাহার মূ ভত্সনার উত্তরে শুধু একটু হাসিয়া-_ রাখিয়া যাইত ; বাহিরে আসিয়া বলিত, প্দাদাঠাকুর একটা গ্ভাবতা ! এমন মনিয়ি পিরথিমিতে আর জন্মায় নি !” কিন্তু বেশি দিন এই আদান প্রদান কাঁধ্য চলিল না। অহ্গরনাথের সহিত পরাণ কৈবর্তের এতট! মাধামাখি শীপ্রই টোলের ছেলেদের চিত্তাকর্ষণ করিল অনাচারে একস্তি অসহিষু। আছ্যনাঁথ জিজ্ঞাসা করিদ, “তুমি জেলের দান নিচ্চ ?” অগ্থর এই প্রশ্নটার জন্য একটুও প্রস্তত ছিল না। এরকম একটা জবাবদিহি 'যে থাকিতে পারে, ইহা সে ফোন দিন সন্দেছও করে নাই। ঈধচ্চকিত

ম্ত্রশক্তি . ২১ হইয়া উদ্ভর করিল, "বান! না_স্্যা। তা সে বারণ করলেও থে শোনে না--দিয়ে বড়ই সুখী হয় ।,

আঁছানাথ ঠোঁট টিপিয়া ঈবৎ বিজপের হাসি হাসিল, দলের ছেলেদের চোখেও একটা অবিশ্বাসের সাক্কেতিক হান্য দেখা গেল। আগ্নাঁথ বলিল, “গরীব লোক নিজেই খেতে পায় না, সে আবার দিয়ে সুখী হয়-. হ্যা! তা সে কথা নয়, তুমি কেমন করে শৃদ্রের প্রতিগ্রহ কর? এতে শূদ্র-বাজী পতিত ত্রাঙ্গণ হ,য়ে যাবে বিশেষ এখন তোমার পাঠ্যাবস্থা- ব্রহ্ষচর্য্যের কাল। তাতে আবার সকলকে তোমার হাতে খেতে হয়।”

অধ্থর কুষ্িত হইয়া পড়িল, মাটির দিকে চোথ নামাইক মৃছত্বরে সে বলিল, “দান ঠিক নয়, ওটা উপহাঁর।” আগ্ঘনাথ এবার আর মুচকিয়!

হা হা করিয়! উচ্চশবে হাসিয়া উঠিল, “ঠিক, ঠিক্‌-_বামুনের ছেলে কৈবর্ত জেলের কাছে উপহার পায়। তা মন্দ কি? হা-হা-হা কালে কালে আরও কত দেখতে হবে ! হাঃ-হাঁঃ-হাঃ1৮ সঙ্গিগণও সেই অ্ট- হাসিতে ধোঁগদান করিল-_যাহাঁদের হাসি আদৌ আসিতেছিল না, তাহারাও দলপতির থাতিরে “হোঃ হো: “হঃ হঃ, প্রভৃতি একগ্রকার বিকট শব্দ করিয়া উঠিল। অস্বর অপ্রতিভের একশেষ হইয়া! থাড় হেট করিয়া রহিল। সংসারে সর্বত্রই মিলিত শক্তির জয় হইয়। থাকে আর আমরাও অনেক সময় মানুষের উদ্দেশ্ট ন। দেখিয়! দলে মিশিয়া পড়ি।

ব্যাপারটা এইথাঁনেই শেষ হইল না। এই ঘটনার পরদিন যখন পরাণ একী নবজাঁত কচি কাটাল লইপ্না কুিত চরণে আসিয়া ভূমিষ্ঠ হইয়া বলিল, “নূতন দ্রিব্যি, পারথে, নিয়ে এগগো দাঠাকুর ! তারফারি বেনিয়ে খেও।” তখন অস্থরের বক্ষ একেবারে উদ্বেলিত হইয়া উঠিল। সে একটুখানি চুপ করিয়! থাকিয়। একবাঁর সলজ্জভাবে বলিল, ণ্এটা না

১৮, মন্তরশক্তি দিলে কি হয় না পরাণ? তুমি কিছু মনে করো না। গরীব মানুষ তুমি, রোজ রোজ তোমার জিনিষ আমি আর নিতে পারব না, লক্ষ্মীটি ফিরিয়ে নিয়ে যাও।”

