ভ্নত্জীচ্ভ্র-্মাত্হাত্ডনত

শ্রীমতী কমলাসনা দেবী

১২৩৩১

প্রকাশক-_শ্রীশশবিন্দু চট্টোপাধ্যায় ৩১, মির্জাপুর স্ত্রী, কলিকাতা!

প্রাপ্তিস্থান মডেল লাইব্রেরী লিমিটেড কর্ণওয়ালিস বিল্ডিং, কলিকাতা]

কলিকাত। নং শিবু বিশ্বাস লেল মডেল আর্ট প্রেসে ভ্রীশশধর সরকার কর্তৃক মুদ্রিত

চি উ-৯-৯--৯--- ও)

আরা

আরা

ঢু)

শচ্পন্ান্র গ্প্জ্টী কী ভি ৪৩

তারিখ

জয়তীগি 55:৮০ 58942555858 48885854588

১টি এস -৯৮--৫-১-

আও

নিন্েেকিল |

পুজনীয়। রমণীগণ !

আজ এই শুভদিনে, এই আনন্দের দিনে আপনাদিগ্‌কে আর কি উপদেশ দিব? নির্জনে বিভুর চরণতলে বসিয়া এই ক্ষুদ্র গ্রন্থখানি রচনা করিয়াছি; ইহাই আপনাদের কর কমলে অর্পণ করিবার অভিলাম্ষিণী। আপনাদের স্সেহের ভগিনীর যথাসাধ্য পুস্তকখানি দয়ায় গ্রহণ করিয়া ভগিনীকে চরিতার্থ করুন।

ভগবানের নিকট আমার প্রার্থনা যে এই পুস্তক পাঠে পিতৃকুল স্বামীকুল উভয় কুলের গৌরব বৃদ্ধি করুন। ইতি__

হাওড়া

ল৷ আশ্বিন, ১৩৩১ সাল।

বাইনান পোঃ | স্নেহের ভগিনী প্ীমতী কমলাসনা দেবী

ভ্িক্কা

“সতীত্ব মাহাত্য” একটা স্ত্রীপাঠ্য পুস্তক পুস্তকের নাম- করণেই আমরা লেখিকার মনোভাব বেশ উপলব্ধি করিতে পারি। তিনি দেখাইতে চাহেন আদর্শ রমণী কাহাকে বলে ? কি করিলে রমণী সতী সাবিত্রী, দময়ন্তী, ফুল্পরা পতিব্রতা প্রস্তুতি রমণীগণের মত পূজনীয়া হইতে পারেন। তিনি চাহেন হরগৌরীর মত, কৃষ্ণরাধার মত, অরুন্ধতীবশিষ্টের মত, যযাতি- শর্িষ্ঠার মত, সাবিত্রীসত্যবানের মত পবিত্র দাম্পত্য জীবনের আদর্শ ফিরিয়া আসে। বিবাহের পূর্বে কুমারীরূপে বিবাহের পর সহ্ধর্দিনীরূপে পরে মা জননীরূপে কিরূপে সংসার যাত্র! নির্বাহ করিতে হয় তাহারহ আদর্শ শিক্ষ/ করা কর্তব্য “সতীত্ব মাহাত্্যে' ইহারও আতাষ পাওয়। যায়। যাহারা সংসারক্ষেত্রে নুতন তীহাদের জীবনে দায়িত্ব গ্রহণের পূর্কেষে একবার বিবেচন। করা কর্তব্য নহে কি? যেতীহাদের কাধ্যের গুরুত্ব কিরূপ? বিবাহের মন্ত্রে দেখিতে পাই কন্যা প্রার্থনা করেন “হে অরুহ্ধাতি ! আমি যেন কায়মনোবাক্যে তোমার মত স্বামীর প্রতি অবিরুদ্ধ। হই।” তীহারা চাহেন জগতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ সতী সেই অরুন্ধতীর মত হইতে একসময় অগ্নিদেব সপ্তষি পতীগণের

9

প্রতি আসক্ত হন তাহার পত্বা স্বাহাদেবী তাহা জানিতে পারিয়া পরপর ছয়টা খষিপত্বীর রূপ ধারণ করিয়াছিলেন কিন্তু অরু- ন্ধতীর রূপ ধারণ করিতে পারেন না। তিনিও কম সতী নহেন, তথাপি অরুন্ধতীর সতীত্বের প্রভাব এতই অধিক ছিল যে তাহার অনুকরণ পর্যন্ত তিনি করিতে সাহস পাইলেন না। সেইজন্য শান্্রকারগণ তীহাকে শ্রেষ্ঠা সতী বলিয়া কীত্রন করিয়াছেন।

যাহারা নিজনিজ পাথিব স্তৃখশাস্তির কথা ভুলিয়া যান তাহারা জানেন-_

“বৈবাহিকো বিধি? স্ত্রীণাং সংস্কার: বৈদিকঃ স্মৃতঃ | পতিসেবা গুরৌ বসো! গৃহার্থ অগ্নি পরিক্রিয়া |”

বিবাহই তাহাদিগের পক্ষে বৈদিক সংস্কার, পতিসেবাই গুরু কুলে বাস এবং গৃহকন্্ম অগ্নিপরিচর্যযা স্থানীয় এই স্থলে নিমাই পত্রী বিষুপ্রিয়ার কথা মনে পড়ে। যখন চৈতন্যাদেব পদ্ধীকে মাতৃসেবা৷ করিবার আদেশ দিয়া হরিনাম বিলাইবার জন্য গৃহত্যাগ করিয়া চলিয়া যান সেই সময় কেহ কেহ বিষুপ্রিয়াকে পিত্রালয়ে থাকিবার জন্য উপদেশ দিয়াছিলেন। তাহাতে বিফুপ্রিয়া বলিয়া- ছিলেন “ন্বামীর গৃহ স্ত্রীজাতির নিকট সকল তীর্থের সার এবং স্বর্গ হইতে পবিভ্রতম স্থান, ইহার প্রত্যেক অণুপরমাণু আমার হৃদ্য়দেবতার পদরজে পরম পবিভ্রীকৃত হইয়া রহিয়াছে ইহার প্রত্যেক বুক্ষলতা৷ তাহার দেবতার স্বরূপ প্রদান করিতেছে আমি

5/৩

এমন পবিত্র মনোরম স্থান পরিত্যাগ করিয়া শ্বুখী হইতে কোথায় যাইব ? বিশেষতঃ তাহার আরাধ্যা জননী, যাহার সেবা করিয়া তিনি ধন্য হইতেন, আমি সেই সর্ববমঙ্গলময়ী দেবীকে ছাড়িয়া আর কোথাও যাইব না ।. এখন এই মাটীতে হাড়কয়লা রাখিতে পারিলেই আমি কৃতার্থ হইব ।” বিষুঃপ্রিয়ার সংসারে অর্থাভাবে খা্ভাভাবে অত্যন্ত কষ্ট, তথাপি স্বামীর আদেশ পালন করিতে স্বামীর জননীকে সর্ববমঙ্গলময়ী জননীরূপে পূজা করিতে তিনি অণুমাত্র বিচলিত হন নাই যে রমণী কায়মনৌধাক্যে বিষ প্রিয়ার মত পতি পতিসম্পকিত ব্যক্তিগণকে দেবতার ন্যায় সেবা করেন তিনিই আদর্শ রমণী তাই প্রভুপাদ শ্রীশ্রীবিজয় কৃষ্ণ গোস্বামী মহাশয় বলিয়াছেন “নারীজাতির প্রধান কর্তব্য পতিসেবা, পতির প্রতি অসদ্ধবহার করিলে, পতিকে সর্বদা কটু বাক্য বলিলে নারীর যন্ত্রণাদায়ক পীড়া ভোগ করিতে হয়। ইহা শাস্জ্রকর্তরা পুনঃ পুনঃ বলিয়াছেন। এই রোগের একমাত্র ওষধ পতির পদানত হওয়া এবং কৃত অপরাধের জন্য ক্ষমা চাওয়া পতি দেবতা, তিনি অত্যন্ত ছুঃখদরিন্ত্রতায় পতিত হইলেও স্ত্রীর পূজনীয়। পতিও নারীকে ভগবৎশক্তি জ্ঞান করিয়া মধ্যাদা করিবেন। পত্বী স্বামীকে নারায়ণ মনে করিয়া সেবা করিবেন। যে সংসারে স্থামীন্ত্রীর মধ্যে এইরূপ সম্বন্ধ স্থাপিত হয়, সে সংসারে কখনও অমঙ্গল হয় না।”

16

আর আশ্চর্য কি! কিন্তু সতীসাধবী রমণী স্বামীকে তীহার সকল কার্ষ্য সাহায্য করিয়৷ স্থুযুক্তি উৎসাহ দিয়। স্বামীর যাহাতে অভীষ্ট কর্ম সুুসম্পন্ন হয় তাহা! করিবার জন্য সর্ববদাই কায়মনোবাক্যে মত্ব করেন। তাহারা মনে রাখেন__

“অদ্ধেক শরীর ভাধ্য। সর্বব শাস্ত্রে লেখে,

ভার্ষা সম বন্ধু রাজা নাহি কোন লোকে

পরম সহায় সতী পতিনব্রতা৷ নারী,

যাহার সহায় রাজ! সর্বব ধন্ম করি।

ভাষ্যা বিনা গৃহ শুন্য অরণ্যের প্রায়,

বনে ভাধ্য। সঙ্গে থাকে গৃহস্থ বলায়।

ভার্য্যাহীন লোকে কেহ ন! করে বিশ্বাস,

সর্ববদা ভুঃখিত সেই সর্বদা উদাস।

ভা্যাবস্ত লোক ইহকাল বঞ্চে স্্খে,

মরণে সংহতি হইয়া তরে পরলোকে |”

প্রত্যেক পিতামাতার প্রত্যেক গৃহস্থের এরূপ আচরণ কর

কর্তব্য যাহাতে তাহাদিগের পুত্রকম্যাগণ পরস্পরের দৈনন্দিন কর্তৃব্যকণ্ম শিক্ষা করিবার স্থযোগ লাভ করে। পুস্তক পাঠ ৰা গুরুর নিকট শুনিয়া শিক্ষা করা কষ্টসাধ্য; কিন্তু তাহারা যদি বাল্যকালে জনকজননীকে আদর্শরূপে সম্মুখে দেখিতে পায়, তাহা হইলে তাহারা আপনাআপনিই সেই সমস্ত গুণ শিক্ষা

