সম্পাদনা”

ড$ অপিতকুষান বান্দ্যাপাপ্র্যাম্

জগ্দদীপ পাবানিকেপশনস, ২, বঙ্কিম চ্যাটাজশী শৃ্নীট

কলকাতা -৭৩

“৯৮৮৯ ছআআন্ব গাহি ৯১৯৬৩

জআশীশ্শাক বস্পেটশ্শা তাক

আকন্দ শা পারবাজ্পকেস্পলস্ত্‌ ২২৯ ব্যবহ্াম্য ভাউ কী উশীটি

স্কহল্ কৃ তি

খশা চে

স্্র্থশীকআস মক্দ

খা স্হক্কে

স্বত্ঞেহ্য আ্ব্ধোক্যাধাতাক্ আধ্বাজ্রট বাই ওওস্সহর্কস্প

আজকে সফ্যঞ্পা কা আস

বআআান্ছশী বেকার ২০৬৮ শি আছ দীনের সু্রীউ

কতা ভা ৫১৭৯

উৎসর্গ

বারা সভ্যতার পিলদুঙ্গ হয়ে সন্ত ঘবঃখভার মাথায় বহন করছে, যার। র্বহ 'বানের গ্রানি নিয়েই সারাটি জীবন কাটিয়ে গেল, তাদের উদ্দেশে

ভ্বামিকা

“জীবনের গল্প গল্পের জশবন' শীর্ষক এই গল্সসঙ্কলনটি মানাঁসক আনন্দের ভোজে একটি নতুন রসবন্ত বলে স্বীকৃতি লাভ করবে ' নবীন গ্রবীণে মিলে বেশ কয়েকজন গাল্লিকের লেখা কয়েকটি গল্প এতে স্থান পেয়েছে আমার বিশ্বাস, পক্পগুি সাম্প্রতিক বাংল৷ কথাসাহিত্যের দিগ্‌দর্শন বলে পাঠকমহলে আনন্দ- মিশ্রিত বিশ্ময় সৃষ্টি করবে

ছোট গল্প যৌঁদন প্রথম একট। শিিল্পগ্রকরণপ্পে রবশন্দ্রনাথের লেখনশ আশ্রয় করল সেই দিন থেকেই আখ্যান রচনার নতুন দিগন্ত খুলে গেল। অবশ্য প্রাচীন ভারতের সংস্কৃত, পালি প্রাকৃত সাহিত্যে ছোটবড়ো। অনেক আধ্যান প্রচলিত ছিল এমন কি আরো পিছয়ে গিষে যদি খোঁজখবর নেওয়া বায়, তাহলে /বাদিক সাহিত্যেও নানা ধরনের গল্প-আখ্যান পাওয়া যাবে পালি ভাষায় লেখা জাতকগুলি বুদ্দেবের নান। জন্মের বৃত্তান্ত বলেওএর গ্রল্পরস এখনও জনমানস আকর্ষণ $রে থাকে, এব* সে রসের অর্থ, বাস্তব জীবনপপাসা | সস্ফতে রচিত নতিপ্রধান মল্স অর্থাৎ হতোপদেশ-পঞ্চতন্ত্র এবং রোমান্টিক আখ্যান, অথাৎ দশকুমার চিত, কথাসারংসাগব প্রভৃতিতে নানা মাপের বিচিত্র স্বাদের বু গালগল্প আছে, মাতে বস্তবেব পারাঁচত জশীবনের *চয়ে অবাস্তব বঙ্পনা, ক্কাচৎ খাল্লানকঝতার মধিকতর প্রাধান্য লক্ষ্য করা যাবে সমস্কৃত কাদম্বরখর মধ্যে যমন উপন্যাসের বীজ আছে, তেমনি পাল সংস্কত গল্পের মধোও আধুনিক ছোট গল্পের সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে।

আমরা যদি প্রাগৈতিহাসিক ভারতে পিছিয়ে যাই, তা হলে দেখব, আস্ম্রিক ভোটচশনশয মাধিবাসীর মধ্যেও নানা গল্প কাহিনী প্রচজিত ছিল এখনো সাওতাল, মুণ্ডারী, গডব, শবর, হো, কবকৃ এবং নাগা প্রভৃতি পর্বত-কান্তারবাসী নিষাদ কিবাতসমাজে নানা ধবনের গঞ্জ, উপকথা, আখ্যান প্রচালত আছে, যার খানিকটা স্বাভাবিক, খানিকটা-বা আদিবাসী সমাজের অন্বগত অদ্ভূত উত্তট ধরনের গল্পের জড বহু দূরে প্রসৃত ? মবরোপ*এশিযা, পাঁলনেশিয়া, মেলানে শিয়া, মাইক্রোনেশিয়া প্রাচশন ক্ক্যাগুনেভিয়, কেপ্টিক সংস্কাতজাত নর্স উপকথার মধ্যেও ছোটগল্পের সম্ভাবনা ছিল। স্ধ্যাুনেভিয়া সাগা এড্‌ডগুল স্ুদ্ধ-বিগ্রহ,

£সাহম উত্তট রোমান্দের গল্প হলেও তার মধ্যে ছোটগল্পের অনেক উপাদানও পাওয়া যাবে প্রান গ্রীক রোমান জর্জাল মহাকাবাও অনেকগুলি ছোট-বভো। গাজারঈ গগন

1)

মধ্যম্বগে বাংল সাঁহত্যে গদ্যের নমুনা পাওয়া না গেলেও এবং মঙ্গলকাব্য, রামায়ণ-মহাভারতের অনুবাদ পূর্ববঙ্গগীতিকায় ছোট গল্প না হলেও এতে গস্- আখ্যানের দৃষ্টান্ত দুর্লভ নয় বেহুলা -শ্রীমন্ত-লাউসেনের কাহিনশতে ছোটগল্পের কিছু' কিছু ইঙ্গত আছে,শিবায়নও শিবদুর্গার ঘরগৃহস্থালির গল্প ভারতচন্দ্রের বিদ্যাসৃম্দর প্রেম কামের গল্প ছাড়া আর কী? ব্রিটিশ ম্যাজিয়মে যে-সমস্ত বাংলা পুথি আছে তার কোন কোনটিতে বেতাল-পঞ্চবিংশতি ধরনের গল্প কাহিনী আছে। সুতরাং গল্যেপদ্যে লখা গল্প মধ্যযুগে প্রচলিত না থাকলেও ছন্দোবদ্ধ আখ্যান রচনার ধারা প্রচালিত ছিল।

উনিশ শতকে ফোর্ট উইিয়ম কলেজের সাহেব পড়ুয়াদের জন্য কেরী সাহেবের উদ্যোগে কয়েকখানি আখ্যানগ্রন্থ বাঙালশদের দ্বার। লিখিয়ে নিয়ে প্রকাশ কর? হয়েছিল সেগুলি হিতোপদেশ, বেতাল পঞ্চবিংশতি প্রভাতি সংস্কৃত গল্পগ্রন্থের অন্নবাদ' কোনটি ফারসি গল্প, কোনটি-বা ঈশপের গল্পের অনুসরণ এর মধ্যে কের সাহেবের 'ইতিহাসমাল।” (১৮৯২) বিশেষভাবে উল্লেখযোগা ॥। এটি কোন ইততিহাস-সংক্রান্ত রচনা নয় কের এতে সংস্কৃত, ইংরেজি লোকজীবন থেকে সংগ্রহীত কতকগু'ি কৌতৃহলোদ্দীপক গল্প বাংল৷ ভাষায় রচনা করেছিলেন এতেই সর্বপ্রথম গল্পের স্বাদ পাওয়া যাবে, যদিও তখনো ছোট গল্লের আকৃতি-প্রকৃতি সম্ব্ধে কেউ সচেতন হননি,_না লেখক, না পাঠক মুরোপেও. উনিশ শতকের আগে যথার্থ ছোটগল্প লেখ হয়নি হর্পের (১৮০৪-৬৪) “2০6 7010 18168” সমালোচন। করতে গিয়ে এডগার আলান পো ৯৮৪২ সালে সব্প্রথম ছোটগঞজ্ের প্রকৃতি সম্বন্ধে নিয়ম নির্ধারণ করেন তার মতে ছোট গল্পা হবে গদ্যে লেখা ছোট মাপের গল্প, যা পড়ে ফেলতে আধঘণ্ট। থেকে দু'খণ্টার বেশশ সময় লাগা উচিত নয়। ছোট গঞ্জের বৈশিষ্ট্য হবে, কোন একটি মাত্র বিষয়ের উপর আলোক নিক্ষেপ? স্বরা পারসরে 510616০2৫০৮" বা'6068116 0৫ 526০৮ ফুটিয়ে তূলতে হবে অবন্ বিশ শতাবাশীতে এই সংজ্ঞা অনেক বদলে গেছে, এখন ছোট গলে বু বিচিত্র ধরনের বোচত্র। ক্কু্টে উঠেছে এখন দেখা যাচ্ছে, শুধু গল্প-আখ্যান নয়, কোন-একটি চাঁরত্র বা বা তার কোন-একটি বৈশিষ্ট্য, লেখকের সারা দিনের অভিজ্ঞতা, এমন কি সামান্ত একটি সাক্ষাৎকার, কথাবার্ডা, উত্তট খেয়াল--সবই ছোট গল্পের বিষয় হতে পারে কারো। কারো যতে এডগার আযালান পো-ই (৯৮০৯-৯৮৪৯) ছোট গল্পের জনক কারণ তিনি প্রথম ছোটগল্পের, বিশেষতঃ ইংরেজি ছোট গল্পের আঙ্গিক বেঁধে দেন, নিজেও সৈই আঙ্গিক অবলম্বনে উৎকৃষ্ট ছোট গঞ্জ লেখেন