পরাণ কুব্দৃষ্টিতে দাঁদাঠাকুরের মুখের দিকে চাহিল, জিভ কাটিয়া ত্রস্তে কহিল, “সেও কি একটা কথা হ'ল গা ঠাকুর? তোমার নামের গ্রিব্যি তোমায় না দিয়ে ফিরিয়ে নে যাব? তোমাদের কেরপাঁয় পরাণে এতটা গরীব নয়। তার গতর সুখে থাক, ডিল্গি, জাল বন্দি না টোটে ফাটে, ভাতের দুঃখ তার ছেলে ছাঁওয়ালে কক্ষনে। পাবে না। ন্তাঁও মেনে, আর তোমার শাতর-মাতৃর বের করো না, কচি কাঁটালে একটু গরম মসলা] দিও দিকি__-ঠিক হুবোহু একেবারে পাটার মতন থেতে নাঁগবে। এর নামই হচ্ছে 'গাছ-পাটাঃ কি বল্ব, মাছ খাবে না, নৈলে গল্দ! চিংড়িটে একবার পেট ভরে থাওয়াতুম |”

পরাণ পুনশ্চ “গড়” করিয়া চলিয়া! গেল। অন্থর আর কিছু বলিতে পারিল না। মাহ্থষটার এত বড় দানের সুখে বাঁধ! দিয়! নিজেকে শুদ্ধ সত্ব” রাখ! তাহার পক্ষে অসম্ভব সে মনে মনে বলিল, “এতে বদি পাঁপ হয়, যেন আমারই হয় ।” এ্'চোড়াট কুটিয়া সে পরিপাটিরূপে রন্ধন করিল, এবং অধ্যাপক ছাত্রদল খাইতে বসিলে সকলের পাঁতে তাহা! পরিবেষণ করিয়া দিল। অধ্যাপক ভান্লার ঝোলটুকু টানিয়া ভাতের সঙ্গে মাথিতে মাথিতে হষ্টচিত্ে বলিলেন, “আজ যে নূতন ব্যঞ্জন দেখছি--”

আগ্ঘনাঁথ সহস| উচ্চক্ঠে চীৎকার করিয়! বলিয়! উঠিল, “খাবেন না, স্পর্শ করবেন না, ভম্ম-_ও অধাদ্য ।৮

সকলেই এক সঙ্গে বিশ্মিত হইয়। বক্তার দিকে কিরিল। গুরু বলিলেন, “তোমার মকলই বাড়াবাঁড়ি--আগ্যনাঁথ, এমন সুন্দর বস্তু, ভূমি বল তম্ম, অথাস্ ! তোমার কিরূপ কথা ?”

মন্ত্রশক্তি 9.

আগ্চনাথ উত্তেজিত কঠে বিল, “অন্থরনাথের জেলে বন্ধুর উপহার তিনি আনন্দের সঙ্গেই খেতে পারেন, কিন্তু আপনার আমাদের পক্ষে উহা শুদ্রের দান, “ভম্ম” ভিন্ন আর বেশী কিছু নয়'। তাঁর উপর পাষগু জেলের ছেলে, ইহাকে বৈষ্বের মুখে পধ্যস্ত উচ্চারিত হতে পারে না, এমন একটা ভয়ানক বস্তর সঙ্গে উপমিত করেছে ! আপনার ছাত্রটি বোঁধ করি ব্রাহ্মণের অনুচিত কোন কর্ম করতেই কুষ্টিত না! হতে পারেন, কিন্ত সকলে তার জন্ত পাপের ভাগী হ'ব কেন? শুদ্রের দান গ্রহণ তা ভোগ উভয়ই এক কথা। একথা আপনি অবশ্ই মানেন? আর কেউ যদি না-ও মানেন, আমি নিজে নিশ্চয়ই মানব |”

অধ্যাপকের মুখে ঘোর বিরক্তির চিহ্ন লক্ষিত হইল। তিনি বিরক্তি স্বরে অন্বরকে জিজ্ঞাঁনা করিলেন, “অন্থর, আছ্যনাঁথের কথ। কি সত্য?”

