ভগীরথ মিশ্র

বঞ্চিম চ্যাটার্জী গ্রীট | কলকাতা-৭০০ ০৭৩

প্রথম প্রকাশ £ আগন্ট ১৯৬১ প্রকাশক

প্রদীপ বসু

বুকমার্ক

বাঁঞ্কম চ্যাটাজর্শ স্ট্রীট কলকাতা ৭০০ ০৭৩ মুদ্রক

নবদ্বীপ বসাক* , পাবালাঁসটি কনসার্ন

মধু গৃপ্ত লেন কলকাতা-"৭০০ ০১২ প্রচ্ছদ

গৌতম বসু

পিতা, প্রয়াত রাধাশ্যাম মশ্রর স্মৃতির উদ্দেশে

এক

আঁবনের শেষ

গভীর িশিরাতে বাণেশবর ঘোষের শোবার ঘরের জানালার পাশটিতে এসে নিঃশব্দে দাঁড়ালো গোক্ষুর ভন্ডা। সারা গা ভিজে গিয়েছে ঘামে মাথার কালো গামছাও ভিজে গিয়েছে ওষে। পায়ের হাঁটু অবাধ লাল ধুলো লেপটানো ভয় ক্লান্ত উত্তেজনায় গায়ের তাবত রোম শজার্র মতো খাড়া বুকের মধো ঢেশকর পাড়।

সাবেক আমলের দোতলা কোঠা বাড়ি মেটাল গ্রামটির মধ্যিখানে '্রিটিশ আমলের 'টিনের ছাউীন 'রানী মাক? টিন এখনো অটুট | বাণেশবর ঘোষ একতলাতেই শোয় ছেলে থাকে বউ-বাচ্চা নিয়ে দোতলায় ছেলে বলতে, ছোট ছেলে চপলাকান্ত 'বি-এ পাশ করে আজ পাঁচ বছর বেকার বাণে*বর জানে, ঘা বদ্যে, তাতে করে ওকে জম্মেও মাস্টার পেতে হবে নি। কিন্তু বাণেশবর ঘোষ স্বয়ং ইস্কুল কমিটির প্রেসিডেন্ট থাকাতে ব্যাপারটা অনা রকম কোন গতিকে একটি সৃফষোগ পাইলেই কে আটকায় বাটার চাকরি ! কার থাড়ে ক'টা মাথা! শুধু একটুখাঁন সুযোগ সঙ্গত একটি ছিদ্বু। বাণেশবর তার মধ্যে ছ“হচ হয়্যা ঢ্ীকয়া ফাল হয়্যা বারিয়াবে তল্লাটের তাবত মানুষ বিশ্বাস করে সেটা চপলাকান্ত এখন গাঁয়ের সমবায় সমমাতির মানেজার। বড় ছেলে শাঁশকান্ত থাকে নারানগড়ে সেখানে ঘোষেদের বিশাল ধানকুটাই কল কাপড়ের দোকান রৌঁজীস্ট্র অফিসের পাশে হলংদা রঙের দোতলা পাকা বাঁড়। বউ-ছেলে নিয়ে সেখানেই থাকে শাশকান্ত বাপের ব্যবসাপাতি দেখাশোনা করে একটু নিরীহ গোছের সে। ঠাকুদ্দা দুয়ারী ঘোষের রন্ত তার শরীরে কিঞ্চিত কম

ঘরের ভেতর থেকে নাক ডাকার বিকট আওয়াজ ভেসে আসছিল গোক্ষুর জানে, বাণেশ্বরের নাক ডাকছে যেন ধানকুটাই কল নঝুম রাতে এক- নাগাড়ে শুনলে গা ছমছম করে হাঁফাচ্ছিল গোক্ষ£র ভন্তা। বুকখানা 'তিড়ং তিডিং করে লাফাচ্ছিল খেলনা বাঁদরের মতো মুহূর্ত কাল খাড়া থেকে গোক্ষুর মদ স্বরে ডাক দেয়, ঘোষদা ঘোষদা হে

ধানকুটাই কলখানা থেমে যায় আচমকা কেবল হীঞ্ন বন্ধ হবার আগে

তস্কর--১

চাকার ঘসট্রান চলে আরো িছ-ক্ষণ ফোঁস-ফোঁস করে দম দেওয়া-নেওয়া করতে থাকে বাণে*বর ঘোষ

গোক্ষুর ফের ডাক পাড়ে ঘোষদা-- 1

কে? কেরে? আচমকা বিছানার ওপর তড়াক করে উঠে বসে বাণেশ্বর ঘোষ

'চেচাও 'ন। মুই গোখরা চাপা গলায় বলে গোক্ষুর ভন্ডা

আবার খানিকক্ষণ ফোঁস-ফোঁস আওয়াজ একসময মড়মড় করে কাঁকয়ে ওতে প্ালগ্ক আগের দিনের কাঁঠাল কাঠের চিজ নইলে বাণেম্বরের আড়াই মাঁণ বপুর ওজন সইতো নি জানালা 'িঃশব্দে খুলে ধায় একটা কালো বেড়াল জানলার শক গালে টুক করে লাফিয়ে পড়ে বাইরে | ক্ষযা- বাটারির টচের একচিলতে ঘসা আলো এসে পড়ে গোক্ষযরের মুখের ওপর একটু বাদে সদর দরজা খুলে ঘাম গোক্ষুর ভন্তা সুড়ুত করে চুকে পড়ে 1ভতর বাগে

দরজায় সাবধানে 'ছিটাকানি তুলে দেয় বাণেশবর লম্ফ জহালে। মদ আলোর সমুখে এসে দাঁড়ার গোক্ষঃর কালো গামছা দিয়ে গায়ের ঘাম মোডে | হাঁটু অবাধ ওষে ভেজা পুরু লাল ধুলোর ওপর ঘাসের বীজ আর ধানের ফুল মাখানো পায়ের পাতায় পুরু কাদার আস্তরণ অবস্থায় মেঝের ওপর ধপ করে থাবড়ে বসে গপঠখানা এাঁলয়ে পড়ে দেওদ্ালের গায়ে সারা মুখে সীমাহীন উৎকণ্ঠা আর অবসাদ

দরজাটায় ভালো করে হূড়কো এণটে 'দয়ে আসে বাণেশবিন ঘোষ পালঙ্কের ওপর গাঁট হয়ে বসে। হাই তুলতে তুলতে বলে. 'দেখি, কি আনচ্ুু |,

গোর টাঁকের ভেতর থেকে অতি সাবধানে বের কবে আনে একটি কালো নাকড়ার পঃটীল এাঁগয়ে দেয় বাণেশ্বরের দিকে

পূুণটলিখানা হাতে নিয়েও চুপচাপ বসে থাকে বাণেশবর ঘোষ মাথার সাদা চুলে হাত বোলাতে থাকে নিঃশন্দে! যাট বছর বয়েস বাণেশ্বরের 1 গোলগাল, থলথলে শরীর দাঁত পড়েনি একটাও ইদাননীং দীক্ষা ীনয়েছে। অণ্টাঙ্গে সকাল আকে কপালে এখনো রসকলির আভাস দেখতে পাচ্ছিল গোক্ষতর আশ্বনের শেষ রাতে অজ্প শীত পড়েছে চাদরটা টেনে নিয়ে গায়ে জড়ায় বাণেশ্বর ।" কোলের ওপর ন্যাকড়ার পঁটালখানা বাছয়ে ক্ষণ টচের আলো ফেলে নিকষ অন্ধকারে ঘিয়ে থাকা চিজগুলো, সহসা আলোর ছোঁয়া পেয়ে নিমেষে জেগে ওঠে যেন খিলাখালয়ে হেসে ওঠে বাণেশবরের চোখের সমখে | বাণেশ্বরের ঘুমে সুগারে ফোলা চোখ দুটো জোঁকের মতো লেপটে বসে যেতে থাকে ওগুলোর গায়ে উত্তেজনায় কাঁপতে থাকে বুক | সামণল নেয় বহুকষ্টে। বড় কঠিন মহত এই মৃহতে' উত্তেজনা প্রকাশ করা একেবারেই শাস্নবিরোধী ব্যাপার আত্মহত্যায় সামিল পটল থেকে বহু মেইনতে চোখ দাটাপুক উপড়ে তোলে বাণেম্বর |

৯০

যথাসম্ভব 'নিস্পৃহ গলায় বলে, 'ব্যস:? এই

গোক্ষুরের ঠোঁট জোড়া ঈষং ফাঁক হলো একটা অসহায় গোছের হাঁসি হাসবার আপ্রাণ চেম্টা করলো সে। তাতে করে ওর ঠেলে ওঠা চোয়াড়ে চোয়াল দুটো টানটান হলো বললো, "বাড়িটা বন্ড সতর-। বড় বাস্কোটার পাশে যাবার আগেই উঠ্ঠিয়া বুসজল বিছনায় 17

মনে মনে ভেংচি কেটে ওঠে বাণেশবর ঘোষ ! মুখে কোনও প্রাতিফলন হয় না তার ঠাশ্ডা চোখে গোক্ষুরকে কয়েক পলক দেখে তারপর শিরদাঁড়া সোজা করে দুচোখ মুদে বসে থাকে [শব ঠাকুরের মতো এক টুকরো কাঠের মতো 'নস্পন্দ |