1/

করিতে পারে ; কারণ বাল্যকালে অনুকরণ প্রবৃত্তি বড়ই প্রবল থাকে তাহারা একবার যাহা দেখে তাহাই শিখিয়া লয়। বিশেষতঃ বালিকাগণ সর্বদাই জননীর সহিত বাস করে, তাহার! অন্যান্য গৃহুকন্মের সহিত পিতামাতার আচরণও যদি শিক্ষা করিতে পারে-_ শুশ্রুষয়ন্য গুরূন্‌ কুরু প্রিয়সঘীবৃত্তিং সপত্বীজনে, তর্ভুবিপ্রকৃতাপি রোষণতয়া মাল্ম প্রতীপং গমঃ। ভূয়িষ্ঠং ভব দক্ষিণা পরিজনে ভোগেনুতসেকিনী যাস্তেবং গৃহিণীপদং যুবতয়োঃ বামাঃ কুলন্যাধয়ঃ। তাহা হইলে ভবিষ্যতে বড় হইয়া যখন শ্বশুরালয় যাইবে তখন আপন হইতেই গুরুজনদিগকে সেবা করিবার প্রবৃত্তি আসিবে। স্বামী রুষ্ট হইলে রুষ্ট না হইয়া বরং তুষ্ট করিবার ইচ্ছা হইবে। পরিজনাদিগকে, পোষ্যদিগকে, অনুগত দাসদাসীদিগকে যত্ব করি- বার প্রবৃত্তি থাকিবে স্বামীর অর্থগৌরবের অহঙ্কার থাকিবে না। ভগবানের শ্রীচরণে বিনীতভাবে সর্বদাই মস্তক অবন্গত থাকিবে। জগতের সকলকে সমান চক্ষে টিতে শিখিবেন.। শক্রুমিত্র ভেদ থাকিবে না। সকলেই জননী বলিয়া চরণে লুষ্িত হইবেন। এরূপ মাতৃত্ব লাভের ইচ্ছা! জননীজাতির সকলের মধ্যেই থাকা উচিত; তাহা হইলে এজগত স্বর্গ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ স্থান বলিয়া! পরিগণিত হইবে সকল মানুষের অন্তর পবিত্র হইবে। হিংস!

ঘ্বেষ, ব্যতিচার প্রভৃতি যাবতীয় স্ষ্টিধ্বংসকর, ধর্মহানিকর, পাপের পথ নষ্ট হইবে পুনরায় সত্যযুগ দেখ! দিবে। তখন সকলেই নবীন বাবুর “স্ভদ্রাকে” প্রতি রমণীর মধ্যে দেখিতে পাইবেন। তখন সকলেই স্থলোচনার মত দেখিবেন_ আজি একাদশ দিন বাধিল পোড়া রণ দেখি নাই তব হাসিমুখ | এইরূপে রাত্রিদিন মরিয়া মড়ার তরে নাহি জানি পাও কিবা সুখ স্ভত্রা ততোধিক রমণীর আছে কিবা সুখ রোগে শান্তি, ছুঃখে দয়া, শোকেতে শাস্তবনা ছায়া দিদি, এই ধরাতলে রমণীর বুক এতাধিক রমণীর আছে কিবা! সুখ যেমতি অনল জল স্জিলেন নারায়ণ, স্থজি সেইরূপ দিদি ! রোগ, শোক, ছুঃখ স্জিল! অনন্ত প্রেমপূর্ণ নারীবুক। আছে আর কিৰ স্র্খখ হায়, এইরূপ যদি, ঢালিয়। অস্বৃত স্ৃতে শাস্তি যন্ত্রণায় রমণী জীবন গঙ্গা বহিয়া না যায়।

নাক্র ! শন্র কি মান্মুষ নহেলে!। আমার মত ?

॥/০

রক্ত মাংস নাহিকো। তাহার ?

তোমার আমার প্রাণ, নহে কি শক্রর প্রাণ ? এক জল ভিন্ন জলাধার এক ভগবান সর্ববদেহে অধিষ্ঠান্‌ সর্বময় এক অদ্বিতীয় !

কেব! তুমি, কেবা আমি, কেব। শত্রু, মিত্র কেব। ? কারে বল প্রিয় বা অপ্রিয় ?

যেই জন পুণ্যবান কে না তারে বাসে ভাল? তাহাতে মহত্ব কিবা আর ?

পাপীরে ষে ভালবাসে, আমি ভালবাসি তারে, সেই জন প্রেম অবতার

স্থগন্ধি নিগন্ধ ফুল বিরাজিছে সমভাবে দেখ অঙ্গে মাতা বস্থধার !

সমুজ্ভ্বল রত্রসহ অনস্ত বালুক৷ রাশি বহিতেছে গর্ভে পারাবার

জগতে সাম্য নীতি *স্থখময় প্রেম গীতি, মানবের কি শিক্ষার স্থান

সর্বত্র সমান প্রেম, সর্বত্র সমান দয়া, সর্বত্র কি একত্ব মহান

না, দিদি ! আমার বিশ্বজননীর ছবি

1%9

আমাদের শত্রু মিত্র নাই

বরিষার ধারামত অজশ জননী প্রেম সর্বত্র ডালিয়া চল যাই!

মিত্রকে যে ভালবাসে সকাম সে ভালবাসা পেত ক্ষুত্র ব্যবহার ছার !

শক্র মিত্র তরে যার সমভাবে কাদে প্রাণ পেই জন দেবতা আমার

সং নী

প্রেম ধন্ম এই দিদি! কালি কৃষ্ঠাজ্ভবন মত দেখিতাম সকল সংসার।

মাতৃন্সেছ পূণ বুকে আজি দেখিতেছি সব অভিমন্য, উত্তরা আমার

আজ স্ুভদ্রো জননী জগতের ঘত জীব সকলের মধ্যে তাহার

একমাত্র পুত্র অভিমন্য, বধূ উত্তরাকে দেখিতেছেন। সেই পূর্ণ মাতৃন্সেহ বক্ষে ধারণ করিয়া হিংসাময় সমরক্ষেত্রে তিনি অবতীর্ণ তাহার নিকট ভেদ্নীতি নাই, সকলেই তাহার চাক্ষে সমান। তীহার সকাম ভালবাসা নহে, ইহাকে নিষ্কাম প্রেম বলে।

ইহাতেই দেবত্ব লাভ হয়।

এই প্রেমে মানবের স্বর্গের সোপান, এই প্রেমে মারতে অবতীর্ণ ভগবান।

॥৬/৬

আসক্তির করালতা, ছায়৷ কামনার, নাহি যার প্রেমে, সেই উপাস্য আমার

অন্যদিকে পুরুষও জগতের যত রমণী আছে সকলকে মায়ের মত দেখিবেন। তাহা হইলে অন্তরের ভাব পবিত্র হইবে। মুক্তির পথ প্রশস্ত হইবে। তাই বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী বলিয়াছেন, “্ত্রীলোকসকলকে মায়ের মত দেখতে হবে। মা জননী সেই বিশ্ব জননী মা, গর্ভধারিণীর সমান। স্ত্রীলোকের মধ্যে মাকে দেখে প্রণাম কর। মা আনন্দময়ী যদি সমস্ত নরনারীর মধ্যে দেখ, কি একটি নারীকে সেইভাবে ভালবাসিতে পার। সে দেবী! দেবা! দেবা! তাহাকে প্রণ।ম করিলে প।প দূর হয়। এরূপ যদি পার এক দিনে সিদ্ধি লাভ করিতে পার ।” খধিগণ বলিয়াছেন *শ্ত্িয়ঃ সমস্তাঃ সকলা জগণুস-সমস্ত স্ত্রীলোক তোমারই অংশভৃত ।”

নরনারীর মধ্যে এই ভাব প্রবাহিত হইলে পাম্যনীতি দেখা দিবে। মনের দ্বৈধভাব ঘুচিয়া যাইবে সকাম ভালবাসার পরিবর্তে নিষ্ধাম প্রেম দেখ দিবে

পরিশেষে বক্তব্য এই যে “সতীত্ব মাহাক্টর্যের” রচয়িত্রী শ্রীমতী কমলাসন৷ দেবী আমার কনিষ্ঠ সহোদরা। তিনি তাহার পুস্তকের একটি ভূমিকা লিখিবার জন্য আমাকে অনুরোধ করেন। আমার সে যোগ্যতা না থাকিলেও তাঁহার নির্িত প্রৃতিমাটি পৃজ।

4 করিবার ভার যখন আমাকে দিয়াছেন, আমি সে তার গ্রহণ করিয়া তাহার মর্য্যাদা রক্ষা করিবার চেষ্টা করিয়াছি আশা করি এসন্বন্ধে দু'চার কথা যাহা বলিয়াছি তাহ! পাঠকপাঠিকাগণ অপ্রাসঙ্গিক মনে করিবেন না। ইতি-_

বাইনান, (হাওড়া)

শ্রীঅরবিন্দনাথ চট্টোপাধ্যায় ৪ঠা আশ্বিন, ১৩৩১ সাল। (

নভীক্-হ্াহ্হাজ্ঞ্য

10

প্রথম অধ্যায়

সতীত্ব সতীত্ব রমণীর অমূল্য রত; সেই রত্বু রক্ষার জন্য রমণীগণ স্থখ পরিত্যাগ করিতে পারেন, এমন কি প্রাণকেও তুচ্ছ মনে করেন। সেজন্য রমণীগণ সেই প্রিয়তম অমূল্য রতুকে হৃদয়ের অসীম সৌন্দধ্য বলিয়া জ্ঞান করিবেন। এই সতীত্বকে সকলে ভয় করেন, এমন কি দেবরাজ ইন্দ্র, ধন্মরাজ যম, বরুণ, অগ্নি, চন্দ্র, সূধ্য, বিষুট শিৰ প্রভৃতি সকলেই সতীর নিকট যোড়হস্ত হে রমণীগণ, আপনারা সযত্রে সেই ধর্ম রক্ষা কারবেন। সতী কুৎসিত৷ হইলেও তাহার শরীর হইতে এক উজ্জ্বল জ্যোতিঃ প্রকাশিত হয়; আর অসতী সুন্দরী হইলেও তাহার মধ্যে সে জ্যোতিঃ থাকেনা।; তিনি দেখিতে মলিনা হন। সতী হীনবংশজাতা হইলেও তীহার চরণে মস্তক আপনা আপনি লুটাইয়া৷ পড়ে ; আর অসতী উচ্চ বংশে জন্ম গ্রহণ করিলেও তাহাকে দেখিলে দ্বণার সঞ্চার হয়। এমন কি তীর পায়ের নখ দেখিলেও ভক্তি হয়।