কথা শুনিয়াই আগ্যনাথ তারস্বরে চেঁচাইয়! উঠিপ, “আছ্যনাথ কখনও কি কারও নিকট মিথ্যা বলেছে ?”

অন্থর নতমুখে উত্তর করিল, “আজ্ঞে হা ।”

“ভাল কর নাই, আর যেন এবপ ন! হয়।”

“যে আজ্ঞা» বলিয়া সে ডালের পাত্র হইতে হাত৷ তষ্তি ডাল তুলিয়া একজন ভোক্তার পাতে প্রদ্দান করিতে গেলে, আগ্চনাথ হাত নাড়িয়। কহিয়া উঠিল, “উ, উহ, এসব ভাত নষ্ট হইয়াছে, অস্পৃশ্য ভ্রব্য-সংস্পর্শ- জাত থাগ্য গুরুকে দিতে তোমার আপত্তি না থাকিতে পারে, কিন্ত আমর! জানিয়া, গুনিয়। মহাপাপের ভাগী হইতে পারি না। আধার ভাত চড়াছিতে হইবে এসব ফেলিয়! দাও ।”

অন্বর নিরুত্তরে রান্নাঘরে ফিরিয়া গেল। অধ্যাপক মহাঁশয়েরও এতটা ভাল লাগিতেছিল না, কিন্ত আগ্নাথকে তিনিও মনে ননে একটু ভয় করিয়া চলিতেন। পাছে সে বাহিরে তাহার অনাচারের কথা রাষ্ী করে,

চি % রি 1

প্লেই ভয়ে ক্ষুধার অঙ্গ ত্যাগ করিয়া বিরক্তচিত্ে উঠিয়া পড়িলেন। এবং আচমনান্তে রাগ করিয়া “যা, আজ আর পিও থাবার দরকার নাই বলিয়া নিজের শয়নগৃহের ছার রুদ্ধ করিয়া শুইয়া পড়িলেন। ছাত্রদের কাহারও আহার হইল না। আগ্ঘনাথকে সকলেই ভয় করিত। অস্বর লজ্জায় ক্ষোভে মরিয়! নুতন করিয়! ঘর পরিষ্কার করিয়! তারপর যতণীষ্্ সত্বর রান্না চাঁপাইয়।৷ দিল তাহার মর্মাহত বোনায় বিবর্ধ মুখের দিকে কটাক্ষ করিয়া, দস্তভরে আগ্যনাঁথ তাহাকে শুনাইয়া সঙ্গীদের কাছে বলিল, “আমার সঙ্গে টেক্কা দেবেন উনি? হাঃ, এক ফু*য়ে উড়িয়ে দেব না 1”

বল৷ বাছল্য, পরাণের নিকট হইতে অতঃপর সওগাত গ্রহণ অস্বরনাথের পক্ষে সম্ভব হয় নাই এবং এই উপলক্ষে সত্য কথাটাও তাহাকে প্রকাশ করিতে হইয়াছিল। পরাণ মূর্খ গৌঁয়ার মানুষ-_সে আগুন হইয়া উঠিয়া বলিল, “যাই দিকিন্‌ বিটেল বামুনের বামনাই ঝেড়ে দে* আসি ত। দাদাঠাকুর, তুমি যেমন ম্যাদামারা, ভালমানুষ! তাই তোমায় অমন নাহাক নাকাল করে মারে। তুমি বল্তে পারলে ন! যে, শুদ্র নৈলে ধান রোয় কারা? ফসল জন্মায় কোন্‌ ভট্চা্যিমশীর বাড়ীতে “শুদ্রের দান” নৈলে ভন্দরলোক মশাদের যে নিজে হাতে কোদাল ধরতে হবে। ভন্দর থাকবে কেমন করে ?” অস্থর অনেক বুঝাইয়! তাহাকে সেবার শান্ত করিয়াছিল