বাংলা সাহিত্যে বাক্ষমচন্র উপন্তাসের সর্বশ্রেষ্ঠ শিল্পী হলেও (রবীন্দ্রনাথ

(11) শরংচক্দ্রের নাম ম্মরণে রেখেই একথা খলাছি ) রবপশন্দ্রনাথই সাপ্তাহিক শহতবাদণ' পত্রিকায় বাংলা ছোট গল্পের পত্তন করেন। তাই তাকেই বাংলা ছোট গজের জনক বলা হয় অবশ্য বঙ্কিমচন্দ্রের অগ্রজ সঞ্জীীবচন্দ্র কয়েকটি ছোট গল্পের ধরনের আখ্যান (িসখেছিলেন, কিন্তু এই কয়েকটির “হাল-হৃকিকত' সম্বন্ধে তিন সচেতন ছিলেন না, থাকলে তাকেই আমরা ছোট গল্পের জনবত্বা দিতে পারতাম রবীন্দ্রনাথ হিতবাদ সাপ্তাহিকের সাহিত্য-সম্পাদক হয়ে প্রাতি সংখ্যায় একটি

করে ছোট গল্প লিখতে লাগলেন কিন্তু তারও আগে ১২৯১ সাজের আমশ্িন সংখ্যায় 'ভারতী-তে (১৮৮৪) “ঘাটের কথ।' এবং ১২৯১ সালের অগ্রহায়ণ সংখ্যার

“নবজশবনে' (১৮৪৪) রাজপথের কথা নামে ষে ছুটি গল্প কথিক। লেখেন, আমার মতে সেই ছুটি হচ্ছে বাংল। সাহিত্যের প্রথম যথার্থ ছোট গল্প অবশ্ঠ রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং বোধহয় তা মনে করতেন না। তাই পরবতকালে এ-ছুটিকে “বচিত্র-প্রবন্ধে'র অন্তর্ক্ত করেছিলেন আধুনিক কালে ছোট গল্পের আঙ্গিকের নানা পারিবর্তন ₹্য়েছে, তাতে "ঘাটের কথা” রাজপথের কথা'-_নিঃসন্দেহে ছোট গল্প বলে গহশত হতে পারে ।॥। তার পরে ভার আদর্শে বাংলাদেশে ছোট গল্পের বান তেকেছে। প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্প থেকে গুরু করে বিশ শতাব্দীর চলতি দশক পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যে কয়েক সহম্র ছোট গল্প জেখ। হয়েছে, যা কোন কোন দিক দিয়ে পাশ্চত্য গল্পের সঙ্গে প্রতিদ্বান্দ্ত1 করতে পারে

এই গল্প সংকলনের নামটি “জীবনের গল্প গঞ্জের জীবন" ) বেশ প্রতাঁক- দ্যোতক হয়েছে। গল্পগুলি নিঃসন্দেহে জীবনভিত্িতিকঃ অর্থাৎ প্রাতাদিনের জীবন আভিজ্ঞতার উপরে এর প্রতিষ্ঠা অবশ্য সঙ্গে সঙ্গে একথাও মনে রাখা দরকার ষে, শুধু জীবনের ( অর্থাৎ বাস্তব জীবনের ) গল্প হলেই সার্থক ছোট গল্প হয় না, তাকে গল্পের জীবনও হর্তে হবে। অর্থাৎ শিল্পসম্মতরূপে তাকে প্রততিঠিত করতে হবে। এই সংকলনে জীবনের পঞ্জকে এবং গলের জীবনকে সমন্বয়ের অধ্যে ধরা হয়েছে বলেই এর নামকরণের মধ্যে বক্রতা সৃষ্টির চে আছে প্রাতাদনের ঘটনা কথাসাহিত্যের মল উপাদান হলেও তাকে কল্পনার সাহায্যে শিজরপ দিতে না পারলে তা মালমশলা হয়েই থাকবে তার দ্বারা তাজমহল গা যাবে না জেখকগণ প্রস্তরখণ্ডকে চেঁছে ছুলে পালিশ করে শিল্পরূপ দিয়েছেন, তা পাঠকগণ সহজেই অবধারণ করতে পারবেন গল্পগুলির স্বাদ মনের স্বাক্সাই ' লাভ করা যাবে বাখ্যা-ব্যাখ্যানের প্রয়োজন নেই তবে এই প্রসঙ্গে একটা কথা নিবেদন করি ॥। গল্পগুলি একালের হলেও এতে পাঁশ্চিমী বিশ্বের ছোট গঞ্ের উদ্ভট রচনাশক্তি ততট। প্রভাব বিস্তার করেনি এতে এখনও গল্প আছে, চরিত্র

( 5111) আছে, বিশেষ লাটকাঁয় অদ্ভৃতপৃধত! লশীরিক রসের যুর্ছনাও আছে। তকে কালধর্মে বে"ধহ্‌য় নেক গল্পেই বিষঞ্রতা, বেদনা নৈরাম্তের সবুরটি অধিকতর প্রাধান্ত পেয়েছে ছোট গল্প হচ্ছে ব্যক্তি সমাজের সীমান্তভাম। সৃতরাং সামার্জিক বার্থতাবোধ বেদনা নোতবাদের বুক্তত। লেখক-লেিকাদের মনোতীমিতে অনিকেত বেদনাবোধ সৃষ্টি করলে বিস্ময়ের কারণ নেই | যাইহোক, পাঠক-পাঠিকাগণ এই তমিকা পড়ে গল্জীগুলি পড়তে প্রনু্ধ হবেন না আসলে রসসাহিত্যের ভূমিকা নিরর্থক, কোথা .কাথাও হানণিকর | গুরুমশাই সেদ্ধে সাহিত্যে মাস্টারি করার অর্থ দেবী সরস্বতণীকে জবাই করা॥ আশ। কারি পাঠকগণ আমার অপরাধ নিজগুণে মার্জনা কবত্নে, এবং সম্ভব হলে ভুমিকা বাদ দিয়েই গল্পগু'লর রমভোগ করবেন

অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়

লেখক পৃষ্ঠা

, জতভীন বন্দোপাধ্যায় দূ * আঁচন্ত্য কুমার ভট্টাচার্য ০৯, » আশাপু্ণা দেবী ** উঠ ' অনশশ ঘোষ ** আশি কমল সরকার রর নর আশুতোষ মুখোপাধ্যায় *** ৩৭ অরুণ ইন্দ্র ৮০০ ৪৫ জেযোতিরিজ্র নন্দ ৫১ "অশোক রাষ চৌধুরণ ঠত9 » বিমল কর তত " কালীকৃমার চক্রবর্তী *ত ৮৯১ বিমল মি ০** ৮৮ * কৃষ্চকান্ত মন্ত্মদার *** ৯৯ বুদ্ধদেব গুহ ১০৮ তুষার চট্োোপাধ্যায় ০০ ১২৩ ষহাস্থেতা দেবী "** ১২৯ প্রদীপ দে **, ১৪৩ প্রণবেশ চক্রবর্তা *** ১৪৬ শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় ৪, ১৫২ বারশণ ঘোষ *** ১৬৮ . সত্যজিৎ রায় *** ৯৭৮ , সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় রর ১৮৮ শচীদুলাল দাশ **, ১৯৪ সন্তোষ কুমার ঘোষ ছিঃ ২০০ সুজিত মুখোপাধ্যায় রত ২০৯ ' অ্শরেশ বসু *** ২১৬ স্ৃতপেশ দাশ ০০ ২৩৫

'সমরেশ মন্ভুমদার *** ২৩৯

সুদর্শন সেনশর্মা

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সৃধাংগ কর্মকার সৈয়দ মুস্তাফ। সিরাজ সুবোধ ভট্টাচার্য তপোবিজয় ঘোষ

(এ)

২৫২ ২৫৮ ২৬৯ ২৭৪, ই৮৫ ২৯৭

বাতাসে ভেসে আসে প্র্ণটাপা অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

স্থনন্দা দরজা খুলেই হতবাক গ্রীলের পাশে কিছু স্বর্ঠটাপা। ভার তাজা চৈত্রের এলোমেলো হাওয়ায় গড়াগড়ি খাচ্ছে ফুলগুলি কোথা থেকে এল? কে রেখে গেল, রেখে গেল, তো গোপনে রেখে গেল কেন-_কিংবা মনে হল কোন তুকতাক করছে না তো বািটার উপর | সারে সবকিছু ঠিকঠাক রেখে যাওয়া এমানিতেই কঠিন। তার উপর এই উপদ্রব সহসা সে চিৎকার ধরে উঠল শুনছ! কোথায় তুমি দেখ কাঁ কাণ্ড, বারান্দায় কটা স্বর্ণটাপা !

এখনও ভাল করে সকাল হয়নি আবছা অন্ধকার চারপাশে | বাড়ি-ঘর-গুলি নিরীহ গোবেচারা স্বভাবের _মনেই হয় না আর একটু পর সবাই দরজা জানালা খুলে দেবে মানুষজন, শিশুর মুখ, কোন দগ্ধ প্রাতিচ্ছবি ভেমে উঠবে এইসব বাড়ি-ঘর 'ধশায়া, মালন রুক্ষ কেশ এবং কাসি, সবই কোন হেতুর মতো-_-অথবা গোলমাল এবং কবিতা পাশাপাশি থাকে নবেন্দ্ব গা করছিল না। কাছাকাছি কোথাও ্বর্ণঠাপার গাছ আছে কিনা মনে করার চেষ্টা করল তা টাপাফ্কুল হাওয়ায় ভেসে আসতেই পারে এই নিয়ে চৈ সুনন্দার-_তরু মনে ভল. একবার বারান্দায় গিয়ে দেখা দরকার কিংবা জানালায় মুখ রেখে সে উকি দিয়ে দেখল সত্যি বেশ তাজা কটা ফুল-ঠিক ফুল নয়, কাচের গ্লাসে জল দিয়ে রেখে দিলে ফুল হয়ে ফুটবে সকালের ঠাণ্ডা আমেজটা এখনও আছে এমন সুন্দর সকাছে টাপা ফুল ক'টা ভারি স্থববাস ছড়াচ্ছিল। তারই মধ্যে সুনন্দা কেমন কাঠ হয়ে দাড়িয়ে আছে। নবেন্দুর হাসি পেল বলল, ভয় পাচ্ছ ?