ভেতরে ভেতরে ভীষণ চণ্চল হয়ে পড়াছল গোক্ষুর মনটা বার বার পাখনা মেলে উড়ে যাচ্ছিল নিজের ঘরের পানে সেখানে যে এতক্ষণে কি ঘটছে, ভগবানকে মালুম ! এই ভাবনাটা এতক্ষণ ছিল না। কাজে-কমে+ উত্তেজনায় চাপা ছল অনের মধ্যে বাণে*বর ঘোষের 'নরাপদ আশ্রয়ে, আলোর সূমুখে নিজেকে ফিরে পেয়ে আবার ভাবনাটা ভেসে উঠলো ভুস করে এক- রাশ আশবুকা লাউডগা সাপের মতো পেশচিয়ে পেশচয়ে উঠতে লাগলো বুক বেয়ে বউয়ের চোখ দুটো ভেসে উঠলো সমুখে | মরা মাছের মতো নিম্পলক চোখ এক জোড়া চোখ 'দয়ে মেয়েটা তার শরীরের তাবত যন্ত্রণা উগরে গদাতে চেয়েছে আজ সারাটা দন একসমরর চোখদুটোও বুঝি যন্ত্রণা বইবার ক্ষমতা হারিয়েছে তখন কেবল ফ্যাল ফ্যাল চাউীনি ফাঁকা ফাঁকা চোখ দুটিকে অবস্থায় দেখে সম্ধ্যা-রাতে ঘর থেকে বেরিয়োছিল গোক্ষুর হারি গাসর ওপর সমস্ত দায়-দায়িত্ব চাঁপয়ে তারপর আর জানে না কিছু

গলাটা অল্প ঝেড়ে 'নয়ে গোক্ষুল বললো” টুকে জলাঁদ কর, ঘোষদা ঘরে বড় বিপদ ॥,

দু'চোখ কুণ্চকে তাকায় বাণে*বর ঘোষ “বপদ »

'হ্ঁগো।॥ প্রায় ককিয়ে ওঠে গোক্ষ;র বিউটার বেদনা উঠছে পরশু সকাল থকে আগ্াঁড়পিছাড় খাইথল সন্ধ্া-তন্ক। তারপর ত' মুই বাঁরয়া আহাল ।,

ফোঁস করে গনঃ*বাস ছাড়লো বাণে*বর ঘোষ যেন আরো 'নাঁশ্চন্ত মনেই দেখতে লাগলো চিজগুলো সারা মুখ জুড়ে বিরাঁডর ছায়া আজ শুতে এমাঁনতেই রাত হয়েছিল মাড়োতলায় বিচার বসেছিল দেশ-মহারাজের | শুকর দলুইয়ের বউয়ের সঙ্গে ফণি পয়ড়ার লটর-পঠরের কেস আর, ভাগবত দাসের 'মান্ট-চুঁরর 'বচার 'িবেচারের পরে হলো রাত-পাহারার টিং এই সব সাত-সতের করে ফিরতে রাত হলো থানার বড়বাব খাওয়া-দাওয়া করলেন বাণে*বরের বাঁড়তে "তান যখন 'বদার নিলেন, তখন সাতভায়া তারা মাথার ওপর বিছানায় শুয়ে চোখ দুটো লেগেছে কি লাগেনি? শালা এস হাঁজর |

ঘরের মধ্যে একটা আঁবরাম কর.-র-রত কর-র-র: আওয়াজ কুট্‌ কুট

৯১

করে কাটছে কছু প্রথম আওয়াজটা আসছে পালজ্কের গা থেকে দ্বিতীয়টির অস্তিত্বীনরূপণ করা কিন কিন্তু একঘেয়ে এই শব্দটাতে বড় অস্বাঁ্ত লাগে গোক্ষ;রের

মুখ গোঁজ করে বাণেশ্বর ঘোষ বললো, এইটুকু চিজের তরে কাঁচা থঃমটা ভাঙিয়া দিলু ?

গোক্ষুরের দুচোখ অবোলা গরুর মতো করুণ হয়ে আসে ভেজা গলায় বলে, “ক করি ঘোষদা, তুমিও তাগাদা দিল বার বার মোরও আইজ জব্বর ঠাকা নাইলে )

বাণে*বর ঘোষের মনটা বাজে না সে কথায় বলে, “কিন্তু টুক চিজের তরে দিই বল: তো তোকে ? বলতে বলতে আলতো হাই তোলে বাণেশবর বালিশের তলা থেকে জপের মালাটা বের করে বাগিয়ে ধরে ডান হাতে

গোক্3রের মুখে কথা সরে না। বাণেশবির ঘোষের দিকে ভয় ভয় চোখে তাকিয়ে থাকে সে। রায়ের পূর্ব মুহূতে কাঠগড়ার আসামীর মতো এই মানুষাঁটকে যতই 'িবিকার দেখাবে, ভেতরে ভেতরে ততখাঁন ভয়াল হয়ে উঠবে সে। গোক্ষুর জানে

মিনামনে গলায় গোক্ষুর বলে, “দও টুঁকে বিবেচনা কাঁরয়া ঘরেও বিপদ সেটাও মাথায় রাখ ॥,

বাণেশবরের চোখ-মুখের কোনও প'রিবতন হলো না। 'জানসগুলোকে বাঁহাতে বার দুই নাড়াচাড়া করে বললো, 'শতখানেক টাকা 'িয়া যা।"

ভশষণ চমকে ওঠে গোক্ষুর ভন্তা, বিল কী ঘোষদা! অন্ততপক্ষে সাড়ে সাত-আট ভি সোনা তাছাড়া, দলে ভূষংণা' লালা, পদসা-সাকুল্ো চারজন বিচার লোক তুম টুকে বিচার কাঁরয়া কথা কও ।'

মুখখানাকে পেচার মতো করে বসোঁছল বাণে*শবর ঘোষ তাই দেখে গোক্ষুর ফের বলতে থাকে? 'আইজ বড় ধকল গেছে ঘোষদা চমক-চমক মন [লরা কাজ সারতে হৈল ত"। গনটা পাঁড়য়াছিল ঘরের ঢেশকশালে ধরা পাঁড়িয়া বাবার ষোল আনা জো ?ছল আইজ 1,

বাণেশবর ঘোষ একদন্টতে তাকিয়োছিল চিজগুলোর 'দিকে। চোখ তার বারবার বি'ধে যাঁচ্ছল হারছড়াটার দকে 'বছে হার বেশ ভার সার ওজন কম করেও আড়াই ভার সাবেক দিনের চিজ তো ভেতরে ফাঁক- ফোকর নেই ! শালা হরেছে এক ফাঁক-ফোকরের যুগ ! সব কিছুই ভিতর ফাঁপা বাইরের থেকে ফোলা ফোলা লাগে যত না! সোনা, তার দশগুণ খাদ আসল মানুষ, আসল চিজ, মেল।ই দায় সব কিছুই দো-আঁশলা প্টণলির একেরে তলায় একজোড়া বকুল-ফুল ঠিক মাঁধ্যখানে তারার মতো পাথর বসানো ভারি ভালো লাগলো বাণেশ্বরের মালতাঁ, মা-মনসা গাঁয়ের গুণা কামারের মেয়ে মেয়ে তো নয়, শাঁসে জলে পুরছজ্টু নারকোলাট ফুল জোড়াটি দেখতে দেখতে সহসা মালতীর কথা মনে আসে মালতী এখন নাশ কামারের বৌ বদ্ধস্য তরুণাঁ ভার্ধা। নিশি শালা দিনরাত

গনগনে আগুনের সামনে বসে লোহা পেটে গভীর রাতে সি“দ-কাঠ বানায় আর ঘরে আগুনের খাপরাট হয়যা বিছানা এপাশ ওপাশ করে যুবতী বৌটা বাণেশবরের দিদির 'গঙ্গাজল' ছিল মালতাীর না। সেই সুবাদে আনাগোনা ছিল বাণে*শবরের বাখুলে হাসপাতালে ছ'মাস নরক ব্তুণা ভোগ করে অকালে বিদায় নিল গুণা কামার শেষ দেখা দেখতে গিযেছিল বাণেশবর হাত দুটো জাঁড়য়ে ধার আকুল কেদেছিল লোকটা মালতীকে টুকচার দেখো ষেন ভাঁসরা না যাক বাণেশবর ঘোষ ষোল আনা আশ্বাস দিয়েছিল অকে দিয়া ভাইবোগন অর সব ভার আমার

নিশি কামারের প্রথম বোটা ছিল জন্ম রোগা একটি মাত্তর মেয়ে বিইয়েছিল সাকুলো আচমকা মরে গেল নিশি নেমেটাকে বশে দিখেছে কোটালচকে

মেনের বিয়ের পর হাত-প। ঝাড়া হয়ে গেল নাশ কামার খাল দিনরাত লোহা পেটে আর গাঁজা খায় দে.'শুনে মালতণীকেই সাঁজয়ে গুজিয়ে নাশর ঘরে থাপনা করলো বাণেশ্বর হাজার হোক, 'দিদির গঙ্জগাজলের মেয়ে সতুযুশখায় ওর বাপকে কথা দিনেছে বাণে*বর সেকি অতই অমানুষ যে, মতুযপথযারীকে দেওয়া বচনটুকু রক্খা করবে নাঃ আর. নিশি কামার, তার অত অনুগত জন তার একটা বউ রইবে নি 2 এই বইসে তাকে রাঁধয়া বাঁড়য়া দিবে কেও

অনেকাঁদন মেয়েটাকে ?কহু দেওয়া থোওয়া হয়নি মায়ামানূষের পিরশত হলো হাইল্ডং ধানের পারা খেপে খেপে সার-জল না জোগালে ভালো ফলন দেয় না। ছোট্র ফুলজোড়াটা ভাব মানাবে মালতাঁর কানে মুখ ঘুরালে- করালে 'ঝালিক তুলবে

আদাড়ে শেয়াল ডাকছে শেষ প্রহরের ডাক শমশানের শিমুল গাছের চূড়োয় কান্না জুড়েছে শকুনের দল হিমেল বাতাস দরজা-জানালার ফাঁক- ফোকর 'দয়ে ঢুকছে ধনে মাথাটা ঝিমাঝম করছে গোক্ষংরের তেষ্টায় গলা শুকিয়ে কাঠ |