আজ পরাণ তাহার আকর্ণবিস্তৃত শুত্র দস্ত পড্‌.তি বাহির করিয়। তাঁহাকে যখন অভিনন্দন করিল, তখন সহস! অন্থরের নেত্র ঈষৎ সঙ্গিলার্ হইয়া আসিল। মূর্থ জেলে সে, জানে না যে অস্বর আজ যে পদে উন্নীত হইয়াছে, সে পদের সে কতই না অনুপযুক্ত | যে ঘটনায় সমন্ত রাজনগর বাছ্)ান্দোলিত সেই অটনায় কাওটাকে এমন শাস্তভাবে গ্রহণ করিতে

মন্ত্রশক্তি '. ২৫ পারে-__-এমন নহিলে আঁর সে ঞ্জেলের ঘরে জন্মিয়াছে কেন? একটুখানি গুফ হান্ট তাহার অধরগ্রান্তে দেখা দিল কথাটা উল্টাইয়া সে পরাঁথকে জিজ্ঞাসা করিল “কিরে, তোর ছেলে পিলে সব ভাল-.ত?. আছুরী ভাল আছে ?” |

পরাণ একগাল হাসিয়া! বলিল, “আর দাদাঠাঁকুর, আপনার ছিরি- চরপের কেরপায় পারণ-গতিক সব এক পেরকার ভালুই যাচ্ছেন। গোটাকতক বিলিতি আমড়া রেকেচি, দাদাঠাকুর, বেলা তখন দে আঁসবখন। এখন তুমিই ভস্চাঁষ হয়েছ, আর কেউ তোমায় «র1” করবে ন| ?”

অস্থরনাথের চিত্তে ঈষৎ আঘাত লাগিল অতিরিক্ত ক্ষমতার প্রয়োগ মান্ষকে মানুষের বিরুদ্ধে এই রকমে উত্তেজিত করিয়া রাখে যে, সেই ক্ষমতা নিজ হস্তে প্রাপ্ত হইলেই একদিনের সেই পদ-দলিত বিদ্রোহ ঘোঁষণ! করিতে এতটুকুও বিলম্ব করিতে পারে না সে বিষগ্রমুখে কহিল, “ন! পরাণ, গুরুর কাছে যা একদিন স্বীকার করেছি, তা জন্মে আঁর ভাঙ্গতে পারব না। তুই কিছু মনে করিস্‌ নে বাপু ।”

পরাঁণ কিছু দুঃখিত হইয়া বলিল, “আমি আবার কি মনে করব দাদাঠাকুর? আমর! হলুম বোঁক। সৌঁকা মুখ্যু মানুষ তোমাদের যাতে ধন্মে দাগ পড়ে, তা কি তোমরা আমাদের জন্য কমতে পার।”

সে ডিঙ্গির খোল হইতে মতন্যোত্বোলনকার্য্ে মনযোগ প্রধান করিয়া নিজের মুখের উপরের বেদনার রেখাটুকু অন্বরনাথের নিকট হইতে গোঁপন করিবার চেষ্টায় বলিয়া উঠিল, “আজ ছুটো৷ হিলসে জালে পড়েচেন। আর এই দেখ না, পাতচিংড়ি--কলাপাতায় ভাগ! দিয়ে পয়স। পাঁচেকে বিক্কিরি করলেও আক্কার। দেওয়া হবে না।”--অস্বর ধীরে ধীরে চলিয়া আসিল।