সুনন্দা একবার তাকাল, কিছু বলল না কেবল ডাকল? বিনি বিনি। বিনি থাকে শেষের দিকের ঘরটায় শুনতে পাবে কেন ? ছেলে মেয়েরা বড় হয়ে গেছে। নিজেদের আলাদা ঘরে থাকে আলাদা ঘরে থাকলে মানুষ আলগা হয়ে যায় সুনন্দা সেটা বোঝে না। তার টেঁচামেচি এখনও পর্যন্ত কারো কানে যায়নি কেবল সে আর সৃনন্দা এই রহ্ষ্যময় ঠাপা ফুলের এখন খুব কাছাকাছি

হঠাও নবেন্দ্ব টেচিয়ে উঠল, এই কি করছ না না এটা ঠিক না।

সুনন্দা কোখ্খেকে একটা ফুলঝাড়ু এনে ছু'লে জাত যাবে মতো ধাট দিতে যাচ্ছে

নবেন্দ্ু দৌড়ে বারান্দায় চলে গেল | ঝাড়ুট। প্রায় কেড়েই নিল | বলল, ফুল কখনও অস্পৃশ্য হয় সুনন্দা বলেই সে ফুল কটা হাটু গেড়ে তুলে নিতে গেলে; সুনন্দা ঠেলে সারিয়ে দিল নবেন্দ্রকে ।-__তুঁমি কী মানুষ না ! ভয়ডর নেই কার মনে কী আছে কে বলতে পারে

নবেন্দ্রু বলল, কেউ হয়ত রেখে গেছে চোর ছ্্যচোড়ও হতে পারে।

স্বনন্দা বলল, তুমি কী ! চোর ছ্র্যাচোড় ফুল রেখে যাবে কেন!

নবেল্দ্ু নাছোড়বান্দা সে বলল, বারে চোর বলে ফুল ভালবাসতে পারে না! ফুল কটা হাত বাড়িয়ে রেখে কাজকর্ম সারবে ভাবছিল তা আর হয়নি

যাই হোক ফুল নিয়ে স্বনন্দার ধন্দ গেল না। দুই মেয়ে এক ছেলে ততক্ষণে ধাবা মার টেঁচামেচি শুনে নিচে নেমে এপেছে কাজের মেয়ে বিনিও চোখ রগঙে দেখল-_বারান্দায় আশ্চ় সোনালী টাপা। ছেলে মেয়ের। ফুল কটা নিয়ে কী করবে ভেবে পাচ্ছিল না। কিন্তু মা যেভাবে আগলে দাঁড়িয়ে আছে কিছুতেই ফুলের কাছে যাওয়া যাচ্ছে না॥ কেবল খিনি আসায় সুনন্দা হাফ ছেড়ে বাঁচল বলল, ওগুলো তুলে নে। তারপর চান করে আম জলে ফেলো দনি।

নবেন্দ্ব ববতেপারে মানুষের কোন স্বস্তি নেই। সামান্য ক'টা ফুল নিয়ে সুনন্দাল নখ এমন ভারী হয়ে গেছে যে মনে হয় খে কোন সঙ্গয় একটা বিপদের ভয় কখন কি গ্রাস করবে একথার বাড়িটার উপর শকুন বসায় স্বনন্দা পাচ রাভ ঘ্ু্গাত পারেনি ! দশটা পাখির মতো আরও একটা পাখি ছাদের কানিশে বসলে এমন বধ ক্ষাত। পাঁখ উডবে। বসার জায়গা পেলে বসবে সুনন্দা রেবতাঠাকুরের বিধানমতো শাস্তি স্বস্তযয়ন থেকে শনিপুজা সত্যনারায়ণ পুজা” কিছু করতেই বাদ £*খেনি বাঁড়টা হওয়ার পর এবং ছেলেমেয়েবা বড় হওরার পর কেবল মনে হয় কোন অশুভ প্রভাবে পড়ে যাচ্ছে তারা এমনকি ফ্রিজ নিয়েও কেনার পপ ,খকেই বার বার বিগ্ডাতে থাকল কখনও কুলিং বন্ধ কখনও মোটর কাজ করছে না, কখনও গ্যাসপাইপ চোক্ড। এতসবের পর সুনন্দার নির্ঘাত মনে হয়োছিল সেই অশুভ প্রভাবের কাজ বাড়ির পাশে বাড়ি উঠবেই পাশের বাড়িটা থেকে এ- বাড়ির অনেক কিছু দেখা যায় সশমানা নিয়ে কিছু গোলযোগও ঘটেছে ॥। ফলে সংসারে যা হয়, মুখ দেখাদেখি প্রায় বন্ধ ॥। সুনন্দার মনে হয় সব অশুভ প্রভাবই ও-বাড়িটা থেকে বাতাসে ভেসে আসে নবেন্দ্র লক্ষ্য করেছে--পাশের বাড়ির " মহিলাটি সব সময় বাড়ির সবকিছু কেমন গিলে খাওয়া! চোখে দেখে সেই চোখ দেখে একবার সে নিজেও কেমন অসুস্থ বোধ করেছিল গতবার সেই চোখের প্রভাবে স্বনন্দার ধারণা ছোট মেয়েটা স্ট্যাণ্ড করতে পারল না। মেয়েন্কু'পড়ার ঘর

থু

একতলা থেকে দোতলায় উঠে গেল জানালার পর্দা আরও বড় করে দেওয়া হল। স্মখোমুখি দরজা ছিল, তাও বন্ধ হয়ে গেল এ-সময় নবেন্দ্বর মনেও প্রশ্ন টাপা স্কুল কে রেখে গেল! কেন রেখে গেল! সে কেমন ঘোরের মধ্যে পড়ে যাচ্ছে বয়স হযে যাওয়ায় আগের মতো তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করতে পারছে না।

বয়স বাড়লে মানুষের বৃঝি এই হয় জানালা দরজায় অশুভ প্রভাব উকিঝু"কি দরে সে নিজের এই ছুর্বলতা সম্পর্কে খুব সচেতন হয়ে উঠল সবকিছু অগ্রাহ্য কবা দরকার সুনন্দা সেই কবে থেকেই যেন ভাত স্বভাবের মেয়ে এখন আরও “যন বোশি সুনন্দাকে ফ্কুল ক'টা ভীষণ ভয়ের মধ্যে ফেলে দিতে পারে সে বিনিকে বলল, কিচ্ছু করতে হবে না। সর তোরা খুব সাহসী মানুষের মতো? এঁগয়ে গেল এবং সুনন্দা কিছু বুঝে ওঠার আগেই সব ফুল তুলে ঘরে দ্ুকে গেল ছোট্ট মেয়েটা এখনও ক্রক পরে তার কাছে ফুল ফুলই সে বাবার দিকে হাত থাডিয়ে বলল, দাও কাচের গ্লাসে রেখে দি।

সুনন্দা আশাই করতে পারেনি কেমন সামায়ক বিহ্বলতায় পেয়ে বসেছিল "কে তারপর হু"শ হতেই নবেন্দ্র খাত থেকে হ্যাচকা মেরে সব কেড়ে নিল “1 বাইরে নিয়ে আবর্জনাব মধ্যে ছুড়ে দিল। নধেন্দ্র ভয় দেখাতে পারত, দি অশুভ প্রভাব হয় আবার উড়ে আসবে তুমি তাকে যত দূরে রেখেই দাও, .স আসবে কিন্ত সে জানে এতে সংসারের মঙ্গল হবে ন]। স্বনন্দার বাতিক অরও বাড়ে সব কিছুতেই সে অশঙ্গলের আশঙ্ক! খুঁজে বেডাবে এবং যে কোন ॥নয় মানসিক রোগের এভাবে শিকার হখে পডতে পারে

বাড়িটা করার পর থেকেই স্বনন্দা আরও কত কিছু যে আশঙ্কাজনক চিহ্শটহ- দখতে পেয়েছিল দূর ওসব কিছু না৷ করে বারবার সাহস দিয়ে আসছে একবার প্রকাণ্ড একটা সাপের খোলস সিডির চাতালে দেখা গিয়েছিল। সারা বাড়িঘর তন্নতন্ন করে খোঞা-_ না কিছু নেই। আর চারপাশে শহর যখন হামাগুড়ি দিয়ে কবল এগুচ্ছে তখন এতবড় একটা সাপের খোলস আমে কোথেকে! স্বনন্দার কপাল থামছিল বুক শুাঁকয়ে গিয়েছিল ভয় পেলে সুনন্দা বিষ হয়ে যায়। খেতে পারে না। ক্রমে রোগা এবং দীনহীন হয়ে পড়ে। নবেন্দ্র বলেছিল ধুস তুমি যে কনা দেখছ না, পেয়ারা গাছটায় শালিক বাসা বানাচ্ছে ওদেরই কাজ এটা। তারপরের বছরও ঠিক একই সময়ে চাতালে সেই খোলস ছ্ববার এবং তিনবার বাঁড়র চারপাশে উচু দেয়াল সামনে বড় র্নাস্তা। সব সময় যানবাহন চলাচলের এক তরু রাতে সৃনন্দা হিস হিস শব শুনতে পেত রাচ্তে টর্চ স্বেলে বাথরুমে যতে হতে। সবাইকে সার বাড়ি জুড়ে কার্বলিক আযাসিড ছিটানো তরু যথা"

সময়ে পরের বছর আবার সাপের খোলস স্নন্দা বোধহয় শঙ্কায় পাগলই হৃ্‌. যেত নবেন্দুর উপস্থিত বুদ্ধি সেবারে বাচিয়ে দিল সে বলেছিল, সাপের খোল পড়িয়ে দিতে হয় আবর্জনায় ফেলতে হয় না। পরের বছর ঠিক সেই সময়টাছছে --আবার ভয়ে ভয়ে ছিল নবেন্দ্ব। কারণ সে জানে পুড়িয়ে দিলে শেষ হয়ে যায় একটা আগ্তবাক্য মাত্র ফলে রোজ সবার ঘ্বম ভাঙার আগে চাতালে গিয়ে ঈাড়াত ' আশ্চর্য সে-বছর খোলসটা বিদায় যে নিল আর ফিরে আসেনি সে বুঝতে পেরেছিল এইসব দ্র্বলতা এক দরজা দিয়ে বের হয়ে গেলেও অন্য দরজা দিয়ে আবার গোপনে ঢোকে সেবারেই সুনন্দার বাবা মারা গেল সুনন্দা বলেছিল, আমি জানতাম কিছু একটা হবে