যাস: শালা ! তুই 'ক রাত ভোর কাঁরয়া দিবি নাক রে? বল: ফিছো সহসা মালা থামিঘ্নে তাড়া লাগালো বাণে*বর ঘোষ, “মোর আবার রাতটি পৃহালেই মেদুনপুর হাইতে হবে ভাইয়ের খুনের কেসের দিন আছে ।,

ঘোষের কথায় গোক্ষুর যেন ঘুম থেকে জেগে উঠলো সহসা মনটা এতক্ষণ বসোঁহল বউয়ের পাশাঁটতে নড়ে চড়ে বসলো গোক্ষ:র

চোখে-মুখে অসহায় আকুতি ফুটিয়ে বললো, মোর কথাটা ট্রকে রাখো ঘোষদা বউটাকে হয়তো বেলদার হাসপাতালে দিতে হবে কাল ভোরেই তার খচ্চাটা আন্তত দাও ।,

“বলে, কি না কি! একেবারে ক্ষেপে ওঠে বাণেশ্বর ঘোষ, বিলে, নিজের বউয়ের কানি জ্‌টেন, স্যাঙাতের বউকে পাছা পাড়! গিনজের বউকে

৯৩

হাসপাতালে প্রসব করাইতে পাঠাইীন একটা দিনের তরে !, কথার মোড় অন্য- দ্কে ঘোরায় বাণেশবর, “ভিটা বম্ধক 'দিরা টাকা গছ? আইজ দুবছর শোধ দিবার নামাঁট ধরু নি নিয়মমত, কর্জের ওয়াশশল বাবদ কিছো কাটিয়া রাঁখয়া বাকিটা তোকে দিবা উচিত ।" ্‌

গোক্ষর নাচার হয়ে বসে থাকে আকাশ-পাতাল ভাবতে থাকে একটু বাদে বলে, “তুমাকে জীবনে কম মাল দিই নি ঘোষদা আইজ বিপদে পাঁড়িয়া মনাভি কাঁচছি_- 1,

সেটা আঁবাশ্য অস্বীকার করার জো নেই পযন্ত বহু মাল গোক্ষর ভন্তার হাত ঘুরে বাণেশ্বর ঘোষের 'সিন্দুকে সেশীধয়েছে গোক্ষুরের বাপ ক্ষ রোদ ভন্তাও আজীবন বাণেশবরের সন্দুকে মাল ঢুকিয়ে গেছে গোক্ষুর শালা ছি'চকা চোর, আর ক্ষীরোদ ছিল ডাকাত বলতে গেলে, ওদের জনাই আজ বাণেশবর ঘোষের এই বাড়-বাড়ন্ত

থানার বড়বাবুর আগমন হেতু বৌশ রাতে গুরুপাক ভোজন ঘুমও হয়নি ভালো |. বেশ অদ্বল হয়েছে বুকে

একটা লম্বা ঢেকুর তুলে মুখ বিকৃত করলো বাণে*শবর ঘোষ বললো, “আর 'তিরিশটা টাকা 'লিয়া যা। কথা বাড়াইস না। এমানতেই ধা শত হবার হয়্যা গেল মোর কাণ্চন-ব্ঁড়র না হোক পন.দ্রো-বিশ ভার সোনা ছিল তা বাদে, পুরানো দিনের রুপার টাকা পাক্কা খবর তুই শালা, শুধু-মদু ছার্‌কা গুয়ে লাঠি মারাল আর বচ্ছরের মধো বাড়ির বাখুলে ঢুকতে পারা 2 সতর. হয়্যাবে নি শালী ?

একনাগাড়ে গজ গজ করতে থাকে বাণেশবর ঘোষ জপের থাঁলর মধ্যে আঙুল নাচানোর লয় দ্রুত হয়

লজ্জায় মাঁটতে মিশে ধেতে চায় গোক্ষুর ভন্তা। 'বিড়াবাঁড়য়ে বলে, “বউয়ের ভাবনার-- 1;

“চোপ্‌ত শালা মেনি-মুয়া চাপা গলায় খেশিকয়ে ওঠে বাণেশ্বর ঘোষ, 'অত খোঁদ বউ অন্ত প্রাণ, বউকে বগলে গশীজয়া বসিয়া র' ঘরে মোর কত হাতটা আইজ কাল্লঃ সেটা খিয়াল আছে 2

চুপাট করে বসে থাকে গোক্ষুর ভন্তা। নিঃশব্দে হজম করতে থাকে বাণে*বর ঘোষের ভৎসনা ঘরের ভেতরটা নিঝঝুম হয়ে আসে লম্ফের মদ; আলো দ:জনের মধাখানে তির তর করে নাচতে থাকে শুধু দুজনের কালো ছায়া দুটো দেওয়াল বেয়ে ছাদের কাছাকাছি পৌছে মিশে যায় পরস্পরের সঙ্গে

সহসা বাণে*বরের উঠোনে কার পায়ের অস্পন্ট আওয়াজ! পর মুহূর্তে গলা খাঁকারি চমকে ওঠে বাণেশবর ঘোষ স্ব হীন্দ্রয়ে সতকতার ঘণ্টা বেজে যায় খাট থেকে মাথা নুইঞে চকিতে ফু" দিয়ে 'নাভয়ে দেয় লম্ফটা | [িঃ*বাস চেপে কাঠ হয়ে বসে থাকে দু'জনে |

৯৪

দুই

দেশ-মহারাজের বিচার সভায় বাণেশবর ঘোষই মধ্যমাণ দলের থানা কমিটির সে প্রোসডেন্টও বটে বাপ দুয়ার ঘোষ ছিল তল্লাটের ঝানু বিচার তার প্রতাপে বাঘে-গরুতে এক ঘাটে জল খেতো পণ্টাং অঙ্টাং ইত্যাঁদিতেও ডাক পড়তো তার দুয়ারী ঘোষের ছিল কুশের ডগার মতো ধারালো বাদ্ধি। ইতি না বলতেই সে গজ' বুঝে ফেলতো সারা নারাণ- গড় থানায় সে ছিল তার দলের এক নম্বর ব্যাস্ত খোদ অতুলা ঘোষের সঙ্গে ছিল তার তুই-তুকারির সম্পর্ক তো, তার বেটা বাণেশ্বর ঘোষ বাপকা বেটা তবে দেশ-মহারাজের আসনে বসে বেশ জমিয়ে বিচার-পণ্চাত করার দন ফুরিয়ে আসছে দ্ুুত। পর পর দুটো যুক্তফ্রষ্টই দেশ-গাঁয়ের বারোটা বাজিয়ে দিয়ে গেছে সেই যে হরোঁকিত্টো কোঙার মেদুনপুর শহরে মিটিং করে সবাইকে লাঠ-সড়াকর ডগায় বেনাম জমিনের দখল নিতে বললো, দেশ- গাঁয়ের অধঃপতন শুরু হলো তখন থেকেই হরোকিজ্টো কোঙার আাদ্দিন বেচে থাকলে গাঁঘরের ভদ্দরজনদের হাতে ভিখের ঝুলি ধাঁরয়ে ছাড়তো অনারাই বা কম কিসে! কম জবালিয়েছে সাতষাঁট্র থেকে একাত্তর ? শালা, 1নজের ঘরে চোরাট সেজে বসে থাকা | সন্ধাঁট হলেই দরজায় খিল আর, 'বিচার-আচার 2 ফি-সন্ধ্যায় বিচার বসতো প্রদেযাৎ ভঞ্জর উঠোনে প্রদ্যোৎ ভঞ্জই এলাকার এক নম্বরের ন্যাতা তখন। আর নিতাই-মাস্টার ছিল তার সাগরেদ ছোকরা বয়সে বালক-সংগশীতের দল গড়েছিল 'নতাই গলাঁট খাসা ছিল তার ওর কাছে তালিম পেয়ে বাচ্চাগুলো তৈরী হয়োছল দারুণ দলটা চলাঁহল ভালোই | বাচ্চাগুলে। কালে কালে ধেড়ে হলো ভেঙে গেল দল। নিতাই ঢুকলো খাঁলনার বোসদের আদ্যাশান্ডত অপেরায়? হারমোনিয়াম বাজতো সুরও দিতো পালার গানে।

বেশ ছল লোকটা | বারো মাস তারশ দিন দলের সঙ্গে ঘুরতো আঘাটায় বেঘাটায় আচমকা দল-টল ছেড়ে সে নাম লেখালো পার্টিতে এমনই দুম্ধতি! বিচার-পণ্জাতে নিতাই বড় একটা থাকতো না। তার দ্যান্ট ছিল এলাকার তাবত জোতদারদের বেনাম জমিনের ওপর তল্লাটের চুয়াড়-সাঁতালদের জড়ো করে বেনাম জাঁম দখল করতো লাল-্ঝান্ডা প*্তে। সে নাকিহয়ে উঠেছিল গরীবদের 'মা-বাপ' তো? প্রদ্যোৎ ভঞ্জর বিচার সভায় রোজ সন্ধ্যার ডাকা হতো এলাকার একজন কি দুজন সম্দ্রান্ত মানুষকে নামেই [বিচার আসলে, চলে মানী লোকের মান হরণের বাবস্থা সদ খাটাও ক্যানে? বন্ধক রাখ ক্যানে 2 দেশের ধান চড়া দামে বাইরে 'বিক ক্যানে ? এসব কথা শুনে লোকে হাসবে না কাঁদবে, বল দেখি আরে, দেশ-ায়ের চিরকালের ধারাই যে তাই সুদ খাটাই, বম্ধক রাখি, ধান বিক মোর