8.৪

সতীত্ব মাহাত্ময

এমন সতাত্ব যাহাতে চিরদিন অক্ষুপ্ থাকে সর্ববদ। তাহার চেষ্টা কর! কর্তব্য; যেন কোনরূপে ইহা অন্তহিত না হয়। এই সতান্বের তেজে সাবিত্রী যমরাজকে পরাভূত করিয়। মৃতপতিকে জীবিত করিয়াছিলেন। সতীত্বের তেজে দক্ষদুহিতা সতী স্বইচ্ছায় প্রাণ ত্যাগ করিয়াছিলেন ভীমসেনস্তুতা দময়ন্তীর কটাক্ষ দৃষ্টিপাতে ব্যাধ ভন্মীভূত হইয়াছিল জনক রাজের কন্তা সীত৷ সতীত্বের তেজে অগ্নিকে পরাস্ত করিয়া পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, চিন্তাদেবী শনির ক্রোধে স্বামীর সহিত বনবাসিনী 'হন সদ(পরের নৌকায় বন্দিনী থাকিয়া বনুকষ্টে সতীত্ব রক্ষা করেন, শৈব্যা স্বামীকে খণমুক্ত করিবার জন্য অন্যের নিকট বিক্রীতা হুইয়া ব্যত্বে সতীত্ব রক্ষা! করিয়াছিলেন ব্যাধনারা ফুল্লরাও নিজ সতীত্ব রক্ষার জন্য বন্ুকন্ট পাইয়াছিলেন। পতিত্রত৷ নান্দী এক দ্বিজকন্যা সতীত্বের জোরে তিন দিন সৃয্যোদয় বন্ধ রাখিয়াছিলেন। দেখুন, সতীত্বের কিরূপ মহিমা! বেহুলা ছয় মাসের মড়াকে সতীত্বের জোরে বাঁচাইয়াছিলেন, খুল্লনা সতীত্বের তেজে কারাগার হইতে স্বামীকে সমুদ্র হইতে পুত্রকে মুক্ত করিয়াছিলেন এইরূপে সতীরমণীগণ ধন্য হইয়াছিলেন। সংসারে ইহ! ভিন্ন আর তরিবার কোন উপায় নাই, ইহসংসারে পুরুষের বীরত্ব রমণীর সতীত্বই পরম শক্তি চরম ব্রত। রমণীর ব্রত অপেক্ষা আর' কোন শ্রেষ্ঠ ব্রত নাই, ফাহারা ব্রত পালনে অক্ষম

(২)

সতীত্ব মাহাত্ঝ্য

নিকট প্রার্থনা করিলেন-_“সাবিত্রীর যেন চিরদিন এইরূপ মতি থাকে ।» সাবিত্রীর এইরূপ একান্ত ইচ্ছা জানিয়া অশ্বপতি সত্যবানকে আনিবার জন্য লোক পাঠাইলেন লোকমুখে সমস্ত অবগত হইয়া সত্যবান মহাসমারোহে সাবিত্রীর পাণিগ্রহণ করিবার জন্য অশ্বপতি রাজার রাজপ্রসাদে উপস্থিত হইলেন যথানিয়মে বিবাহ -সম্পন্ন হইলে বরকন্যা প্রত্যাবর্তন করিলেন

তৃতীয় অধ্যায়।

সাবিত্রী শশ্বরালয়ে ভোগযত্বে দিনপাত করিতেছেন কিন্তু প্রাণে সর্ববদা ভয় বাড়িতেছে, স্বামীর গনাদ্দিনগুলি ফুরাইয়৷ আসিতেছে তাই তিনি তিনদিন অনাহারে লক্গনীনারায়ণের পূজা করিবেন এরপ ব্রত গ্রহণ করিলেন জ্যৈষ্ঠ মাসে কৃষ্ণপক্ষে পক্ষ পেয়ে চতুর্দশী, লম্ষনীনারায়ণে সতী পুজে অহনিশি। শুদ্ধভাবে একমনে বসিল স্থুন্দরী, অনায়াসে বধিমলেন দিবসশর্ববরী প্রাতে উঠিয়া সতী করি সযতন, বিধিমতে করাইলেন ত্রাহ্ধণ ভোজন। এইমতে বঞ্চিলেন দ্বিতীয় প্রহব, সেইদিনে পুর্ণ সত্যবানের বৎসর তাহাতে নূৃপতি স্থতা চিন্তাকুলমনা, হেনকালে শুন সবে দৈবের ঘটন]। প্রত্যহ সত্যবান কুঠার লইয়। বন হইতে ফলমূল আনিবার জন্য যান, সেইদিনও পূর্ববব বনে গমন করিতেছেন

(৮ )

সতীত্ব মাহাজ্মা

সাবিত্রী পাইয়। বার্তা দেখে অন্ধকার,

শুনিলেন বনে চলে রাজার কুমার |

সতী ভাবে কালপ্রাপ্ত ষদি মম পতি,

আমার উচিত হয় থাকিতে সংহতি

সাবিত্রী এই ভাবিয়া পতির সহিত গমন করিলেন পথে যাইতে যাইতে নানা কথাবার্তায় পথশ্রান্তি দুর করিতেছিলেন। অবশেষে নিবিড় বনমধ্যে প্রবেশ করিয়া সত্যবান নানা ফলমুল সংগ্রহ করিয়। সাবিত্রীকে তাহ! রক্ষা করিতে দিলেন। এইরূপে বু ফলাদি সংগ্রহ করিয়া সত্যবান কান্টসংগ্রহ করিতে বৃক্ষারোহণ করিলেন। কিছুক্ষণ কান্ঠ ভাঙ্গিয়া সত্যবানের শিরঃগীড়া আরস্ত হইল। তিনি বলিলেন, “সাবিত্রী, এই বুক্ষের উপরই আমার মৃত্যু হইবে, যেন শত শত কালসর্প আমাকে দংশন করিতেছে ।” সাবিত্রী পুর্ববকথা স্মরণ করিয়া, সাহসে বুক বাঁধিয়া, বলিলেন, “এখনই ভাল হইবেন, আপনি ধীরে ধীরে নামিয়া আসুন |” সত্যবান :অতি কষ্টে বুক্ষ হইতে অবর্তরণ করিলেন

সাবিত্রী তখন অঞ্চল পাতিয়া সত্যবানকে শয়ন করাইলেন নিজের উরুদেশে স্বামীর মস্তকটী. রক্ষা করিলেন'। সত্যবান ক্রমে জ্ঞানশৃন্য হইয়া ম্ৃত্যুমুখে পতিত হইলেন। মৃত্যুপতি যমও দত প্রেরণ করিলেন কিন্তু সাবিত্রী সত্যবানকে স্পর্শ করিয়া

( )

সতীত্ব মাহাত্বয

থাকায় তাহারা দেখিলেন সতীর কোলে তীাহার স্বামী, সেই জন্য সতীর তেজে কিছুতেই তাহার স্বামীর কায়া স্পর্শ করিতে ন| পারিয়া ঘমরাজকে সমস্ত বলিলে, ঘমরাজ শুনিয়। সর্বনাশ মনে করিয়া স্বয়ং আনিতে গমন করিলেন। সেখানে উপস্থিত হইয়া দেখিলেন সাবিত্রী তাহার স্বামীকে ক্রোড়ে লইয়া বসিয়া! আছেন তখন যম মধুর, কোমল মৃছুমস্বরে বলিলেন, “মা, তোমার স্বামীর কালপ্রাপ্ত হইয়াছে, ছাড়িয়া দাও, আমি লইয়া যাই, মৃত্যুর পর সকলেই আমার নিকট গমন করে ।” তাহ৷ শুনিয়া সাবিত্রী ভক্তিসহকারে স্বামীকে সেইক্ষণ ছাড়িয়া দিলেন; তখন যমরাজ আনন্দিত হুইয়! সত্যবানকে লইয়া চলিতে আরম্ভ করিলেন। সাবিত্রী তাহার পশ্চাতে চলিলেন ; কিছু দুর যাইয়া যমরাজ পশ্চাতে চাহিলেন__দেখিলেন, অসম্ভব নারী জীবিত অবস্থায় তাহার পশ্চা অনুগমন করিতেছে তখন সাবিত্রীকে বলিলেন, “মা, তোমার স্বামীর কালে স্ৃত্যু হইয়ছে, তুমি কোথায় যাইবে? জগতে পরম্পর সকলেরই এইরূপ নিয়ম আছে এবার ঘরে যাইয়৷ স্বামীর উদ্ধগতি চিন্তা কর ।” ধর্ম্মরাজের মুখে এই কথা শুনিয়। সাবিত্রী বলিলেন, “পিতা, আমি সবই জানি, কিন্তু মায়াজালে বদ্ধ, নচেৎ কে বা কার? কাল পূর্ণ মরে পাতি দুঃখ নাহি ভাবি, সকলে মরিবে কেহ নহে চিরজীবী।

(১০ )

সতীত্ব মাহাত্ম্য

এই বিশ্বমাঝারে যত প্রাণী জন্ম গ্রহণ করিয়াছে, সকলেই এক দিন না এক দিন মরিবেই--ইহা নিজ ইচ্ছায় নহে, বিধির বিধানে নামার পতি স্বকম্ম ভোগ করিবেন, আমার কোন সাধ্য নাই যে আমি তীহার উদ্ধগতি করি।” এইরূপে বন্ধু কথা বলিলেন সাবিত্রীর মুখে এইরূপ রমণীয় যুক্তিপূর্ণ বাক্য শ্রবণ করিয়া ধর্ম্নরাজ পরিতুষ্ট হইযা বলিলেন, “পৃথিবীতে তুমিই সাধ্বী পরম স্থুশীলা। তোমার জনকজননী ধন্য ; তোমার অভিলধিত বর প্রার্থনা কর।” ইহা শুনিয়া সাবিত্রী বলিলেন, “বদি কুপা হয়, তবে এই বর প্রদান করুন যেন আমার অপুত্রক পিতা পুত্রবান হুন।” তাহা শুনিয়া ঘমরাজ বলিলেন “তোমার পিতার উত্তম পুত্র হইবে ; এইবার তুমি মা, ঘরে বাও।” তখন সাবিত্রী কহিলেন, “পিতা, আপনার সঙ্গ ছাড়িতে আমার এক মুহূর্তও ইচ্ছা হয় নাই। সতের সঙ্গেতে যেন কাশীতে নিবাস আমারে করিতে চাহ তাহাতে নিরাশ। পূর্ববপিত্‌ পুণ্য বলে, নিজ ভাগ্য বশে তোমা হেন গুণনিধি পাই অনায়াসে ? ইহা হইতে কর্মবন্ধ না হইলে ক্ষয় জানিন্ু আমারে বাম বিধাতা নিশ্চয় 1” এইরূপ বাক্যাবলী শ্রবণ করিয়া যমরাজজ বলিলেন, “পুনঃ