নবেন্দব বুঝতে পারে সবকিছুর সঙ্গেই সন্দা ভ-অগুভের যেন সম্পর্ক টের পায়। াপা স্কল কটা এমন কোনো সংকেত যাই হোক, এই নিয়ে আর দে কোন কথা বলল না। যেন সুনন্দা ঝেটিয়ে বিদায় করে দিয়ে এল সবকিছু আপদ নুনন্দা আলগা পায়ে স্ানের ঘরে দুকে গেল তারপর চিলেকোঠায় গেল গঙ্গাজল আনতে সেখানে সন্ন্যাসীর দেওয়া মঙ্গলকবচ আছে গঙ্গাজলে ডুবিয়ে সেই জল সারা বাড়ি ছড়িয়ে দিতেই কেমন প্রফুল্ল মনে হল সুনন্দাকে। আর তখনই মনে হল, এ-সময়ে টাপা ফুল কোথায় ফোটে এট! টাপা ফুলের খতু কিনা সে সেই কবে টাপাফ্ুলের গাছ দেখেছে; ফুল দেখেছে কখন ফুটত মনে করতে পারছে না। তবে চৈত্রমাসে ফুটত বলে মনে হয় না। যদি অসময়ে এই ফুল বাতাসে ভেসে আসে তবে তো আরও কেলেঙ্কারশ। সে যেখানে যাকে পেল অফিসে, কেবল জিজ্ঞেস করল, আচ্ছা টাপা ফুলকখন ফোটে £ আর সে আশ্চর্য, টাপাচ্ুল কখন ফোটে কেউ নিদিষ্ট সময়ের কথা বলতে পারল না বর্ষার ফুল না গ্রীষ্মের ফুল। সবল তো সবসময় ফোটে না ॥। এক একজন এক এক সময়ের কথা বলল এরপর নবেন্দ্রর মনে হতে লাগল টাপাস্ুল সারা বছর ধরেই ফোটে ন। হলে সে যা মানুষ, কখন সুনন্দাকে বলে দেবে, জানো টাপা ফুল তো এখন ফোটার কথা না। তাহলেই গেছে। সুনন্দা বলবে, আমি জানতাম এমন হবে আর সেই থেকে কেন জানি নবেন্দ্ূর জানার ইচ্ছে এবারে সুনন্দা কি টের পেয়েছে কোন ভালবাসা টাসা। এ-বয়সে সে আর কাকে ভালবাসতে পারে ? তার যারা পরিচিত সবাই তো শিল্নীবানী মান্নুষ। তারা আর তাকে ভালবাসতে আসবে কেন £ সবাই যে যার মতো স্বর্ণ্াপার গাছ লাগিয়ে সার জল দিয়ে বড় করে তুলছে আর আশঙ্কায় ভুগছে কখন কোন কাঁটপতঙ্গের আক্রমণ না জানি ঘটে নবেন্দু সারারাত ঘ্বমাতে পারল না। ভোররাতে খুব সন্তর্পণে দরজা খুলে

২ণালকনিতে গিয়ে বসল সুনন্দা ভিতরে অঘোরে ঘুমোচ্ছে। ওর কেবল হাই উঠছিল সম্স্যাসীর দেওয়া সামান্য একটা মঙ্গলকবচে সুনন্দার সব ভয়ডর গেছে। সকালে সুনন্দা নবেন্দ্রকে দেখে অবাক হয়ে গেল। ব্যালকনিতে ইজিচেয়ারে শুযে আছে চোখ উদাস একরাতে যেন অনেকটা তার বয়স বেড়ে গেছে। সুনন্দা চা রেখে বলল, শরীর খারাপ ? নবেন্দ্র তাকাল কিছু বলল না। চা খেয়ে বের হয়ে গেল ফিরল অনেকরাত শবে সুনন্দা বলল, কোথায় গিয়েছিলে নবেন্দ্র স্নানের ঘরে চলে গেল দাড়ি কামায়নি। চোখ বসে গেছে। ছেলে 'মযেবাএয যার ঘরে | বিনিও শুয়ে পডেছে! সুনন্দা খার্ধার টেবিলের পাশে [খ থমথমে নবেন্দ্ব বলল' খুজতে বের হয়েছিলাম | সুনন্দা বলল, কী খু'জতে বেব তযেছিলে ! এখানে কোথায় টাপার গাছ আছে খু'জতে বেব হয়েছিলাম সুনন্দা কিছুট। কিতে প্রশ্ন করল, পেলে £ নবেন্দ্ব খেতে খেতে অন্যমনস্ক বলল, সবার বাড়িতেই পাছে। একটু ন্বন দাও। সুন্দ। নুনদািন থেকে চামচে সামান্য নন তুলে দিয়ে বপল, কে তোমাকে খুজতে লগে! নবেন্দ্র আন্থলে টিপে সামান্য নুন নিয়ে জিবে ঠেকাণ বলল, কেউ বলে ন। তারপর আচমকা প্রশ্ন করল, সাপের খোলসটা প্ুঁভিযে দিয়েছিলাম তোমার বা মারা গেল এবারে কার পালা ভাবছি! তুমি তো সব টের পাও। তারপর পটটা টিপে ধরল কী হয়েছে _ব্যথা করছে। বাথ] করবে না! সারাদিন একদগু বিশ্রাম নেবার নাম আছে ! নবেন্্ব হাসল ব্যথাটা কেমন চমকে দিয়ে গেল তাকে খামচে ধরার মতো ! চিশ বছর ধরে সৃনন্দাকে নিয়ে সংসার করছে বিয়ের আগে সে এক রকমের ন্বধ ছিল বিয়ের পরে একেবারে অন্যরকম যেন বৌকে মানে সম্মানে রাখতে পাবলে তার মর্যানা থাকবে না কোথাও গেলে দুশ্চিন্তা সুনন্দা ভাল আছে তা! যা ভশতু মেয়ে! কতক্ষণে ফিরবে তারপর সন্তান সম্তাতি। ভোর রাতের কে পেটটা আবার খামচে ধরল নবেন্দর চিৎকার করে উঠল, সুনন্দা জল | কাছে লে বলল, ব্যথা সুনন্দা দেখল, আজ প্রথম নবেন্দুরর কপাল ঘামছে। সে বলল; মানসকে ডাকব থাটা কমেছে !

জল খাচ্ছিল, নবেন্দ্ব কিছু বলতে পারছে না। পরে চোখ বুজে বলল, ডাকতো হবে না। সারাদিন পেটে কিছু পড়েনি সেরে যাবে সে চোখ বুজেই থাকল সে দেখতে পেল, স্বর্ণ টাপারা আবার বাতাসে ভেসে আসছে সন্যাসশর মঙ্গল কবচে বিশ্বাস থাকলে বোধ হয় ব্যথাটা হয়না ক'টা স্বর্ণ ঠাপা কি যে আতঙ্কের মধ্যে রেখে গেল তাকে ! সে চোখ বুজে দেখতে পেল কতরকমের টাপা গোলক টাপা,কাঠ ঠাপা, কাঠাল চাপা, শ্বেত টাপা। কেউ বলে গেল যেন, ঠাপ ফুল গ্রণম্মেই ফোটে তুমি অযথা ভয় পাচ্ছ। অসময়ে কেউ তোমার বারান্দায় টাপা ফুল রেখে যায় নি। সে স্বনন্দাকে কাছে ডাকল বলল সত্যি করে বল ঠাপা ফুলগুলি দেখে এত ভয় পেলে কেন ! সুনন্দা বলল, ভয় পাব না! আমি ছেলে পুলের মা। নবেন্্ব আর কোন প্রশ্ন করল না। পাশ খিরে বলল, আলোটা নিভিযে দাও সকালে ডেক না। আমলে সে ভাবছিল দ্বমটা এলে ভাল হয়। তার ম্বমানো দরকার আর তখনই মনে হল পঁচিশ বছর ধবে সেনা ঘুমিয়ে আছে পাঁচশ বছর ধরে দ্বৃশ্চিন্তা দ্র্ভাবনা ছেলে মেয়েরা তখন ছোট ছিল, তখন একরকম দুর্ভাধন। বড় হলে অন্যরকমের একটা যায় আর একটা আসে মহাকাশ ফেরি কলান্থিয়া এসেছে পৃথিবীর বুকে নবেন্দ্রর ঘবম ভাঙতেই খবরট। শুনল। সঙ্গে সঙ্গেই পেটে খিঁচ। ব্যথায় নীল হয়ে গেল নবেন্দ্রর মুখ সুনন্দা হাউ মাউ করে কেঁদে দিল। মানস এলে বলল, দাদাকে পি জিতে ভর্তি করতে হবে পেটে বড়কিছু একটা লাগছে। বিকালের দিকে সাদারঙের গাড়ি এসে নবেন্মৃকে নিয়ে গেল। সুনন্দা পাঁচশ বছর ধরে লোকটার দিকে তাকিয্েছিল-_আজ সেও চলে যাচছে। সে জানত, এমন কিছু একটা তার হবে আর তখন নবেন্দ্র সাদা গাড়িতে শুয্সে দেখতে পেল অনেকদূরে এক মস্ত মরুভামি সদৃশ প্রান্তর সারি সার মানুষ পিঠে ক্রস ক্রস বহন করে তার! ধৃ'কতে ধু'কতে হাটছে। কোথায় যাবে মুখে সবার লঙ্ব দাঁড়ি চুল অবিন্যন্ত মুখের চামড়া কু"চকে গেছে চোখ কোটরগত নীল এক ভৃখণ্ড থেকে তারা রওনা হয়েছে, এখন সে ভুখণ্ড নেই। এক গভীর খাদ পার হয়ে কোন পাহাড়ের উৎরাই ভাঙছে কেউ কেউ মুখ থুবড়ে রাস্তায় পড়ে যাচ্ছিল কোথাও কাটা গাছে পা লেগে রক্তপাত হচছে। সে ব্যথায় চিংকার করে উঠল-_কারা তোমরা কেন তোমরা হাটছ। আমার বারান্দায় স্বর্ণঠাপা কে রেখে গেল: তোমর! জান ? তখন ক্রস পৃ'তে দেওয়া হচছে, লম্বা! মই বেয়ে কেউ উঠে যাচছে উপরে হাতে পেরেক পরতে দিচছে। যার যার ক্রস__নম্বর মারা আজাবন বহন করে সেই