১৫

বাপ-্টাকুদ্দা চোদ্দ পুর্ষ অনাঁদকাল থেকে এসব করে আসছে এটাই সমাজের রীতি কিন্তু কে শোনে কার কথা! ততক্ষণে শুরু হয়ে গিসেছে বাপ-বাপান্ত, গালাগাল কথায় বলে, ছোটলোকের মুখ সে মুখ একবার খুলেছে বেশিক্ষণ শোনা দু্কর আরে থাম বাপ সকল আর বাপ- চোদ্দ পুরুষ লিস নি চাচ্ছু, বল: হৈ-হৈ করে ওঠে বিচারকের দল ণটপছাপ ফেরত দাও বন্ধকী-দালল ফেরত দাও নাযা দামে গাঁয়ের লোককে ধান দাও লচেত তুমাকেও মাড়োতলার কাঁড়কাঠে টাঁওয়া দুবো | তুমি যমনটি কথায় কথায় টাঙাতে , মোদের মানা বাপ তোদের কথাই থাক: জান-মান লিয়া কুনো গাঁতিকে বাঁচিয়া রইলে' দোর বাপের নাম ! ভাগো বাহাত্তরে জিতছ্লা দল. ভাগ জরুরী অবস্থাটা আইস দেশে লচেত আদ্দিনে গাঁঘরের সব ভদ্দর-সঙ্জনদের ড়া চিরে ঘাস গজাইতো অবাক কাণ্ড, সিংহের মতন কেশর দুলিয়ে ধারা হম্বিতাদ্ব করাছুল, জরুর। অবস্থা জার হতেই, প্ণীলশ দচার বার 'ভিড়কা-ভিড়ীক করতেই, যে যার মন্ষার মতন গে সেশধয়াল-অ | প্রদ্োোও ভঞ্জ সকলের আগে কোথায় গেল সেই গণ- আদালত, কোথায় গেল সেই তজন-গজন, জোর-জুলুম ! দেশোঁয়ে আবার ফিরে এলো সেই পুরনো দিন সদ-বন্ধকী ফের শুন হলো চৈতনা সাহা ফের আড়তের কাটা টাঙালো নার।ণ গড়ের বাজারে সাবেকী দিনের বিচার-পণ্জাত' দেশ-সমাজ-_-আবার ঠাঁই 'নলো গাঁঘরে। ভদ্দর- সঙ্জনেরা হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো। এখন সব কিছুই ঠাণ্ডা কেবল কোটালচকের 'নতাই-মাস্টারটা টিমাটিম করে জঙলছে তা বলে শালাকে গাঁয়ে বাস কবতে দেয় 'িন বাণে*বর ঘোষ পুরোপযার গাঁছাড়া করেছে ওকে থানার ওর নামে এক ডজন কেস ঝুলছে পাুঁলশ আতি-্পাঁতি খুজছে শালাকে একটিবার বাগে পেলেই গাছায় হুড়কা ঢুকাবে কম করেও দর্শট বছর জেলের ভাত ওর বাঁধা কঠিন কাঁঠন কেস সব। খুন, রাহাজানি, দাঙ্গা, ঘরে-আগুন”_ সব এলাকা ছেড়েছে বটে, তবুও ভয় ঘোচেনা বাণেশ্বরের তকে তক্ষে রয়েছে সে। একটিবার হাঁদশ পেলেই, থানায় পাঠাবে খবর শালা যাবে কোথায়; আজ হোক' কাল হোক ধরা ওকে পড়তেই হবে চতুরদিঁকে বাণেশ্বর ঘোষের লোক 'শকারী বেড়ালের মতো খুজে বেড়াচ্ছে ওকে বিশেষ করে ন্যাকা-সুধীর নেমে পড়েছে পরো দামে | গোয়েশ্দাগারতে তার তুল্য লোক আর ভূ-ভারতে নেই

আজ মাড়োতলায় দু'টো কেসের বিচার ছিল এক' দুগাঁ পূজার সময় ভাঁড়ারঘর থেকে ভাগবত দাস চুরি করছিল এক ঝুঁড় মিঠাই দুই' শুকর দলুইয়ের বউয়ের সঙ্গে ফণি পয়ড়ার লটর পটর বিচার দুটো জলদি নিষ্পান্ত করবার দরকার ছিল কারণ, সম্ধোষ থানার বড়বাব; আসবেন মেট্যাল গ্রামে আর-জি-পাট' থেকেও কাজ করছে না। চুঁরচামারি বাড়ছে দিন দিন & ধিয়ে আলোচনা হবে বিচারের পর ! দলের থানা কমিটির প্রোসডেশ্ট বাণেশ্বর ঘোষ তার গ্রামেই যাঁদ ছুঁর-চামারি না কমাতে পারে প্যালশ। নখে

১৬

চুনকালি পড়বে না2 বাণে*বর ঘোষ তাড়া লাগায়, জলাঁদ শর, কর হে। বড়বাবুর আইসংবার টাইম হয়াল 1,

ভাগবত দাস বসেছিল জমায়েতের একেবারে পিছনে সামনে এনে বসানো হলো তাকে বিচার শুরু হলো

গেল দ্‌গা পূজায় দেশের পক্ষে পজাশ্ঘরের ভাঁড়ারি ছিল ভূষণ বাগ ভাগবত দাস ছিল আসস্টে্ট কোন: ফাঁকে ভূষণের চোখ এাঁড়য়ে এক ঝুড়ি মি্টি চাদর-ঢাকা "দিয়ে নিয়ে পাঁলয়েছে ধরা তো পড়তো না। ওর বাচ্চাটাই ধারয়ে দিল সহসা মায়ের হাতে মিঠাইয়ের ঝাঁড় দেখে বাচ্চার ভালা ঝরে মুখে বাধ্য হয়ে একটা 'মঠাই ওর হাতে ধাঁরয়ে দেয় ভাগবতের বউ বাচ্চা বোঁরয়েই দৌড় মারে কুয়াতলার দিকে সেখানে সমবযসবীদের আড্ডা তারা শজভে জন ঝরাতে ঝরাতে দেখতে থাকে ওর মিঠাই খাওদা বেযার মায়ের কাছে গিয়ে মিঠাইরের তরে বায়না ধরে ধাঁ,র ধীরে কথাটা চাউর হয় পাড়ায় এবং কালকমে তা মথ্‌র পাঁখরার কানে আসে |

মথুর পাঁখরা,গেল বছরের আগে অবধি হিল ভাঁড়ারহ়ার আসস্টেন্ট দু'কুঁড় শালপাতা আর এক ডজন হাজাকের 'মেনথেল' ঝেপে দেবার অপরাধে সে পদছুাত হয়েছে তার বদলে পদে এসেছে ভাগবত দাস পাক্কা এক হপ্তা সারা গ্রামবাপশী মথুর পাশখিলার এই গিখালা, কাজের জনা ধিকার জানিয়েছিল ভাগবত দাস পাশাপাশি 'ঈনজের জীবনের অসংখ্য সততার ভাশ্ডার থেকে টদাহরণ যোগা দহ'দশাঁট মণি-মুক্ডা খশুটে এনে উপহার দিয়েছিল পারশেষে' এক হপ্তা বাদে. 'িচারের আসরে, 'দ্যাবতার ধন যে চুর করে, সে বেজন্মার হাত কাটিয়া 'িবা হউ” ধ্যান তুলাছল এত সবের সুবাদে মথর পাশখিরার পদটি জুটোছল ভাগবতের কপালে এক বছরও টিকলো না। কারণ, ভাগবতের ব্যাটার মিঠাই খাওয়ার ব্যাপারটা, পাড়াময় রটতে রটতে এক সময় মথঃর পাখিরার বউয়ের কানে আসে বউয়ের মুখে ঘটনাটি শোনা অবাধ চণ্চল হয়ে ওঠে মথুর পাঁখরার মন তার ডান- চোখ নাচতে থাকে গেলবার বিচারের থানে পয়লা চটকায় মুখ খুলে গছ ভাগবত দাসই. ননে পড়ে যায় সেই স্মতত। শেষমেষ ঠাকুরের থান? জিনিস চর করল; 2 তোর কপালে দাঁড় জুটেনিরে 2 মর মর, মরিয়া মা। অতই যোঁদ লোভ ত" দশজনের কাজে ঢুকু ক্যানে? কথাগুলো মনে হলে এখনো বন্ধ রথ জবলতে থাকে মথর পাখিরা খুলে যাওয়া কাছা বাগাতে বাগাতেই ঝাপটে হাঁটা দেয়, মাড়োতলায় খবরটা দিতে

গাড়োতলা তখন লোকজনে ঠাসা এমন মুখরোচক খবরকে মাঁটিতে পড়তে দিলো না কেউ ভাগবত দাসকে ডাকা হলো বাবৃভায়াদের সুমুখে | [জগানো হলো কথাটা প্রথমে রাজনৈতিক নেতার আদলে একটি লম্বা ভাষণ ঝাড়লো ভাগবত দাস জীবনে আর যাই হোক, তাকে যে কেউ কোন দন চুরির অপবাদ দিতে পারে নি” অমন হীন-রসে যে তার জনম: হয় নি, তা হরেক তথা উদাহরণ সহযোগে প্রাঞ্জল করলো সে। যে পড়া-মঃয়া অমন

৯৭

অপবাদ দেয়, তার মৃহে পোক: পড়বে, জিভ খাঁসয়াবে”--এমন আঁভসম্পাতও দিল এবং ব্যাপারটা প্রমাণ করতে পারলে সারা গাঁ নাক ঘসটাবে, এমন প্রতিশ্াতও দিল অবশেষে, এক সময় কাঁদতে শুরু করলো সেকান্না উত্তরোত্তর বাড়তে লাগলো এবং অবস্থায় সে বাণেশবর ঘোষের পান্দুটো জাঁড়য়ে ধরে, 'ও ঘোষের পো, মোর গলায় পা তুলিয়া দউন গো-_, বলে বার বার মিনতি জানাতে লাগলো কারণ এমন হীন অপবাদ শোনার পর তার আর বেচে থাকবার 'তিলমান্র ইচ্ছে নেই কিক্তু 'ছিচ-কাঁদমিতে ভোলে না বাণেশ*বর ঘোষ তথা দেশ-মহারাজ দাশ-পাড়ার অন্তত ডক্তন খানেক বাচ্চা বউ 'ঝি সাক্ষ্য দিয়ে বসে ষে, তারা ভাগবত দাসের ছোট ছেলে পশ্াকাকে একটা আস্ত 'মান্ট খেতে দেখেছে একসময় পণ্যাকা ?াজেই তা কবুল করে বসে তখন ভাগবত দাস মহা-ীবরমে বলতে থাকে যে, সে নন্দ রাঁক্ষিতের দোকান থেকে দস্তুর মতো ন্গদ দাম দিয়েই কিনে নিয়ে গিরোছিল 'মিন্টি। শোনা মাই দেশ-মহারাজ তো খাপ্পা নন্দ রাঁক্ষতকে ডাকা হোলো বচারের থানে। নম্দর ঘর পাঁরজাতপুরে তিন-পুরুষের হালুইকর তারা ফি- বছর পৃজার ক'দন মেট্যালের মাড়োতলায় এসে দোকান পাতে

'তুমার সাহস ত' কম নয় হে! দেশ-মহ্ারাজ বাঘের ঝাপঢ নেয় নন্দর ওপর, 'পজা-কামাঁট ভোগ কিনবার আগে, তুমি কুন আকেলে পাবাঁলককে ভোগ বক-অ 2 আগে মানুষ খাবে তার বাদে দ্যাবৃতা খাবে ?