(১৯ )

সতীত্ব মাহাত্ম্য

পুনঃ আমার হৃদয়ে আনন্দ জন্মাইতেছ__তুমি আর একটি বর প্রার্থনা কর-_-সত্যবানের জীবন ভিন্ন ।” ইহ শুনিয়া সাবিত্রী বলিলেন “যদি অনুকম্পা হয় তবে বর প্রদান করুন, যেন আমার অন্ধ শ্বশুর চক্ষু লাভ কবেন।” শমন বর দিলেন “তোমার শ্বশুরের চক্ষু হইবে, অনেক রাত্রি হইয়াছে, নিজ স্থানে যাও। ইহা শুনিয়৷ সাবিত্রী বলিলেন, “আপনি সকল অবগত আছেন, আমি কখনও সংসারের বাসনা করি নাই |” তাহাতে ধন্মরাজ কহিলেন “দেবা, তুমি পরম স্থশীলা এবং পণ্যনবক্তী, তোমার বাক্যে আমি হ্র্ষপূর্ণ হইলাম- -সত্যবানের জীবন ভিন্ন আর একটা বর প্রার্থনা কর।” সাবিত্রী বলিলেন, “আর লোভ করিব না__-'লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু, পাচ্ছে হয় ক্ষোভ” তথাপি যমরাজ পতির জীবন ভিন্ন অন্য বর দিতে প্রস্তুত হইলেন। সাবিত্রী তাহাতে প্রার্থনা করিলেন যেন তীহার শ্বশুর পুনরায় রাজ্য লাভ করেন। যম বলিলেন “তাহার রাজ্য লাভ হইবে তুমি স্বস্থানে গমন কর।”, দেবী সংসার অসার, মায় জালে আবদ্ধ__এইসব বর্ণন৷ করিয়াও ধর্মরাজের সঙ্গ পরিত্যাগ করিতে কিছুতেই স্বীকৃত হন না দেখিয়! তাহার জীবনের মায়া নাই বুঝিয়া যম পুনরায় বর দিতে প্রস্তুত হইলেন। দেবী বলিলেন, “বান্ধব, শ্বশুর, নারী, পুত্র, পিতামাত৷ ইহারা ফলে অনর্থের হেতু, কেবল ছুঃখ প্রদান করে মাত্র। তসরের পোকা যেমন কর্ম

(১২ )

সতীত্ব মাহাজ্সয

সুত্রে বন্দা হুইয়। মরিয়। যায় €সইবরূপ আমার সংসার অসার কন্মভেগ করিৰার ইচ্ছ। নাই, ঘের সংসারে পুনরায় যাইতে আমার ইচ্ছা নাই, তোমার পার্থখে থাকিরা আমার আত্মতৃপ্ত হউক আমি যাইব না” তখন ধন্মরাজ পুনরায় বর প্রার্থনার জন্য অনুনয় করিলে তিনি প্রতি পাঁচ বশুসর অন্তর সত্য- বান হইতে শত পুত্রের কামনা করিলেন। যমরাজ “তথাস্ত্' বলিয়া বর দিলেন এবং বাঁললেন “এবার ঘরে যাও”"__-এই বলিয়। যম তাড়াতাড়ি চজিলেন। কিছুক্ষণ পরে দেখিলেন সাবিত্রী তাহার পশ্চাতে তখন তিনি ভাবিলেন সাবিত্রী যদি তাহার নগরীর মধ্যে প্রবেশ করেন তাহা হইলে যমপুরী উলট পালট হইয়া যাইবে তবে যদি সতীকে তাহার স্বামী ফিরাইয়া দেই তাহা হইলে সকলে আমার কুযশ ঘোষণা করিবে। এখন উভয় সম্কট। এই সতীর অঙ্গে হস্ত স্পর্শ করিতে পারি নাই। এইরূপ ছুঃখে নিতান্ত কাতর বিরক্ত হইয়া স।বিত্রা কহিলেন, “দেবা, তোমাকে চারিটী বর দিলাম, তবু কেন আমার সহিত আমিতেছ ?” সাবিত্রী কহিলেন “আপনি লইয়া যাইতেছেন তাই ঘাইতেছি নচে এমন কি সাধ্য যে আপনার সঙ্গে যাই। ধন্মরাজ কহিলেন “কৈ লইয়া যাইতেছি ?” দেবী কহিলেন “এ হস্তের মধ্যে ।” ধন্মরাজ কহিলেন “ইহা তোমার প্রাণ নহে, ইহা সত্যবানের “সত্যবানই আমার

( ১৩)

সতীত্ব মাহাত্ম্য

প্রাণ যেমন কায়াকে লইয়। গেলে ছায়। তার সঙ্গে সঙ্গে যায় সেইরূপ আমিও যাইতেছি। বিশেষ আপনি যে ৰর দিয়াছেন তাহা ম্মরণ করুন। এই সত্যবান হইতে শত পুত্র হইবে। ইহার বিধান আগে করুন। তখন আপনার নিকট আমার আর কোন প্রার্থন। নাই ।” সাবিত্রীর মুখে এই কথা শুনিয়া যমরাজ বলিলেন “এই লও তোমার ম্বামী। এই তিন ভূবনের মধ্যে তুমিই আদর্শ সতী, পরম ন্ুখে কাল যাপন কর। ম্বঙ্যুর পর উভয়ে বিষুটলোকে গমন করিবে 1৮ ইহা বলিয়া যমরাজ সাবিত্রীকে সেই সত্যবানের কায়ার নিকট পাঠাইয়া নিজে স্বস্থানে চলিলেন। সাবিত্রী সেই প্রাণটা লইয়া সত্যবানের কায়ার মধ্যে দিলেন তখন সত্যবান যেন নিদ্রাভঙ্গ হইয়া উঠিলেন। সত্যবান ধীরে ধীরে সাবিত্রীকে বলিলেন, “আমি অতিশয় ঘুমাইয়া পড়িয়া- ছিলাম, আমার কেন শীঘ্র নিদ্রো ভঙ্গ করাইলে না, এখন কেমন করিয়া ঘরে যাইব ? সাবিত্রী বলিলেন “আপনি জানেন স্বামীর নিদ্রা ভঙ্গ করিতে নাই, এই রাত্রিকালে কোথায় যাইব? এই বৃক্ষের নীচে উভয়ে থাকি, কল্য বাটী যাইব।” এদিকে সত্যবানের পিতা চক্ষুলাভ করিয়াছেন, পরদিন প্রাতে সত্যবানকে দেখিয়া পরম আনন্দ লাভ করিলেন।

সাবিত্রীর পিতা! অশ্বপতি তাহাদের আশ্রমে আঙিয়া উপস্থিত হইলেন এবং পূর্ব্বের সমস্ত কথা সাবিত্রীকে জিজ্ঞাসা করিলেন

(১৪ )

সতীত্ব মাহাত্মা

“নারদ ঘে কথ! বলিয়াছিলেন সেই বিপদ হইতে কেমন করিয় উদ্ধার হইলে ১” সাবিত্রী সমস্ত বিবরণ পিতার নিকট বলিলেন। তখন অন্যান্য সকলে অন্তুত কথা শ্রবণ করিয়া ধন্য ধন্য করিলেন। পর দিন সত্যবানের পিতৃরাজ্য হইতে প্রজার! আসিয়া বলিলেন “মহারাজ, শক্রদিগকে পরাস্ত করিয়াছি, তবরায় স্বরাজ্যে গমন করুন|” সত্যবান প্রভৃতি সকলে স্বরজ্যে গমন করিলেন এবং সত্যবান সাবিত্রী সেই রাজ্যের অধীশ্বর অধী- শ্বরী হইয়৷ ক্রমে ক্রেমে শত পুত্র লাভ করিলেন। আমরা সাবিত্রীর সতীত্বে দোঁখতে পাই তিনি কেবল সতী

নহেন সাধ্বীও ছিলেন। তাই শুধু সতা হইলে হয় না সাধবী হওয়া প্রয়োজন সাধবী রমণী কদাচ স্বামীর নিন্দা প্রকাশ করেন না। স্ব।মীর অপ্রিয় ক।ধ্য করেন না বা অপ্রয় বাক্য প্রস্ভৃতি প্রয়োগ করেন না। সতী হহয়া সাধ্বী না হইলে তাহার সতীত্বের সম্পূর্ণ ফল লাভ হয় না।

সতী সাধবী পতিত্রতা৷ নারী বলি তারে,

কদাচ স্বমার নিন্দা প্রকাশ না করে।

মূর্খ কিম্বা ধনহীন যদি হন পতি,

অধশ্ম অসশুকম্ম করে নিতি নিতি।

সতীনারী পতিদোষ কখন না ধরে,

সে দোষ ঢাকিয়। পুনঃ গুণ ব্যক্ত করে।

(১৫)

সতীত মাহাত্ম্য

ইহাই সতী সাধ্বী রমণীর কর্তব্য। সকল রমণীরই এইরূপ হইবার চেষ্টা করা কর্তব্য

( ১৬)

চতর্থ অধ্যায়

বনুনারীর এরূপ কুরীতি যে তাহারা গহুনার জন্য স্বামীকে

ব্যস্ত করিয়৷ তুলেন। ইহা একটা অনর্থের মূল; কিন্তু পুরা- কালের একটা সতীকে দেখিতে পাই যিনি রাজকন্া। হইয়াও ভিখারী শ্মশানবাসী একজন জন্যাসীকে বিবাহ করিয়াছিলেন ইহুজগতের সমস্ত সুখ বিসর্জন দিয়া অঙ্গের রাজআভরণ পরি- ত্যাগ করিতে কুন্টিতা হন নাই এবং স্বামীর সহধর্মিনী হইবার মানসে সধ্বী সতীর সতীত্বের আদর্শে স্বামীর পথ অনুসরণ করিয়াছিলেন। তাই তিনি দক্ষযজ্জের সময় পিত্রালয়ে আগমন করিলে তাহার পিত৷ পতিনিন্দা করিয়া তাহাকে ভুনা করিয়া- ছিলেন। সতী কখনও পতিনিন্দা শ্রবণ করিতে পারেন না৷ তাই তিনি পিতার মুখে পতিনিন্দা শ্রবণ করিয়া একধ্যানে মনে মনে দেবাদিদেব মহাদেবের গুণ স্মরণ করিলেন পিতাকে সম্বোধন করিয়া বলিলেন,