নদীভীরে এদিকে কাহার ঘর বাড়ী নাই। বতদূর দৃষ্টি চলে মর্খমল

২৬ মন্ত্রশক্তি

সবুজ তীরভূমে সুদুরবিভৃত শস্তাক্ষেত্র সীমায় বিবিধ ছায়াতর লতা খদ্দের প্রকুতি-রচিত চারকুঞ্জবন। শস্তক্ষেত্রে ধান্ত ফলিয়া উঠিতেছে ) মবীন শীর্ষগুলি মন্দ বাতাসে ভ্রীড়াশীল সুকুমার শিগুগুলির মতই নৃত্য করিতেছে বাধাহীন বিস্তৃত মাঠে সুদূর সীমানায় রুষকপল্লীর ছোট কুটীরগুলি অসল ঘৌদ্রক্নাত হইয়! অতি সুন্দর দেখাইতেছিল। 'এক স্থানে একট পৌরাণিক বটবৃক্ষ জটাভার চারিদিকে বিস্তৃত করিয়া দিয়! তপস্যা" পরায়ণ সন্গ্যাসীর মত দূর অনস্তে নিস্তব্ধ দৃষ্টি সংবদ্ধ করিয়! অনস্তশক্তির ধারণায় নিবিষ্ট হইয়া আছে। তাহার পদতলে কত লতা, কত গুল্ম, কত তরু 'জগ্সিল, কত সুখ দুঃখের অভিনয়স্থতি তাহার সবল বক্ষে মুদ্রিত করিয়। দিয় কাল সমুদ্রের তরঙ্গ সঙ্গে মিশিয়! লয় হইয়া গেল। গতিশীল জগৎ নিজের গতিপথে অবাঁধ বিচরণ করিতেছে) গ্রতিপদে দে জীবনের অনিত্যতাঁর গান গাহিয়। চলিয়াছে। ইহীর মাঝখানে নিত্য বস্তর শরণাগত অভয়মন্ত্রে দীক্ষিত জীবনুক্ত সাধকের মতই সে অটল অচল দণ্ডায়মান। কাল যেন তাহার কাছে ঘেসিতেও সাহস করে না।

অন্বরনাথ চিস্তিতহদয়ে এই বট মূলে আসিয়া দাড়াইল। গাছের উপর শালিক, দোয়েল; বুলবুলি আনন্দ কলরব করিতেছিল। কেহরাছগ। ফলে ঠোঁকর দিতেছে, কেহ সন্তানের চঞ্চু মধ্যে চঞ্চু প্রবেশ করাইয়। আহীধ্য দান করিতেছে, কেহ কেবল গান গাহিয়! ডালে ভালে নাচিয়। বেড়াইতেছে, কোন পক্ষিদম্পতি অস্ফুট কৃঞ্জনে সুখ-বিহবল--যেন এক বৃহৎ সমাজভুক্ত অস্থাস়্ী-ভাবাপন্ন সুখী পরিবার

অস্বর চারিদিকে চাহিয়! চাহিয়া একট! নিশ্বাস ত্যাগ করিল। সে আজ পূজা করিতে গিয়া যাহা দেখিয়া আঁনিয়াছে, কিছুতেই সে দৃশ্ধ দন হইতে সরাইয়া ফেলিতেছে না। কেবলই তাছার ব্যাকুল চিতে

মন্ত্রশক্তি 0 হঙ্গ

এই অমীমাংসিত প্রশ্ন উঠিতেছিল, “দেবতার নামে এরশ্বর্ধোর খেল! কেন? ইহাতে কি দেবত। প্রসন্ন হইতেছেন ?”

সেই ইন্্রপুরী-তুল্য দেবমন্দিরের ছবি সহরের ভিতরকার বৃতুক্ষ পীড়িত দীনদরিগ্রের ভ্নকুটীর তাহার মনোধর্পণে ফুটিয়া' উঠিয়া পরস্পরের সহিভ উপমিত করিতেছিল ; আর তাহার হৃদয় বিষাদে পরিপূর্ণ হইমা উঠিভেছিল। দেবমন্দিরে নৃপৈষ্বর্যা, আর ওদিকে দ্ারিত্র্য রাক্ষসী কত মানব সন্তানের বক্ষঃশোণিত শুষিয়া পান করিতেছে সেখানে কি তবে দেবতা নাই? হানাথ! তুমি কি মন্দিরেশ্বর ! বিশ্বেশ্বর কি তুমি নও?