ক্রুসে হাত প। তুলে দিতে যাচছে। শুধু অপেক্ষা কেউ এসে কতক্ষণে তার হাতে এব পায়ে কাটা পুতে দেবে। বধ্যভামিতে মেও হাজির পিঠে তার ভারি ক্রস। নবেন্দ্ব এবাবে ক'দিন খুব ঘোরের মধ্যে ছিল নাকে নল লাগানো হাত পাবাধা। আস্ছন্ন ভাবটা কেটেও কাটছে না। হিজি বিজি দাগ কাটা ছাবি অথবা গভীর মন্থর কোন ধ্বনি কানে বাজত

আব সেই ঘোবের মধো নবেন্দ্র দেখতে গেল বাতাসে অজত্র টাপা ভেসে বেডান্ছে। কোনোটা হলুদ কোনোটা মোনালী, আবার সবুজ রঙের টাপা গায়ে কৃাশ। মেখে লাল নীল নক্ষত্র হযে যাচ্ছে কোনোটার বোটায় মাপের লেজ, কোনোটা ডানা গাঁজয়ে নিয়েছে তারপর কখন পাখি হয়ে গেল। পাখিটা উড়ে গাসছে! কপালে বসে ঠঁকরে ঠুকরে চুল উপডে ফেলছে। শেষে &ো করে সবটা ঘলু খেয়ে তৃপ্তিতে পাখা ঝাডল। আব তখনই মনে হল, অনেক দূর থেকে, যেন কান দৃববর্তী নীহারিকা থেকে অতীব এক চেনা স্বরে কেউ ডাকছে ।__এই গুনছ। মামরা। চিনতে পারছ আমি সুনন্দা, আমি অতসী, আমি রূপা দেখ তামার জন্য আমরা কেমন সোনাব টাপা হযে ফুটে আছি।

' সে হাসল। বলল, আমাকে লিয়ে বেশ মজ তোমাদের, না মাথায় ঘিলু না থাকলে ঈশ্বরেব হার্টসও বত মানুষেব মুখের মতো দেখায়

বান অচিন্ত্য কুমার ভট্টাচা্

তপন অন্যমনস্ক ভাবে হাতের ঘাঁড়র দিকে তাকালো চারটে বেজে গেছে। শীতের বেলা, এই সমযনে প্রতিদিনই অন্ধকার হয়ে আসে ; দোকানের এবং পথের আলো জ্বলে ওঠে আজ সকাল থেকেই মেঘ করেছে, যে কোনো সময়ে বৃষ্টি নামবে মনে হচ্ছিল, কিন্তু নামোন ॥। মেঘের জন্যে মনে হচ্ছে রাত হয়ে গেছে ব্রাঝি অনেকক্ষণ

কাজ যা ছিলো ধারে-সুস্থে করেও শেষ হয়ে গেছে অনেক আগেই অফিস থেকে বেরিয়ে পড়লেও হয়, আবার তাড়াতাড়ি বাড়ী ফিরে হবেই বা কি এই রকম ভাবনার দোটানায় তপন কিছুক্ষণ কাটালো, অবশেষে বেরিয়ে পড়াই ঠিক করলো গেলাস, কাচের কাগজ-চাপা৷ এবং দু-একট] কাগজপত্র টেবিলের ড্রয়ার ভরে, সহকর্মীকে জানিয়ে সে বেরিয়ে পড়লো

বাইরে বেরিয়েই শীত এবং ঠাণা হাওয়ায় প্রথমটা একটু কীপুনি লাগলো একটা সিগারেট কিনে তাতে আগুন ধরাবার সময় দোকানের আয়নায় নিজের মুখ দেখল সে; মনে হল ইদানিং একটু খারাপ হয়ে গেছে তার চেহারা, চোখ মুখের বিষষ্ন ভাবটুকুও তার নিজেরই নজরে পড়লো যে ভাবনাটা তার মধ্যে কিছুক্ষণের জন্যে ডুব মেরে ছিলো আবার সেটা তার বুকের "মধ্যে একটা নিস্তেজ করুণ বিলাপের মতো! নিঃশব্দে জেগে উঠলো, সমস্ত চেতনাকে যেন কোনো শগতের নদ থেকে আসা ঠাণ্ডা বাতাস একটু একটু করে এক ধরণের বিমর্ষতায় আচ্ছন্ন করে ত্বললো

ফেটস্ম্যান*.অফিসের পাশ দিয়ে বেরিয়ে চিত্তরঞ্জন আযাভেনু হয়ে ধর্মতলার মোড় পার হয়ে সে কার্জন পার্কে এলো।

তপন পার্কের ভেতরে এসে একটি শিনর্জন এবং অন্ধকার জায়গায় বসলো আজ এক বার নিজের ভাবনার শ্বখোনবৃখি হতে চাইলো সে। কিন্তু কোন ভাবনার মুখোমুখি হবে ? তার ভাবনার সম্পূর্ণ রূপ কি তাই সে জানে না স্পট করে। কতো দিন হবে-ছ মাস? হতে পারে চার মাস? তাও হতে পারে- তপন যেন কখন একাঁদিন হঠাৎ টের পেলো তার মধ্যে অন্তুত একটা বিষঞ্জতার ছায়া ধীরে

ধাঁরে বিস্তারলাভ করছে এবং ক্রমশঃ তার সহজ আনন্দ, তার সুখ, তার সতা৷ সমস্ত কিছুকে গ্রাস করছে। আর যখনি এই বিষন্নতা, এই ক্লান্তি এবং জীবন থেকে বিচ্ছিন্নতা বোধ প্রবল ওঠে তখন সে যেন মৃত্যুকে প্রত্যক্ষ করে সে দেখতে পায় হঠাৎ তার সামনে মৃত্যু যেন প্রকট হয়ে উঠছে কি তার স্বরূপ তা সে জানে না, কিন্ত বোধ করে

নিজের ভাবনায় তপন ভয় পেলো তার ফিহ'ল? একি তার কল্পনা বিলাস না কি অসুস্থতা ? কিন্তু তাই বা কি করে হয়? সে তো দেখেছে, প্রথমবার না হোক, দ্বিতীয়বার তো তার ভুল হয় নি। এতো স্পষ্ট করে স্বৃতযুকে সে দেখেছে যেলোকে তাকে পাগলই বল্নুক আব যাই বলুক সে তো জানে তার এই বিষপ্তা এবং তার এই স্বত্্যুকে দেখতে পাওয়া কতো সত্য, দিনের মতো সত্য এই সব সময়ে তার মধ্যে যে একটানা বিষঞ্ণভা দানা বাধে, তপন টের পেলো গত ছ্বতিন দিন থেকে আবাব সেই নিঃশব্দ ঘাতক তার বকের মধ্যে জেগে উঠছে এবং তাকে তাব চেনা জগৎ থেকে একট্র একটু করে এক ধূসব অবসাদের জগতে নিয়ে যাচ্ছে। তপনের ভয় হল না জানি আবার কোন মৃত্যুর মুখ সে দেখতে পাবে

৯৫ সর

মাস তিনেক আগের সেই দিনটার সঠিক তারিখ তার মনে নেই। অক্টোবরের প্রথম দিকে হবে অফিস থেকে বেরোতে দেরণ হয়েছে একটু সন্ধ্যা পেরিয়েছে আস্তে আস্তে পথ ইাটছিলো তপন। চিত্তরঞ্জন আগভেম্ন ধরে উত্তরে হাটছিল সে, কলেজ স্ট্রিট হয়ে বাড ফিরবে গত দিন দ্বযেক থেকে তাব মন ভালো! নেই, চাপা একটা বিষপ্র ভাব, কেন সে জানে না। ভার মনে হচ্ছিলো এই যে ব্যস্ত চঞ্চল শহর, এই যে অগণিত মানুষের ধাব।, সুখ-দুঃখ, সাফল্য বার্থতা, ভালোবাসা-প্রতারণা সমস্ত কিছু শুধু অর্থহীন ছবি, বিকারের ঘোরে দেখা স্বপ্ন মাত্র সব কিছু যেন কোনও স্বদূর অতাঁতের ধূসর আলো অন্ধকারময় ইতিহাস সে এই সব কিছুর বোব৷ দর্শক, তার সংগে এই জীবনের কোন প্রত্যক্ষ সংযোগ নেই এই বর্তমান যেন কোনো দুর অতাঁতের চলচ্ছবি তার মনে প্রতিফলিত হচ্ছে, তার এবং আর সব কিছুর মাঝখানে যেন একটা শশতল স্বত্যু ত্য এবং স্থির হয়ে আছে।

মন থেকে সর্জোরে এবং সশব্দে ভাবনাটাকে ঝেড়ে ফেলার জন্যে সে বেশ জোরে গলা ঝাড়লো। একটা সিগারেটের দোকানের সামনে নাড়িয়ে নিজেকে একটু দেখলো, তারপর সিগারেট ধর্পিয়ে আবার চলতে শুর করলো!