“পিতাগো এমন হরের নিন্দা ক'র না,

সবংশে মরিবে তবে বাতি দিতে কেও রবে না।

যখন তার ক্রোধ হবে বষ্জী কেবা নিবারিবে,

আপনি ভষ্ম হইবে দেখিবে সর্বজন! ।৮

(১৭ )

স্তীত্ব মাহাত্ম্য

এই বলিয়া সতী পিতার চরণে পতিত হইলেন। তখন সভামধ্যে হাহাকার পড়িয় গেল। সতীর অন্যান্য ভগ্নীরা সতীর জীবন শেষ হইল দেখিয়া উচ্চৈঃস্বরে কাঁদিতে লাগিলেন। নন্দী, ভূ্জি “মা মা” রবে সভামধ্যে প্রবেশ করিয়া সতীকে ভূমি শয্যায় শায়িত দেখিয়া শোকাকুল হইয়৷ মহাদেবের নিকট গমন করিলেন

মহাদেব ক্রুদ্ধ হইয়া দক্ষালয়ে গমন করিলেন দক্ষের মস্তক ছিন্ন করিলেন। তখন সতীর জননী বিধবা হইলেন বলিয়া শিবের নিকট ক্রন্দন করিতে লাগিলেন, শিবও সতীর সতীত্ব বুঝিতে পারিয়া ছাগমুণ্ড যোগ করিয়া দক্ষকে বাঁচাইলেন সতীর দেহ স্বন্ধে ধারণ করিয়া সমস্ত জগত্ময় ঘুরিতে লাগিলেন।

ইহাতে আমরা স্পষ্ট দেখিতে পাই এক ভক্তি থাকায় সতী মাত্র স্বামীনিন্দা শ্রবণে আত্ম বিসর্জন করিলেন স্বামীও পাগলের মত সেই সতীর পবিত্র দেহ বহন করিয়া জগতে সতীর পতির মধ্যে যে সম্বন্ধ তাহ৷ দেখাইয়া দ্িলেন। এই রূপ বহু দৃষ্টান্ত আমরা প্রাচীন খধিপ্রণীত গ্রন্থে দেখিতে পাই। আর এক উদাহরণ দময়ন্তী। তিনি সাবিত্রী সতীর মত পতির জন্য নানা কষ্টঞ্ঁভোগ করিয়াছিলেন।

(১৮ )

পঞ্চম অধ্যায়। সতী দমযন্তী

দময়ন্তী বিদর্ভরাজ ভীমসেনের কন্যা একদিন সখিগণের সহিত পুণ্পোষ্ঠানে ভ্রমণ করিতে করিতে একটী সোণার বর্ণ রাজহংস সরোবরে খেলা করিতেছে দেখিতে পাইলেন। ইহাকে ধরিবার ইচ্ছা হওয়ায় সখীগণকে ধরিতে বলিলেন। অতি কষ্টে সখীগণ উহাকে ধরিলেন। তখন সকলের অগোচরে ংস মধুর কথায় দময়ন্তীকে বলিল, “দেবী, আমাকে মারিবেন না, আমি নলরাজার চর, আপনার অভিপ্রায় জানিতে আসিয়াছি। নলরাজার হ্যায় তেজস্বী বীর পুরুষ আর নাই, তাহার উজ্জ্বল সোণার ন্যায় শরীর, আপনার কথা ভাবিতে তাঁবিতে মলিন হইয়া আমিতেছে। রাজকাধ্যে তত আগ্রহ ' দাই, সর্বদাই আপনার চিন্তা, তাহার প্রধান করণীয় কাধ্য হইয়াছে। আপ- নার মনোভাব জানিতে নিতান্ত ব্যগ্র হইয়াছেন 1”

পর্বব হইতেই দময়ন্তী নলের রূপগুণের কথা শুনিয়াছিলেন, নলের প্রতি তাহার অনুরাগের পূর্ববলক্ষণ প্রকাশ হইয়াছিল। এখন হুংসমুখে নলের অনুরাগের কথা শুনিয়া তিমি আরও আন- ন্দিত হইলেন। তিনি বলিলেন, “যাও, পাখি, তুমি নলরাজাকে

( ১৯ )

সতীত্ব মাহাত্মা

বলিও আমি তীাহাকেই বরণ করিব। তিনি যেন দাসীকে চরণে স্থান দেন।” এই বলিয়া! হংসকে বিদায় দিলেন। ংস এই শুভসংবাদ বলিয়৷ নলকে অতিশয় আনন্দিত করিল এদিকে দময়ন্তী মাবাপের বিনা অনুমতিতে এইরূপ কাধ্য করিয়া চিস্তিত হইলেন। ভাবিলেন মাতাপিতার অমত হইলে উপায় কি? এই ভাবিয়। সময়মত আহার নাই, নিদ্রা নাই; সখীসঙ্গ তাহার ভাল লাগে না, নির্জনে বসিয়া কেবল হা হুতাশ আর দীর্ঘ নিশ্বাস! সখীরা কত ভাবে কত কথা জিজ্ঞাসা করে, কোন কথার কোন উত্তর নাই। দময়ন্তীর সে মনো- তাব সখীদের বুঝিতে কষ্ট হইল না, কিন্তু তিনি যে কাহার প্রতি অন্ুরক্তা তাহা কেহই বুঝিতে পারিল না। সখীরা রাণীর নিকট সকল কথা ধলিলেন। রাণী শুনিয়৷ রাজার কাছে বলিলেন, আরও বলিলেন “দময়ন্তী যে কাহারপ্রতি অনুরক্ত তাহা সঘীরা বুঝিতে পারে নাই।” রাজা শুনিয়া ভাবিত হইলেন তখন শ্বয়ন্বরে কন্যার বিবাহ দিবেন দেশে দেশে প্রচার করিয়া দিলেন। যেখানে যে রাজ রাজপুত্র আছেন সকলকে নিমন্ত্রণ করিলেন। উপস্থিত রাজপুত্রদ্দের মধ্যে দময়ন্তী তাহার মনো- মত বর বরণ করিবেন। হ্বয়ন্বরের আয়েজন হইতে লাগিল দময়স্তী একটু আশ্বত্ত হইলেন। স্বয়চ্ঘরের পূর্ববদিবস নল রাজ। বাগানে বেড়াইতে বেড়াইতে দময়স্তীর কথা ভাবিতেছেন,

(২৯ )

সতীত্ব মাহাত্বা

এমন সময় চারিজন দেবতা সেই স্থানে উপস্থিত হইলেন তাহাদিগকে দেখিয়া নলরাজ! তাহাদের পরিচয় জিত্হাস! করিলেন ; পরিচয়ে জানিলেন তীহার! দেবরাজ ইন্দ্র, অগ্নি, বরুণ যম। দেবতারা নলকে বলিলেন “আপনি আমাদের দূত হইয়া বিদর্ভ রাজ্যে গমন করুন, দময়ন্তীকে জিজ্ঞাসা করিয়া আদিবেন, আমাদের চারিজনের মধ্যে তিনি কাহার গলায় বরমাল্য প্রদান করিবেন ?” এই বলিয়া তাহাকে বিদায় দিলেন। আর একটা বর প্রদান করিলেন, “তুমি অনৃণ্যতাবে সকলের অগোচরে পুরীর মধ্যে প্রবেশ করিতে পারিবে ।” নলের উভয় শঙ্কট। যে দময়ন্তরীর জন্য তীহার প্রাণ আকুল, দ্রেবতার৷ তীাহাকেই চান__তবে দময়ন্তীর আশা ছাড়িতে হহল। এই সকল ভ্তাবিতে ভাবিতে তিনি বিদর্ভরাজ্যে গমন করিলেন। এমন সময় দময়ন্তী বসিয়া মালা গঁ(থিতে গাঁথিতে নঙ্লরজার কথ ভাবিতেছেন, ঠিক সেই সময় নলরাজা সেখানে উপাস্থত। হঠাত সেইস্থানে পুরুষের আবির্ভাব দেখিয়া দময়ন্তী ভীত্তি বা বিরক্তির সহিত সেই স্থান হইতে তাহাকে চলিয়া যাইতে আদেশ দিলেন নলরাজা লজ্জিত হইয়া কহিলেন, “রাজকুমারী, আমি চলিয়' যাইতে প্রস্তুত। দেবতাদের আদেশ, আপনার অল্গুমতি পাইলেই চলিয়া যাইব ।” দ্ময়ন্তী বলিলেন “আপনি যে কেহ হউন না কেন, এইরূপ ভাবে কুলবালার নিকট আগমদ কর! ভত্রতা

(২১ )

সতীত্ব মাহাম্থ্য

বিরুদ্ধ ।” এই বলিয়া চুপ করিয়া রহিলেন। নলরাজা৷ বলিলেন “আপনার রূপগুণের কথ! শুনিয়৷ দেবরাজ ইন্দ্র, ধর্মরাজ যম, বরণ অগ্নি সকলে আপনাকে পাইবার আশা করিতেছেন আপনি এই চারিজনের মধ্যে কাহার গলায় বরমাল্য প্রদান করিবেন দেবতাদিগকে জানাইলে স্খী হইবেন ।৮ ইহা শুনিয়া দময়স্তী বলিলেন “আপনি দয়া করিয়া দেবতাদিগকে বলিবেন যে তিনি পুর্ব্বে মনে মনে নলরাজাকে পতিত্বে নির্ববাচন করিয়াছেন স্তরাং এখন অন্যকে বরণ করিব।র অধিকার নাই ।” তাহা শুনিয়া নলরাজ চমণ্কৃুত আনন্দিত হইলেন, চক্ষুদিয়া আনন্দাশ্রু বিগলিত হইতে লাগিল তথাপি আত্মসংবরণ করিয়া কহিলেন, “রাজকুমারী, আপনি কোন সাহসে দেবতাদিগকে উপেক্ষা করিয়া মানবকে বরণ করিতে ইচ্ছ। করিতেছেন ? দেবতারা রাগ করিলে সর্বনাশ হইবে, তখন ছার নল আপনার কি করিবে 1” ,দময়ন্তী বলিলেন, “যায় যাক ধন যাক, প্রাণ যাক্‌, সতীত্ব রবে। নলকে বিরাহ না করিয়া দেবতাদিগকে বিবাহ করিলে স্বখ হুইবে, কিন্তু সতীত্ব যাইবে ।” তখন নল বলিলেন, “হতভাগ্য নল দেবতা- গণের অনুগত, দেবতাদের আদেশে যদি স্থয়ন্থর সভায় উপস্থিত হইতে না৷ পারেন তবে আপনার দশা কি হইবে ?” দময়ন্তী উত্তরে বলিলেন ““দক্ষতুহিতা সতীর যাহা হুইয়াছিল তাহাই