বেলা বাড়িতেছিল। বুক্ষপত্রের ব্যবধান-পথে প্রথম শরতের পীতাভ রৌদ্র, খণ্ড খণ্ড চন্দ্রকান্ত মণির মত জলিতে 'আরম্ত করিল। কৃষাণেরা মুড়ি মুড়কি খাওয়! শেষ করিয়া! নদীর ঘাটে জলপান করিতে আদিঙ্কা তাহাকে 'পেরণাম হইগো, ভস্চাষমশাই” বলিয়া কেছ সালে; কেহ কেবল মাত্র উত্তমা্ দ্বার! তূমে প্রণাম রাখিয়া গেল। একজন কেধল একটু কাছে সরিয়া আসিয়া বলিল, “তুমি ভস্চাধ্যির জায়গ! পেয়েচ বলে আগ্িঠাকুর বড্ড রেগেচে, বলেচে, “দেখি কত সাগি যেআমার হকের ধন কেড়ে থায়, ওকে থানছাড়া» মানছাড়া করব, তবে আমার নাম আগ্চিনাথ। আমাদের এসব কথায় কাজ কি ঠাকুর ! আদার ব্যাপারি জাহাজের থবয় নিয়ে কি করবে, তবে কথাটা! কানে শুন্ন। তাই তোমায় জানিয়ে গেছু। হ'ষ টাক রেখো। সর্ধবনেশে নোক, সব করতে পারে ।”

শুনিয়া অন্থর শুধু একটু বিষণ্ন হাসি হাসিল। আগ্নাথের মনের দাহ বে এইরপ ছু-চারিট। স্ফুলিক্গবিষ্তারি ক্রোধের ভিতরে আলিয়া পড়িবে, ইহাতে তাহার কিছুই বিন্ময় বোধ হইল না। তবে যাহার তাহার নিকট এইক্সপ ধূমোদশীরণে সে যে নিজেকে খর্ধ করিয়া ফেলিতেছে, ইহা! মনে করিয়া তাহার জন্য একটু লজ্জাও সে বোধ করিতে লাগিল।

চক্ভর্থ পপল্রিচ্ছেদ

রাজনগরের জমিদার-গোঠি দান, ধ্যান, ক্রিয়াকলাপের জন্য যেরূপ দেশের দশের মুখপাত্র, অক্ষু্ন কৌলীন্ত-গৌরবেও সেইকূপই সমাজের শীর্ষস্থানীয় ছিলেন। এতদ্তীত আর একট! বিশেষ কারণে তাহাদের নাম জনসাধারণের মধ্যে একটু বিশেষভাঁবেই আলোচিত হইয়া আসিতে- ছিল--সেটা তাহাদের বংশপরল্পরাগত বৈষ্বতস্ত্রে কৌলীন্তের অত্যধিক গৌঁড়ামী।

জমিদারবংশ পুরাতন। বংশমর্ধ্যাদাগর্কে পুরাকালে নুর্্য বা শাক্যবংণীয়ের তুল্য অভিমানী বল্নালী আমলের কিছু পরেই আদিশ্র কর্তৃক আদৃত পথ্রব্রাহ্মণের এক শাখা তত্রত্য কোন মহারাঁজার নিকট রাজনগর জার়শীরম্বরূপ প্রাপ্ত হইয়াছিল এবং প্রেমাবতার শ্রীচৈতন্ত মহাগ্রতৃর আবির্ভাবে বঙ্গদেশে যখন প্রেমের বন্যা আসিয়াছিল--বাঙ্গালীর নুপ্টপ্রেমের কলনদী উৎসারিত হইয়াছিল, সহম্্র পাষাণ 'জলে গলিয়! অমৃতের প্রন্রবণ বহিয়াছিল, সেই সময় এই বংশের জমিদার সেই মৃত-সপ্তীবনী সুধায় তাহার বিষয় বাসনা বিষ জর্জর চিত্তকে অভিষিক্ত করিয়া লইয়াছিলেন। সেই হইতে আজ পধ্যন্ত বৈষ্কবধর্প বংশের কুলধর্ম এই মন্দির-অধিষ্ঠিত যুগল-দেবতা৷ কুলদেবতারূপে পৃজিত হইয়া! আমিতেছেন। |

বংশের সন্তানসন্ততিগণের মধ্যে অনেকগুলি কঠোঁর নিয়ম পালনের বিধি নির্দিষ্ট আছে এবং পধ্যন্ত বংশের বংশধর কেহ নিয়মের ব্যতিক্রম করিতে সাহসী হইয়াছেন, এমন কথ! তীহাদের কোন বিপক্ষ পঙ্গও বলিতে পারে .নাই।