'অ।গে-ভাগে মানুষের মুখে গিয়া সব ভোগ্ই আহা ।' রাম্ন দিয়ে বসে শ্যাম চকোন্তি লধা জায় বলে বাখুনদের আসনে তার ঠাঁই নেই বহ্যাদন উঁচু জাতের লোকজন তাকে পুজো-আচ্চাতে ডাকে না। শ্রাদ্ধবরে-টরে ফলার টলারে ডাকলেও অল্প ব্যবধান রেখে পাত পাড়ে ওর জন্য সুযোগটি পাওয়া মানু মোক্ষম নিদানাঁট দিয়ে বসে সে এমন 'িদানের পেছনে গু উদ্দেশা আছে চাপা বাঙ্গ ভাবটা হলো, দেখি এবার তোদের উ“ছু জাতের ঠাকুর কি করিয়া খায় ভাষ: দেয় তোদের উচু জাতের পুরোহিত !

নন্দ রক্ষিত আকাশ থেকে পড়ে দেশ-মহারাজকে ভোগের 'মান্ট বেচার আগে পাধালককে বেচেছে সে? হস করে জহলে ওতে নন্দ! বলে 'দেখ ভাগবত, দিনভর আগুনশালে কাজ আমার গাথা গরম কিকন্তেকি, ক'রিয়া ফেলবো; তখন দোষ দিব 'ন মোকে।

নন্দ রক্ষিতের রুদ্ধ রূপ দেখে 'কিিত ভয় পায় বুঝি ভাগবত দাস

বলে, 'ভুমার পাশ কানন হে। তুমার জোগাড়দারই বিকছে মোকে। তুমি তখন বোধ লেয় লাইতে গিসলে ।,

দেশ-মহারাজ নিশ্চিন্তে বসে থাকে পায়ের ওপর পা তুলে ওদের আর কিছুই করণীয় নেই এখন মামলা বুঝে নিয়েছে দু'পক্ষ নিজের স্বাথেই লড়ে ধাবে ওরা: যতক্ষণ না নিত্পাত্ত হর দেশমহারাজ শেষ অবধি জাঁরমানা পাবেই হয় ভাগবত দাসের থেকে নয় নন্দ রক্ষিতের থেকে

নন্দ রক্ষিতের চেলা বাদল এসে দ;'দপ্ড জেরা করেই প্রমাণ করে দেয় যেঃ

৯৮

সে কাউকেই মিষ্টি বেচে নি। যে সময়ের কথা ভাগবত দাস বলছে' তখন মিষ্টি পাকই হয় নি। বেসন-চিনি এসেই পেশছয় নিন নারানগড়ের বাঙ্ছার থেকে অনেকেই স্মএৃত থেকে সাক্ষ্য দেয় যে বাদলের কথাই ঠিক। অবশেষে দেশ-মহারাজ যখন ভাগবতকে মায়ের থান স্পর্শ করে বলতে বলে; তখন সে অনেক ধানাই-পানাই করে, এক সময় সটান লুটিয়ে পড়ে বাণেশবর ঘোষের পায়ের তলায়

ছ্যা, ছযা, ছাহ্‌ বাণেশবর ঘোষের সারা মুখে অপারসীম ঘেন্না। “এক্েরে চোর-ছাঁচ্চোড়ে ভরিয়া গেল হে দেশটা! সামনের দিকে টুকচার নুইলেই ধছন থিকে আঁড়-কুষাটি কাটয়া ল্যায়! ধম-কম"। রর সব চীলয়াল-অ দেশুন;! মনুষাত্ব বলিয়া কিছো রইল নিন! ছানা

কিন্তু এই মুহ্‌তে সারা মেট্যাল গাঁ পূজার উৎসবে মেতেছে কাছে 1বচার স্থগিত রাখা হলো

সেই বিচারই আজ বসেছে

আজ আর নতুন্‌ করে কিছুই করণনয় ছিল না। ভাগবত দাসকে মাড়ো- তলার কড়ি-কাঠে বার দুই টাঙানো হলো ত্রাহ ত্রাহ রব তুললো সে। বাণে*বর ঘোষকে বার বার 'বাপ' বলে ডাকতে লাগলো তুমি মোর বাপ গো। হাঁড়ি দও এবারের মিন |

'শালা, পুই তোর বাপ বয়েসকাল অবাধ ফুলে ফুলে মধ; খাওয়া বাণেশবর ঘোষ সহসা কেন রা ক্ষেপে খায় দ্বিগুণ, টাঙিয়া রাখ: শালাকে মু” দিয়া রন্ত উঠিয়া মরু মুই অর বাপ? রাগে আম্িবর্ণ হয়ে ওঠে সে।

অবশেষে পাঁচশো-এক টাকা জাঁরমানা করা হলো ভাগবত দাসকে | খেরো- খাতায় দেশ-মহারাজের সদ্ধান্ত, ভাগবত দাসের স্বীকারোন্তি ইত্যাঁদ 'লীখয়ে। [টপসই নিয়ে, রেহাই দেওয়া হলো ওকে আমি প্রীভাগবত দাস, পতা শ্লীকান্ত দাস |

'জ্রীকান্ত লয় হে। 'লাখিয়া দও ক্ষীরোদ ভন্তা ।'

“কে; কে কইল কথাটা 2 দেশ-মহারাজের চ্‌ড়ামাঁণরা মুখ ফিরে তল্লাশ

করে

পেছন থেকে কথাটা ছড়েছে মথ্‌র পাখিরা বলেই মুহূর্তে নামিয়ে নিয়েছে মুখ

সবাই হো-হো করে হেসে ওঠে ক্ষীরোদ ভন্তাই বটে! অমন চোর- চড়ামাঁণর প্র নাইলে শত জনের সমৃখ িকে এক ঝুড়ি মীন্ট পাচার করতে পারতো নি।

শালার হাতে িপ্দ-কাঠি পড়লে এলাকা জবলিয়াবে হে-_ 1"

দুহাতে মুখ ঢেকে জমায়েতের পেছনে চলে যায় ভাগবত দাস। সামনে আসে শুকর দলুই আর ফাঁণ পয়ড়া

কেসটা আঁত সোজ। শুকর দলুইয়ের বউ আর ফাঁণ পয়ড়ার মধ্যে অবৈধ প্রেম হাঁড়র একটা ভাত 'টিপেই বাণেশবর ঘোষ বুঝে ফেলোছল,

৯৯)

বাপারটায় চেম্্নর পুরোপহাীর সায় আছে ময়া-বাঁব রাজ, তো ক্যা করেগা কাজী! হলো শাস্তের বচন শুকরাটা বোকার ডিম তাই ঘরের কেলেংকারা বাইরে এনেছে অথচ এসব জানিস বিচারের থানে হাঁজর করলে, তাকে হাল্কাভাবে নেওয়াও চলে না। সমাজ-সংসার অধপাতে যারে তাহলে গাঁঘরে আজকাল এই ধরনের অপকম” বাড়ছে শুঙ্খলা রাখাই দায়। যে যার নিজের শিংএ মাটি খড়তে চায় দেশ-মহারাজের িচার- আচার তো এমনিতেই লয় পেতে বসেছে এখন থেকে রাশ না ধরলে শেষ অবাঁধ আর সামলানো যাবে না এক জোয়ারেই ভেসে যাবে সবাঁকছু তার ওপর আজ শুকর দলই এসোছিল বাণেশবরের দুরোরে বংপরোনাস্তি কাঁদাকাটা করলো বিদায়ের কালে টাঁক থেকে বের করে দিছ; পূজা চাঁড়য়ে গেল বাণে*বরের হ্রীচরণে 1 জয় বাব। বাণেশবর-পাতাল-ফোঁড়ি- মাহাদেব-- পুজা লাগে বাবা বাণে*বর ঘোষ আম্বস্ত করেছে শুকরাকে

সেই “চারণেই শুকর দলুইয়ের বউয়ের 'ঢ্যামনাণ্টাকে একটু বেশি মান্রায় রগড়াতে হলো বিচারের স্থলে জরিমানা হলো দ7শো-এক এবং দেশ- মাহারাজকে মাংস-ভাত |

বিচার শেষ হতে না হতেই বড়বাবু পেশছে গেলেন আজ বাণেনবর ঘোষের বাড়ীতে বড়বাবু খেয়ে যাবেন রাতে সকাল থেকে 'কাঁস্ততে কাঁস্ততে তার আয়োজন চালিয়েছে বাণেশবর চবঁচোষা-লেহ্য এবং সবেপিরি ষপরোনাণস্ত পেয়