( ২২ )

সতীত্ব মাহাত্ম্য

হইবে, নূতন আর কি? নলের উদ্দেশ্যে বরমাল্য অর্পণ করিব, তিনি গ্রহণ করেন ভাল, নচে সেই বরমাল্য বক্ষে ধারণ করিয়া নলের পবিত্র নাম জপ করিতে করিতে জীবন ত্যাগ করিব ।” এই বলিয়া নীরব হুইলেন। নল দময়ন্তীর কথা শুনিয়া একেবারে মুগ্ধ হইলেন; তখন আবেগভরে বলিয়। ফেলিলেন “হতভাগ্য নল, দেবতাদের কথায় আপনার নিকট আসিয়াছে” ইহা শুনিয়া দময়ন্তী মনে মনে বলিলেন “এই কি.সেই নল? সত্যই কি তিনি, আমার সম্মুখে উপস্থিত ?” এতক্ষণ নিম্সদৃষ্টে তাহার সহিত কথা কহিতেছিলেন, এখন এক- বারে চাহিয়া দেখিলেন। তাহাদের চারি চক্ষু এক হইল। তিনি লোকমুখে যেরূপ শুনিতেন, বা দিবারাত্র যাহা ধ্যান করিতেন সেইরূপ মুত্তি সম্মুখে উপস্থিত। দময়স্তী তখন মালাগাছটা তুলিয়া বলিলেন “ধর, এই বরমাল্য প্রদান করিলাম ।” নল বুলিলেন, “আমি এখন দেবদূত এই অবস্থায় বরমাল্য গ্রহণ করিতে পারি না।” এই বলিয়া তিনি চলিয়া যাইতে উদ্ভত হইলে দময়ন্তী বলিলেন, “দেবতার্দিগকে বলিবেন, তাহারা যেন কন্যাকে এই বর দেন “নল রাজা যেন আমার পতি হন” ।” এই বলিয়া তীহাকে বিদায় দিলেন।

অস্তর্য্যামী দেবতারা সমস্ত জানিলেন তথাপি নলের অপেক্ষায় ধড়াইয়৷ রহিয়াছেন এমন সময় নল রাজা উপস্থিত হইয়া

( ২৩ )

সতীত্ব মাহাত্ঝ্য

দেবতাদিগকে সমস্ত কথা বলিলেন। ইহাও বলিলেন “তাহারা আমার পিতা, কন্যাকে যেন এই আশীর্বাদ করেন নলরাজা যেন আমার পতি হন।” ইহা শুনিয়৷ দেবতার নলের ন্যায় বেশ ধারণ করিলেন। নল চারিটা দেবতা একরপ মৃত্তি হইলেন, যেই দেখিবে পাঁচজন নল মনে করিবে পাঁচজনই স্বয়ন্থর সভায় উপস্থিত হইলেন ক্রমে সভায় লোকে লোকারণ্য হইয়া গেল। স্বরন্বরের শুভ ক্ষণ নিকটবর্তী হইল। দময়ন্ত্ী সখীদের সহিত ধীরে ধীরে সভামধ্যে প্রবেশ করিলেন। প্রথমে দেবদ্বিজকে প্রণাম করিযা সভার এক প্রান্ত হইতে অপর প্রান্ত পধ্যস্ত ঘুরিলেন, কোথাও নলকে দেখিতে পাইলেন না; কিন্তু বনুক্ষণের পর দেখিলেন এক আশ্যধ্য ব্যাপার পাঁচজন নল একস্যানে বসিয়া আছেন। আকার, প্রকার পোষাক পরিচ্ছদ সমস্তই এক রকম। তখন তিনি ভাবিলেন এই চারিজন দেবতা, ছলে আমাকে লাভ করিবার আশায় এইরূপ মুস্তি ধারণ করিয়া আসিয়াছেন। এখন তাঁহাদের মধ্য হইতে নিজের মনোনিত নলকে কিরূপে বাছিয়া বাহির করিবেন এই ভাবনাই প্রধান হইল এমন সময় মনে মনে স্থির করিয়৷ দেবতাদের স্তব আরম্ভ করিলেন ১--

“তোমরা যে অন্তধ্যামী জানহ সকল,

পর্বে হংসমুখে আমিঃবরিয়াছি নল।

(২৪ )

সতীত্ব মাহাজ্ম

প্রসন্ন হইয়া দেব মোরে দেহ বর, জ্ঞাত হ'তে পাই যেন আপন ঈশ্বর 1৮

দময়স্তীর নানারূপ স্তুতি শুনিয়া দেবতাদের মন গলিয়। গেল। তাহারা নিজেদের প্রকৃত মুর্তি ধারণ করিলেন। দেবী তখন আনন্দিত চিত্তে নলের গলায় বরমাল্য প্রদান করিলেন তখন নলরাজ। দেবতাদিগের নিকট বি্নীতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করিলেন। দেবতারা সম্তুষ্টচিত্তে নলকে বর প্রদান করিলেন

ইন্দ্রের বরে যেখানে লক্ষ্মী নাই সেইখানে লক্গণী লাভ হইবে। যমরাজ অস্ত্র, তুণ ধনু দান করিলেন। অগ্নি বিনা আগতে রন্ধন হইবার বর প্রদান করিলেন। বরুণ বর দিলেন প্রার্থনা মাত্র যেখানে ইচ্ছা জল পাইবে।

পথে দেবতাদের সহিত কলির সাক্ষাৎ হইল, তাহাকে সমস্ত বলিলেন। দময়ন্তী নলকে বিবাহ করিয়াছেন শুনিয়া কলির খুব রাগ হইল। এদিকে নল দময়স্তীর বিবাহকাধষ্য সম্পন্ন হইল। নল দময়স্তীকে নিয়া স্বরাজ্যে ফিরিলেন। সেখানে মহান্খে দিন যায়। কিছু দিন পরে, রাণী দময়স্তীর একটা পুত্র একটী কন্যা হইল। পুত্রের নাম ইন্দ্রসেন কন্যার নাম ইন্দ্রীসেনী রাখিলেন। তীহার্দের পাঁচছয় বৎসর বয়স হইলে বিধি তাহাদের স্থখে বাম হইলেন। একদিন

(২৫ )

সতীত্ব মাহাজ্ময

কলি ভাবিল “নলকে কিরূপে কষ্ট দিব--দেৰ স্বামী ছাড়িয়। দময়ন্তী নলকে বরণ করিয়াছেন তাহার শাস্তি দিতে হইবে।” এহ বলিয়া নলের সঙ্গে সঙ্গে ঘুরিতে লাগিল। কিন্তু কোথাও কোন ছিদ্র পায় নাই যে কলি তাহার শরীরে প্রবেশ করে। একদিন দুর্ভাগ্যক্রমে সন্ধ্যা করিবার জন্য অসম্পূর্ণ পদ প্রক্ষালন করিলে সেই ছিদ্র পাইয়া কলি তীহার শরীরে প্রবেশ করিল। কলির বুদ্ধিতে একদিন নল তাহার কনিষ্ঠ ভ্রাতাকে বলিলেন “পুক্কর, তোমার সহিত পাশা খেলিব।” পুক্ষর তাহাতে অগত্য। সম্মত হইল। উভয়ে খেল৷ আর্ত হইল। দৈবচক্রে নল বথাসর্ববস্থ হারিলেন। এই বার্থ রাণী দময়ন্তী শ্রবণ করিলেন। আরও শুনিলেন তাহার স্বামী নলরাজাকে বন ভ্রমণ করিতে হইবে। ইহা শুনিয়৷ সহাস্ত বদনে ভগবানের নিকট প্রার্থনা করিলেন “প্রভু, দ|সী যেন সে সুখে বঞ্চিত না হয়।” তখন সারথিকে ডাকিয়া সমস্ত বলিলেন এবং তাহার সহিত পুত্রকন্যাকে পিক্রালয়ে পাঠাইয়া দিলেন।

মহারাজ সর্বস্ব হারাইয়া এক বন্স পরিধান মাত্র সম্বল লইয়া বাহির হইলেন। অন্তঃপুর হইতে দময়ন্তী তাহা শুনিয়া নিজ আভরণ সমস্ত পরিত্যাগ করিয়া একমাত্র বস্ত্র পরিয়া নলের সহিত বনে যাইতে উদ্ধত হইলেন। ক্রমে

২৬ )

সতীত্ব মাহাত্ম্য

নগর ছাড়িয়া বনে প্রবেশ করিলেন। ক্ষুধাতৃষ্ণায় উভয়ে কাতর। বন হইতে ফলমূল আনয়ন করিয়া জীবন রক্ষার জন্য কিছু ভক্ষণ করিলেন। কলি তীহার শরীরে আছে, সর্ববদা মন্দ বুদ্ধি উদ্পপন্ন হইতেছে কলির মায়ায় একদিন কতকগুলি পাখী একস্থানে চরিতেছে, দেখিয়া নল তাহাদিগকে ধরিবার জন্য নিজের কাপড়টী তাহাদের উপর ফেলিয়া দিলেন। কলির মায়ায় সেই পক্ষীগণ সেই কাপড় লইয়া উড়িয়া গেল। নল উলঙ্গ, বনমধ্যে লুকাইতেছেন দেখিয়া দময়ন্তী পতির লভ্জা নিবারণ করিবার জন্য নিজের বস্ত্রের অদ্ধাংশ স্বামীকে দিলেন। এক বস্ত্র উভয়ে পরিয়া অতি কষ্টে চলিতে লাগিলেন। কলি সর্বদাই ভাবিতেছেন কি করিয়। নল দময়স্তীর বিচ্ছেদ হয়। নল সর্বদাই বলেন “তুমি তোমার পিতার গৃহে যাও, কেন মিছামিছি বনে কষ্ট পাইতেছ ?” তাহা গুনিয়া দময়ন্তী কহিলেন “এই দুঃসময়ে পিতার বাড়ী যাওয়া উচিত নহে। আপনি যেখানে থাকিবেন সেইস্থানই আমার নিকট নিষধ রাজ্যের অট্রালিকা। আপনি কষ্ট পান আমিও পাইব। তাহাকে কষ্ট বলিয়া জ্ঞান করা অনুচিত। আপনি সুখ পান ইহা আমার পরম সৌভাগ্য'”-_-এই বলিয়া উভয়ে বনে বনে চলিতে লাগিলেন। চলিতে চলিতে অবসন্ন হুইয়া দময়ন্ত্রী নলের উরুতে মাথা রাখিয়৷ নিদ্রিত হইয়া পড়িলেন। এমন