কলুটোলার কাছে এসে রাস্তা পার হবার জন্যে দাড়ালো তপন। গাড়ণর দগর্থ সারি। ফীড়িয়ে অপেক্ষা করতে করতে তপন টের পেলো সে আসছে, সেই ঠাণ্ড।

টি

কুয়াশার মতে] বিষ্রতা তাকে একটু একটু করে গ্রাস করছে ॥। অন্যমনস্ক হয়ে গেলো সে। ঘটনাট। ঘটলো এই সময়েই

অন্যমনস্ক তপন প্রাণপণ চেষ্টায় যা ভুলে থাকতে চাই ছিলো সেই স্বত্যু, সেই স্বত জগৎ ততোই তার মস্তিষ্কের শিরায় শিরায় একট্রু একট্র করে নেশার মতো বিস্তারিত হচ্ছিলো তার পাশে মধ্যবয়স্ক একটি লোক খুব ব্যস্ত ভাবে বিড়িতে টান দিচ্ছিলো এবং খুব সতর্কতার সংগে পথের গাড়ীগুপির গতির প্রতি লক্ষ্য রাখছিলো দেখলেই বোঝা যায় তার বড়ো তাড়া, খুব ব্যস্ত মান্য সে

এক সময় তপন হঠ।ৎ মুখ তুলে চাইতেই তার চোখ সোজাসুজি লোকটার মুখের ওপর পড়লো এবং সে প্রচণ্ড একটা ঝাকুনি খেয়ে চমকে উঠলো অত্যন্ত স্্ট ভাবেই সে দেখলো লোকটার মুখের ওপর চামড়া বা মাংস কোনো কিছুর আস্তরণ নেই, শুধু মাণ। ধবধবে করোটি সমস্ত কাটি দাত উন্মুক্ত করে চোখের শুন্য কোটরে অনস্তকালের অন্ধকার নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে একটা ঠাণ্ডা দণর্থশ্বাস ফেললো তপনের পায়ের তলা থেকে একটা বরফের টুকরো তার মেরুদণ্ড বেছে ফেন মাথায় দিকে উঠতে শুরু করলো

কিন্তু মুহূততটা৷ কেটে গেলে এবং তপন দ্বিতীয়বার লোকটার দিকে তাকিয়ে তাবে স্বাভাবিক দেখলো

আসল ৮মকটা এলো এর পরের মুঃৃতে। হঠাৎ এব সংগে যেন কলকাতার সমস্ত গাড়ী ব্রেক কসলো, পাশের বহুতল বাড়৮া যেন ওই স্হে ভুড়মুড় করে ভেঙ্গে পড়লো গাছের অন্ধকারে যে কাকগুলি নদ্রিত ছিলো তারা সৎ যেন একই সংগে ওই মহূর্তে কা-কা করে উঠলো এবং সম্স্ত কলকাতার মানুষ ওই বিশেষ মুহূর্তটতে যেন একই স.গে আকুল আর্তনাদ করে উঠলো।__গেল, গেল, গেল

তারপর, কিছুক্ষণ আগে দেখা লোকটকে চিনতে অন্তত তপনের ভূল হয় নি। সেই সাদা-কালোয় ডোরা৷ কাট৷ জামা, নীল জানের প্যান্ট, বাটার রাবারের জুতো সব কিছু প্রাইভেট বাসের চাকা চলে গিয়েছে বুকের ওপর দিয়ে বাঁচবার শেষ তাগিদে প্রসারিত হাত ছটি কোনো কিছু আকড়ে ধরার চেষ্টায় রাজপথের

ধুলোয় মুঠিবাদ হয়ে আছে। পুজোর ছুটি কাটলো' স্ত্রী রান এবং চার বছরের ছেলে বারুয়াকে নিয়ে মামার

বাড়ী জলপাইগাঁড়তে

শহরের পাশ দিয়ে বাধ, তিস্তার চর, তিস্ত| ব্রীজ থেকে প্রতিদিন সকালে 'কাঞ্চনজঙ্ঘার সোনায় মোড়া মুকুট, বন্সা পাহাড়, জয়ন্তীর ডাকবাংলোয় রাত, ফুণ্ট- শোলি এর বুদ্ধগুক্ষা, সন্ধ্যাবেলা লুকশানে ডায়না নদীর তীরে দীড়িয়ে এক পৃথিবীর

৯১9

কাল পার হয়ে শতাব্দীর প্রান্তে অন্য এক অতীত পৃথিবীর স্বর গান শোন! এই সব ্বপ্রময় আনন্দের মধ্যে তপন আবার নিজেকে খুঁজে পেলো তার মনের মধ্যে অনেকদিন পর ডানা মেললো আনন্দ। সে যেন ভুলেই গেলো ছুটির শেষে কলকাতায় 1ডাহ শ্রীরামপুর রোডের বাড়তে ফিরতে হবে, রোজ অফিসে যেতে হবে চৌরংগণীতে এবং ছুটির শেষে মুততিমান বিষগতার প্রত্তীক হয়ে ফিরতে হবে বাডাঁতে

কলকাতায় ফিবে প্রথম কটা দিন ভালোই ছিলো সে। তারপর ধশরে ধীরে কখন আবাব সেই লক্ষণ অন্নুভব করলে নিজের মধ্যে দ্বিতীয় ধাক্কাটা তপন খেলো গতমাসে অথাৎ নভেম্বরের শেষের দিকে এবার দিনের বেলায় এতো পরিস্কার ভাবে সে অনুভব কবলে। যে মনে মনে নিঞ্জের এই অস্বাভাবিকতার জন্যে অত্যন্ত ভীত হয়ে উঠলো

ছুটর দিন। বিকেলেব দিকে সে বেরোলো। চন্দননগর যাবে বলে পার্কসার্কাস ট্রম ডিপো থেকে একেবাবে সামনের একটা সিটে খসে আসছিলো হাওডা ষ্টেশনে সে টের পাগিলো পুবোণো জ্বরেব মতো তার মস্তিষ্কে, চেতনায় একটা বিষণ্ণতা তাকে একটু একট্রু করে নিজীব করে ফেলছে বডোবাজারে এসে ভাবলো হাওডা ব্রীঁজট্ু$ হেটেই পাব হবে যখন বয়স কম ছিলো, পড়াশুনো করতো সেই সময়ে কতোদিন হাওড়া ব্রীজের ঠিক মাঝখানটায় দাড়িয়ে সে তাকিয়ে থাকতো নীচে জলের দিকে দেখতো বাদামের খোলাগুলো কতোক্ষণ ধরে নামতে থাকে নশচের দিকে ছুটির দিন বলে হাওডা ব্রিজে ভীড কম।

অন্যমনে হাটতে হাটতে তপনের মনে হল আকাশের আলো যেন কমে আসছে, গ্ংগা, মান্নষ-জন সব ফেন ধুসর ছায়া ছায়া।

ওর পাশ কাটিয়ে হন্‌ হন্‌ করে এগিয়ে গেল একটি তরুণশ | মেয়েটির ভ্রুতগতিই তপনকে সচফিত করে তুললো' সে মেয়েটির দিকে চেয়ে দেখলো এবং এই সময়েই মেয়েটি হঠাৎ একবার পেছন ফিরে দেখলো--আর স্তস্ভিত তপন স্থবির হয়ে দেখলো--তার দৃষ্টি এক্স-রে যন্ত্রের মতো মেদ-মজ্জা৷ বাদ দিয়ে এক মৃুহুতে একটি ছবি নিলে মেয়েটির অস্থিময় মুখমগ্ডলের, যে মুখ ম্বৃত। পথের লোকজন কেউ কিছু বোবার আগেই মেয়েটি গংগায় ধাপ দিয়েছিলো এবং তপন পরদিনের কাগজে “তরুণশর আত্মহত্যা” শশর্ষক খবরটি পড়তেও ভূল করেনি

নী সী

কার্জন পার্কে বসে বিজ কণ্টিনেন্টাল হোটেলের লেখাটার দিকে তাকিয়ে ভাবতে

ভাবতে তপনের খেয়াল হল রাত হচ্ছে তার শত করছিলো জড়তা ভেঙ্গে উঠলো

এবার | প্রথমে ভাবলো চা খাবে, কিন্তু ঘাঁড়র দিকে চেয়ে যখন দেখলো সাতটা

৯৯

বেজে গেছে তখন তাড়াতাড়ি বাড়ী ফেরাই ঠিক করলো। বারুয়ার জন্তে কি নেওয়া যায় ভাবলো ছেলেটার কা্দন থেকেই স্বর কি ধরণের স্বর এখনো বুঝতে পারা যাচ্ছে না, ডাক্তার বলেছেন আরো ছ্ব' একদিন দেখতে হবে। কিছু ফল এবং বিস্কুট কিনে বাস ধরতে এগোলো সে।

রুনি জিজ্ঞেস করলো-_“দেরশ হল যে?”

_-এমনিই |

_চাকাঁর ?

_-করো। বারুয়া কেমন আছে আজ ?

জানি। দ্বপুরে ডাক্তার তো৷ দেখে গেলেন নতুন ওর়ুধ দিয়েছে।

তপন ছেলের কাছে গেলো তার মাথার কাছে বসে কপালের ওপর আলতো করে হাত রাখলে | বারুয়া আচ্ছন্ন চোখে একটু চেয়ে দেখলো বাবাকে, একটা অবসন্ন দুর্বল হাত তুলে তাব কোলের ওপর রাখলো।।

_বুবাই ॥' তপন আদর করে ডাকলো

_উ!

_এবার তোমার জন্মদিনে একটা ভালো বই দেবো, আর একট। দম দেওয়া বেড়াল।

বারুয়া বললো--আমি একটা ট্রেন নেবো।

_ আচ্ছা

তপন বারুয়ার মুখের দিকে চেয়ে বসে থাকলো চুপচাপ ছেলেটার মুখটা কেমন শুকনে। হয়ে গেছে সেরে উঠলে ছেলটার দিকে এবার একটু নজর দিতে হবে

কতোক্ষণ এভাবে কেটেছে খেয়াল নেই। হঠাৎ ছেলের দিকে তাকিয়ে দেখেই বুকের মধ্য থেকে একটা চাপা আর্ত চিৎকার বোরিয়ে এলো তপনের। তার সমস্ত শিরা উপশিরায় বয়ে গেল হিম শীতল রক্তের ভ্রোত। দু'হাত দিয়ে নিজের চোখ ঢেকে কয়েকটি মুহূর্ত সে দ্াডয়ে রইলো এবং তার পরেই মাতালের মতো৷ টালমাটাল পায়ে নিঃশবে বেরিয়ে গেল দরজা খুলে রুনি কিছু টেরও পেল না।

এখন রাত দশটা রান ভাবছে, কি আশ্চধ্য, গেলো কোথায় মানুষটা ?