মন্ত্রশক্তি . ২৯

জমিদার হরিবল্লভবাবু--বর্তমান জমিদারের পিতা--এই বংশের মধ্যে সর্বাপেক্ষা ভক্তিমান পুরুষ ছিলেন। অভিনব মন্দির-স্থাপন বিষয়াদিয় ঘেবোত্বর বন্দোবস্ত, তাঁহার অতুল কীর্তি। কিন্তু এই কীর্তি-লাভের মধ্যে সবটাঁয় আধ্যাত্মিক যোগ না থাকিয়া ইহার মধ্যে কতকটা আধিভৌতিক যোগও ছিল। হরিবল্পভবাবু সুদীর্ঘ জীবনের মধ্যে পৌত্রমুখ সন্দর্শনের আশায় হতাশপ্রায় হইয়। তাহার বিপুল ধনৈশ্বর্য্য পরমার্থে উৎসর্ধের কল্পনা করিয়া এই মন্দিরনিম্্ীণে মনোধষোগী হইয়াছেন, এমন সময় পুত্রবধূ রুষ্ণপ্রিয়। একটি পু্পকোরকতুল্য সন্তান প্রসব করিলেন। শিশুটি পুত্র সন্তান নহে, বন্তা সন্ভান। তথাপি এই হাপুত্রে'র ঘরে তাহার আদরের সীম! রহিল না। কন্কার পিতামহ স্ৃতিকা গৃহের দ্বারে আগিয়া বস্ত্রবিজড়িত নাতনীটিকে ধাত্রীক্রোড় হইতে গ্রহণ করিয়া আনন্দাশ্র বর্ষণ করিতে করিতে গাশদত্রে বলিলেন, প্রাধারাণি! এত দিনে তোর এই অধম সাধককে কি প্রত্যক্ষ হয়ে দেখা দিতে এলি মা ?”

অন্তরালে শিশু-জননীও নয়নজলে অভিষিক্ত হইতেছিলেন। শ্রীরুষ তাহার কাতর আহ্বান এতদিনে কানে তুলিয়াছেন। এই সস্তানটুকুর জন্য প্রাণ এতদিন কত যে হাহা করিয়াছে, তাহা অপরে কি বুঝিবে? এইটুকুর জন্ঠই শ্বগুর তাহার প্রতি বিমুখ হইয়া উঠিয়াছিলেন। স্বামী অবশ্য মুখে কিছু বলিতেন নাঃ বরং কুলীন ধনী সন্তান হইয়াও আত্মীয় বজনের অনুরোধ উপেক্ষা! করিয়া এবং পিতার বিরাগ ভাজন হইয়াও কেবল এই হতভাগিনীর মুখ চাহিয়াই গৃহে পুনর্ধার সৌভাগ্যব্তী নববধূ আনয়ন করেন নাই। ইছাতে তাহার নিজের প্রেমপূর্ণ ছদয়েরই পরিচয় তিনি, প্রদান করিয়াছিলেন; কিন্ত কৃষ্ণ্রিয়া তাহাতে বধার্থ সুখী হইতে পারেন নাই পতিব্রত হিচ্দুরমণী নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে বড়

কত মন্ত্রশক্তি

করিয়া দেখিতে জানেন না। তিনি ধাহার মধ্যে নিজের সমুদয় সখ দুঃখ নিমজ্জিত করিয়া তন্ময় হইয়াছেন, তাঁহার সুখ ছুঃখের কাছে নিজের লাভ (লাকসানকে দাড় করাইতে সতীচিত যে একান্তই ক্ষুণ হয়। শ্বণুর বংশের কথ! ভাবিয়া নীরবে দীর্ঘ নিশ্বাস পরিত্যাগ করিতেন। এত বড় নাঁসটা এই অভাগীকে ঘরে আনিয়াই বুঝি লোপ পাঁইল। অনেক অনুনন্ন অনুরোেও শ্বামীকে পুনর্বিবাহে সম্মত করাইতে পারেন নাই। আজ তাই বড় হ্খে অতীতের সকল ছুঃখ এক সঙ্গে বক্ষে আলোড়িত করিয়! জাগিয়া উঠিল। গভীর সুখে ততোধিক নিবিড় ন্গেহে জননী ক্ষুত্র সন্তানটিকে বুকের ভিতর চাপিয়৷ ধরিয়া তাহার ঘুমস্ত মুখে চুম্বন করিলেন। শিশু ঘুমের ঘোরে মধুর হাসি হাসিল।