পেশীছোনোমান্ই বড়বাবু শুধোলেন, আচ্ছা, বংশী ভঞ্জ বাড়ীতে আছে £

কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারে না তা। বাণেশবর বলে, 'ঘরে সে খুবই কম থাকে স্যার দিন কয় আগে, বোধ কাঁর গয়া না পুর? 'লয়া গেল জনা কর বুড়া-বুড়ীকে ফিরেছে কিট

বড়বাব বললেন, 'ওকে একটু খবর দেবেন তো। জরুরী দরকার খাঁনকটা পুরনো মধু জোগাড় কবে দেবে বলোছিল-_1,

সাবেক আমলের ভার চেয়ারে গা এলিয়ে বসেন বড়বাব শুরু হয় রাত-পাহারার বৈঠক

বিকেলে অল্প বাণন্ট হয়েছিল আকাশে এখনো মেঘ রয়েছে হিমেল হাওয়া রইছে অল্প অল্প তাতে আবহাওয়ায় গুমোট ভাবটা কেটেছে

প্রথমেই বাণেবর ঘোষ দেশ'গাঁয়ে চুরি-ডাকাতি বদ্ধ তচ্জানত সংকট সদপকে নাতিদীর্ঘ বন্তৃতা দিলো 'মাঠের পাকা ধান দুশদন বাদে খামারে আইসবে এখনই সতর না হইলে ধগরম্ছের সর্বনাশ হয়াবে রাতের আঁধারে সব“স্ব 'িয়াবে শালারা 1

ডিহিপার লোধাপাড়া 'নিয়ে মেটাল গাঁয়ে প্রায় শ'দুই ঘরের বাস তায় ম্রধো বাণেশবর ঘোষ একজনই সংদেব মিদ্যা' কুলদা ডাক্তারের মতো দতন 'ঘরও কম যায় না আরো আছে জনা দশ-বারো. যাদের ঘরে ধান-চাল, বাসন-

ই০

কোসন কিছু সোনা-দানাও মিলবে বাঁক সবাই ভাগনচাষী, ছোট-চাষী, মহীনষ-মাইন্দার | খাটে-বাটে খেয়ে। না খেয়ে থাকে খাটা-বাটা না পেলে পেটে ভিজে গামছা জাঁড়য়ে শুয়ে থাকে আর আছে বিশশীতারশ ঘর লোধা, তাদের অবস্থা আর কহতব্য নয়

গানুষগুলো নিঃশব্দে বসে ঢুলছিল কেউ কেউ দিনভর কারো ক্ষেতে খামারে খাটা-বাটা করেছে জন্তুর মতো কারো কপালে কাজ জোটোন। তাই খাদাও জোটোন সারা দিন। এখন অসাড় শরীর নোতিয়ে পড়ছে ওপড়ানো লতার মতো শরীর আর বইছে না এখন | চোখ জংড়ে ঘুম আসছে কস্তু যত কষ্টই হোক, বসে থাকতেই হবে হলো ছার-চামারি বন্ধ করবার ণাটিং শমাঁটংএ গর-হাজর হলে বাঝুরা তার উল্টো অথ করবেন। 1বশেষ করে লোধা পাড়ার কেউ গর-হাজির থাকলে তো কথাই নেই এমানি- তেই লোধাদের ওপর বাবুভায়াদের অল্টপ্রহর সন্দেহ কাজেই অর্ধেক অঙ্গ কাটা গেলেও, বাঁক অর্ধেকটাকে টেনে টেনে হাজির হতে হবে চুর-রোধের [মাটং-এ | ঘুমে শরীর নোতয়ে পড়লেও, দু'চোখ খুলে রাখতে হবে একটু ঢুলতে দেখলেই বাবুরা বাঁকা চোখে তাকাবেন, শক রে, সন্ধ্যাবেলা ঘমাচ্ছু কানে ? রাতে উজাগর চলছে, নাকি ?৮ হীঙ্গতটা স্পন্ট।

বাণেশবর ঘোষ আরো স্পত্ট কথার মানুষ শুকনো কাঠের মতো খটখটে গলায় বলে. 'উজাগর চলুক, ক্ষতি নাই কিন্তু একটিবার ধরা পড়লে, হাত- পা কাটিয়া ছাঁড়য়া দুবো খয়াল থাকে যেন কথাটা চোর যাঁদ সাপ হয় তো, বাণে*শবর ঘোষ লেউলটট

দুচেখ রগড়াতে রগড়াতে বাণে*বর ঘোষের ভরাট গলার বক্তৃতা শুনছিল লোকগুলো এখনই সতর্‌ না৷ হইলে সব'নাশ হয়্যাবে হে। মানুষগুলো ভেবে পায় না তাদের কি সর্বনাশ হতে পারে !

“চোর আইলে মোদের আাঁড়কুষাগুলা ছাড়া আর কিচ্ছোটি পাবে নি ক' ঘরে। বথাটা বারংবার মনে এলেও মুখ ফুটে বলতে পারলো না কেউ বরং এক-সাধজন মিনামলে গলায় বললো, “সেটা ঠিক | চুঁর-চামারি বাড়লে সারা গাঁ'র বদলাম ।'

বাণেবর ঘোষের পর বন্তৃতা দিল ওর ব্যাটা চপলাকাস্ত অন্যায় যে করে, আর অন্যায় যে সহে-_কাঁবগরু বাঁলয়া গ্যাছন্‌। চোর চুরি কাঁরিয়া অনায় করে। আমরা যাঁদ সইয়া যাই, তবে আমরা আরো বেশি অন্যায় করবো চপলাকান্তর হাত আকাশের দিকে ম্ান্টবদ্ধ। অন্যায় সইবো নি যে কোনও মুল্যে রখবো |

মোর ছোট ছেলে, বাণে*বর তেলতেলে হাসে, পব-এ পাশ করিয়া বাঁসয়া আছে 7

বড়বাধ্‌ লেকনজর ছ'়ুলেন চপলাকান্তর দিকে 'বভ্ড রোগা স্বাস্থ্য ভালো হলে দেখা যেতো, কোথাও-_কিছ-

কেরানীর পদ-টদও তো থাকে পহীলশ দপ্তরে গদগদ হাসে বাণেশবর

১৬

শেষ অবাধ বড়বাব্র 'নিদেশে চপলাকান্তকে লিডার করে আর-জি-পাট গ-রাতে বিশ ঘর থেকে বিশ জন যে পারবে, 'িনজে যাবে নইলে লোক জোগাবে মাইনে দিয়ে ছাড়াছাঁড় নেই কারো গরীব-গুরবো লোকগুলো সার কথাটা বুঝে ফেলেছে ততক্ষণে বাব্‌-ভায়ারা ফে-যার লোক লাগাবে মাইনে দিয়ে নিজেরা মজাসে ঘুম লাগাবে ঘরের খিলাঁট তুলে আর গরীব মুনিষ-মাইম্দাররা দিনভর জন্তুর মতো খাটাবাটা করে রাতভর বল্লোকদের সম্পত্তি পাহারা দেবে পরের দিন ফের খাটতে যাবে উজাগর শরীর 'নয়ে বড়বাবূকে সামনে রেখে ভালো এক খ্যাঁচা-কল বানালো বাণেশবর ঘোষ

সবই বুঝতে পারে লোকগুলো 'কন্তু মুখে হৈ-হৈ করে ওঠে, "ঠক বলছ ঘোষের পো কাঙ্কো ছাড়াছাড়ি নাই ।,

সবশেষে বড়বাবু প্রতিশ্রুত 'দদলেন, ঠিকমত কাজ করলে, মেট্যাল-ডাহি- পার আর-জি-পাঁট“কে তিনি টচ“ আর বল্লম দেবেন

বৈঠক ভেঙে গেল রাত ন'টা নাগাদ গরীব মানুষগুলো অবোলা পশুর মত ঢুলতে ঢুলতে বাঁড়ব পথ ধরলো গোক্ষুর ভন্তা যাবার কালে বাণেশ্বর ঘোষের চোখের ওপর চোখ রাখলো পলকের তরে বাণেশবরের চোখের সামনে বঝাঁকরে ভেসে উঠলো কাণ্চনবৃঁড়র মুখখানা

বড়বাবু বললেন" নি্টা বাজে আমি একটুখানি ঘরে আনি )'

'কুন দিকে যাবেন 2 বাণেশবর ঘোষ শুধোয়

“এই, একটুখানি পোক্রোল মেরে আস কোটালচক-ফুলগেড়ার 'দিকটাতে | হাজার হোক' থানার ও-ঁস মাঝে মাঝে গাঁয়ে ঢুকলে গ্রামবাসীর সাহস বাড়ে আম দশটার মধোই ফিরবো যাবার সময় বড়বাবু নীচু গলায় শধোল, শালার খবর-টবর কিছু পেলেন »

'কার কথা বলছেন ?

“এ ঘে, বিপ্লব, নেতা" নেতাই মাস্টার

পাইনি তবে ভাববেন না। পেয়ে যাবো লোক লাগিয়ে রেখোঁছ। সম্ধান পেলেই জানাবো

হাঁ। ভালো কবে লোক লাগান «এ একটাই ড্রেঞ্ারাস এালমেস্ট এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে বাইরে ওকে না ধরা অবাঁধ স্বাস্ত নেই ওপর- ওয়ালার কাছে মুখ দেখাতে পারছি নে ! বাকিগুলো সব ঢোঁড়া সাপ চরে খাক ভয় কারনে চলে যান বড়বাবু

বাণেশবর ঘোষ মূচাঁক হাসে কত যে পেট্রোল মারবে তা আমার জানা আছে কোটালচকে পাণ্ডাদের ঘরে আর ফুলগেড়াা ভুঞ্যা-বাখলে তোলা মাদায় করতে চললে তুম !