( ২৭ )

সতীত্ব মাহাত্মা

সময় নল ভাবিতেছেন “এই ছাড়িবার উপযুক্ত সময়, কিন্তু উভয়ের এক বস্ত্র পরিধান, কেমন করিয়া ছাড়িব ১” এই ভাঁবিতেছেন আর দরদর কীাদিতেছেন। এমন সময় কলি খড়গরপে রাজার নিকট উপস্থিত হইল। এই খড়গ দিয়া নলরাজ বস্ত্রের মধ্যস্থান কাটিয়া ফেলিলেন। কলির মায়ায় রাজা আচ্ছন্ন, নিদ্রিত রমণীকে ফেলিয়া চলিয়। গেলেন। আবার বহুদূর যাইয়া ফিরিয়া আসিয়া দেখিলেন দময়ন্তী নিদ্রায় কাতর, দেখিয়া কাদিতে লাগিলেন

“সিংহ ব্যান ষক্ষ রক্ষ ঘোর কাননে,

কি গতি হইবে তোমার আমা বিহনে।

হে সুধ্য পবন চন্দ্র বনের দেবতা,

তোম৷ সবে রক্ষা কর আমার বনিতা ।”

এই বলিয়া নলরাজা চলিয়া গেলেন। আবার বহুদূর

হইতে ফিরিয়া গেলেন, স্েহ ছাড়িতে পারিলেন না। কাতর হইয়া কহিলেন “হে দেবী, তোমাকে অনাথ! করিয়া চলিলাম। যদি বিধি ঘটান পুনরায় দ্রেখিব, নতুবা এই শেষ দর্শন।” এই সকল ভাবির কাদিলেন আবার দময়ন্তী পাছে জাগ্রত হন সেই ভয়ে বেগে পলায়ন করিলেন। এদিকে দময়্তার নিদ্রাভঙ্গ হইল, দেখিলেন নলরাজা নাই এবং বস্ত্রেরে মধ্য ভাগ কাটা তখন শোকাকুল! হইয়৷ ভাবিলেন কোন বন্য

( ২৮ )

সতীত্ব মাহাত্ম্য

জন্তু মারিয়া ফেলিয়াছে, আবার ভাবিলেন বস্দ্রের মধ্যভাগ কাটা কোন স্থানে পলায়ন করিয়াছেন। বনুবিলাপ করিয়া বনে বনে অনুসন্ধান করিলেন, ক্রমে বন ছাড়িয়া নগরে গিয়া পড়িলেন। আলুলাধিতকেশা, ছিন্নভিন্ন বেশা, অর্ধবন্ত্র পরিহিতা পাগলিনীর ন্যায় চারিদিকে ঘুরিতেছেন ; আর নলের অনুসন্ধান করিতেছেন। পাগলিনী জ্ঞানে সকলে তাহার গায়ে ধুলা কাদা দিতেছে, নানারূপ উপহাস করিতেছে তিনি কোন দিক্‌ লক্ষ্য না করিয়া নলকে অনুসন্ধান করিতেছেন। কোথাও দেখিতে পাইলেন না। আবার বনে গমন করিলেন; এমন সময় হঠাৎ সেইখানে এক ভীষণ ভুজঙ্গন উপস্থিত হইয়া দময়ন্তীকে ভক্ষণ করিতে অগ্রসর হইল। তখন দময়ন্তী “কাতর ভাবে বিলাপ করিতে করিতে বলিলেন “হা, নাথ, এই সময় আপনার শ্রীচরণ দর্শন হইল না। আমি এই সর্পের দংশনে মার যাইবার জন্যই জন্ম গ্রহণ করিয়াছিলাম। মরি তাহাতে ছুংখ নাই, কিন্তু এই মৃত্যুকালেও আপনার লহিত সাক্ষাৎ হইল না।” এম্পন সময় দূর হইতে এক ব্যাধ সেই সর্পের প্রতি বাণ নিক্ষেপ করিয়া সর্পের প্রাণনাশ করিল; কিন্তু ব্যাধ ভীষণ মুন্তিতে দময়ন্তীর নিকট অগ্রসর হইল। নিরাশ্রয়া দময়ন্তীর প্রাণের মধো তখন কি হইতেছিল তাহা অন্য কিছুর সহিত উপমাযোগ্য নহে তখন দেবী আকাশের প্রতি

( ২৯ )

সতীত্ব মাহাত্ম্য

দৃষ্টিপাত করিয়া কহিলেন “হে সৃধ্যদেব আপনি বিপদ হইতে দাসীকে রক্ষা করুন।” এই বলিয়া সতীত্ব রক্ষার জন্য ব্যাকুল হইয়া পড়িলেন। নিবিড় বন, জনপ্রাণী নাই, কে তাহাকে রক্ষা করিবে? ভগবানকে ডাকিতেছেন আর ব্যাধকে পিস সম্বোধন করিলেন। পাপিষ্ঠ কোন কথাই শুনে নাই__ তখন কুপিতা ফণীনীর ন্যায় গ্রীবা বাঁকাইয়া ভীষণ ভ্রকুটিতে ব্যাধের দিকে চাহিয়া দেবতাদিগকে কহিলেন “আপনারা সাক্ষী আমার কোন দোষ নাই।” পরে ব্যাধের দিকে দৃষ্টিনিক্ষেপ করিয়া কছিলেন__ “সত্যশীল নলরাজ যদ্দি মোর পতি, নল বিনা অন্যজনে নাহি থাকে মতি। রে পাপিষ্ঠ পরশিতে নারিৰে আমায়, এখনি পোড়াব তোরে সতীত্ব ছটায়।” এই বলিয়া রক্তবর্ণ চক্ষে ব্যাধের দ্রিকে চাহিলেন, অমনি ভগবানের দয়ায় সতীত্বের মহিমায় সতীর ক্রোধাগ্রিতে ব্যাধের শরীর জ্বলিয়া উঠিল। দেখিতে দেখিতে ব্যাধ ভস্ম হইয়া গেল। দময়ন্তী অদ্ধবস্ত্রে পাগলিনী, বনে বনে ঘুরিতেছেন, আর তীহার স্বামীকে খজিতেছেন। তিনি যেখানে যাহাকে দেখিতেছেন, তাহাকেই জিজ্ঞাসা করিতেছেন, “তোমর৷ কি নলরাজাকে এই পথে যাইতে দেখিয়াছ ?” তটিনী দেখিতেছেন

)

সতীত্ব মাহাত্ম্য

কাতর হইয়া জিজ্ঞাসা করিতেছেন “দেবী, তুমিত বহুদুর হইতে আসিতেছ, প্রভু কি তৃষ্ণায় কাতর হইয়া তোমার তীরে জল পান করিতে আসিয়াছিলেন 1” কমল দেখিয়া কহিতেছেন, “হে কমল, তুমি আমার নলকে লুকাইয়া। রাখিয়াছ ?” এই রূপ ব্যাকুল হইয়া অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন, কোন সন্ধান পাইলেন না। ক্রমে তীহার পিতার রাজ্যে উপস্থিত হইলেন মাতাপিতা দেখিলেন দময়ন্তীর আর সে বূপলাবণ্য নাই, সে হাসিমাখা মুখ নাই, আছে মাত্র পরম সৌন্দধ্য সতীত্বের। তাহার অবস্থা দেখিয়৷ ভীমসেন সত্বর রাজ্যে রাজ্যে লোক পাঠাইলেন, প্রত্যেক লোককে যাইবার সময় দময়স্তা বলিয়। দিলেন “আপনারা রাজসভায় এবং যেখানে সেখানে যাঁহ|কে দেখিবেন তাহাকে এই প্রশ্ন করিবেন__ একাকী নি্জনে লইয়া চিরি অদ্ধ শাড়ি কোন দোষে ছাড়ি গেল৷ অনুরক্তা৷ নারী ?

যদি কেহ এই প্রশ্নের উত্তর দেন আপনি আমিয়৷ আমাকে বলিবেন।৮ চরগণ প্রত্যেক দেশে প্রত্যেক লোককে এইরূপ করিয়া বলিলেন। একদিন এক চর রাজ খতুপর্ণের সভায় একথা উত্থাপন কারলে বাহুক নামে এক রাজার সারথি চরকে ডাকিয়া অন্থস্থানে লইয়া গিয়া কহিলেন “চর, আপনি কোন দেশ হইতে এখানে আসিয়াছেন, এবং সে মেয়েটা আপনার

( ৩১ )

সতীত্ব মাহাত্ম্য

কে হয়।” চর বলিলেন “সে মেয়েটা ভীমসেনস্থতা দময়ন্তী, তিনি আমার প্রভুকন্া! |” বান্তক বলিলেন “তোমার প্রভু- কন্যার অন্যায় কম্ম, কারণ তাহার স্বামীর দোষ সকলের কাছে প্রকাশ করিতেছেন। তিনি যদি সতী হইতেন তাহ হইলে কখনও এই কথা বলিতে পারিতেন না ।” বানধকের এই কথা শুনিয়া চর দময়ন্তার কাছে গিয়া সমস্ত বলিলেন। দময়ন্তী তাহাতে কুতজ্ভরতা প্রকাশ করিয়া কহিলেন “আর একবার সেইস্থানে যাইতে হইবে রাজা খতুপর্ণকে বলিবেন দময়ন্তা দ্বিতীয়বার স্বয়ন্বর ইচ্ছ1 করিয়াছেন, বনু রাজা বিদর্ভ রাজ্যে উপস্থিত তইয়াছে আপনি যদি তাহাকে পাইতে ইচ্ছা করেন তবে ত্বরায় গমন করুন|” দময়ন্তার আদেশমত স্থদেব তখনি খতুপরণ্ণের কাছে এই সংবাদ বহন করিলে তিনি নল রূপী বাহক সারথিকে শীঘ্র রথ চালিত করিতে বলিলেন। বাহুকের রথচালনা মন্ত্রে তেজে কলি আর তাহার শরীরে থাকিতে পারিল না। সেইক্ষণেই কলি যোড়হাতে নলের নিকট উপস্থিত হইলে নল তাহাকে তগ্ক্ষণাৎ খডগদ্বারা কাটিতে উদ্ধত হইলেন। কলি বলিল “আমাকে মারিবেন ন৷ আপনাকে হিংসা করিয়া আমার ভীষণ দুর্দশা হইয়াছে ।” নল কলির কথায় তাহাকে ক্ষমা করিলেন এবং দ্রুত রথ চালাইয়া বিদর্ভরাজ্যে উপস্থিত হইলেন।