অন্নপ্রাসনের দিন মেয়েটির নাম রাখা হইল,বাণী। কিন্তু মেয়েদের কতকণগুলা অলঙ্কার বস্ত্র যেমন কেবল বাক্স আলমারীতে কোন একট বিশিষ্ট পর্ব দিনের অবসর চাহিয়া আবদ্ধ থাকিবাঁর ওন্ঠই জন্ম লাভ করে, বাণী মেয়েটির এই নামটুকুও তাহাকে সেইকধপ আটপৌরে ব্যবহারের জন্য না দিয়। পোষাকীরূপে ব্যবহার করিতে দেওয়া হইয়াছিল। মা সাধ করিয়া কখনও কখনও সেই তোলা নামটি ধরিয়া ডাকিলে কি হইবে, পিতামহ-দত্ত "রাঁধারাণী” নামটাই ইতঃমধ্যে সর্ববসাধারণ্যে প্রচারিত হইয়| পড়িয়াছিল। তাহার আধুনিক শিক্ষাপ্রাপ্ত পিতা এই দেকেলে নামটার বিরুদ্ধে নিজের ঘোর আপত্তি জ্ঞাপন করিবার জন্যই কিছু দিন খুব জোর করিয়! পিতার সাক্ষাতেও তাহাকে বাণী বলিয়া ডাকিয়্াছিলেন ; কিন্ত ক্রমশঃ কানে শুনিয়া শুনিয়! তাহারও রাঁধারাণী নামটার উপর বিতৃষণর মাত্র কমিয়া আসিতে লাগিল এবং কিছুদিন পরে তিনিও বালিকাকে তাহার পিতীমহ-দত্ত নামেই ডাকিতে লাগিলেন। বাণী নামট! হীর! তির মত তোঁলাই রহিল।

মন্ত্রশত্তি ৩১

হরিবন্লভবাবু অত্যন্ত গোঁড়া বৈষাব। অর্বদ! হবিনাম-গ্রহপে তিঙলক-সেবায় তাহার বিন্দুমাত্র আঁলম্য ছিল না। গ্রতি সন্ধ্যায় তাহার বেতনভোগী গায়েন গ্রামস্থ অপরাপর বৃদ্ধ প্রৌঢ় সঙ্গীতজগণ মিলিয়! নাট-মন্দিরে যখন হরি-সস্কীর্তন করিত এবং ঝুলন, রাস, দোল গ্রতৃতি উৎসব উপলক্ষে প্রায় মাঁসাবধি ব্যাপিয়া যখন ঠাকুরবাড়ীর স্থবুহৎ দালানে হরি-কথা বলিত, সেই সময় সর্বক্ষণ ধরিয়াই প্রায় তাহাঁর মুদ্রিত নেত্রতবয হইতে দর-বিগিলিত প্রেমাশ্রধাঁরা তীহার অনাবৃত বিশাল বক্ষে বরিয়| পড়িতে থাঁকিত। অতি প্রত্যুষে শব্যা ত্যাগ করিয়া নিত্যক্রিয়া সমাপনাস্তে শ্রীচৈতন্ত-চরিতামৃত পাঠ এবং সহম্্বার তুলমীকাষ্ঠনিশ্মিত জপমালায় রাধার নাঁম জপ সমাধা না করিয়া কোন দিন তাহাকে কেহ জলগ্রহণ করিতে দেখে নাই মধ্যান্ে মধ্যে মধ্যে পণ্ডিত সমাগম হইলে, তাহার শুভ্র জাঁজিম পাতা! প্রশন্ত গৃহতলে কম্বলাসন বিছাইয়া শান্ত্রানুণীলন . হইত বল! বাহুল্য, ইহার ফলে বৈষ্বতন্ত্রের বাহিরে তাহার মনকে কেহ তিল পরিমাণেও নড়াইতে সমর্থ হইত না। বিশেষতঃ বৈদাস্তিক পণ্ডিতগণের উপর . তাহার একট!