ডাক্তার এই মাত্র ছেলেকে দেখে গেলেন বললেন, “ভালো আছে, ওরুধটায় কাজ হয়েছে আর চিন্তার কিছু নেই।'

সেই সময় রেল প্রলিশের লোকেরা যখন পার্কসার্কাস স্টেশনের কাছে লাইন থেকে তপনেন্স দলা পাকানে। শরণীরটাকে চটে ম্বঁড়ে বাশের সঙ্গে বাধছিলো, তখন সারা শরীরের মধ্যে অবিকৃত ছিলো গুধু তার মুখটি, সেই ম্বখে কোনো বিষজতার ছাপ ছিলো না।

উহ

আগুন আশাপূর্ণা দেবী

কা্চর আগালির মত খোঁচা খোচা কাঠি কাঠি আঙুল ক'টার হাড়গুলো মড়- মডিয়ে ভেঙে গঁড়ো হয়ে যেতে চাইছে শরীরের যেখানে যত গ্রাস্থি আছে, কে যেন সেখানে নিষ্্র আক্রোশে মোটা গুণছুপ্চ দিয়ে বিধেছে, এবং ঘাড থেকে মাজা আর মাজা থেকে ঘাড় অবধি একট অসহ্য দপদপানি ছুটোছুটি করে ফিরছে।

দপদপানি ঠাণগার।

ঠাণ্ডাটা অতিরিক্ত ঠাণ্ডা হয়ে উঠলে কি আগুনের দাহ এনে দেয়? আবার এক এক সময় ওই ছুটোছুটি দপদপানিট? থেমে যাচ্ছে, মনে হচ্ছে শত্রুতা করে কেউ ওই ধনুকের মত গোল হয়ে যাওয়া শিরর্দাড়াটার ভিতরে কোনো খানে একচাপ বরফ ঠেশে ধরেছে সেই বরফ গলা হিম জলট] ঘাড থেকে দ্'ইয়ে স'ইয়ে নীচে পর্যন্ত নেমে আসছে বুকের মধ্যে কীপ্ুুনি ধরিয়ে

তরু সব থেকে মারাত্মক কষ্ট বাশের রলার মতো! খটখটে পা দ্বখানায় সেই কষ্টে হঠাৎ হঠাৎ ককিয়ে উঠছে বুি, ওরে মা রে, পা দু'খানাকে যেন কুকুরে চিবোচ্ছে রে !

প্রথম প্রথম কথাট শুনে চমকে ছুটে ছুটে আসত হিমানী লাঠি হাতে নিক এখন আসেনা | অদৃশ্য কুকুরের কামড়ের প্রতিকার তার জানা নেই।

অতঃপর বুড়ি কপালে হাত চাপড়ে চাপডে গাল পাডে। আজও পাড়ছিল। '**নাঃ ভাগ্যকে নয়, গাল পাড়ছে বুড়ি তার নাত বো ওই হিমানীকে।

প্রথমটা অবশ্য গ্রাল পাড়েনি, ককিয়ে ককিয়ে ডাক দিচ্ছিল নাতবো, সেই ত্যাখন থেকে যে বলতোঁছি এখানে খানিকটা কাটকয়লার আংরা করে দে। কানে ঢুকতেছে নাঃ নাতবো, বালি কথা কানে সেঁদুচ্ছে নাঃ শীতে যে কালিয়ে গেলাম ? হারামজাদি, এতো অগগেরাহ্যি কেন 2

কিন্ত সেই নাতবৌয়ের কোনে উদ্দেশ নেই

অথচ ওই 'কালিয়ে' যাওয়া যন্ত্রণায় বুড়ি মরপতুল্য কট পাচ্ছে ।"*'দেবতাও আড়ে হাতে লেগেছে। নইলে এই শেষ পৌষের কনকনানির ওপর তিনদিন ধরে

১৩

ৃ্টি! জোর বৃষ্টি নয়, সারাদিন রাত (িমবিম টিপটিপ। তার সক্ষে ছুপ্মির ধার কনকনে হাওয়া

দ্পুরে ভাত কটা পেটে দেওয়া অবধি বুড়ি “আগুন আগুন" করে চিল্লাছে, কিন্ত আগুনের ফুলকিটুকুও দেখতে পাচ্ছে না

গায়ে জড়াবার কীথা কম্বলের সম্বলই বা কতটুকু শত জীর্ণ একখানা ভোট কম্বল, কতকাল আগের কে জানে, আব তালির ওপর তালি মারা ভারণী জগদ্দল কাথাখানা বোধহয় প্রাগোতিহাসিক মগের

বাড়ির যখন নাকি বয়েসকাল ছেলো৷ চোখ বুজে ছুচের ছিদ্দিরে সুতো পরাতে পারতো, তখন হরেক রঙের স্ৃতো দিয়ে ওই নক্সি ক্যাথাখান। বানিয়েছিল | পাচ- রকম রঙের শাড়ির পাড জোগাড করতে পাডার গিন্নশীদের কাছে ধর্ণা দিযে রাখতো

সেই বাহারে 'ক্যাথা' খানা অবশ্য নিজের জন্যে বানায়নি বডি যখন না কি তার নাম ছিলো__'ন বৌ'। বানিয়েছিল বাডিতে আগুভ্তিযাউন্তি কুট্রমের জন্যে যে দেখেছে, ন'বৌয়ের শিল্পকলার সুখ্যাতি করেছে ।--*এখনো সে গল্প করে ব্লাড়।

গল্প শুনে হিমানী মুখ বাঁকিয়ে হেসে বলে, ওনার বয়েসকাল ! মান্ধাতা- রাজ] বোধহয় তখন হামা দিত।

তা হাসতেই পারে, সেই নবযোবনা ন'বোঁকে এই ধনুক হযে ধাওয়া বুড়ির মধ্যে থেকে আবিষ্কার করতে পারবে, এতো সৃষ্ষর দৃষ্টি হিমানীর নেই নেই বলেই ওই কাথাখানার যৌবনকালকে অনুমান করতে পারে না। কালে প্রলেপে যেমন ন'বৌয়ের আজ এই রূপান্তর বছর বছর, কত কত যেন বছর, মোটা ময়লা ষ্রেঁডা খোঁড়া কাপডের প্রলেপে প্রলেপে কাথাখানারও এই দশা

দিন মাস বছর, বছরেব পর বছব যেতে যেতে আথাতি কুট্রমের জন্তে বানানো কাথা ক্রমশ, ন" কর্তাব গায়ে উঠেছে, অতঃপব আরো অনেকগুলো গা ফের্ঠা হযে অবশেষে ব্াড়র ভোগে লাগছে।

ময়লা মোটা শততালি ম্ৃক্ত বোটকাগন্ধ জিনিসে আর কার রুচি হবে ? তাছাডা সংসারে আছেই বাকেঃ “জনারপ্য পুরণী' এখন শুধু অরণ্যপুরী। নিতাই আর হিমানাী, ফাউন্বরূপ একটা পৃণ্চকে ছেলে কীথাথানা ওজনে কম নয়, রোদে ভাতিয়ে গায়ে দিলে এখনো আরাম হয়, কিন্ত কোথায় সে দুর্লভ আরাম? রোদে উঠোন ফাটলেই বা কে কীথা টেনে নিয়ে গিয়ে রোদে দিচ্ছে? হিমানণ? হাত দুটো যার ভিজে ন্যাকড়ার সলতের মত?

তাছাড়া এখন যা চলছে লোকে তো রোদের নাম ভুলে গেছে ।'""ছাত দিয়ে

উনি

জল চৌয়াচ্ছে না, জানল! দ্দিয়ে ছাট আসছে না, তরু কাথা কম্বল দ্বটো যেন ভিজে টুসটুস করছে।

হাত থাবড়ে থাবড়ে দেখে বুড়ি টোঁচিয়ে বাড়ি মাথায় করে হাক পেড়েছে অ-নেতাই, নেতাইরে দেখতো! আমার বিছানায় কোথা থেকে জল পডতেচে। ক্যাথা কম্বল দ্বটোই যে ভিজে শপশপে নাগচে।

নেতাই তার জীর্ণ মিন র্যাপারখানা ম্নাড়স্বডি দিয়ে দরজায় এসে চীিযে বলে, জল আবাব কোথা থেকে পড়বে ? তোমার ঘরের মাথায় তো ছোটঠাকুর্দার ঘব, কতকাল থেকে চাবি বন্ধ পডে আছে।

আর জানলার ছাট ?

জানলার ছাটের কথা ওঠে না কারণ দরে জানলা বলে কোনো বস্ত নেই। সাত শরিকেব বাডির এক টুকরো অংশ পার্টিশান দিয়ে দিয়ে এই-_ন্যায্য ভাগে আনা ন'কর্তার এই একমাত্র নাতি নিতাইয়েব ন্যায্য ভাগে একতলার মে অংশটুকু পডেছে তার থেকে বরদ। সুন্দরীর ন্যায্য ভাগে পডেছে এই জানলাহণন ত্িতিনদেয়াল চচুপা অন্ধকৃপটুকু।

বরদা বৃডির খ্যন্খেনিয়ে বলেছে, তুই তো বললি পডবে কোথথেকে? জল তবে এলে। কী করে? হাত দে দ্যাখ এসে,ভিজে কি না।

বরদ! বুডির বিছানা হাত দিয়ে ্োবাব প্রবৃত্তি তাব নাতি মিতাইচরণের হয়না, সে একটু কুটিল হানি হেসে বলে, তুমি নিজেই ভেজাওনি তো ?