বাঁড়র পথে পা বাড়ায় বাণেশবর ঘোষ

সর্প হইয়া দংশ তুমি, ওঝা হইয়া ঝাড়--এই হলো বাণেম্বর ঘোষ মাড়ো- তলা থেকে ফেরার পথে এক ফাঁকে ভাগবত দাস আর ফাঁণ পয়ড়াকে আশ্বস্ত

করেসে। “চুরি কর্‌, ঢ্যামনামি করত দেশের লোফ তো, নাশক? দেশ

থকে দূর কাঁরয়া দিতে ত' পারবো নি গলায় পা তুলিয়া দতেও পারবো ন। দোষ করলে সাজাও দিতে হবে আবার, সংকটকালে পাশাটিতে গিয়া দাঁড়িইতেও হবে তবেই না দেশ, তবেই না সমাজ কাল সন্ধ্যায় জামন- জায়গার দাললগুলা 'িয়া আয় দেখ কতটা 'কি করা যায় দেশ-মহারাজের ধার্য জাঁরমানা, সে তো দিতেই হবে দৌঁর করলে ফেব্র রোষ বাঁড়য়াবে দেশ- মহারাজের ফাঁণি, তুমার সে পাম্প মোঁসনটা আছে, না 'বিকিয়া দিছ 2 আগের [দনের 'বিলাতি ইঞ্জিন, এখন তক্ক গজঁন তার ! অটা হইলে আর জামিনের দালল 'লিয়া আসতে হবে 'নি তুমাকে

হিম পড়ছে আকাশ থেকে শনশানয়ে হাওয়া বইছে পাতলা মেঘের আড়ালে ঢাকা পড়ে গেছে তারাশুলো সহসা মালতীর মুখখানি মনে পড়ে যায়। হলো মালতীকে আদর করবার তুল্য রাত 'কিস্তু মেয়েটা ভারি গোল বাধাচ্ছে ইদানীং

তিল

টাকা কট টাকে গধজে বাণেশবর ঘোষের উঠোনে নাবল গোক্ষুর উঠোনে পায়ের শন্দ আর গলা খাঁকার শুনে ওরা 'নম্চুপ মেরে বসোছিল অনেকক্ষণ একটু বাদে শন্দটা আর শোনা গেল না। তবে পায়ের শব্দ, গোক্ষুরের মনে হল. চলে গেল কালী মান্দিরের দিকে মনের ভুল-টুল হতে গারে খাট থেকে নেমে সম্তপণণে জানালার একটা পাল্লা খুলেোছিল বাণেশ্বর | চোখ ঢারিয়েছিল উঠোনময় ধিকছুই দেখা যায় না। গোক্ষরও এাঁগয়ে গিয়ে কান এড়েছিল না, কোনও শব্দই তো নেই কুত্তা-টুত্তা হবে বোধ লেয়। জানালার পাল্লাখানা ফের নিঃশব্দে বন্ধ করে বাশের টচের ক্ষশণ বাত জহালিয়ে হাতি ঢোকায় বালিশের তলায় পনের খানা দশটাকার নোট বের করে এগিয়ে দেয় গোক্ষংরের দিবে

বলে, ভাগ জলাঁদ, গাঁতিক স্াবধার নয় শালা, তোর পিছে বোধ লেয় 'মাছ' লাগছে ।,

উঠোনে পা" 'দিমেই মুহৃতকাল দাঁড়ালো গোন্দহর কান জোড়াকে সাক্রষ করে শিকার করতে লাগলো চারপাশের শন্দ। মনটা হাজারো “কু গায় কে যে কোন্‌ কানাচে আঁভপ্রায়ে লুকিমে আছে ভগবানকে মালুম এখন গোক্ষ;রের সংকটকাল সংকটকালে এমনিই হয় আচমকা বিপদ ধেয়ে আসে চারপাশ থেকে শুকনো ডাঙায় মাথা-চাপাঁড় জল

বাঁদকে লম্বাটে গোয়ালঘর, ডান দিকে সাবেক আমলের কালী মাঁম্দর, মধাখানে বাখুল সামনে প্রশস্ত উঠোন, খামার ঠায় দাঁড়য়ে গাম্দরের দিকে কান আড়লো গোক্ষুর দিকেই মিলিয়ে গিয়েছিল শব্দটা এখন চারপাশ শুনলশান শব্দ যা হচ্ছে' সব স্বাভাবিক শন্দ গোক্ষ-রের কানে ওগুলোর অথ“ জলের মতো পারিচ্কার এই যেমন, খস খস আওয়াজ একটা

২৩

আসছে এখন তবে সেটা আসছে ক্ষীর-বাঁড়র ঝ।ত্তিক-বাড়ি থেকে অথাৎ ফণন পরড়ার রাতচরা বলদটা ঢুকেছে ঘা একটা বলদই ক্ষার-বুঁড়র পুরা বান্তিক-বাঁড়ুটা মল করে দিল মালিক যেমন' তার বলদও তেমনি নিশি কামারের বাড়ির কপাটে 'কেশাচ' করে একটা মদ আওয়াজ হলো। | অনে)র শুনতে পাওয়ার কথা নয় কিন্তু এহলো চোরের কান কেবল দুটে। কান দিয়েই গোক্ষুর অন্ধকারে দেখতে পায় দিনের মতন দরজা “কোঁচ? করার অথ“ গোক্ষর বিলক্ষণ বোঝে তার মানে, 'াঁশ কামারের বউ মালতটর পাশে বাণেশবর ঘোষ ছাড়াও এখন যাতাবাত চালাচ্ছে অনা কেউ লম্পটরা সবাইঞের চোখে ধুলো দেবে, এক চোর ছাড়া চোরেদের চোখ এড়ানো তাদের পক্ষেও দুজ্কর। তাদের কাছে সবাইয়ের কুষ্টী-ঠিকাঁজ, হাঁড়র খবর মাঝে মাঝে বেশ মজা পায় গোক্ষুর এমন সব আজব কাশ্ড- কারখানা, প্লাতের আঁধারে সাধারণ মানুষ তা কল্পনাও করতে পারবে না।

আজ, কাণ্ণন বাাঁড়র বাঁড় থেকে চুরি করে ফেরার সময়' তেমাঁন এক হাড় কাঁপানে। মানবকে প্রতাক্ করেছে গোক্ষুর ভন্তা। ভূত দেখার মতো চমকে উঠেছিল সে। প্রথমে নিজের চোখ দুটোকে বিশ্বাসই করোঁন কিন্তু ভালো করে দেখে শুনে তার গায়ের রোম খাড়া হয়ে উঠেছিল এক লহমায়

কেলেঘাই নদাঁটা গভীর খাতে বইছে দু'ধারে তালগাছ প্রমাণ উপ্চু পাড়। দিন-দুপরে একা একা নদীর গভে নামলে সাহসী মানুষেরও গা” ছম ছম করে নদ৭টা নিঃশব্দে পেরিয়ে গোম্ধুুর উঠে এসেছে পাড়ে নারানগড় থেকে যে কাঁচা রাস্তাটা মেট্যালের দিকে এসেছে সেটা শেষ হয়ে গেছে নদীর ওপারেই এপার থেকে ফের শুরু হয়েছে কাঁচা রাস্তা এই- থানে একটা পুল হবে কেলেঘাইয়ের ওপর' বহাঁদন থেকে শোনা যাচ্ছে পুল হলে দুটো রাস্তা ধোগ হয়ে বাবে

কাঁচা রাস্তা ধরে হাঁটছিল গোম্মুর | একদশীর ক্ষযা চাঁদ উঠেছে মধারাত পোঁরয়ে এক ফালি চাঁদ হাল্ক? কুয়াশায় চাঁদের আলো ঘলা-্ঘসা, ঝাপসা গম পড়ছে আকাশ থেকে গোক্ষ:র তার কালো রণ্ের গামছাখানি 'দিয়ে ঢেকে ফেলেছে সারা মাথা হম এবং মানুষের থেকে আত্মরন্মা সহসা মানষ-জনের সামনে পড়ে গেলে গমহু।-০।কা ম্ডুখানি দেখে চিনতে পারবে না কেউ

রাস্তার দু'ধারে ঝাঁকড়া ঝাঁকড়া গাছ-গাছালি ওদের ছায়াগুলো লঃটিয়ে পড়েছে রাস্তার ওপর ছায়া পড়া জায়গাগ্লোতে চাপ-চাপ অন্ধকার অন্ধকার অংশগুলোর ওপর দিয়েই গা বাঁচিয়ে হাঁচছে গোক্ষুর প্রায় "সক মাইল পথ অতিক্রম করেছে" সহসা সামনে, রাস্তার ধারে, গাছের আড়ালে মাঁত করে সরে গেল এক ছায়াম:ত। পলকের তরে ঘটলো ঘটনাটা অন্য কেউ হলে নজরেই পড়তো না। কিস্ত হলো, চোরের ইন্দ্রিয় সবদাই ষোল আনার জায়গায় আঠারো আনা সতর্ক প্রথমটা গোক্ষুর তন্তার সন্দেহ হলো, সাঁত্যই কেউ সরে গেল গাছের আড়ালে; না'কি