( ৩২ )

সতীত্ব মাহাজ্ময

সেখানে শয়ন্বরের কোন আয়োজন নাই, কাজেই তীভারা কয়েক দিন রাজ্যে অবস্থান করিলেন। কালক্রমে নলরাজার পুত্রকন্যার সহিত নলের দেখা হইলে অপত্যন্সেতে কাতর হইয়া তাহাদের মুখ চুন্বন করিলেন। এই সংবাদ দময়ন্তার নিকট পৌছিলে তিনি স্বয়ং আসিয়। নলরাজাকে দেখিলেন। তখন নল তাহাকে দেখিয়া আত্মবেগ সমন্বরণ করিতে না পারিয়া অভিমানভরে বলিয়া ফেলিলেন “হা অদৃষ্ট ! একদিন মিনি বিদর্ভর।জ্যে দ্েবতাদিগকে উপেক্ষা করিয়৷ নলরাজাকে বরণ করিয়াছিলেন আজ সেই দময়ন্তার দ্বিতায়বর স্থয়ন্বরের কথা শুনিতে হইল!” দময়ন্তী কথা শুনিয়া একটু লজ্জিত হইলেন তথাপি দুটতার সহিত বলিলেন “দময়ন্তী পতিগ্রহণ করিবে সত্য নল যখন ছদ্মবেশ ধারয়া পরের দাসব স্বাকার করিয়াছেন তখন দময়ন্তাকে সেই ছল্মবেশধারা সারথি সেই নলকে পুনরায় আজ পতিরূপে গ্রহণ করিতে হইবে। পুর্বে রাজরাণী ছিলাম, এখন সারথিনা হহব। দ্বিতীয় পতি না হইলেও দ্বিতীয় বার বটে ।” তখন দময়ন্তা নলের বেশ বণ মলিন দেখিয়া জিজ্ভাস। করিলেন “বেশ এমন কেন ?৮ নল বলিলেন “কর্কট ₹শনে এইরূপ হইয়াছে ।” তখন দময়ন্তার অনুরোধে নল কর্কটকে স্মরণ করিয়া নিজের রূপ ফিরিয়া পাইলেন। দময়ন্তীর নয়ন ফাটিয়া জল পড়িতে লাগিল। স্বামীর পদতলে পড়িয়া

( ৩৩ )

সাত্ব মাহাত্মা

কাদিতে লাগিলেন। পুত্রকন্তা বহু দিবস পর পিতাকে দেখিয়। আনন্দে অধীর হইয়া পড়িল। খতুপর্ণ রাজা কতক দিবস তথায় বাস করিয়া স্বরাজ্যে ফিরিয়। গেলেন। ভীমসেন নলকে বিদর্ভরাজ্য দান করিলেন। নল রাজোচিত বেশতৃষায় সজ্জিত হইয়৷ রাজসিংহাসনে বসিলেন, দময়ন্তী রাজরাণী হইয়া তাহার বামে বসিলেন। পুত্রকন্যা সিংহাসনের পার্খে দাড়াইলেন। বহুদিন পরে বিদর্ভরাজ্য উৎসবে আনন্দে পুর্ণ হইয়া উঠিল। কিছু দ্রিন পরে নল রাজা নিষদরাজ্যে উপস্থিত হইয়া তাহার কনিষ্ঠভ্রাতা পুক্ষরকে বলিলেন “একবার পাশায় হারিয়া রাজ্যধন সমস্ত পরিত্যাগ করিয়া বনে গমন করিয়াছিলাম, এস, পুনরায় আর একবার তোমার সহিত পাশ! খেলি। এবার আত্মবাজি রাখিয়া খেলা হইবে”_-এইরূপে খেলা আরম্ত হইল কিন্থু ক্রমে ক্রমে নল রাজা সমস্ত হস্তগত করিলেন দেখিয়া পুক্ষরের মুখ বিবর্ণ হইয়। গেল। সজল নয়নে কাদিতে কাদিতে নলের পদদ্বয় ধরিয়! ক্ষম! প্রার্থনা! করিলেন ভ্রাতার সজল নয়ন দেখিয়া ধন্মপ্রাণ নলের আর সহ্য হইল না, তিনি দুই হাতে ভ্রাতাকে আলিঙ্গন করিয়া তাহাকে অতয় প্রদান করিলেন। নিষদ রাজ্যে রাজ! হইয়া দময়ন্তীকে বিদর্ভ হইতে আনিলেন। কিহু দিন পরম স্থুখে রাজ্য পালন করিয়া দময়ন্তীর সহিত স্বর্গে গমন করিলেন। তাহারা আজ

৩৪ )

সতীত্ব মাহাত্মা

বনুদিন হইল ইহলোক পরিত্যাগ করিয়া গিয়াছেন কিন্তু তাহাদের কীর্তি এখনও চিরস্থায়ী

( ৩৫ )

ষষ্ট অধ্যায়। সতী পতিব্রত।

সতীর সতীত্ব কাহিনা চিরদিন জগতে বর্তমান থাকে, ভাহ1! কখনও লোপ পায় না। সতীরা যে কাধ্য করেন তাহা সাধারণের চক্ষে অসম্ভব গুরুতর কাধ্া বলিয়া মূনে হইলেও তাহারা সে কাধ্য অতি সহজে আনন্দিত মনে সম্পন্ন করিয়া কৃতার্থ হন। এইরূপ আর একজন আদর্শ সতীকে দেখিতে পাই, যিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে স্বামীসেবায় আত্ম

জীবন নিয়োগ করিয়া ধন্য হইয়াছিলেন। তিনি পতিত্রতা নাম্নী এক দ্বিজ কন্যা তীহার স্বামী এক কুষ্টরোগগ্রস্ত ছিলেন, তথাপি তিনি স্বামীর কথা অবহেল! বা ঘবণা করিতেন না। স্বামী কুষ্ঠরোগগ্রাস্ত হইলেও প্রত্যহ তাহার চরণামৃত পান না করিয়৷ অন্য কিছুই আহার করিতেন না। প্রতিদিন অতিকষ্ট করিয়া দরিদ্র স্বামীকে পালন করিতেন একদিন পতিত্রতা সন্ধ্যার সময় যমুনায় জল আনিতে যাইতে- ছিলেন এমন ময় দৈবচক্রে মাগুব্য মুনির ধ্যান ভঙ্গ হয়, এই অপরাধে সূর্য্যোদয়ে স্বামীর মৃত্যু হইবে অভিশাপ দিলেন। সতীর কাণে সেই নিদারুণ কথ! প্রবেশ করিল। তিনি চমকাইয়া

[৩৬ )

সতীত্ব মাহাত্ময

উঠিলেন এবং জুলস্ত অগ্নির ন্যায় সতীত্ব তেজ বাহির হইতে লাগিল। তিনি বলিলেন “সূর্যযোদয়ে আমার স্বামীর মৃত্যু হইবে ?- হে সূষ্য 1” সুষ্য যোড়হস্ত হইয়া কহিলেন “কেন মা, এই যে উপস্থিত।” পতিব্রতা বলিলেন “আমার আজ্ঞা না হইলে তুমি উদিত হইবে না। বদি উদিত হও তবে আমার তেজ দেখাইব।” ক্রমে তিন দিন গত হইল পৃথিবীতে হাহাকার পড়িয়া গেল। দেবগণ স্বর্গে বিস্মিত হইয়া বিষু্র নিকট গমন করিলেন। প্রভু কহিলেন “সতীর বাক্যে দিবাকর উদিত হইতে পারেন নাই ।” দেবগণ বলিলেন “আপনার কথা পৃথিবীতে এমন কেহ নাই যে অগ্রাহ্য করে।” নারায়ণ কহিলেন “আমার কথা সকলে অন্যথা করিতে পারে কিন্ত সতীর বাক্য কেহ অবহেলা] করিতে পারে না। যদি দিবাকর নিজ তেজে উদ্দিত হন, তাহা হইলে সতীর তেজে সেইক্ষণেই ভন্মীভূত হইয়া যাইবেন। সূষ্য মনে করিলে লোককে দগ্ধ করিতে পারেন; কিন্তু সেই দ্িবাকরকেও সতী সতাত্বের তেজে দগ্ধ করিতে পারেন। দিবাকরের অধিক সতীর তেজ। আমি সুধ্যকে উদ্দিত হইতে বলিতে পারিব না।” এই কথা শুনিয়া সকলে হতাশ হইয়া পড়িলেন। দেবগণের এইরূপ অবস্থা দেখিয়া নারায়ণ কহিলেন “ভগবতী, আপনি নিজে যাহয়া সতীর নিকট সূর্যোদয়ের ভিক্ষা করুন।” তাহা শুনিয়া দেব

€( )

নতীত্ব মাহাজ্বয

গণ ভগবতী পতিব্রতার নিকট যাইয়৷ যোড়হস্তে কহিলেন, “মা, আমরা আপনার নিকট একটা ভিক্ষা চাহিতে আসিয়াছি, দয়া করিয়া দিতে হইবে। মা, দয়া মায়া করিয়া পুত্রকন্তা- দিগকে রক্ষা করুন|” তাহাদের এইরূপ স্তবস্ততি শুনিয়। করুণামষী পতিব্রত। কহিলেন “আপনারা কি নামত্ত এইরূপ বিনয় করিতেছেন, আপনাদের বাক্য পালনে আমার প্রাণ যায় তাহাও ভাল তথাপি আপনাদের মনোবাঞ্চণ পুরণ করিব ।” ভগবতী বলিলেন “মা, আপনি সুধ্যকে উদ্দিত হইতে বারণ করিয়াছেন। পৃথিবী যায়, রক্ষা করুন।” তাহা শুনিয়া কৃতা- গ্ললিপুটে পতিব্রতা কহিলেন “এ কম্ম আমি কেমন করিয়া করিতে পারিৰ? দিবাকর উদ্দিত হইলে আমার স্বামীর মৃত্যু হইবে |”

ভগবতী কহিলেন “আপনি