আম? আমি ভিজিয়েচি ?

ব্লাড একবাব দিশেহারা হয়ে গিয়েই ঠেঁচয়ে বলে ওঠে কী বললি মুখপোডা নঞ্চীছাডা হাডহাবাতে £ ওই হারামজাদী পরিবারের সঙ্গে মিশে মিশেই এতো অধেপ্যাত হয়েছে তোর নেতাই! ওই হারামজাদণী যেমন যা মবুকে আসে তাই এলে, তুইও তেমান-_

হঠাৎ তাকিয়ে দেখে নিতাইচরণের টিতিটিও নেই অতএব আপনমনে গজ গজ করা ছাড়া আর কাঁ করার আছে। আজ ছুটির দিন, বেইমান মুখপোড়া হব” দণ্ড এসে ঠাকুমার কছে বসতে পারে নাঃ তা বসবে না। সর্বদা সেই সোহাগণ বৌয়ের পায়ে পায়ে ঘুরে মরছে।

কাথাথানাকে উল্টে উষ্টে শুকনো জায়গা খুঁজে বার করার চেষ্টায় ব্যর্থ হয় বুড়ি '

কিন্ত সেতো তরু সকালের দিকে

তখনো পেটে ভাত পড়েনি, আনন আকাশও তখন এমন করে পৃর্থিবশর ওপর হুমড়ে পড়েনি

এখন অবেলায় সেই স্স্যাংসেতে কাথা কন্বল চাপা দিয়ে পরে থাকতে থাকতে রাড়র শিররদাড়ার মধ্যে বরফের ড্যালা গলছে, আঙুলের হাড়গুলো ভেঙে গুড়ো? গুড়ো হয়ে যাচ্ছে, গাটে গীটে গুনছুণ্চ ফুটছে, আর বাশের রলার মত পা দ্ব'খানাকে কুকুরে চিবোচ্ছে।

কী করবে তবে বুঁড় ককিয়ে ককিয়ে না চেঁচিয়ে, অ-নবাবনন্দিনণ নক্কীছাড়ি হারামজাদশ | বলি সেই থেকে যে ঠেঁচিয়ে মরতেছি, একখাবল। কাঠ-কয়লার

আগুন দে য। এঘরে, তার কী হল ? অনেকবার টেঁচানোর পর নাতবৌয়ের দেখা মেলে দরজার কাছে এসে বলে

কাঠকয়লা কোথায় পাবো ?

“কোতায় পাব? বলি বলতে মনকে আটকালো না? কেন গতরে কি ছাতা পড়েছে যে জ্বলন্ত কাটে একছাট জল দেরাবৰতে পারো নাঃ কাঠকয়লা আবার কোথায় পায় মানুষ £ আকার আগুন থেকেই পায়।

বৌ পাথুরে গলায় বলে, কোন মগের স্বপ্র দেখছেন ? কাঠ জ্বেলে রশখি আমি? বরদাসুন্দরী হাতম্বখনাড়া ঝগড়া সইতে পারেন, সইতে পাবেন না এই পাথুরে গলা, তাই নিজের গলাট। ভাঙা কাসার মত খ্যানখোনিয়ে বলে ওঠেন, “তা, কেনই বা রশাদোনা কাটে ? যাতে সংসারের একটু মুসার হয়, তাতে মন যায় না নবাব কন্যের, কেমন ?'*তা কেন, হ্েঁশেলে বসে কাটের ধেশয়। খেয়ে রশদতে গেলে যে বর চোকছাড়া হয়েখাকে। শয়ানকক্ষে বরের মনকোম়নুকি বসে এসটোব ভ্বেলে ছড়ার রশাদবো, মুকোমুিক বসে খাবো, তবে না বাহার ইাদিকে বুড়ি মরুক। বুড়ির জন্য একটা আদল পয়সা খরচ করতে বুক ফাটে, নিজেদের সক সৌধিনের কামাই নেই। “ঠান্ডায় আমার আত্মারাম খাচাছাড়া হয়ে যেতে চাইচে, হাত পা স্সেকতে একটু আগুন চেয়ে চেয়ে মরতেচি, আরতুমি নক্কীছাড়া মেয়েমান্ুষ সেজেগুজে এসে কের ওপর নাক নেড়ে বললে কিনা আগুন কোথথেকে হবে, কাটকয়ুলা নেই।

হিমানী তেমনি পাথুরে গলায় বলে, না থাকলে কী করব? নাকে বলে দেবেন বস্তা ভর্তি কাঠকয়ল। এনে রাখতে, মালস! মালসা আগুন করে দিয়ে যাবো

বরদ৷ ককিয়ে ওঠে, ওরে বাবারে পা যে গেলরে ! একট্রু ডলে দে হার়ামজাদণ দেখতে পাচ্চিল না শির খেচে ধরেচে। তো সবসময়ই ধরছে-_বলে চলে যায় হিমানশী।

আদল কথা ওই নোংরা ময়লা বিছানাটায় হাত দিতে ইচ্ছে করে না এখন হিমানীর "তিনদিন ধরে শাঁড় গকোচ্ছে না বাধ্য হয়ে আজ হিমানশ তার

1 উঠ

স্বদিনের একটুকরো স্থাতি একখানা রংচঙে ছাপা আর্টসিক্কের শাড়ি বার করে পরেছে আর সেইটা পরেছে বলেই বারুনের ঘামাচির জন্যে আনা পাউডারটার তলানি একটু সখটায় বুপিয়ে নিতে ইচ্ছে হয়েছে, ইচ্ছে হয়েছে একটা টিপ পরতে 1...এখন ওই নোংরা বিছানা আর নোংরা বুঁড়কে ছু'তে মন যায় ?

ত। এই সাজটুকুও ব্লাড়র নজর এভায়ানি দেখে আপাদমস্তক জ্বলে গেলো হিমানীর | শশতে হাত পা তারই কি কালিয়ে যাচ্ছে না? এই বর্ষায় ঠাণ্ডায় সংসারের জুতো সেলাই চণ্ডী পাঠ সব করতে হচ্ছে না? গরীবের সংসারে ঘটা না থাক ল্যাঠাটা তো আছেঃ আর ওই বড়? তার কন্না করতে হয় না? সকাল থেকে শুরু হয়ে যায় নাঃ ধরে ধরে দাওয়ার বার করে এনে তাকে ম্বখ ধোওয়াতে নাওয়াতে প্রাতঃকৃত্য সারাতে হয় না? ভাতের গরস মেখে মেখে সামনে ধরে দিয়ে দ্বঘণ্টা বসে বসে খাওয়াতে হ্যনা 2 আচিয়ে দিতে হয় না? খাওয়া থালা উঠিয়ে নিয়ে শিয়ে মাজতে হয় না 2

থালা মানে পাথরের থালা

পটপটানি বুডির আবার এদিক নেই ওদিক আছে। কাসার থালায় খেলে না বি্তার শুদ্ধাচার চলে যাবে

এক একদিন পাথর মাজতে মাজতে হিমানশ রাগ করে বলে, আমার থেকে ভারশ দেব একাদন আছাঙ মেরে ভেঙে

নিতাই শুনলে হেসে ফেলে বলে, একরাজা যাবে, অন্য রাজা হবে পাথরের থালার কি অভাব আছে র্রাঁড়র সিম্ধৃকে 2 কাসা পেতলের মত ওগুলো তো জার বেচে খেতে পারোনি !

সব্বস্ব না বেচে, তোমরা যদি আমায় বেচে খেতে তো তোমাদেরও লাভ হতো, আমারও হাড় জুডতো-_বলে পাথরখানাকে সাবধান করে ঘরে তুলতে যায় হিমানী

এই জন্যেই ব্লাড বলে, ম্বকে কিছু আটকায় না নক্ীছাড়ির

হিমানী মুখিয়ে চলে যেতেই পৃথিবীর পরম নিষ্ঠুরতায় হাউ হাউ করে কেঁদে ফেলে বরদা বুড়ি।

একদা যে মানুষটা ন'বো নামে এই বাড়িখানার অভিন্ন চেহারাটার মধ্যে বৃহ একান্নবর্তা পাঁরবারের সকলের কন্না করে বেড়িয়ে 'নাম কিনতো ।' বাড়ির তো বটে? পাড়ার জগতি শাশুড়ী দিদিশাগুডশকে পর্যস্ত দ্বাদশীর সকালে তেল মাখিয়ে দিয়ে এসেছে ন'বৌ, একাদশশীর সন্ধ্যেয় গা হাত পা টিপে দিয়েছে

ওরে বাবারে গেলাম ! গেলাম ! নেতাই, নেতাই ! ওরে চোকের চামড়া

৯৭

খেগো! প্রাণডা যে বেরিয়ে গেল আমার তবে দে, এসে গলাটাই টিপে দে যা--যন্তল্লা থেকে রেহাই পাই

বর্ধাকালে শীতকালে ছুটির দিনে একটা চালাকি খেলে হিমানী-_-। দুপুরে রান্নার শেষে খানিকটা জল গরম করে নিয়ে চা বানিয়ে কলাই করা পাত্রে ঢেলে ঢাক! দিয়ে রেখে দেয়ঃ আর সেটাই ভাগ করে করে বারে বারে এক কাপ করে এনে বরের সামনে ধরে দেয় কাগজ জ্বেলে গরম করে ভাবটা যেন না বলতেই বারে বারে এই চ৷ বানানোর ক্লেশট করছে ঠিমানী পাতিপ্রেমে উদ্বেল হয়ে |

উপায় বা কী, এটুকু চালাকি না খেলে ? সংসারের প্রতিও জিনিস যে অঙ্ক কষে কষে খরচ করতে হয়। পাঁতিপ্রেমে উদ্বেল হয়ে বারকয়েক জনতা জ্বাললেই তো রাতের রান্নার সময় স্টোভ জবাব দিয়ে বসবে মাপা কেরোসিন।

অথচ হিমানী