২৪

দৃ্টি বিভ্রম ? ভয়ের তালে মনের মধো সাত-সতের উবুর-ডুবুর খেলা রাতের বেলায় প্রায়ই এমন দ্ষ্ট-বিভ্রম ঘটে গাছের ছায়া দোল খায় হাজ্কা জ্যোতযায়, অনেক সমরই ভুল-ভাল দেখায় গাছের ঠু'টো কৃণজকে বসে থাকা মানুষজন বলে ভুল হয় এও তেমনই কোনও ব্যাপার £ রজ্জৃতে সর্প- ভ্রম ততক্ষণে কিন্তু গোক্ষুরের সবাঙ্গের রোম খাড়া হয়ে উঠেছে ইন্দিয়- গুলো আঁত মাত্রায় সজাগ হাঁটতে হাঁটতে ভালো করে কান পাতলো গোক্ষুর যে গাছটার আড়ালে ছায়ামতি সাতি করে লাকয়ে পড়লো, তার পাশাপাঁশ চলে এসেছে সে। এখন কানই তাকে আসল খবর দেবে চোরের চোখ দুটি তেমন িভরযোগ্য নয় তার চেয়ে অনেক বেশি নিভ“রযোগ্য হলো কান। ঘরটি অন্ধকারে যাতায়াত গেরস্তের ঘরে 'িশ্দ কেটে ঢকেও কাজ সাবাড় করতে হয় নিকষ অন্ধকারের মধ্যে কানই তখন একমান্র সহায় অন্ধকারে কানই সব খবরাখবর জোগাড় করে অবিরাম শব্দ শকার করে সাঁজয়ে দেয় সামনে গোক্ষুর কান পাতলো এবং নিবঝঝুম [নস্তব্ধতার মধো সে পেয়ে গেল অব্যথ” খবর গাছের আড়ালে কেউ দাঁড়য়ে রয়েছে নিঃশব্দে তার নঃ*বাস পড়ছে দ্ুত। কফ জমে তার নাকের দুটো 'ছদুই প্রায় বন্ধ সে মুখ দিয়ে নিঃমবাস নিচ্ছে মুখ দিয়েই ছাড়ছে মাঝে মাঝে নাক 'দয়ে নিঃবাস নেবার চেস্টা করায়, ঘড়ঘড়ে আওয়াজ উঠছে সারা শরীর কেপে উঠলো গোক্ষরের গাছটিকে অতিক্রম করে দূত পায়ে এাঁগয়ে গেল সে

কে বাচ্ছে অত রাতে? কোথায় যাচ্ছে এমন জনহটন পথে! সেগ্ক গোক্ষুরের শন্রুজাতীয় কেউ ? ফাঁদ পেতেছে কি গোক্ষ:রের ফেরার পথে ? নাক অন্য কোনও মানুষ, অন্য কোনও মতলবে | কোঁচিড়ে কালো ন্যাকড়ায় বাঁধা কাণ্চন-বৃঁড়র সব“স্ব!। ধরা পড়লে সর্বনাশ হয়ে যাবে পথ বদলে অন্য দিকে চলে খাবার কথাটা মাথায় এলো বারেকের তরে ততক্ষণে এক তীব্র আশঙ্কা মেশানো কৌতুহলও দানা বেধেছে মনে কে এই ছায়ামূতিণ কি তার উদ্দেশ্য ! ভাবতে ভাবতে এক সময় রাস্তার একেবারে কিনারে চলে এলো গোক্ষ:র ছায়ার সঙ্গে গা মিশিয়ে অন্য একটি গাছের আড়ালে মিশিয়ে দিল শরীর 'নঃ*শবাস চেপে অপেক্ষা করতে লাগলো ছায়ামতর জন্য

খানিক বাদে আবার মদ পায়ের আওয়াজ গাছের আড়াল থেকে গোক্ষুর দেখলো, লোকটা নিঃশব্দে গাঁয়ে আসছে ছায়া-কালো আঁধারে গা বাঁচিয়ে! গোক্ষঃর নিঃ*বাস চেপে দাঁড়িয়ে রইল। কেবল, কালো কাপড়ে বারো আনা ঢাকা মুখের মধ্যে জলতে লাগলো গহবর-বন্দী একজোড়া চোখ

এইমান্্ লোকটা অতিক্কম করে গেল গোক্ষুরকে গাছের গায়ে লেপটে দাঁড়য়েছিল গোক্ষঃর দু'জনের মধ্যে ব্যবধান ছিল বড় জোর হাত দুশতন দ:”ট গাছের ছায়ার মধ্যে এক চিলতে ঘসা জোত্মা। লোকটি জ্যোত্যায় পা রাখা মান্রই চিনতে পারলো গোক্ষুর নিতাই মাস্টার !

তস্কর-ৎ

গোক্ষরের সারা শরীর কেপে কেপে উঠলো প্রায় বছর দুশতন হলো, নিতাই মাস্টার তল্লাট-ছাড়া ছেড়েছে বলেই বেচে গেছে। নইলে আযাদ্দিনে পুলিশ ওকে কালাপানি পার করে দিতো নিদেন বাণেশবর ঘোষ লোক লাগিয়ে নিকেশ করে দিতো ওকে ক'বছর কোনও খোঁজই ছিল না। ওর বউ আর একাটমাত্তর ছেলের ওপর প্রথমে শারীরিক নিঘতিন, অনৈতিক অবরোধ, এখন চলে মানাসক জুলুম নিজের ঘরে চোরাঁটি হয়ে থাকে বেচাঁরিরা ছেলেটা মেট্যাল স্কুলে ক্লাস সেভেনে পড়ে কুলদা ডান্তারের মত সম্পন্ন বাঁড়র ছেলেগুলো সব্দাই ওর পেছনে লাগে যেন 'দনের বেলায় বেরিয়ে পড়া পেশচা। কেমন যে আছে এখন, দুটি প্রাণ, কি করে যে চলছে তাদের, গোক্ষ:র কিচ্ছু জানে না! সবাই শুধু বলে, পুলিশের ভয়ে মাস্টারটা গাঁনাড়া হয়যাল। বাঁচিয়া আছে' না মরিয়া গেছে, ভগবানকে মালুম |

গোক্ষরও রাতে ভিতে ঘোরে আদাড়ে-বাদাড়ে, কত দ:র-দরোান্তে যায় কাজের তাগিদে কোনাঁদন নিতাই মাস্টারকে চোখে গড়ে 'নি তার পাঁচজনে পাঁচকথা রটাতো নিতাই মাস্টার নাক পাঁলয়ে গেছে বাংলা মূলক ছেড়ে পুলিশ নাকি বধধমান জেলায় ধরেছে ওকে ধরেই ফাটকে পরেছে কেউ বলে, গোপালীর জঙ্গলে পহীলশের সাথে এনকাউগ্টারে মারা গেছে নাকি বউটা যত শোনে, ততই কাঁদে চোখের জলে ভেসে যায় বুক 'িতাই মাস্টারের খোঁজ আর মেলে 'ন।

আজ আ্যাঁদ্দন বাদে আচমকা নিতাই মাস্টারকে এমনভাবে আবিচ্কার করে গোক্ষুরের উত্তেজনা কমছে না িছতেই থানার দারোগা আর বাণেশবর ঘোষ যে ওকে আঁতপা'ত খশুজছে, তা তো গোক্ষুরের জানাই খবরটা বাণেশবর ঘোষকে জানালে তার 'কি প্রতিক্রিয়া হবে, সেটাই ভাবতে ভাবতে ফের পা" চালালো গোক্ষুর নিতাই মাস্টার তখন পুরোপযী্ অদ শা

বাণেশবর ঘোষের উঠোন থেকে বেরিয়ে এসেই গোক্ষরের মনে পড়লো, নিতাই মাস্টারের কথাটা বলা হলো না। আসলে বউয়ের 1চ্তাটা ক্রমাগত কামড়াঁচ্ছল বুকে তার ওপর টাকা-পয়সা নয়ে এমন দর কষাকষি করতে হলো, খবরটা দেবার ফরসতই পেলো না গোক্ষুর আর একটুখাঁন বসতে পারলে হয়তো বলা যেতো কিম্তু যে, উঠোনে কার পায়ের আওয়াজ মনটাকে চঞ্চল করে দিলে ওটাই বাণেশবর ঘোষও সাত-তাড়াতাঁড় 'বিদেয় করে দল দেড়শোটি টাকা ধাররে দিয়ে মাত্তর দেড়শো টাবা ! কি হবে এতে করে! লালাদের 'নয়ে মোট চার ভাগ মূল কারিগর হিসেবে গোক্ষুর পাবে ষাট, বাঁক তিনজন 'তারিশ করে বাটি টাকা 'নয়ে কি করবে গোক্ষ;ুর ; বউটাকে যাঁদ সাঁতা সাঁতাই বেলদ। হাসপাতালে ীনয়ে যেতে হয় তো ষাট টাকা ধঃয়ো দিতেও কুলোবে না সাঁত্য, লোকটার বিবেচনা নাই একাতিল। জীবন হাতে 'লিয়া, কতখাঁন পথ উীঁজয়া গিয়া, কত কচ্টে নামিইলি কাজটা কত- খানি সোনা লিয়া আইসিয়া তুলিয়া দিলি লোকার হাতে লদর পদর বউটার অবস্থার কথাটা শুনিয়াও ট্ুকচার থাই প্লারলো নি মনে | এরা মানুষ, না

পিচাশ ! দয়া-মমতার লেশ নাই এদের! মোদের রাত উজাগরের টাকায় দূনিয়াদার হয়্যা বুঁসয়া আছেঃ আর মোদের 'িপদ-আপদে এদের পাশ তিল- মান্ন আশা নাই হে! গোক্ষরের ভীষণ কান্না পাঁচ্ছল বুক চাপড়ে কাদতে সাধ জাগছিল তার বউটার মুখখানা মনে পড়ে যাচ্ছিল বারংবার একটা চণ্ডাল-রাগ বাঁশ-মুগরা সাপের মতন পাক খেতে খেতে উঠাছল মগজের দিকে সাপটা বোরয়ে পড়তে চাইছিল হসাহাঁসিয়ে ফণা ধরতে চাইছিল বাণে*বরের দিকে আজ বনকাল প্রাণট তুচ্ছ করে যা এনেছে, সব তুলে 'দয়েছে লোকটায় হাতে, এই তার প্রতিদান 2 পারি আই?সয়া ঠিকই কাঁচ্ছল ঝাশ্ডা পশতয়া দছিল সব কট বেনাম জমিনে মাছ ধাঁরয়া 'লিছিল সব কট বেনাম পুকুরে ণসন্দুক ভাতি 'টিপছাপ, বম্ধকী মাল সব আদায় কাঁরয়া লিছল লাঠির আগায়